চুলের যত্ন নেওয়ার উপায়, প্রমাণ কী বলে আর আয়ুর্বেদ কী বলে
চুলের যত্ন নেওয়ার উপায়ে কোন নিয়মটা প্রমাণে দাঁড়ায় আর কোনটা প্রথা, তেল ও শ্যাম্পুর সঠিক মাপ, সাতটি ভেষজের প্রমাণের স্তর আর কাদের সতর্ক থাকা জরুরি।
অAI-সহায়তায় গবেষণা ও খসড়া; সম্পাদনা, যাচাই ও তথ্যের দায়ভার লেখক অভিজিৎ সাউ-এর। সম্পাদকীয় নীতি ও গবেষণা পদ্ধতি।

পাড়ার চেনা দাদুর মাথায় আজও যে ঘন কালো চুল দেখি, তার পেছনে দাদুর একটাই কথা: "ছোটবেলা থেকে নারকেল তেল আর আমলকী।" দু'টি সাধারণ উপাদান, একটি পরিচিত অভ্যাস। অথচ পার্লারে গেলে আজ পঁচাশি রকমের সিরাম, মাস্ক আর "ব্যাপক ট্রিটমেন্ট" হাজির।
চুলের যত্ন নেওয়ার উপায় নিয়ে সৎ উত্তরটা দুই ভাগে ভাগ করা যায়। কিছু নিয়ম মাপা প্রমাণে দাঁড়ায়, যেমন নারকেল তেলে চুলের প্রোটিন-ক্ষয় কমা বা স্ক্যাল্প ম্যাসাজে চুলের পুরুত্ব সামান্য বাড়া। আর বাকি অনেকটাই ঐতিহ্যগত ব্যবহার, যেগুলো হাজার বছর ধরে চলে আসছে কিন্তু মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রিত ট্রায়ালে যাচাই হয়নি। দুটোকে আলাদা করে চেনাই এই লেখার কাজ। তফাতটা ছোট নয়।
একটা নিয়ম বাংলা ইন্টারনেটে এত ঘুরেছে যে সেটা প্রায় ধ্রুবসত্য হয়ে গেছে, অথচ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠন উল্টো কথা বলে। সেটা শ্যাম্পুর নিয়ম, আর তার আলাদা অংশ নিচে আছে।
এই লেখায় থাকবে আয়ুর্বেদের কাঠামো, প্রকৃতি অনুযায়ী চুলের ধরন, তেল ও শ্যাম্পুর মাপজোক, সাতটি ভেষজের প্রমাণের স্তর ধরে ধরে, চারটি ঘরোয়া রেসিপি, আর যে সতর্কতাগুলো বাংলা লেখালেখিতে কার্যত অনুপস্থিত।
আয়ুর্বেদিক দৃষ্টিতে চুল
আয়ুর্বেদে চুল হল অস্থি ধাতুর একটি উপজাত, অর্থাৎ হাড় ভাল থাকলে চুলও ভাল থাকে বলে শাস্ত্র মনে করে। চুল হাড়ের আয়না। এই কারণেই আয়ুর্বেদে চুল-পরিচর্যা কেবল মাথার ত্বকে আবদ্ধ থাকে না, এটি একই সঙ্গে পুষ্টি, হজম ও সাধারণ স্বাস্থ্যের কথা বলে।
শাস্ত্রে চুলের জন্য উপকারী ভেষজদের আলাদা করে "কেশ্য" বলা হয়েছে, আর চরক সংহিতা ও অষ্টাঙ্গ হৃদয়ে মাথায় তেল দেওয়ার অভ্যাসটি দৈনন্দিন চর্যার অংশ হিসেবে বর্ণিত।
এখানে একটা কথা পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার। অস্থি ধাতুর সঙ্গে চুলের সম্পর্কটি শাস্ত্রীয় ধারণা, আধুনিক শারীরবিদ্যার প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়। আধুনিক বিজ্ঞানে চুল কেরাটিন নামের প্রোটিন দিয়ে তৈরি, আর তার গোড়ার ফলিকল ত্বকের নিচে বসে। দুই কাঠামো এক নয়, গুলিয়ে ফেললে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সহজ।
প্রকৃতি অনুযায়ী চুলের ধরন
আয়ুর্বেদে চুলের ধরন ব্যক্তির প্রকৃতি বা দোষ-গঠন অনুযায়ী আলাদা হয়, তাই বাত, পিত্ত ও কফ প্রতিটি প্রকৃতিতে চুলের চরিত্র ও সমস্যা ভিন্ন বলে ধরা হয়।
| প্রকৃতি | চুলের চরিত্র | সাধারণ সমস্যা |
|---|---|---|
| বাত | শুকনো, পাতলা, রুক্ষ, কোঁকড়ানো | আগা ফাটা, খসখসে, চুল পড়া |
| পিত্ত | মাঝারি ঘনত্ব, মসৃণ, লালচে আভা | অকালপক্বতা, খুশকি, চুলকানি |
| কফ | ঘন, ভারী, তৈলাক্ত, ঢেউখেলানো | তৈলাক্ত স্ক্যাল্প, আঠালো খুশকি |
আধুনিক চর্মবিদ্যাও চুলের যত্ন ভাগ করে। তবে ভিত্তিটা আলাদা। সেখানে ভাগটা হয় চুলের গঠন ও স্ক্যাল্পের তৈলাক্ততা অনুযায়ী, দোষ অনুযায়ী নয়। মজার ব্যাপার হল দুই কাঠামো ব্যবহারিক পরামর্শে অনেকটা একই জায়গায় এসে দাঁড়ায়: শুকনো চুলে বেশি তেল ও কম ধোয়া, তৈলাক্ত স্ক্যাল্পে কম তেল ও বেশি ধোয়া।
এক নজরে
চুলের যত্নের দাবিগুলোকে প্রমাণের স্তর অনুযায়ী সাজালে ছবিটা অনেক পরিষ্কার হয়, কারণ তখন বোঝা যায় কোন অভ্যাসটা মাপা গবেষণার উপর দাঁড়িয়ে আছে আর কোনটা কেবল দীর্ঘ প্রথার জোরে টিকে আছে। নিচে আটটি বিন্দু।
- নারকেল তেলে চুলের প্রোটিন-ক্ষয় কমার স্তর মাঝারি প্রমাণ, সরাসরি মাপা হয়েছে (Rele ও Mohile, ২০০৩)।
- স্ক্যাল্প ম্যাসাজে চুলের পুরুত্ব বাড়ার স্তর সীমিত প্রমাণ, মাত্র ৯ জনের একটি গবেষণা (Koyama ও সহলেখক, ২০১৬)।
- পেঁয়াজের রস প্যাচি অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটায় সীমিত প্রমাণ, একটি নিয়ন্ত্রিত ট্রায়াল আছে (Sharquie ও Al-Obaidi, ২০০২)।
- ভৃঙ্গরাজের স্তর সীমিত প্রমাণ, গবেষণা মূলত প্রাণী ও ছোট মানব-পর্যায়ে।
- আমলকী, ব্রাহ্মী, জবা, রিঠা-শিকাকাই, মেথি ও নিমের স্তর ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার।
- ঘাটতি না থাকলে বায়োটিন সাপ্লিমেন্টের স্তর অপর্যাপ্ত প্রমাণ।
- শ্যাম্পুর কোনো সর্বজনীন সংখ্যা নেই, AAD চুলের ধরন অনুযায়ী আলাদা পরামর্শ দেয়।
- কালো হেনায় PPD মেশানো থাকতে পারে, নমুনায় ০.৪ থেকে ২৯.৫ শতাংশ পাওয়া গেছে (Al-Suwaidi ও Ahmed, IJERPH, ২০১০)। এটাই এই লেখার সবচেয়ে জরুরি সতর্কতা।
চুলের যত্নের ভিত্তি, ভেতর থেকে
চুলের যত্নের আসল ভিত্তি বাইরের তেল নয়, বরং ভেতরের কয়েকটি অভ্যাস, যা ঠিক না থাকলে ভাল তেল-প্যাকও কাজ করে না।
প্রোটিন এখানে প্রথম, কারণ চুল নিজেই কেরাটিন নামের প্রোটিন। ডাল, ডিম, ছোলা, মাছ ও বাদাম এই জায়গাটা ভরায়। আয়রনের ঘাটতি ও থাইরয়েডের গণ্ডগোল দুটোই চুল পড়ার পরিচিত কারণ, আর দুটোই রক্ত পরীক্ষা ছাড়া ধরা পড়ে না। অবিরাম চুল পড়লে তেল বদলানোর আগে পরীক্ষা করানোই যুক্তিসঙ্গত।
ঘুম ও মানসিক চাপের প্রসঙ্গটাও বাদ দেওয়া যায় না। দীর্ঘ চাপের পর দুই থেকে তিন মাসের মাথায় হঠাৎ বেশি চুল পড়াকে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম বলা হয়, আর এটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজে থেকেই সেরে যায়। জানা থাকলে অকারণ আতঙ্ক কমে।
জল নিয়ে একটা প্রচলিত কথার সঙ্গে এখানে দ্বিমত করা দরকার। "বেশি জল খেলে চুল আর শুকনো থাকবে না" কথাটা বাংলা লেখালেখিতে প্রায় সর্বত্র আছে, কিন্তু স্বাভাবিক জলপান করা মানুষের ক্ষেত্রে বাড়তি জল চুলের শুষ্কতা কমায়, এমন প্রমাণ এই গবেষণা-পর্বে পাইনি। জল খাওয়া নিঃসন্দেহে দরকার, শুধু চুলের যুক্তিতে নয়।
বায়োটিন নিয়েও একই সাবধানতা। বায়োটিনের প্রকৃত ঘাটতি বিরল, আর ঘাটতি না থাকলে সাপ্লিমেন্টে চুল ঘন হয় এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। স্তর অপর্যাপ্ত প্রমাণ। বাড়তি বায়োটিন আবার থাইরয়েড ও হৃদযন্ত্রের রক্তপরীক্ষার ফল বিকৃত করতে পারে, তাই পরীক্ষার আগে চিকিৎসককে জানানো দরকার।
চুলে তেল মালিশে সত্যিই কী হয়?
চুলে তেল মালিশে যা প্রমাণিত তা হল চুলের ক্ষয় কমা, নতুন চুল গজানো নয়, আর এই তফাতটাই বেশির ভাগ লেখায় মুছে যায়।
সবচেয়ে শক্ত প্রমাণটি নারকেল তেলের। Rele ও Mohile ২০০৩ সালে Journal of Cosmetic Science-এ খনিজ তেল, সূর্যমুখী তেল ও নারকেল তেল পাশাপাশি পরীক্ষা করে দেখান, তিনটির মধ্যে একমাত্র নারকেল তেলই ক্ষতিগ্রস্ত ও অক্ষত দুই ধরনের চুলেই প্রোটিন-ক্ষয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। কারণ হিসেবে তাঁরা লরিক অ্যাসিডের কম আণবিক ভর ও প্রোটিনের প্রতি আসক্তির কথা বলেছেন, যার জোরে তেলটি চুলের ভিতরে ঢুকতে পারে। খনিজ তেলে সেই আসক্তি নেই, সূর্যমুখী তেলের গঠন ভারী বলে ঢোকে না। স্তর মাঝারি প্রমাণ।
মালিশ নিয়ে প্রমাণ আরও পাতলা কিন্তু আছে। ২০১৬ সালে Eplasty-তে প্রকাশিত Koyama ও সহলেখকদের গবেষণায় ৯ জন সুস্থ পুরুষ ২৪ সপ্তাহ ধরে দিনে ৪ মিনিট নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করার পর চুলের পুরুত্ব ০.০৮৫ মিলিমিটার থেকে বেড়ে ০.০৯২ মিলিমিটার হয়েছে। নয়জন, কোনো নিয়ন্ত্রণ দল নেই। স্তর সীমিত প্রমাণ, আর এই সংখ্যাটা দিয়ে টাক ফেরানোর দাবি করা যায় না।
শিরোভ্যঙ্গ, অর্থাৎ মাথায় তেল মালিশের আয়ুর্বেদিক পদ্ধতি, শাস্ত্রে দৈনন্দিন চর্যার অংশ। হালকা গরম তেল মাথায় পড়লে একটা প্রশান্ত উষ্ণ অনুভূতি ছড়ায়, আর তিল বা ভৃঙ্গরাজ তেলের চেনা গন্ধ মনকেও খানিকটা শান্ত করে।
| প্রকৃতি | প্রচলিত তেল |
|---|---|
| বাত | তিল তেল, ব্রাহ্মী তেল |
| পিত্ত | নারকেল তেল, ভৃঙ্গরাজ তেল |
| কফ | সর্ষের তেল, নিম তেল (সর্ষেতে মিশিয়ে) |
পদ্ধতিটা সোজা। ২ থেকে ৩ চামচ তেল হালকা গরম করে আঙুলের ডগা দিয়ে মাথার ত্বকে ৫ থেকে ৭ মিনিট গোলাকার মালিশ করুন, তারপর চুলের দৈর্ঘ্য বরাবর ছড়িয়ে দিন। কমপক্ষে এক ঘণ্টা রেখে কুসুম গরম জলে শ্যাম্পু, ফুটন্ত জল কখনো নয়। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার যথেষ্ট।
রাতভর তেল রাখার পরামর্শটা নিয়ে একটা শর্ত আছে যা প্রায় কেউ লেখে না। যাঁদের খুশকি বা সেবোরিক ডার্মাটাইটিস আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সারারাত তেল রেখে দিলে উপসর্গ বাড়তে পারে, কারণ এর পিছনে থাকা Malassezia ছত্রাক ত্বকের তেলেই বাড়ে। খুশকির আলাদা লেখায় এই দিকটা বিস্তারিত আছে।
সপ্তাহে কতবার শ্যাম্পু করা উচিত?
শ্যাম্পুর সঠিক সংখ্যা সবার জন্য এক নয়, আর "প্রতিদিন শ্যাম্পু করবেন না, সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার" নিয়মটি সর্বজনীন সত্য হিসেবে চালানো ভুল।
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজি, অর্থাৎ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বড় পেশাদার সংগঠন, বিষয়টাকে চুলের ধরন অনুযায়ী ভাগ করে। তাদের নির্দেশনা হল, চুল সোজা ও স্ক্যাল্প তৈলাক্ত হলে প্রতিদিনও শ্যাম্পু করার দরকার হতে পারে, আর চুল শুকনো, টেক্সচার্ড, কোঁকড়া বা ঘন হলে প্রয়োজন অনুযায়ী, দুই থেকে তিন সপ্তাহে একবার হলেও চলে।
দ্বিতীয় কথাটা আরও কম শোনা যায়। AAD বলছে শ্যাম্পু লাগাতে হবে স্ক্যাল্পে, চুলের গোটা দৈর্ঘ্যে নয়, কারণ ময়লা ও তেল জমে গোড়ায়, ডগায় নয়। কন্ডিশনার ঠিক উল্টো, সেটি যায় চুলের ডগায়।
ভেজা চুল নিয়ে তৃতীয় পরামর্শটি বাঙালি ঘরে সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘিত হয়। ভেজা অবস্থায় চুল সবচেয়ে দুর্বল, তাই AAD চিরুনির বদলে চওড়া দাঁতের চিরুনি ব্যবহারের কথা বলে। আর হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার বা কার্লার ব্যবহার সীমিত রাখতে বলা হয়েছে, ব্যবহার করলে কম বা মাঝারি তাপে এবং হিট-প্রোটেকশন পণ্যসহ।
কফ প্রকৃতির তৈলাক্ত স্ক্যাল্পের জন্য আয়ুর্বেদ যে বেশি ধোয়ার কথা বলে, সেটা AAD-র সুপারিশের সঙ্গে মিলে যায়। দুই কাঠামোর ভাষা আলাদা, উপসংহার এক।
প্রধান আয়ুর্বেদিক চুল-ভেষজ
আয়ুর্বেদিক চুল-পরিচর্যায় সাতটি ভেষজ বারবার ফিরে আসে, আর এদের প্রমাণের ওজন মোটেই সমান নয়, কারণ কয়েকটির পিছনে অন্তত ছোট গবেষণা আছে আর বাকিদের পিছনে কেবল শাস্ত্রীয় নথি ও দীর্ঘ ব্যবহার। তফাতটা নিচে ধরে ধরে বলা আছে।
ভৃঙ্গরাজ (Eclipta alba) আয়ুর্বেদে "চুলের রাজা" নামে পরিচিত প্রধান কেশ্য ভেষজ, আর প্রচলিত আয়ুর্বেদিক চুল-তেলের এটি মূল উপাদান। গবেষণা মূলত প্রাণী-মডেল ও ছোট মানব-পর্যায়ে সীমিত। স্তর সীমিত প্রমাণ। বিশদ আছে ভৃঙ্গরাজের লেখায়।
আমলকী (Phyllanthus emblica) চুলের জন্য আয়ুর্বেদের অন্যতম প্রিয় রসায়ন ফল, তেল, পেস্ট ও খাবার সব রূপেই ব্যবহৃত। অকালে পাকা চুল রোধে এর ভূমিকা ঐতিহ্যগত, মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রিত ট্রায়াল নেই। স্তর ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার। বিশদ আমলকীর লেখায়।
ব্রাহ্মী (Bacopa monnieri) আয়ুর্বেদে মেধ্য ও কেশ্য দুই হিসেবেই গণ্য, তেলে রাতের মালিশ অনেকের প্রিয়। চুলের ক্ষেত্রে স্তর ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার।
জবা (Hibiscus rosa-sinensis) ফুল ও পাতা চুলের গোড়া শক্ত করতে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত। গবেষণা ফুলের চেয়ে পাতাকে এগিয়ে রেখেছে, আর প্রমাণ প্রাণী-পর্যায়ে। স্তর ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার। বিশদ জবা ফুলের লেখায়।
রিঠা ও শিকাকাই (Sapindus mukorossi ও Acacia concinna) আয়ুর্বেদের প্রাকৃতিক শ্যাম্পু। সমপরিমাণে রিঠা, শিকাকাই ও আমলকী রাতে ভিজিয়ে সকালে ছেঁকে ব্যবহার করা যায়। বাণিজ্যিক শ্যাম্পুর সঙ্গে তুলনামূলক ট্রায়াল নেই। স্তর ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার।
মেথি (Trigonella foenum-graecum) বীজের পেস্ট খুশকি ও দুর্বল গোড়ায় উপকারী বলে মনে করা হয়। স্তর ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার।
নিম (Azadirachta indica) খুশকি ও মাথার ত্বকের চুলকানিতে বহুল ব্যবহৃত একটি তিক্ত ভেষজ। স্তর ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার, আর নিম তেল নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা নিচের অংশে আলাদা করে দেওয়া আছে।
তালিকার বাইরে একটি উপাদানের প্রমাণ বাকিদের চেয়ে শক্ত, আর সেটি ভেষজ নয়, পেঁয়াজ। Sharquie ও Al-Obaidi ২০০২ সালে The Journal of Dermatology-তে প্যাচি অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার রোগীদের ওপর কাঁচা পেঁয়াজের রস বনাম কলের জলের তুলনা করেন। ছয় সপ্তাহে পেঁয়াজের দলে ২৩ জনের মধ্যে ২০ জনের চুল ফিরেছে, জলের দলে ১৫ জনের মধ্যে ২ জনের। স্তর সীমিত প্রমাণ, আর মনে রাখা দরকার এটি অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা নামের নির্দিষ্ট রোগ, সাধারণ চুল পড়া নয়।
কয়েকটি ঘরোয়া রেসিপি
নিচে চারটি সহজ ঘরোয়া রেসিপি দেওয়া হল, আর প্রতিটির আগে একটি নিয়ম সবার জন্য এক: প্রথমবার ব্যবহারের আগে কনুইয়ের ভাঁজে অল্প লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা প্যাচ-টেস্ট করে নিন।
১. মৌসুমি তেল
মৌসুমি তেল হল নারকেল তেলের ভিত্তিতে তৈরি একটি ঘরোয়া ভেষজ তেল, যা একবার বানিয়ে সারা বছর ব্যবহার করা যায়।
- ২৫০ মিলি বিশুদ্ধ নারকেল তেল
- ৭ থেকে ৮টি জবা ফুল ও ১০টি পাতা
- ১ চা চামচ মেথি বীজ
- ২ চা চামচ ভৃঙ্গরাজ গুঁড়ো
- ১ চা চামচ আমলকী গুঁড়ো
কম আঁচে ৩০ মিনিট গরম করুন, কখনো ফুটাবেন না। ছেঁকে কাঁচের বোতলে রাখলে তিন মাস পর্যন্ত ব্যবহার্য, আর গরম করার সময় গোটা রান্নাঘরে ভেষজের চেনা গন্ধ ছড়ায়।
২. দই-মেথি প্যাক
দই-মেথি প্যাক হল খুশকি ও শুষ্ক স্ক্যাল্পে ব্যবহৃত একটি সাধারণ ঘরোয়া মিশ্রণ।
- ২ চা চামচ মেথি গুঁড়ো
- ৩ চা চামচ টক দই
- ১ চা চামচ মধু
মাথার ত্বকে ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করুন, সপ্তাহে একবার।
৩. আমলকী-হেনা প্যাক
আমলকী-হেনা প্যাক চুলে প্রাকৃতিক রং ও উজ্জ্বলতা আনতে বহু পুরোনো একটি ঘরোয়া পদ্ধতি।
- ২ চা চামচ হেনা গুঁড়ো
- ২ চা চামচ আমলকী গুঁড়ো
- জল দিয়ে পেস্ট করে রাতে ভিজিয়ে রাখুন
সকালে চুলে ৪৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন, মাসে একবার। অকালে পাকা চুলের সমাধান নিয়ে আলাদা বিশদ লেখা আছে।
হেনা কেনার সময় একটা জিনিস অবশ্যই দেখে নেবেন। খাঁটি হেনা লালচে-বাদামি রং দেয়, আর যে পণ্য "কালো হেনা" বা দ্রুত কালো রঙের প্রতিশ্রুতি দেয়, তাতে প্রায়ই PPD বা প্যারা-ফিনাইলিনডায়ামিন নামের রাসায়নিক মেশানো থাকে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে করা একটি গবেষণায় পরীক্ষিত সব কালো-হেনা নমুনায় PPD পাওয়া গেছে, পরিমাণ ০.৪ থেকে ২৯.৫ শতাংশ, যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চুলের রঙে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি। উপাদানের তালিকা পড়ে নিন, আর তালিকা না থাকলে কিনবেন না।
৪. নিম পেস্ট
৭ থেকে ৮টি কচি নিম পাতা বেটে ১ চা চামচ নারকেল তেলে মিশিয়ে মাথার ত্বকে ২০ মিনিট রাখুন। এখানে নিম পাতা ব্যবহার হচ্ছে, নিম তেল নয়, আর কারণটা নিচের সতর্কতা-অংশে আছে।
যা এড়িয়ে চলুন
কয়েকটি দৈনন্দিন অভ্যাস চুপিসারে চুলের ক্ষতি করে, আর লক্ষ করার মতো ব্যাপার হল এগুলোর প্রায় সবগুলোই যান্ত্রিক ক্ষতি, অর্থাৎ টান, তাপ ও ঘষা, পুষ্টির অভাব নয়। তালিকাটা ছোট।
- খুব গরম জলে স্নান, কারণ তা চুলের কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত করে
- ভেজা চুলে জোরে চিরুনি, কারণ ভেজা চুল সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় থাকে
- প্রতিদিন হিট-স্টাইলিং, যা AAD সীমিত রাখতে বলে
- খুব টাইট বিনুনি বা খোঁপা, যা গোড়ায় ক্রনিক টান ফেলে এবং দীর্ঘদিনে ট্র্যাকশন অ্যালোপেশিয়া ডেকে আনতে পারে
- ধূমপান, যা রক্তসঞ্চালনের ক্ষতি করে
ক্যাফেইন ও চিনি নিয়ে যে কথাগুলো চুলের প্রসঙ্গে ঘুরে বেড়ায়, সেগুলো এই তালিকায় নেই। কারণ সরল, চুলের সঙ্গে সরাসরি যোগ দেখানোর মতো নির্ভরযোগ্য উৎস এই গবেষণা-পর্বে পাইনি। যেটুকু প্রমাণে দাঁড়ায় না, সেটুকু না লেখাই ভাল।
কে ব্যবহার করবেন না বা সতর্ক থাকবেন
ঘরোয়া চুলের যত্নে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ভেষজে নয়, বরং ভেজাল ও ভুল প্রয়োগে, আর নিচের সতর্কতাগুলো সেই জায়গাগুলো ধরে।
কালো হেনা ও PPD এই তালিকার সবচেয়ে জরুরি বিষয়। PPD-তে একবার সংবেদনশীল হয়ে পড়লে সেই অ্যালার্জি সারাজীবন থেকে যেতে পারে। ২০১২ সালে JDDG-তে প্রকাশিত Kind ও সহলেখকদের গবেষণায় সাতজন রোগীর প্রত্যেকেই প্যাচ-টেস্টে PPD-তে পজিটিভ ছিলেন, আর কালো-হেনা ট্যাটু থেকে সংবেদনশীল হওয়ার পর চুলে রং করে প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে গড়ে ৬.২ বছর লেগেছে। লক্ষণ হল রং করার এক থেকে তিন দিনের মাথায় মাথার ত্বক ও কপালে তীব্র চুলকানি, ফোলা ও ফোস্কা। এমন হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যান।
নিম তেল কখনো খাওয়াবেন না, বিশেষত শিশুকে। NIH-এর LiverTox তথ্যভাণ্ডার নিম বা মার্গোসা তেল প্রসঙ্গে জানাচ্ছে, খেয়ে ফেললে তীব্র বিপাকীয় অ্যাসিডোসিস ও মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে, বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে, আর ছবিটা Reye সিন্ড্রোমের মতো দেখায়। বাংলাদেশ ও ভারতের বহু বাড়িতে নিম তেল ওষুধ হিসেবে খাওয়ানোর প্রথা আছে, তাই কথাটা আলাদা করে বলা দরকার। ত্বকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই বিষক্রিয়ার নজির নেই, তবু শিশুর মাথায় নিম তেল লাগানোর দরকার নেই।
প্যাচ-টেস্ট বাদ দেবেন না। ভেষজ মানেই অ্যালার্জিহীন নয়। মেথি ছোলা-জাতীয় উদ্ভিদ পরিবারের, তাই ছোলা বা চিনাবাদামে অ্যালার্জি থাকলে সতর্ক থাকুন। রিঠার ফেনা চোখে গেলে যথেষ্ট জ্বালা ধরায়, তাই ধোয়ার সময় মাথা পিছনে হেলিয়ে রাখুন।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানে চুলে রং করা এবং ওষুধি মাত্রার ভেষজ প্রয়োগ নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নেওয়াই নিরাপদ, কারণ এই সময়ের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের ওপর তথ্য সীমিত।
মাথার ত্বকে ক্ষত, একজিমা, সোরিয়াসিস বা চলমান সংক্রমণ থাকলে ঘরোয়া প্যাক বা কাঁচা রস লাগাবেন না, ভাঙা ত্বকে শোষণ ও জ্বালা দুটোই বেড়ে যায়।
গরম তেল ও গরম তোয়ালের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা কবজিতে পরীক্ষা করে নিন। হালকা উষ্ণই যথেষ্ট, বেশি গরম তেল স্ক্যাল্প পুড়িয়ে দিতে পারে এবং ফলিকলের ক্ষতি করতে পারে।
সাপ্লিমেন্ট নিয়ে একটি ব্যবহারিক কথা। বেশি মাত্রার বায়োটিন থাইরয়েড ও হৃদযন্ত্রের রক্তপরীক্ষার ফল ভুল দেখাতে পারে, তাই পরীক্ষার আগে চিকিৎসককে জানিয়ে রাখুন।
কে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া যত্নে না থেমে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
NHS মনে করিয়ে দেয়, দিনে ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক এবং অনেক সময় সেটা চোখেই পড়ে না। তাই আসল প্রশ্ন সংখ্যা নয়, বদল।
- কয়েক মাস ধরে চুল পড়া স্পষ্টভাবে বাড়ছে
- চুলের ফাঁক বা গোল প্যাচ স্পষ্ট হচ্ছে
- মাথার ত্বকে স্থায়ী চুলকানি, জ্বালা, ফুসকুড়ি বা ঘা
- চুলের সঙ্গে অন্য উপসর্গ, যেমন ক্লান্তি, ওজন বদল বা ঋতুচক্রের গণ্ডগোল
- শুধু সামনে বা চাঁদিতে বড় পরিমাণে চুল পড়া
NHS আরও একটি কথা স্পষ্ট করে বলে, যা বাণিজ্যিক ক্লিনিকের বিজ্ঞাপনে কখনো শুনবেন না: কোনো চিকিৎসাই শতভাগ কার্যকর নয়, আর বাণিজ্যিক হেয়ার ক্লিনিকে যাওয়ার কথা ভাবার আগে চিকিৎসকের কাছ থেকে কারণটা জেনে নেওয়া উচিত। অবিরাম বা ছাঁদ-ভিত্তিক চুল পড়া নিয়ে আলাদা বিশদ আছে চুল পড়া বন্ধের লেখায় ও টাক পড়া রোধের লেখায়।
একটি ছোট ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ
দাদুর কথাটা বারবার ফিরে আসে: "নারকেল তেল আর আমলকী।" পঞ্চাশ বছরে যা বদলায়নি, তা হল সরলতা।
লেখাটা নতুন করে সাজাতে বসে মজার ব্যাপারটা হল, দাদুর ওই দুই উপাদানের একটির পক্ষে সত্যিই মাপা প্রমাণ পেলাম, অথচ যে উপাদানটিকে আয়ুর্বেদ চুলের জন্য সবচেয়ে বেশি মাথায় তুলেছে তার পক্ষে তেমন কিছু নেই। নারকেল তেল নিয়ে ২০০৩ সালের গবেষণাটা পড়ে মনে হল, রান্নাঘরের সবচেয়ে সস্তা বোতলটাই এই তালিকার সবচেয়ে ভাল-প্রমাণিত জিনিস। আমলকীর পক্ষে সেরকম কিছু পাইনি, শুধু দীর্ঘ প্রথা।
জল নিয়ে চলতি কথাটাও আমি বহুদিন বিনা প্রশ্নে মেনে নিয়েছিলাম, বেশি জল খেলে নাকি চুলের শুষ্কতা কমে। (স্বীকার করতে একটু অস্বস্তি হয়, কিন্তু খুঁজতে বসে সমর্থনে কিছুই পেলাম না।)
উপসংহার
চুলের যত্ন নেওয়ার উপায়ে সবচেয়ে কাজের কথাটা এক লাইনের। প্রমাণে যা দাঁড়ায় তা হল ক্ষয় কমানো, নতুন চুল গজানো নয়, আর বাকি অনেকটাই ঐতিহ্যগত ব্যবহার, যা মূল্যহীন নয় কিন্তু প্রমাণিতও নয়।
কাজে লাগানোর মতো একটি নির্দিষ্ট পদক্ষেপ যদি বেছে নিতে হয়, সেটা এই সপ্তাহে চুল ধোয়ার নিয়মটা নিজের চুলের ধরন অনুযায়ী ঠিক করে নেওয়া। স্ক্যাল্প তৈলাক্ত আর চুল সোজা হলে ধোয়ার ব্যবধান কমান, চুল শুকনো বা কোঁকড়া হলে বাড়ান, আর শ্যাম্পুটা গোড়ায় দিন ডগায় নয়, কারণ ময়লা ও তেল জমে স্ক্যাল্পে, চুলের শেষ প্রান্তে নয়। বাঁধা "সপ্তাহে দুইবার" নিয়মটা ছেড়ে দিন।
আর ঘরে যদি কালো হেনার কৌটো থাকে, উপাদানের তালিকাটা আজই একবার পড়ে দেখুন।
আপনার পরিবারে চুলের যত্নে কোন ঘরোয়া তেল বহুদিন ধরে চলে আসছে?
চুলে মেহেদি লাগানোর নিয়ম ও তার প্রমাণ আলাদা করে দেখা আছে চুলে মেহেদি পাতা লাগানোর নিয়ম লেখায়।
সূত্র / Sources
- American Academy of Dermatology. "Tips for healthy hair." aad.org
- Rele AS, Mohile RB. "Effect of mineral oil, sunflower oil, and coconut oil on prevention of hair damage." Journal of Cosmetic Science, 2003;54(2):175-192. PubMed 12715094
- Koyama T, Kobayashi K, Hama T, Murakami K, Ogawa R. "Standardized Scalp Massage Results in Increased Hair Thickness by Inducing Stretching Forces to Dermal Papilla Cells in the Subcutaneous Tissue." Eplasty, 2016;16:e8. PMC4740347
- Sharquie KE, Al-Obaidi HK. "Onion juice (Allium cepa L.), a new topical treatment for alopecia areata." The Journal of Dermatology, 2002;29(6):343-346. DOI 10.1111/j.1346-8138.2002.tb00277.x. PubMed 12126069
- Al-Suwaidi A, Ahmed H. "Determination of para-Phenylenediamine (PPD) in Henna in the United Arab Emirates." International Journal of Environmental Research and Public Health, 2010;7(4):1681-1693. DOI 10.3390/ijerph7041681. PMC2872353
- Kind F, Scherer K, Bircher AJ. "Contact dermatitis to para-phenylenediamine in hair dye following sensitization to black henna tattoos, an ongoing problem." Journal der Deutschen Dermatologischen Gesellschaft, 2012;10(8):572-578. DOI 10.1111/j.1610-0387.2011.07882.x. PubMed 22299643
- "Margosa Oil." LiverTox, Clinical and Research Information on Drug-Induced Liver Injury. National Institute of Diabetes and Digestive and Kidney Diseases, 2020. NCBI Bookshelf NBK548429
- National Health Service, UK. "Hair loss." nhs.uk
- চরক সংহিতা ও অষ্টাঙ্গ হৃদয়, কেশ্য ভেষজ ও দৈনন্দিন চর্যায় শিরোভ্যঙ্গের বর্ণনা (শাস্ত্রীয় সূত্র)
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। এটি চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর

লেখক সম্পর্কে
অভিজিৎ সাউ
তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক
তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত একজন প্রকৌশলী। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলা ভাষায় আয়ুর্বেদ, ভেষজ ও প্রাকৃতিক জীবনযাত্রার বিশ্বস্ত তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিটি নিবন্ধের পেছনে শাস্ত্রীয় গ্রন্থ, AYUSH মন্ত্রকের নির্দেশিকা ও প্রকাশিত গবেষণাপত্র যাচাই করি।
এই নিবন্ধটি প্রকাশের আগে প্রাথমিক উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই ও সম্পাদনা করা হয়েছে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি।

নারীস্বাস্থ্য, বয়স অনুযায়ী কী দেখবেন ও আয়ুর্বেদ কী বলে
নারীস্বাস্থ্যের সম্পূর্ণ গাইড, বয়সের চার ধাপে কী দেখা দরকার, ঋতুচক্র, রক্তাল্পতা ও মেনোপজে প্রমাণ কী বলে, আর কোন লক্ষণে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাবেন।

ডেঙ্গু জ্বরে পেঁপে পাতার রস কি কাজ করে, প্রমাণ কতদূর
ডেঙ্গু জ্বরে পেঁপে পাতার রস কি সত্যিই প্লাটিলেট বা প্লেটলেট বাড়ায়, গবেষণায় কত মাত্রা ব্যবহার হয়েছে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বিপদ সংকেত আর কখন হাসপাতালে যাবেন।

অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগ, আয়ুর্বেদ কতটা কাজে লাগে আর কোথায় নয়
অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগে আয়ুর্বেদ কতটা কাজে লাগে, অশ্বগন্ধা নিয়ে গবেষণা ও লিভার-ঝুঁকি, ওষুধের সঙ্গে ভেষজের বিক্রিয়া এবং কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার।