ঋতুচর্যা কি, আর বাংলার ছয় ঋতুর সঙ্গে এটি কেন মেলে না
ঋতুচর্যা কি, আয়ুর্বেদের ছয় ঋতু বাংলা পঞ্জিকার ছয় ঋতুর সঙ্গে কেন মেলে না, শাস্ত্রে কোন মাসে কোন ঋতু, ঋতুসন্ধি আসলে কার কথা আর প্রমাণ ঠিক কতদূর যায়।
অAI-সহায়তায় গবেষণা ও খসড়া; সম্পাদনা, যাচাই ও তথ্যের দায়ভার লেখক অভিজিৎ সাউ-এর। সম্পাদকীয় নীতি ও গবেষণা পদ্ধতি।

বাংলার ছয় ঋতু আমরা স্কুলেই শিখেছি, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত আর বসন্ত। আয়ুর্বেদেরও ছয় ঋতু আছে। কিন্তু সেই ছয়টা এই ছয়টা নয়।
ঋতুচর্যা হল ঋতু অনুযায়ী খাদ্য ও জীবনযাত্রা মানিয়ে নেওয়ার আয়ুর্বেদিক অনুশীলন, যার শাস্ত্রীয় ভিত্তি চরক সংহিতার সূত্রস্থান ষষ্ঠ অধ্যায়, তস্যাশিতীয়। সেখানে ঋতুর তালিকায় শীত নামে কোনো ঋতু নেই, আছে শিশির। আর মাসের হিসাবটাও বাংলা পঞ্জিকার সঙ্গে মেলে না, প্রতিটি ঋতু প্রায় এক মাস সরে বসে আছে।
এই তফাতটা ছোট শোনায়। কিন্তু ফল বড়। যে পাতাগুলো বাংলা মাস ধরে ঋতুচর্যার ছক বানায়, তারা আসলে বাংলা পঞ্জিকার ঋতুর গায়ে আয়ুর্বেদের নাম বসিয়ে দেয়, ফলে পরামর্শটা এক মাস আগে বা পরে গিয়ে পড়ে। এই লেখায় দুটো ব্যবস্থা আলাদা করে সাজানো আছে, শাস্ত্রের মাসের হিসাব ধরে, আর সঙ্গে সৎভাবে বলা আছে প্রমাণ কোথায় গিয়ে থামে।
ঋতুচর্যা কি, এক লাইনে
ঋতুচর্যা হল ঋতু অনুযায়ী আহার ও বিহার বদলে নেওয়ার আয়ুর্বেদিক নিয়ম, যার ভিত্তি একটি সহজ ধারণা, মানুষ প্রকৃতির অংশ। ঋতু বদলালে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও সূর্যের কোণ বদলায়, তাই শরীরের তিন দোষের ভারসাম্য এবং হজমের আগুন, দুটোই বদলে যায়।
মূল নীতি একটাই। যে দোষ যে ঋতুতে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে, সেটির বিপরীত গুণের খাবার ও অভ্যাস বেছে নিন। দোষের এই কাঠামোটি আগে থেকে জানা থাকলে সুবিধা হয়, যা ত্রিদোষ নিয়ে আলোচনায় বিস্তারিত আছে, আর ঋতুভেদে স্বাদের হিসাবটা মেলে ষড়রস বা ছয় রসের লেখায়।
প্রমাণের প্রশ্নে সৎ উত্তরটা শুরুতেই বলে রাখা ভাল। ঋতুচর্যার সামগ্রিক স্তর ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার, অর্থাৎ শাস্ত্রে বিস্তারিতভাবে নথিভুক্ত, কিন্তু নিয়মগুলো মেনে চললে রোগ কমে এমন নিয়ন্ত্রিত মানব-গবেষণা নেই।
এক নজরে
ঋতুচর্যা নিয়ে দাবি আর প্রমাণের ছবিটা আটটি বিন্দুতে ধরা যায়, আর প্রতিটির পাশে প্রমাণের স্তর আলাদা করে বসানো আছে যাতে কোনটা শাস্ত্রের কথা আর কোনটা মাপা তথ্য, সেটা এক ঝলকে আলাদা করা যায়। মিলিয়ে নিন।
- আয়ুর্বেদের ছয় ঋতু ও বাংলা পঞ্জিকার ছয় ঋতু আলাদা ব্যবস্থা। এটি পরিচয়ের প্রশ্ন, প্রমাণের নয়।
- শাস্ত্রীয় মাস-বিভাজন, শিশির মাঘ-ফাল্গুন থেকে হেমন্ত অগ্রহায়ণ-পৌষ। চরক ও সুশ্রুত এখানে একমত।
- ঋতু অনুযায়ী আহার-বিহার বদলানোর স্তর ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার।
- হেমন্ত ও শিশিরে বল ও অগ্নি সর্বোচ্চ, গ্রীষ্ম ও বর্ষায় সর্বনিম্ন, চরক সংহিতা সূত্রস্থান ৬।
- ঋতুসন্ধি ধারণাটি অষ্টাঙ্গ হৃদয়ের, চরক বা সুশ্রুতে এর উল্লেখ নেই।
- ঋতুভেদে মানুষের জিন-প্রকাশ সত্যিই বদলায়, ৫,১৩৬টি জিন বা প্রোটিন-সংকেতবাহী জিনোমের প্রায় ২৩ শতাংশ (Dopico ও সহলেখক, Nature Communications, ২০১৫)। স্তর সীমিত প্রমাণ, আর এটি ঋতুচর্যার নিয়ম প্রমাণ করে না।
- গাম্বিয়ায় ওই একই গবেষণায় ঋতু-চক্রটি শীত নয়, বর্ষাকাল ধরে চলেছে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশের জন্য এটিই সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক ফল।
- ঋতুসন্ধিতে জৈবরাসায়নিক বদল মাপা হয়েছে, কিন্তু তা স্বাভাবিক তারতম্যের সীমার মধ্যেই ছিল (Thakkar ও সহলেখক, AYU, ২০১১)।
বাংলার ছয় ঋতু আর আয়ুর্বেদের ছয় ঋতু কি এক জিনিস?
না, এক নয়, আর দুটোর নামের তালিকাও এক নয়। বাংলা পঞ্জিকার ছয় ঋতুতে শীত আছে, শিশির নেই। আয়ুর্বেদের ছয় ঋতুতে শিশির আছে, শীত নেই। নাম মিলিয়ে দেখলেই তফাতটা ধরা পড়ে।
আসল গোলমাল অবশ্য নামে নয়, মাসে। দুটো ব্যবস্থার মাস-বিভাজন পাশাপাশি রাখলে দেখা যায় প্রতিটি আয়ুর্বেদিক ঋতু বাংলা ঋতুর তুলনায় প্রায় এক মাস পিছিয়ে বসে আছে।
এখানে একটা কথা বলে রাখা দরকার, কারণ প্রশ্নটা ওঠে। শাস্ত্রীয় বিভাজন নিয়ে চরক ও সুশ্রুতের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই, দুজনেই একই মাস-জোড় দেন। সুশ্রুত সংহিতার ষষ্ঠ অধ্যায়ে মাসগুলোর প্রাচীন নামও দেওয়া আছে, মাঘ-ফাল্গুন সেখানে তপস ও তপস্য, চৈত্র-বৈশাখ মধু ও মাধব, জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় শুচি ও শুক্র, শ্রাবণ-ভাদ্র নভস ও নভস্য, আশ্বিন-কার্তিক ইষ ও ঊর্জ, আর অগ্রহায়ণ-পৌষ সহস ও সহস্য।
| বাংলা পঞ্জিকার ঋতু | বাংলা মাস | আয়ুর্বেদের ঋতু | শাস্ত্রীয় মাস | ইংরেজি হিসেবে |
|---|---|---|---|---|
| গ্রীষ্ম | বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ | শিশির | মাঘ, ফাল্গুন | মাঝ-জানুয়ারি থেকে মাঝ-মার্চ |
| বর্ষা | আষাঢ়, শ্রাবণ | বসন্ত | চৈত্র, বৈশাখ | মাঝ-মার্চ থেকে মাঝ-মে |
| শরৎ | ভাদ্র, আশ্বিন | গ্রীষ্ম | জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় | মাঝ-মে থেকে মাঝ-জুলাই |
| হেমন্ত | কার্তিক, অগ্রহায়ণ | বর্ষা | শ্রাবণ, ভাদ্র | মাঝ-জুলাই থেকে মাঝ-সেপ্টেম্বর |
| শীত | পৌষ, মাঘ | শরৎ | আশ্বিন, কার্তিক | মাঝ-সেপ্টেম্বর থেকে মাঝ-নভেম্বর |
| বসন্ত | ফাল্গুন, চৈত্র | হেমন্ত | অগ্রহায়ণ, পৌষ | মাঝ-নভেম্বর থেকে মাঝ-জানুয়ারি |
দুটো কলাম আলাদা করে পড়ুন, পাশাপাশি মেলাতে যাবেন না। বাঁ দিকের ঋতুর সঙ্গে ডান দিকের ঋতুর কোনো জোড় নেই, দুটো স্বাধীন তালিকা।
উদাহরণে জিনিসটা পরিষ্কার হয়। বাংলা পঞ্জিকায় গ্রীষ্ম শুরু হয় বৈশাখে, শাস্ত্রে গ্রীষ্ম শুরু হয় জ্যৈষ্ঠে। বাংলা পঞ্জিকায় বর্ষা আষাঢ়ে, শাস্ত্রে বর্ষা শ্রাবণে। আর সবচেয়ে বড় সরণটা শীতের দিকে, বাংলা শীত পৌষ-মাঘ, শাস্ত্রীয় শিশির মাঘ-ফাল্গুন, অর্থাৎ শাস্ত্রের শিশির যখন শুরু হচ্ছে বাংলা শীত তখন শেষ হয়ে আসছে।
কোনটা মানবেন, এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই, আর সেটা স্বীকার করে নেওয়াই সৎ। শাস্ত্রীয় হিসাবটি উত্তর ভারতের জলবায়ু ধরে লেখা, বাংলার নয়। উত্তর ভারতে বর্ষা নামে জুলাইয়ের মাঝামাঝি আর শীত দীর্ঘ হয়, অথচ বাংলায় বর্ষা আষাঢ়েই নেমে যায় এবং শীত বলতে যা বোঝায় তা পৌষ-মাঘের কয়েকটি সপ্তাহ, ফলে শাস্ত্রের মাসের হিসাব এখানে হুবহু বসে না। আমার নিজের ব্যবহারিক সিদ্ধান্ত, নাম নিয়ে না ভেবে জানলার বাইরের আবহাওয়া দেখে চলা, কারণ শাস্ত্রের যুক্তিটা মাসের নয়, গুণের।
আদান কাল ও বিসর্গ কাল
আদান কাল ও বিসর্গ কাল হল আয়ুর্বেদে বছরের দুই অর্ধ, যেখানে সূর্য ও চাঁদের প্রভাবে শরীরের বল যথাক্রমে কমে ও বাড়ে। ছয় ঋতু এই দুই ভাগে তিনটি করে পড়ে।
| ভাগ | ঋতু | প্রকৃতি | শরীরের অবস্থা |
|---|---|---|---|
| আদান কাল, উত্তরায়ণ (সূর্য জল শোষণ করে) | শিশির, বসন্ত, গ্রীষ্ম | শুষ্ক, ক্রমশ উষ্ণ | বল ধীরে ধীরে কমে |
| বিসর্গ কাল, দক্ষিণায়ণ (চাঁদ আর্দ্রতা ফিরিয়ে দেয়) | বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত | আর্দ্র, ক্রমশ শীতল | বল ধীরে ধীরে বাড়ে |
চরক সংহিতা সূত্রস্থান ৬-এর অষ্টম শ্লোকে হিসাবটা আরও নির্দিষ্ট। বল সর্বোচ্চ থাকে বিসর্গ কালের শেষে ও আদান কালের শুরুতে, অর্থাৎ হেমন্ত ও শিশিরে। আর সর্বনিম্ন থাকে বিসর্গ কালের শুরুতে ও আদান কালের শেষে, অর্থাৎ বর্ষা ও গ্রীষ্মে। হজমের আগুনও একই ছন্দ মেনে চলে বলে শাস্ত্র জানায়, অর্থাৎ যে ঋতুতে শরীরের বল সবচেয়ে কম সেই ঋতুতেই খাবার হজম করার ক্ষমতাও সবচেয়ে দুর্বল থাকে, আর এই দুটোকে একসঙ্গে ধরাই ঋতুচর্যার মূল ব্যবহারিক সূত্র।
কাঠামোটা বুঝলে সিদ্ধান্ত সহজ হয়। কখন ভারী কাজ, কখন বিশ্রাম, সেটা তখন আর অনুমান থাকে না। অগ্নির নিজস্ব শ্রেণিবিভাগ নিয়ে আলাদা আলোচনা আছে অগ্নির ১৩ প্রকারের লেখায়।
ছয় ঋতুর ঋতুচর্যা
ছয় ঋতুর ঋতুচর্যা মানে প্রতিটি ঋতুতে যে প্রধান দোষ বাড়ে তার বিপরীত গুণের খাবার ও অভ্যাস বেছে নেওয়া, আর নিচের ছকটি শাস্ত্রীয় মাস ধরে গোটা বছরের ছবি এক নজরে দেয়। এই তালিকার প্রতিটি সুপারিশের প্রমাণের স্তর ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার।
| ঋতু (শাস্ত্রীয় মাস) | প্রধান দোষ | যা খাবেন | যা এড়াবেন |
|---|---|---|---|
| শিশির (মাঘ-ফাল্গুন) | বাত | গরম স্নেহযুক্ত খাবার, দুধ, ঘি, নলেন গুড়, তিল, শীতের সবজি | ঠান্ডা পানীয়, কাঁচা শাক, দিনে ঘুম |
| বসন্ত (চৈত্র-বৈশাখ) | কফ | তেতো ও কষায় রস, করলা, নিম-বেগুন, অল্প মধু, হালকা খাবার | ভারী মিষ্টি, দিনে ঘুম, ঠান্ডা পানীয় |
| গ্রীষ্ম (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়) | পিত্ত | ঠান্ডা মিষ্টি তরল, দই-ভাত, নারকেল জল, তরমুজ, শসা | ঝাল, টক, ভাজা, বাসি খাবার |
| বর্ষা (শ্রাবণ-ভাদ্র) | বাত | হালকা গরম রান্না, খিচুড়ি, মুগ ডাল, রসুন, পরিমিত মধু | কাঁচা সবজি, স্যালাড, ঠান্ডা পানীয় |
| শরৎ (আশ্বিন-কার্তিক) | পিত্ত | মিষ্টি-তেতো-কষায়, মুগ, লাল চাল, করলা, পুরোনো ঘি | ভারী টক-ঝাল, অতিরিক্ত পরিশ্রম |
| হেমন্ত (অগ্রহায়ণ-পৌষ) | কফ (জমা শুরু) | পুষ্টিকর স্নেহযুক্ত খাবার, নতুন চাল, দুধ, ঘি, বাদাম, তিল | অতিরিক্ত হালকা খাবার, রাতে কম খাওয়া |
১. শিশির (মাঘ-ফাল্গুন)
শিশির ঋতুতে প্রকৃতি ঠান্ডা ও শুকনো, বাত বাড়ে, কিন্তু বল ও হজম শক্তি বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রবল থাকার সময়টি এখানেই শেষ হয়, তাই ভারী খাবারও তুলনায় সহজে হজম হয়। অভ্যাসে তেল মালিশ, রোদে বসা, ভোরে ব্যায়াম ও গরম জলে স্নান উপযোগী। বাঙালি ঘরে এই সময়টা মোটামুটি মাঘের শেষ আর ফাল্গুনের শুরু, নলেন গুড়ের মরশুম ফুরিয়ে আসার মুখ।
২. বসন্ত (চৈত্র-বৈশাখ)
বসন্তে প্রকৃতি ঠান্ডা থেকে গরম হতে শুরু করে, শীতে জমে থাকা কফ গলে বাড়ে, তাই এই সময়ে সর্দি-কাশি ও অ্যালার্জির প্রকোপ বেশি দেখা যায়। অভ্যাসে হালকা ব্যায়াম ও প্রাণায়াম ভাল। চৈত্র সংক্রান্তিতে নিম-বেগুন আর করলার তেতো পদ এই ঋতুচর্যারই লোকজ রূপ, আর মরশুমি সর্দি-কাশির ঘরোয়া যত্ন এই ঋতুতে কাজে লাগে।
৩. গ্রীষ্ম (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়)
গ্রীষ্মে প্রকৃতি উষ্ণ ও শুষ্ক, পিত্ত বাড়ে এবং বল ও অগ্নি দুটোই ক্ষীণ হয়ে পড়ে। অভ্যাসে কম পরিশ্রম, দুপুরের চড়া রোদ এড়ানো ও ঠান্ডা স্নান উপযোগী, আর দুপুরের অল্প বিশ্রাম শাস্ত্রে কেবল এই ঋতুতেই অনুমোদিত, বাকি ঋতুতে দিনের ঘুম বারণ। বাংলার আম-কাঁঠালের মরশুমে পান্তা ভাত আর এক গ্লাস ঘোল এই ঋতুরই উপযোগী।
৪. বর্ষা (শ্রাবণ-ভাদ্র)
বর্ষায় আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা আচমকা বদলায়, বাত বাড়ে, কফ-পিত্ত অস্থির থাকে আর হজম শক্তি বছরের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় পৌঁছয়। অভ্যাসে বৃষ্টিতে ভেজা এড়ানো, পা শুকনো রাখা ও গরম জলে স্নান জরুরি, দুর্বল হজমে অগ্নি দীপনের অভ্যাস সহায়ক। বাঙালি বর্ষায় খিচুড়ি-ইলিশ কাকতালীয়ভাবে অনেকটাই ঋতুচর্যাসম্মত।
৫. শরৎ (আশ্বিন-কার্তিক)
শরতে বর্ষার পরে রোদ ফেরে এবং বর্ষায় জমা পিত্ত বেড়ে যায়, তাই শরীর একটু গরম অনুভব করে। অভ্যাসে চড়া সূর্যতাপ এড়ানো ভাল, আর রাতে চাঁদের আলোয় হালকা হাঁটার একটি প্রাচীন শীতলকারক পরামর্শও আছে। শরতে পিত্ত-শামক করলার মতো তেতো সবজি উপযোগী, আর পুজোর সময়ের নিরামিষ পাত এই ঋতুচর্যার সঙ্গে মিলে যায়।
৬. হেমন্ত (অগ্রহায়ণ-পৌষ)
হেমন্তে শীতের পূর্বাভাস আসে, কফ আস্তে আস্তে জমতে শুরু করে, আর চরক সংহিতা অনুযায়ী বল ও অগ্নি এই ঋতুতেই বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছয়। এটি ব্যায়ামের জন্য আদর্শ ঋতু, ভাল ঘুম ও তেল মালিশ শুরুরও উপযুক্ত সময়। নবান্ন আর পিঠেপুলির আবহ হেমন্তের শাস্ত্রসম্মত উদযাপন।
ঋতুসন্ধির কথা আসলে কোন শাস্ত্রে আছে?
ঋতুসন্ধি হল দুই ঋতুর সংযোগস্থল, আগের ঋতুর শেষ সাত দিন আর পরের ঋতুর প্রথম সাত দিন, মোট চোদ্দো দিন, আর ধারণাটি এসেছে বাগ্ভটের অষ্টাঙ্গ হৃদয় থেকে।
এই জায়গাটা আলাদা করে বলা দরকার, কারণ বাংলা ও ইংরেজি দুই ইন্টারনেটেই ঋতুসন্ধিকে ঢালাওভাবে "শাস্ত্র মতে" বা "চরক বলেছেন" বলে চালানো হয়। যাচাই করলে দেখা যায় চরক সংহিতা ও সুশ্রুত সংহিতা, কোনোটিতেই ঋতুসন্ধি শব্দটির উল্লেখ নেই। এটি সংগ্রহকালের সংযোজন, প্রথম আসে অষ্টাঙ্গ হৃদয়ের ঋতুচর্যা অধ্যায়ে। পরে শার্ঙ্গধর ধারণাটিকে সংকুচিত করে কার্তিক ও অগ্রহায়ণের পনেরো দিনে বেঁধে দেন, নাম দেন যমদংষ্ট্রা।
নিয়মটা সহজ। পুরোনো ঋতুর অভ্যাস একদিনে ছাড়বেন না, নতুনটাও একদিনে ধরবেন না, দুই সপ্তাহ ধরে ধীরে বদলান। শাস্ত্রের যুক্তি, আচমকা বদল অসাত্ম্য তৈরি করে, অর্থাৎ শরীর মানিয়ে নিতে না পেরে অসুস্থ হয়।
এই সময়ে হালকা খাবার, ভাল ঘুম ও কম মানসিক চাপের পরামর্শ দেওয়া হয়, আর নতুন কোনো ভেষজ বা সাপ্লিমেন্ট তখন শুরু না করাই ভাল। বহু মানুষ ঋতুসন্ধিতেই সর্দি-জ্বর-অম্বলজনিত অস্বস্তি অনুভব করেন, তাই এই সময়ে ভাল ঘুমের নিয়মে আলাদা নজর দিন।
বর্ষায় শরীর সবচেয়ে দুর্বল লাগে কেন?
বর্ষায় দুর্বল লাগার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা হল বিসর্গ কালের শুরুতে বল সর্বনিম্ন থাকে এবং অগ্নি সবচেয়ে ক্ষীণ হয়, চরক সংহিতা সূত্রস্থান ৬ এই দুটোকে একসঙ্গে বলে।
ব্যবহারিক ফলটা রান্নাঘরে দেখা যায়। অগ্নি দুর্বল হলে ভারী, ঠান্ডা বা কাঁচা খাবার অসম্পূর্ণ হজম হয়ে আম তৈরি করে, যা নিয়ে আলাদা লেখা আছে আম কী ও কেন জমে আলোচনায়। এই কারণেই বর্ষার শাস্ত্রীয় পরামর্শে হালকা, গরম, রান্না করা খাবারের কথা বারবার ফেরে, আর স্যালাড বা কাঁচা সবজি বাদ পড়ে।
আধুনিক দিক থেকেও একটা সমান্তরাল আছে, তবে সেটি প্রমাণ নয়, ইঙ্গিত। বর্ষায় জলবাহিত ও মশাবাহিত সংক্রমণের চাপ বাড়ে, আর সেই চাপের সঙ্গে শরীরের রোগ-প্রতিরোধী কোষের হিসাবও বদলায়, যা নিয়ে পরের অংশে বিস্তারিত আছে। ঋতু-নির্ভর প্রতিরোধ ক্ষমতার সাধারণ অভ্যাস নিয়ে আলাদা লেখা আছে প্রতিরোধ ক্ষমতার আলোচনায়।
আধুনিক বিজ্ঞান কী বলছে
আধুনিক গবেষণা দেখিয়েছে মানুষের জিন-প্রকাশ ও রক্তকণিকার হিসাব সত্যিই ঋতুভেদে বদলায়, তবে এই তথ্য ঋতুচর্যার নির্দিষ্ট নিয়মগুলোকে প্রমাণ করে না।
সবচেয়ে বড় কাজটি Dopico ও সহলেখকদের, প্রকাশিত Nature Communications-এ ২০১৫ সালে। Dopico ও সহলেখকরা দেখেছেন BABYDIET সমীক্ষায় ৫,১৩৬টি জিনের প্রকাশ ঋতুভেদে বদলায়, যা প্রোটিন-সংকেতবাহী জিনোমের প্রায় ২৩ শতাংশ। ইউরোপে শীতকালে প্রদাহ-বর্ধক জিনগুলোর প্রকাশ বেশি থাকে, সঙ্গে দ্রবণীয় IL-6 রিসেপ্টর ও CRP-র মাত্রাও চড়া।
কিন্তু এই গবেষণার সবচেয়ে কাজের অংশটি বাংলা কোনো লেখায় পাইনি, আর সেটিই আমাদের জন্য সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক।
গবেষকরা গাম্বিয়াতেও একই মাপজোক করেছিলেন, আর সেখানে ছবিটা ইউরোপের মতো নয়। গাম্বিয়ায় ঋতু-নির্ভর সবকটি কোষের সংখ্যা সর্বোচ্চে পৌঁছেছে বর্ষাকালে, জুন থেকে অক্টোবর, শীতে নয়। লেখকরা কারণ হিসেবে বলেছেন ওই সময়ে সংক্রমণের চাপ, বিশেষত ম্যালেরিয়ার বোঝা বেড়ে যায়, অর্থাৎ ঋতু-ছন্দটি নিছক তাপমাত্রার নয়, বরং সেই ঋতুতে শরীরকে কোন ধরনের রোগজীবাণুর মুখোমুখি হতে হচ্ছে তার সঙ্গেই বেশি জড়ানো।
অর্থাৎ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশে শরীরের ঋতু-ছন্দ শীত-গ্রীষ্মের চার-ঋতু ছাঁচ নয়, বর্ষা ধরে চলে। ঋতুচর্যা ঠিক এই কাজটাই করে, বর্ষাকে আলাদা ঋতুর মর্যাদা দেয় এবং সেখানেই বল ও অগ্নিকে সবচেয়ে দুর্বল ধরে। মিলটা চমকপ্রদ। তবু এটি সমান্তরাল, প্রমাণ নয়, কারণ গবেষণাটি ঋতুচর্যা মেনে চলার ফল মাপেনি, কেবল ঋতুভেদে শরীরের বদল মেপেছে। স্তর তাই সীমিত প্রমাণ।
ঋতুচর্যা নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত পর্যালোচনাটি Thakkar, Chaudhari ও Sarkar-এর, AYU জার্নালে ২০১১ সালে প্রকাশিত। সেটি মূলত শাস্ত্র-ভিত্তিক আলোচনা, ক্লিনিকাল ট্রায়াল নয়, আর তাতে উদ্ধৃত ঋতুসন্ধি-বিষয়ক জৈবরাসায়নিক গবেষণায় পরিবর্তনগুলো স্বাভাবিক তারতম্যের সীমার মধ্যেই ছিল। অনেকে আবার বলবেন এসি-নিয়ন্ত্রিত শহুরে জীবনে ঋতুর প্রভাব আজ অনেকটাই ফিকে, আর এই আপত্তিও একেবারে ফেলে দেওয়ার নয়। ঋতুর সঙ্গে শরীরের সংযোগ ধরে রাখতে আয়ুর্বেদিক দিনচর্যা ঋতুচর্যার পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
ঋতু পরিবর্তনে যে অসুখগুলো বাড়ে
ঋতু পরিবর্তনের সময়ে সবচেয়ে বেশি যেগুলো দেখা যায় তা হল ভাইরাল জ্বর, সর্দি-কাশি, হাঁচি ও শ্বাসকষ্ট, আর শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস ও হাঁপানির ঝুঁকি তুলনায় বেশি থাকে।
আয়ুর্বেদের ব্যাখ্যা আর আধুনিক ব্যাখ্যা এখানে আলাদা পথে একই জায়গায় পৌঁছয়। শাস্ত্র বলে ঋতুসন্ধিতে দোষের ভারসাম্য নড়ে যায়। আধুনিক দিক থেকে বলা হয় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার দ্রুত বদলের সঙ্গে শ্বাসনালীর প্রতিরক্ষা মানিয়ে নিতে সময় নেয়, আর ওই ফাঁকেই সংক্রমণ সুযোগ পায়।
একটা সীমারেখা স্পষ্ট করে রাখা দরকার। ঋতুচর্যা প্রতিরোধের কাঠামো, চিকিৎসার নয়। তিন দিনের বেশি জ্বর, শ্বাস নিতে কষ্ট, বুকে টান, শিশুর খাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া বা প্রবীণের হঠাৎ ঝিমিয়ে পড়া, এগুলোর কোনোটাই ঋতু বদলের স্বাভাবিক অংশ নয়, চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সংকেত।
কে সতর্ক থাকবেন
ঋতুচর্যা সাধারণভাবে নিরাপদ, কারণ এটি মূলত খাদ্য ও অভ্যাসের ছোট সমন্বয়, তবু কয়েকটি ক্ষেত্রে ঋতু-অনুযায়ী বড় পরিবর্তনের আগে বাড়তি সতর্কতা দরকার, বিশেষত যেখানে খাদ্য বদল চলমান ওষুধের সঙ্গে মেশে বা যেখানে শরীরের সহ্যক্ষমতা এমনিতেই কম থাকে। তালিকাটা ছোট।
| কারা | কেন সতর্ক থাকবেন |
|---|---|
| বিদ্যমান অসুখ ও নিয়মিত ওষুধ | ঋতু-অনুযায়ী খাদ্য বদল আগেকার ওষুধের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত রক্ত পাতলা করার ও শর্করা-কমানোর ওষুধে |
| গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান | ঋতুচর্যা সাধারণত নিরাপদ, তবে পঞ্চকর্ম বা শোধন এই সময়ে নয় |
| শিশু ও বয়স্ক | তাপমাত্রা বদলে শরীর দ্রুত সাড়া দেয়, আর ঋতু পরিবর্তনে এই দুই দলেই শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি, তাই ছোট সমন্বয়েই কাজ চালান |
| অ্যালার্জির ইতিহাস | বিশেষত বসন্ত ও বর্ষার শুরুতে বাড়তি সতর্কতা |
| মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা | ঋতুভেদে ঘুম ও মেজাজে পরিবর্তন হতে পারে, নিজেকে পর্যবেক্ষণ করুন এবং ওষুধ নিজে থেকে বদলাবেন না |
| উপবাস বা বড় ডায়েট বদল | গ্রীষ্ম ও বর্ষায় বল এমনিতেই কম থাকে বলে শাস্ত্র এই দুই ঋতুতে কঠোর পথ্যের বিরুদ্ধে সতর্ক করে |
একটি ছোট ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ
ঋতুচর্যা নিয়ে পড়তে বসে আমার সবচেয়ে অস্বস্তির মুহূর্তটা ছিল মাসের ছকটা মেলাতে গিয়ে।
শুরুটা ভুল ধারণা দিয়ে। আমি ধরেই নিয়েছিলাম বাংলা ছয় ঋতুই আয়ুর্বেদের ছয় ঋতু, নামের একটা ছোট হেরফের ছাড়া। শাস্ত্রের মাস মিলিয়ে দেখতে গিয়ে বুঝলাম প্রতিটি ঋতু এক মাস সরে বসে আছে, আর শীত নামে ঋতুটাই শাস্ত্রে নেই। (স্বীকার করছি, প্রথমে ভেবেছিলাম অনুবাদের ভুল, তিনটে আলাদা উৎস না মেলানো পর্যন্ত।)
তারপরেও গোটা ব্যবস্থাটার প্রতি আমার শ্রদ্ধা কমেনি, বরং বেড়েছে, কারণ যে জিনিসটা এটি ঠিক ধরেছে সেটি বড়, বর্ষাকে আলাদা ঋতুর মর্যাদা দেওয়া। গাম্বিয়ার ওই তথ্যটা পড়ার পর মনে হল, শীত-গ্রীষ্মের চার-ঋতুর ইউরোপীয় ছাঁচে আমাদের শরীর কোনোদিনই ঠিক বসত না, আর হাজার বছর আগে যাঁরা বর্ষাকে আলাদা ঋতুর মর্যাদা দিয়েছিলেন তাঁরা অন্তত প্রশ্নটা ঠিক জায়গায় করেছিলেন।
উপসংহার
ঋতুচর্যা আয়ুর্বেদের একটি বাস্তব ও ব্যবহারযোগ্য কাঠামো, তবে সেটি কাজে লাগাতে হলে আগে জানা দরকার এর ছয় ঋতু বাংলা পঞ্জিকার ছয় ঋতু নয়, আর মাসের হিসাবটাও এক নয়। প্রমাণের স্তরে এটি ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার, যেখানে ঋতুভেদে শরীর বদলায় এই অংশটুকুর জন্য সীমিত প্রমাণ আছে, কিন্তু নিয়ম মানলে রোগ কমে এমন প্রমাণ নেই।
আজ থেকেই একটা ছোট কাজ করুন। উপরের শাস্ত্রীয় ছক দেখে এই মাসটা কোন আয়ুর্বেদিক ঋতুতে পড়ছে বার করুন, বাংলা ঋতুর নাম ধরে নয়, তারপর সেই সারির "যা এড়াবেন" ঘর থেকে শুধু একটি জিনিস বেছে দুই সপ্তাহ ছেড়ে চলুন। পরের ঋতুতে আরেকটি যোগ করুন।
ঋতুসন্ধির চোদ্দো দিনটা আলাদা করে মাথায় রাখবেন। ঋতু বদলের মুখে নতুন ভেষজ, নতুন ডায়েট বা কঠিন উপবাস শুরু করার সময় ওটা নয়, কারণ শাস্ত্র ওই দিনগুলোতেই আচমকা বদলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে স্পষ্ট করে সতর্ক করেছে। ঋতুভিত্তিক আরও লেখা আছে জীবনযাত্রা বিভাগে।
আর যে ভুলটা এই লেখা জুড়ে ভাঙার চেষ্টা করলাম, সেটাই শেষে আরেকবার। ঋতুচর্যার ছক বাংলা পঞ্জিকার ছক নয়। তাই বৈশাখ পড়েছে দেখে গ্রীষ্মের নিয়ম খুঁজতে বসলে ভুল সারিতে গিয়ে পড়বেন, কারণ শাস্ত্রের হিসাবে বৈশাখ তখনও বসন্ত। বর্ষা ও শরতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটি মশাবাহিত, আর সেই প্রসঙ্গে আলাদা লেখা আছে ডেঙ্গু জ্বরে পেঁপে পাতার রস কি কাজ করে পাতায়।
সূত্র / Sources
- চরক সংহিতা, সূত্রস্থান অধ্যায় ৬, তস্যাশিতীয় অধ্যায় (ঋতুচর্যা, ঋতুভেদে মাস, আদান ও বিসর্গ কাল, বল ও অগ্নির ছন্দ)। Charak Samhita Online
- Dopico XC, Evangelou M, Ferreira RC, et al. "Widespread seasonal gene expression reveals annual differences in human immunity and physiology." Nature Communications, 2015;6:7000. DOI 10.1038/ncomms8000. PMC4432600
- Thakkar J, Chaudhari S, Sarkar PK. "Ritucharya. Answer to the lifestyle disorders." AYU, 2011;32(4):466-471. DOI 10.4103/0974-8520.96117. PubMed 22661838
- সুশ্রুত সংহিতা, সূত্রস্থান, অধ্যায় ৬, ঋতুচর্যাধ্যায়ম্ (ছয় ঋতুর মাস-বিভাজন ও দুই অয়ন, চরকের সঙ্গে অভিন্ন)। Wikisource, Sushruta Samhita Volume 1, Chapter 6
- অষ্টাঙ্গ হৃদয়, সূত্রস্থান অধ্যায় ৩, ঋতুচর্যা অধ্যায় (ঋতুসন্ধির ধারণা ও অসাত্ম্যের সতর্কতা, যা চরক ও সুশ্রুতে নেই)। Internet Archive, Astanga Hridaya Sutrasthana handbook
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। এটি চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর

লেখক সম্পর্কে
অভিজিৎ সাউ
তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক
তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত একজন প্রকৌশলী। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলা ভাষায় আয়ুর্বেদ, ভেষজ ও প্রাকৃতিক জীবনযাত্রার বিশ্বস্ত তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিটি নিবন্ধের পেছনে শাস্ত্রীয় গ্রন্থ, AYUSH মন্ত্রকের নির্দেশিকা ও প্রকাশিত গবেষণাপত্র যাচাই করি।
এই নিবন্ধটি প্রকাশের আগে প্রাথমিক উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই ও সম্পাদনা করা হয়েছে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি।

নারীস্বাস্থ্য, বয়স অনুযায়ী কী দেখবেন ও আয়ুর্বেদ কী বলে
নারীস্বাস্থ্যের সম্পূর্ণ গাইড, বয়সের চার ধাপে কী দেখা দরকার, ঋতুচক্র, রক্তাল্পতা ও মেনোপজে প্রমাণ কী বলে, আর কোন লক্ষণে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাবেন।

ডেঙ্গু জ্বরে পেঁপে পাতার রস কি কাজ করে, প্রমাণ কতদূর
ডেঙ্গু জ্বরে পেঁপে পাতার রস কি সত্যিই প্লাটিলেট বা প্লেটলেট বাড়ায়, গবেষণায় কত মাত্রা ব্যবহার হয়েছে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বিপদ সংকেত আর কখন হাসপাতালে যাবেন।

অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগ, আয়ুর্বেদ কতটা কাজে লাগে আর কোথায় নয়
অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগে আয়ুর্বেদ কতটা কাজে লাগে, অশ্বগন্ধা নিয়ে গবেষণা ও লিভার-ঝুঁকি, ওষুধের সঙ্গে ভেষজের বিক্রিয়া এবং কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার।