আরোগ্য বাংলা
খাদ্য ও পুষ্টি ২১ মে, ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ২৬ আগস্ট, ২০২৬ 15 মিনিট পড়ুন

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা, আর যে দাবিগুলোর প্রমাণ নেই

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা ও ডায়েট চার্ট, সুগারের মাত্রা কত হলে ডায়াবেটিস, করলা ও মেথির প্রমাণ কতটা, রিমিশন বলতে কী বোঝায়, বাংলায় প্রমাণভিত্তিক গাইড।

অভিজিৎ সাউ
তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক

AI-সহায়তায় গবেষণা ও খসড়া; সম্পাদনা, যাচাই ও তথ্যের দায়ভার লেখক অভিজিৎ সাউ-এর। সম্পাদকীয় নীতি গবেষণা পদ্ধতি

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা, মেথি করলা জাম মিশ্র শস্য ও শাক
সূচিপত্র16টি বিভাগ

দুপুরের ভোজে একটু বেশি ভাত খেয়েছিলেন, মিষ্টি দুটো না-করে একটা খেয়েছিলেন, পরে রক্ত-পরীক্ষায় HbA1c একটু বেড়ে আছে। ডাক্তার বললেন, চিনি কম খাবেন। কিন্তু বাঙালির রান্নাঘরে ভাত, লুচি, মিষ্টি, পায়েস, বিকেলের চা, চিনি ছাড়া যেন সংসার চলে না। আবার ইন্টারনেটে কেউ বলছে কেটো, কেউ বলছে শুধু করলার রস খেলেই হবে।

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা নিয়ে সৎ উত্তরটা দুই ভাগে ভাঙে, আর এই দুটো আলাদা রাখাই এখানে সবচেয়ে জরুরি। কী খাবেন সেই তালিকাটা মোটামুটি স্থির এবং বাঙালি রান্নাঘরেই তার প্রায় সব উপাদান আছে। কিন্তু কোন ভেষজ সত্যিই রক্তে শর্করা কমায়, সেই প্রশ্নে প্রমাণ একেকটির ক্ষেত্রে একেক রকম, আর বাংলা ইন্টারনেটে যে ভেষজটিকে সবচেয়ে বেশি সামনে রাখা হয় তার পিছনেই প্রমাণ সবচেয়ে দুর্বল।

আয়ুর্বেদে ডায়াবেটিসকে বলা হয়েছে প্রমেহ এবং এর গুরুতর রূপকে মধুমেহ। এই লেখায় থাকবে সুগারের মাত্রার হিসাব, বাঙালি খাদ্য তালিকা ও এক দিনের চার্ট, দাবি ধরে ধরে ভেষজের প্রমাণের ওজন, খাবারের ক্রম নিয়ে যা সত্যিই মাপা হয়েছে, রিমিশন বলতে ঠিক কী বোঝায়, আর কোন লক্ষণে ঘরোয়া হিসাব থামিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

এক নজরে

ডায়াবেটিস নিয়ে যে পরামর্শগুলো সবচেয়ে বেশি ঘোরে, তার প্রতিটির পাশে প্রমাণের স্তর আলাদা করে বসানো দরকার, কারণ খাদ্যাভ্যাসের পরামর্শ আর ভেষজের দাবি এক ওজনের জিনিস নয় এবং দুটোকে এক পাল্লায় মাপলে পাঠক ওষুধ ছেড়ে ভেষজে ভরসা করার মতো বিপজ্জনক সিদ্ধান্তে পৌঁছে যেতে পারেন। আটটি বিন্দু।

  • ভারতে ডায়াবেটিসের প্রকোপ ১১.৪ শতাংশ, প্রায় ১০.১ কোটি মানুষ, আর প্রি-ডায়াবেটিস আরও বেশি, ১৫.৩ শতাংশ (ICMR-INDIAB, ১,১৩,০৪৩ জন)।
  • করলায় প্রমাণের স্তর অপর্যাপ্ত প্রমাণ। কোক্রেন পর্যালোচনায় ৪টি ট্রায়াল ও ৪৭৯ জনে প্লাসিবোর তুলনায় পার্থক্য মেলেনি।
  • মেথিতে স্তর মাঝারি প্রমাণ। ১০টি ট্রায়াল ও ৭০৬ জনে HbA1c কমেছে ০.৫৪ শতাংশ, তবে গবেষণাগুলির মান লেখকদের নিজেদের ভাষায় দুর্বল।
  • অর্থাৎ বাংলায় যে ভেষজটি সবচেয়ে বেশি প্রচারিত সেটির প্রমাণ সবচেয়ে কম, আর যেটি কম আলোচিত সেটির বেশি।
  • কার্ব সবার শেষে খেলে খাওয়ার পরের শর্করা-লাফ কমে, কিন্তু ১৬ সপ্তাহে HbA1c কমেছে মাত্র ০.১ শতাংশ। স্তর সীমিত প্রমাণ
  • রিমিশন মানে ওষুধ ছাড়া অন্তত ৩ মাস HbA1c ৬.৫ শতাংশের নিচে। DiRECT ট্রায়ালে ১ বছরে ৪৬ শতাংশ।
  • রিমিশন নিরাময় নয়। ঐকমত্যপত্র নিজেই বলছে, নিরাময় শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি কারণ তাতে মনে হয় নজরদারি আর লাগবে না।
  • ওজন কমা, ঘন ঘন প্রস্রাব, তীব্র তৃষ্ণা বা হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণে এই লেখার কোনো তালিকাই যথেষ্ট নয়, চিকিৎসকের কাছে যান।

সুগার কত হলে ডায়াবেটিস, সংখ্যাগুলো কী বলে

ডায়াবেটিস নির্ণয় হয় নির্দিষ্ট কয়েকটি রক্ত-পরীক্ষার সংখ্যা দিয়ে, আর নিজের রিপোর্ট পড়তে পারলে খাদ্য তালিকার সিদ্ধান্তগুলোও অনেক পরিষ্কার হয়ে যায়। বাংলা ইন্টারনেটে খাদ্য তালিকা প্রচুর, কিন্তু সংখ্যাগুলো কী বোঝায় তা প্রায় কোথাও লেখা থাকে না। নিচের সীমাগুলি আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬ সালের Standards of Care অনুযায়ী।

পরীক্ষা স্বাভাবিক প্রি-ডায়াবেটিস ডায়াবেটিস
খালি পেটে গ্লুকোজ ১০০ মিগ্রা/ডেসিলিটারের নিচে ১০০ থেকে ১২৫ ১২৬ বা তার বেশি
খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে ১৪০-এর নিচে ১৪০ থেকে ১৯৯ ২০০ বা তার বেশি
HbA1c ৫.৭ শতাংশের নিচে ৫.৭ থেকে ৬.৪ ৬.৫ বা তার বেশি

একটা কথা টেবিলের নিচে যোগ করা দরকার। ADA-র নির্দেশিকা বলছে, স্পষ্ট উপসর্গ না থাকলে একটিমাত্র অস্বাভাবিক ফল দেখে রোগ নির্ণয় করা হয় না, দুটি আলাদা পরীক্ষায় অস্বাভাবিক ফল লাগে। তাই একবারের রিপোর্ট দেখে নিজে থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন না।

HbA1c সংখ্যাটি আলাদা করে বোঝা দরকার, কারণ এটি আগের দুই থেকে তিন মাসের গড় ছবি দেয়, একদিনের ওঠানামা নয়। তাই একবেলা বেশি ভাত খেলে HbA1c লাফায় না, কিন্তু তিন মাস ধরে রোজ একটু করে বেশি খেলে সেই অভ্যাসটাই সংখ্যায় ধরা পড়ে যায়, আর ঠিক এই কারণেই একদিনের সংযমের চেয়ে টানা অভ্যাস অনেক বেশি কাজে দেয়।

সংখ্যাটার আরেকটা তাৎপর্য আছে। ৬.৫ শতাংশ যেমন ডায়াবেটিস নির্ণয়ের সীমা, রিমিশনের সংজ্ঞাতেও ঠিক সেই একই সীমা ব্যবহার হয়, আর সেই প্রসঙ্গে আমরা নিচে ফিরব।

আয়ুর্বেদে প্রমেহ ও মধুমেহ

আয়ুর্বেদে প্রমেহ হলো মূত্র-সংক্রান্ত একদল রোগের সমষ্টি, যার গুরুতর রূপ মধুমেহ আজকের ডায়াবেটিসের সঙ্গে অনেকটাই মেলে। চরক সংহিতার চিকিৎসাস্থানে প্রমেহের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে আস্যাসুখম্‌ (অলস বসে থাকা), স্বপ্নসুখম্‌ (অতিরিক্ত ঘুম, বিশেষত দিনের), অতিরিক্ত দই ও ভারী মাংস, অতিরিক্ত দুধ ও নতুন শস্য, এবং গুড়-সংক্রান্ত মিষ্টি।

হাজার বছরের পুরোনো এই বর্ণনা আধুনিক metabolic syndrome-এর সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে মেলে, অর্থাৎ অতিরিক্ত বসে থাকা, অতিরিক্ত ঘুম, অতিরিক্ত মিষ্টি ও চর্বি। মিলটা সত্যিই কৌতূহলোদ্দীপক।

শাস্ত্রে প্রমেহকে তিন দোষের ভাগে ভাগ করা হয়েছে, কফজ (১০ প্রকার), পিত্তজ (৬ প্রকার), বাতজ (৪ প্রকার)। কফজ প্রমেহ আজকের টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সঙ্গে অনেকটা মেলে, অর্থাৎ স্থূলতা, অলস জীবন ও অতিরিক্ত মিষ্টি-ভারী খাবারের পরিণতি। ত্রিদোষের লেখায় এই তিন দোষের চরিত্র বিস্তারিত আলোচিত।

একটা কথা স্পষ্ট করে রাখা দরকার। এই মিল ধারণাগত, রোগনির্ণয়ের নয়, তাই প্রমেহের শাস্ত্রীয় শ্রেণিবিভাগের স্তর ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার, আর আজকের চিকিৎসা চলবে রক্ত-পরীক্ষার সংখ্যার ভিত্তিতেই।

ডায়াবেটিস কতটা সাধারণ, ভারতের হিসাব

ভারতে ডায়াবেটিস এখন আর প্রান্তিক কোনো সমস্যা নয়, আর সংখ্যাটা জানা থাকলে নিজের ঝুঁকিটাও ঠিক মাপে দেখা যায়। ICMR-INDIAB সমীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, যেখানে দেশের প্রতিটি রাজ্য থেকে মোট ১,১৩,০৪৩ জন অংশ নিয়েছিলেন, ডায়াবেটিসের জাতীয় প্রকোপ ১১.৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১০.১ কোটি মানুষ (Mohan, Anjana ও Tandon, The National Medical Journal of India, ২০২৪)।

তার চেয়েও বড় সংখ্যাটি কম আলোচিত। একই সমীক্ষায় প্রি-ডায়াবেটিসের প্রকোপ ১৫.৩ শতাংশ, প্রায় ১৩.৬ কোটি মানুষ, অর্থাৎ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের চেয়েও বেশি মানুষ এখন সীমানার ঠিক আগে দাঁড়িয়ে। রাজ্যভেদে তফাতও বিরাট, উত্তরপ্রদেশে ৪.৮ শতাংশ থেকে গোয়ায় ২৬.৪ শতাংশ পর্যন্ত।

এই দ্বিতীয় সংখ্যাটাই এই লেখার সবচেয়ে বড় ব্যবহারিক তাৎপর্য বহন করে, কারণ প্রি-ডায়াবেটিস পর্যায়ে খাদ্য ও ওজনের হস্তক্ষেপ সবচেয়ে বেশি কাজ করে, অর্থাৎ যাঁদের রিপোর্টে এখনো ডায়াবেটিস লেখা হয়নি অথচ সংখ্যাগুলো সীমানার কাছে, তাঁদের হাতেই সবচেয়ে বেশি সময় আছে।

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা, কী খাবেন

ডায়াবেটিসে আদর্শ খাবার হলো কম-গ্লাইসেমিক, ফাইবার-সমৃদ্ধ ও প্রোটিন-ভারসাম্যপূর্ণ, যা রক্তে শর্করা ধীরে ছাড়ে। ভাল খবর হলো, বাঙালি রান্নাঘরেই এর প্রায় সব উপাদান মজুত।

শস্য বেছে নিন সাবধানে। মিশ্র শস্যের রুটি (গম-জোয়ার-বাজরা-রাগি মিশিয়ে) পুরো-গমের রুটির চেয়েও ভাল, ব্রাউন রাইস বা হ্যান্ড-পাউন্ডেড চাল সাদা ভাতের তুলনায় কম-গ্লাইসেমিক, আর চিনি ছাড়া ওটস ও মিলেট জাতীয় শস্যও উপকারী। সাদা ভাত একেবারে বাদ নয়, পরিমিত পরিমাণে, সালাড ও প্রোটিন আগে খেয়ে।

প্রোটিনে জোর দিন। মুগ, মুসুর, ছোলা ও রাজমা, ঘরে পাতা ছানা-পনির, দিনে ১ থেকে ২টি ডিম, ছোট মাছ ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ, স্কিনলেস মুরগি, সয়াবিন ও টোফু, সবই ভাল উৎস। সবজি যত খুশি খেতে পারেন, বিশেষত পাতা শাক (পালং, কালশাক, পুঁই, নটে), করলা-উচ্ছে-পটল-ঝিঙে-লাউ, বাঁধাকপি-ফুলকপি-ব্রকোলি ও ঢেঁড়স।

ফল খান পরিমিত ও বেছে। জাম শাস্ত্রের প্রমেহ-প্রিয় ফল, আর আমলকী সহ পেয়ারা, আপেল, নাশপাতি, কমলালেবু ও বেরি জাতীয় ফল কম-গ্লাইসেমিক। দুগ্ধজাতের মধ্যে কুসুম গরম দুধ, ঘরে পাতা চিনি-ছাড়া দই, ছানা, মাঠা-ঘোল ও পরিমিত ঘি ভাল।

ডায়াবেটিস রোগীর ডায়েট চার্ট, এক দিনের নমুনা

একটি বাঙালি ডায়াবেটিস রোগীর ডায়েট চার্ট মানে দিনের খাবারকে এমনভাবে সাজানো, যাতে রক্তে শর্করার ওঠানামা কম থাকে আর পেট ভরা থাকে। নিচের নমুনাটি সাধারণ। এটি কোনো নির্ধারিত প্রেসক্রিপশন নয়, বরং একটি কাঠামো, কারণ ওজন, বয়স, ওষুধের মাত্রা আর কাজের ধরন অনুযায়ী প্রত্যেকের পরিমাণ আলাদা হয়, তাই নিজের পুষ্টিবিদের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। দোষ অনুযায়ী সাধারণ আহার-পরিকল্পনার কাঠামোটি আয়ুর্বেদিক ডায়েট চার্টের লেখায় আলাদা করে ধরা আছে।

সময় নমুনা খাবার
সকাল, খালি পেটে মেথি-ভেজানো জল, ৫ থেকে ৬টি ভেজানো আমন্ড
প্রাতরাশ ভেজিটেবল ওটস বা মিশ্র শস্যের ২টি রুটি, সঙ্গে সবজি
মাঝ-সকাল একটি ছোট ফল (পেয়ারা বা আপেল) অথবা এক গ্লাস ছাছ
দুপুর ১ কাপ ভাত বা ২টি রুটি, ডাল, শাক, সবজি, সালাড, ঘরে পাতা দই
বিকেল চিনি ছাড়া চা, ১ মুঠো ছোলা বা বাদাম
রাত ২টি রুটি বা অল্প ভাত, সবজি, ডাল, শোয়ার ৩ ঘণ্টা আগে

কী এড়াবেন

ডায়াবেটিসে সবচেয়ে বেশি এড়িয়ে চলা দরকার দ্রুত-শোষিত চিনি ও প্রসেসড কার্ব, যা রক্তে শর্করা হঠাৎ লাফিয়ে বাড়ায়। সরাসরি চিনি ও মিষ্টি (রসগোল্লা, সন্দেশ, পায়েস), চিনিযুক্ত পানীয় ও প্যাকেট জুস, চিনি দেওয়া চা-কফি, সাদা পাঁউরুটি-পাস্তা-ময়দার লুচি, এবং বাজারের মিষ্টি দই এই তালিকার শীর্ষে।

সাবধান থাকুন ছদ্মবেশী চিনি নিয়েও, যেমন প্যাকেট সস ও কেচাপ, প্যাকেট সিরিয়াল ও বিস্কুট, এনার্জি বার ও ফ্লেভারড দই। বেশি-প্রসেস ও তেল-ভারী খাবারও এড়ান, যেমন ফাস্ট ফুড, প্যাকেট চিপস, গভীর-ভাজা খাবার, বনস্পতি ও ট্রান্স ফ্যাট, এবং সসেজ-বেকনের মতো প্রসেসড মাংস।

আয়ুর্বেদেও চিহ্নিত আছে কিছু সতর্কতা, যেমন খুব নতুন শস্য, অতিরিক্ত গুড়-মধু-মিষ্টি, রাতে অতিরিক্ত দই ও অতিরিক্ত দিবা-নিদ্রা। একটা কথা অবশ্য যোগ করা দরকার। বাংলা ইন্টারনেটে অনেক জায়গায় লাল মাংস বা নির্দিষ্ট কিছু ফল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলে লেখা হয়, অথচ সেই ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার পিছনে শক্ত প্রমাণ নেই, পরিমাণ ও মোট খাদ্যাভ্যাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

করলার রস কি সত্যিই সুগার কমায়?

করলার রস রক্তে শর্করা কমায় এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই, আর এটিই সম্ভবত এই লেখার সবচেয়ে অপ্রিয় বাক্য। বাংলা ইন্টারনেটে করলাই ডায়াবেটিসের সবচেয়ে প্রচারিত ঘরোয়া সমাধান, কিন্তু প্রমাণের হিসাব উল্টো দিকে যায়।

কোক্রেন লাইব্রেরির পর্যালোচনায় Ooi, Yassin ও Hamid চারটি র‍্যান্ডমাইজড ট্রায়ালের মোট ৪৭৯ জন টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীর তথ্য একত্র করেছেন, যেখানে চিকিৎসার মেয়াদ ছিল চার সপ্তাহ থেকে তিন মাস। ফলাফলে করলার প্রস্তুতি ও প্লাসিবোর মধ্যে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে পরিসংখ্যানগতভাবে অর্থপূর্ণ কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি, আর মেটফরমিন বা গ্লিবেনক্লামাইডের সঙ্গে তুলনাতেও নির্ভরযোগ্য কোনো বদল দেখা যায়নি। লেখকদের সিদ্ধান্ত সরাসরি, প্রমাণ অপর্যাপ্ত।

তাহলে করলা কি বাদ। না, সেটাও নয়। সবজি হিসেবে করলা কম-ক্যালরি, ফাইবার-যুক্ত ও তেতো-রসের, শাস্ত্রেও কফজ প্রমেহে এর ব্যবহার পুরনো, আর পাতে করলা রাখার বিরুদ্ধে কোনো যুক্তি নেই। যেটা ভুল, সেটা হলো করলার রসকে ওষুধের বিকল্প ভাবা। করলার নিজস্ব লেখায় এর পুষ্টিগুণ আলাদা করে আলোচিত।

ভেষজ ধরে ধরে প্রমাণের ওজন

ডায়াবেটিসে ব্যবহৃত আয়ুর্বেদিক ভেষজগুলোর প্রমাণ এক ওজনের নয়, আর পার্থক্যটা জানা থাকলে প্রত্যাশাও ঠিক জায়গায় থাকে।

ভেষজ প্রমাণের স্তর কী বলা যায়
মেথি মাঝারি প্রমাণ ১০ ট্রায়াল, ৭০৬ জন, HbA1c ০.৫৪ শতাংশ কমেছে, তবে গবেষণার মান দুর্বল
করলা অপর্যাপ্ত প্রমাণ কোক্রেন, ৪ ট্রায়াল, ৪৭৯ জন, প্লাসিবোর তুলনায় পার্থক্য নেই
দারুচিনি সীমিত প্রমাণ ফল অসঙ্গত, ট্রায়ালভেদে বিপরীত ফলাফল
আমলকী সীমিত প্রমাণ ছোট গবেষণা, বেশিরভাগ অন্য উপাদানের সঙ্গে মিলিয়ে
জাম বীজ চূর্ণ ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার শাস্ত্রে প্রমেহে বহু ব্যবহৃত, মানব-ট্রায়াল সীমিত
গুড়মার, বিজয়সার ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার ওষুধের সঙ্গে মিলে শর্করা বেশি নামানোর ঝুঁকি আছে
হলুদ ও কারকুমিন সীমিত প্রমাণ প্রদাহ-সংক্রান্ত সংকেত বেশি, শর্করায় কম

মেথির ঘরটা একটু ব্যাখ্যা চায়। Kim ও সহলেখকদের ২০২৩ সালের পদ্ধতিগত পর্যালোচনা ও মেটা-বিশ্লেষণে (International Journal of Molecular Sciences) ১০টি র‍্যান্ডমাইজড ট্রায়ালের ৭০৬ জন অংশগ্রহণকারীর তথ্য মিলিয়ে HbA1c কমেছে ০.৫৪ শতাংশ (৯৫ শতাংশ আস্থা-পরিসর ০.২৯ থেকে ০.৮০) এবং খালি পেটের গ্লুকোজ কমেছে ২৬.৬৬ মিগ্রা/ডেসিলিটার। মাত্রা ছিল দিনে ২৫০ মিগ্রা থেকে ৩০ গ্রাম পর্যন্ত, বিস্তর তফাত।

তবে লেখকরা নিজেরাই লিখেছেন, অন্তর্ভুক্ত গবেষণাগুলির সামগ্রিক মান দুর্বল ছিল। তাই সংখ্যাটা আশাব্যঞ্জক হলেও একে চূড়ান্ত ধরা যায় না। মেথির নিজস্ব লেখায় খাওয়ার নিয়ম আলাদা করে আছে, আর দারুচিনিআমলকীর প্রমাণও সেখানে ধরা আছে।

সব মিলিয়ে ছবিটা কৌতূহলোদ্দীপক। বাংলায় যে ভেষজটি সবচেয়ে বেশি প্রচারিত, করলা, তার প্রমাণ সবচেয়ে দুর্বল, আর যেটি তুলনায় কম আলোচিত, মেথি, তার প্রমাণ সবচেয়ে ভাল।

খাবারের ক্রম ও অভ্যাস

খাবারের কী তার চেয়ে কীভাবে, এই প্রশ্নটি গবেষণায় ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব পাচ্ছে, তবে এখানেও দাবির মাপ ঠিক রাখা দরকার।

তাৎক্ষণিক পরীক্ষায় ফল বেশ নাটকীয়। প্রোটিন ও সবজি আগে খেয়ে কার্ব শেষে খেলে খাওয়ার পরের গ্লুকোজ-বৃদ্ধি অর্ধেকেরও বেশি কমে যেতে দেখা গেছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তার প্রতিফলন অনেক কম। Shukla ও সহলেখকদের ২০২৩ সালের র‍্যান্ডমাইজড পাইলট গবেষণায় (Nutrients) প্রি-ডায়াবেটিস আক্রান্ত ৪৫ জনকে ১৬ সপ্তাহ ধরে এই ক্রম মানতে বলা হয়, আর শেষে HbA1c কমেছিল মাত্র ০.১ শতাংশ, দুই ঘণ্টার গ্লুকোজ প্রায় অপরিবর্তিত।

অর্থাৎ খাবারের ক্রম কাজে দেয়, কিন্তু সেটি খাদ্য তালিকা বা ওজনের বিকল্প নয়। স্তর সীমিত প্রমাণ

বাকি অভ্যাসগুলো সরল।

  1. খাবারের আগে সালাড, পেট ভরায় ও ফাইবার শোষণ ধীর করে
  2. প্রোটিন ও সবজি আগে, কার্ব পরে
  3. ভাল করে চিবোন, হজম শক্তির লেখায় এর মাপজোক আছে
  4. পেট পুরো ভরিয়ে নয়, শাস্ত্রের তিন-চতুর্থাংশ নিয়ম
  5. খাবারের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটা
  6. রাতের খাবার শোয়ার ৩ ঘণ্টা আগে
  7. পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, কারণ কর্টিসল রক্তে শর্করা বাড়ায়

ডায়াবেটিস কি ভালো হয়ে যায়, রিমিশন বলতে কী বোঝায়?

টাইপ-২ ডায়াবেটিস সারে না, কিন্তু রিমিশন নামের একটি নির্দিষ্ট অবস্থায় পৌঁছানো সম্ভব, আর এই পার্থক্যটা বাংলা ইন্টারনেটে প্রায় কোথাও ব্যাখ্যা করা হয় না।

২০২১ সালে Diabetes Care পত্রিকায় প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক ঐকমত্যপত্রে, যেখানে আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, ইউরোপীয় ডায়াবেটিস গবেষণা সংস্থা, এন্ডোক্রাইন সোসাইটি ও ডায়াবেটিস ইউকে-র বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে কাজ করেছেন, রিমিশনের সংজ্ঞা স্থির হয়েছে এভাবে, রক্তে শর্করা কমানোর ওষুধ বন্ধ করার অন্তত ৩ মাস পরেও HbA1c ৬.৫ শতাংশের নিচে থাকা (Riddle ও সহলেখক, ২০২১)।

লেখকরা কেন নিরাময় শব্দটি ব্যবহার করেননি, সেই ব্যাখ্যাটিও তাঁরা দিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি, নিরাময় বললে বোঝায় রোগের সব দিক স্বাভাবিক হয়ে গেছে এবং আর কোনো ফলো-আপ বা ব্যবস্থাপনার দরকার নেই, যেটা এখানে সত্যি নয়। রিমিশনে পৌঁছেও নিয়মিত পরীক্ষা ও নজরদারি চালিয়ে যেতে হয়, কারণ শর্করা আবার বাড়তে পারে।

বাস্তবে এটা কতটা ঘটে। DiRECT নামের একটি ওপেন-লেবেল ক্লাস্টার-র‍্যান্ডমাইজড ট্রায়ালে (Lean ও সহলেখক, The Lancet, ২০১৮) প্রাথমিক-চিকিৎসা কেন্দ্রে ওজন কমানোর একটি কাঠামোবদ্ধ কর্মসূচি চালানো হয়, প্রতি দলে ১৪৯ জন। ১২ মাসে হস্তক্ষেপ-দলের ৬৮ জন, অর্থাৎ ৪৬ শতাংশ, রিমিশনে পৌঁছেছিলেন, যেখানে নিয়ন্ত্রণ-দলে সংখ্যাটি ছিল ৬ জন বা ৪ শতাংশ। ১৫ কেজি বা তার বেশি ওজন কমাতে পেরেছিলেন ৩৬ জন, অর্থাৎ ২৪ শতাংশ।

সংখ্যাগুলো পড়ার সময় দুটো কথা মাথায় রাখা দরকার। প্রথমত, রিমিশনের সঙ্গে ওজন কমানোর সম্পর্ক সরাসরি, অর্থাৎ এটি কোনো ভেষজ বা খাদ্য-টোটকার ফল নয়। ওজন কমানোর লেখাটি সেই দিকটা আলাদা করে ধরে। দ্বিতীয়ত, DiRECT-এ গোটা কর্মসূচিটি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চলেছিল, ওষুধ বন্ধ করাটাও তত্ত্বাবধানেই হয়েছিল।

তাই এই অংশটি পড়ে কেউ যেন নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ না করেন। রিমিশন সম্ভব, কিন্তু সেটি চিকিৎসকের সঙ্গে পরিকল্পনা করে পৌঁছানোর জায়গা, একা চেষ্টা করার নয়। আর কেউ যদি নিশ্চিত নিরাময়ের প্রতিশ্রুতি দেন, উপরের ঐকমত্যপত্রের কথাটাই মনে করবেন।

ব্যায়াম, অপরিহার্য

নিয়মিত ব্যায়াম ডায়াবেটিস-নিয়ন্ত্রণের অন্যতম স্তম্ভ, যা শরীরকে ইনসুলিনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল করে তোলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২০ সালের শারীরিক সক্রিয়তা নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে ১৫০ থেকে ৩০০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক পরিশ্রম দরকার, আর সপ্তাহে অন্তত ২ দিন পেশি-শক্তির ব্যায়াম (Bull ও সহলেখক, British Journal of Sports Medicine, ২০২০)। বাস্তবে সেটা দাঁড়ায় দিনে ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, লিফটের বদলে সিঁড়ি, আর খাবারের পরে ছোট হাঁটা।

আমার মনে হয় বাঙালি জীবনে যে এক জিনিস সবচেয়ে কম জায়গা পায়, সেটি হলো হাঁটা। অফিসে চেয়ার, বাড়িতে সোফা, যাতায়াতে গাড়ি, পা যেন বিশ্রামেই কাটে। অভ্যাসটা বদলানো যায়।

কে সতর্ক থাকবেন বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

ডায়াবেটিস একটি গুরুতর দীর্ঘমেয়াদি রোগ, তাই এই অংশটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, আর এখানকার কোনো কথাই ঐচ্ছিক নয়।

সবার আগে জরুরি লক্ষণগুলো। হঠাৎ ওজন কমা, ভীষণ তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব বা ঝাপসা দৃষ্টি হলে দেরি না করে ব্লাড সুগার পরীক্ষা করান। আর কাঁপুনি, ঘাম, বুক ধড়ফড়, হঠাৎ খিদে, বিভ্রান্তি বা মূর্ছার মতো হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণে সঙ্গে সঙ্গে কিছু মিষ্টি খান, তারপর চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এটি জরুরি অবস্থা।

ভেষজ নিয়ে একটি নির্দিষ্ট সতর্কতা এখানে দরকার। মেথি ও গুড়মার জাতীয় ভেষজ যদি মেটফরমিন বা ইনসুলিনের সঙ্গে একসঙ্গে চলে, শর্করা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি নেমে যেতে পারে, অর্থাৎ ভেষজ কাজ করলেও সমস্যা, না করলেও সমস্যা। তাই নতুন কোনো ভেষজ শুরুর আগে ডায়াবেটোলজিস্টকে জানানো ঐচ্ছিক নয়।

বাকি সতর্কতাগুলো তালিকা করে রাখা সহজ।

  • চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ইনসুলিন বা ওষুধের মাত্রা বদলাবেন না
  • মেটফরমিন দীর্ঘদিন চললে B12 পরীক্ষা করান, কারণ দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে ঘাটতি হতে পারে
  • HbA1c বছরে অন্তত দুইবার, আর লক্ষ্যমাত্রায় না পৌঁছালে বা ওষুধ বদলালে প্রতি ৩ মাসে (ADA Standards of Care), সঙ্গে বছরে একবার চোখ, কিডনি ও পায়ের পরীক্ষা
  • গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিস আলাদা ব্যবস্থাপনার বিষয়, পুষ্টিবিদ ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে
  • শিশু-কিশোরের ডায়াবেটিস পিডিয়াট্রিক এন্ডোক্রিনোলজিস্টের বিষয়, এই লেখার তালিকা সেখানে প্রযোজ্য নয়
  • কিডনির সমস্যা থাকলে প্রোটিন ও লবণের পরিমাণ চিকিৎসকের সঙ্গে ঠিক করে নিন

একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ

আমি লক্ষ্য করেছি, যাঁরা ডায়াবেটিসের সঙ্গে সবচেয়ে ভাল জীবন কাটান, তাঁদের একটি অভ্যাস প্রায় সবার মধ্যেই সাধারণ। তাঁরা খাবারকে শত্রু হিসেবে দেখেন না, বরং নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়ার একটা ম্যাপ ধীরে ধীরে তৈরি করে নেন, কোন ভাত কেমন প্রতিক্রিয়া তৈরি করে আর কোন বিকেলের মিষ্টি তিন মাস পরে HbA1c-তে ছাপ ফেলে। এটা আমার পর্যবেক্ষণ, মাপা তথ্য নয়, আর এ ধরনের ছাপ তৈরি হয় বাছাই করা কয়েকজনকে দেখে, ফলে এর থেকে সাধারণ সিদ্ধান্ত টানা যায় না। তবু একটা জিনিস বারবার চোখে পড়েছে। যাঁরা ভাল থাকেন তাঁরা কোনো একটি ভেষজ বা ডায়েট খুঁজে বেড়ান না, বরং কয়েকটা ছোট অভ্যাস ধরে রাখেন বহু বছর ধরে। ডায়াবেটিস আসলে প্রতিদিনের ছোট সিদ্ধান্তের যোগফল, কোনো জাদু-ভেষজ নয়।

সংক্ষেপে

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা তৈরির কাজটা আসলে দুটো আলাদা কাজ, আর সেগুলো গুলিয়ে ফেলাই সবচেয়ে বড় ভুল। প্রথমটি খাদ্যাভ্যাসের, যেখানে মিশ্র শস্য, ডাল, শাক, পরিমিত ফল ও কম চিনি নিয়ে বিতর্ক কার্যত নেই। দ্বিতীয়টি ভেষজের, যেখানে দাবি অনেক আর প্রমাণ অসমান, করলার পিছনে কোক্রেন-যাচাই করা প্রমাণ নেই অথচ মেথির পিছনে মাঝারি মানের প্রমাণ আছে।

কাল থেকে দুটো কাজ করুন। দুপুরের পাতে আগে সালাড ও ডাল-সবজি নিয়ে তারপর ভাত নিন, আর খাওয়ার পরে ১০ মিনিট হেঁটে আসুন। আর যদি সম্প্রতি রোগ ধরা পড়ে থাকে, ওজন কমানোর পরিকল্পনাটা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিন, কারণ DiRECT-এর ফলাফল অনুযায়ী রিমিশনের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি ওষুধ বা ভেষজ নয়, ওজন, আর সেই কাজটা যত আগে শুরু হয় সম্ভাবনা তত বেশি। খাদ্য-পরিকল্পনার সামগ্রিক ছবি দেখতে চাইলে খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগে যেতে পারেন।

সূত্র / Sources

  • Ooi CP, Yassin Z, Hamid T-A, "Momordica charantia for type 2 diabetes mellitus", Cochrane Database of Systematic Reviews, 2012, CD007845, DOI 10.1002/14651858.CD007845.pub3. cochrane.org
  • Riddle MC, Cefalu WT, Evans PH, Gerstein HC, Nauck MA, Oh WK, Rothberg AE, le Roux CW, Rubino F, Schauer P, Taylor R, Twenefour D, "Consensus Report. Definition and Interpretation of Remission in Type 2 Diabetes", Diabetes Care, 2021, DOI 10.2337/dci21-0034, PMID 34462270. pmc.ncbi.nlm.nih.gov
  • Lean MEJ, Leslie WS, Barnes AC, et al., "Primary care-led weight management for remission of type 2 diabetes (DiRECT). An open-label, cluster-randomised trial", The Lancet, 2018, 391(10120), 541-551, DOI 10.1016/S0140-6736(17)33102-1. researchportal.northumbria.ac.uk
  • Kim J, Noh W, Kim A, Choi Y, Kim Y-S, "The Effect of Fenugreek in Type 2 Diabetes and Prediabetes. A Systematic Review and Meta-Analysis of Randomized Controlled Trials", International Journal of Molecular Sciences, 2023, DOI 10.3390/ijms241813999, PMID 37762302. pmc.ncbi.nlm.nih.gov
  • Shukla AP, Karan A, Hootman KC, et al., "A Randomized Controlled Pilot Study of the Food Order Behavioral Intervention in Prediabetes", Nutrients, 2023, DOI 10.3390/nu15204452, PMID 37892527. pmc.ncbi.nlm.nih.gov
  • Mohan V, Anjana RM, Tandon N, "Lessons Learnt from the ICMR-INDIAB Study", The National Medical Journal of India, 2024, DOI 10.25259/NMJI_655_23. nmji.in
  • American Diabetes Association Professional Practice Committee, "2. Diagnosis and Classification of Diabetes. Standards of Care in Diabetes 2026", Diabetes Care, 2025, 49(Suppl 1), S27-S49, DOI 10.2337/dc26-S002. pmc.ncbi.nlm.nih.gov
  • American Diabetes Association, "6. Glycemic Goals and Hypoglycemia. Standards of Care in Diabetes 2024", Diabetes Care, 2023, 47(Suppl 1), S111-S125, DOI 10.2337/dc24-S006. pmc.ncbi.nlm.nih.gov
  • Bull FC, Al-Ansari SS, Biddle S, et al., "World Health Organization 2020 guidelines on physical activity and sedentary behaviour", British Journal of Sports Medicine, 2020, 54, 1451-1462, DOI 10.1136/bjsports-2020-102955, PMID 33239350. pmc.ncbi.nlm.nih.gov
  • চরক সংহিতা, চিকিৎসাস্থান, প্রমেহচিকিৎসিত অধ্যায়, সংস্কৃত মূল পাঠ। sa.wikisource.org

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। এটি চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

না, ভাত পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দরকার নেই। পরিমাণ কমানো, সঙ্গে ডাল-সবজি-প্রোটিন রাখা, আর কার্ব সবার শেষে খাওয়া, এই তিনটি কৌশলে খাওয়ার পরের শর্করা-লাফ কমে। তবে দীর্ঘমেয়াদে HbA1c-তে এর প্রভাব সামান্য, ১৬ সপ্তাহের একটি ট্রায়ালে মাত্র ০.১ শতাংশ। ব্রাউন রাইস ও মিশ্র শস্য ভাল বিকল্প।
অভিজিৎ সাউ

লেখক সম্পর্কে

অভিজিৎ সাউ

তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক

তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত একজন প্রকৌশলী। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলা ভাষায় আয়ুর্বেদ, ভেষজ ও প্রাকৃতিক জীবনযাত্রার বিশ্বস্ত তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিটি নিবন্ধের পেছনে শাস্ত্রীয় গ্রন্থ, AYUSH মন্ত্রকের নির্দেশিকা ও প্রকাশিত গবেষণাপত্র যাচাই করি।

এই নিবন্ধটি প্রকাশের আগে প্রাথমিক উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই ও সম্পাদনা করা হয়েছে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

আরও পড়ুন
কাঁসার থালায় মুগ-চালের সাত্ত্বিক খিচুড়ি, ঘি, লেবু ও আদা, খিচুড়ির উপকারিতা

খিচুড়ির উপকারিতা, আয়ুর্বেদে কেন একে সম্পূর্ণ আহার বলা হয়

খিচুড়ির উপকারিতা কী, কেন আয়ুর্বেদে একে ত্রিদোষ-শামক সম্পূর্ণ আহার বলা হয়, মুগ ডাল-চালের পুষ্টি, কোন খিচুড়ি কখন খাবেন ও কারা সতর্ক থাকবেন, বাংলায় গাইড।

আপডেট: ২৭ জুলাই, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ
অ্যানিমিয়া দূর ও হিমোগ্লোবিন বাড়ানোর খাবার, কালো তিল, কিশমিশ, খেজুর, পালং শাক, ডালিম

অ্যানিমিয়া ও হিমোগ্লোবিন বাড়ানোর খাবার: বাঙালি আয়রন-ডায়েট গাইড

রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ায় হিমোগ্লোবিন বাড়াতে বাঙালি খাবারে কোন আয়রন বেশি, ভিটামিন C-র ভূমিকা, নমুনা আয়রন-ডায়েট, ভেষজ ও কখন রক্ত-পরীক্ষা, সহজ বাংলা গাইড।

আপডেট: ২৩ জুলাই, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ
উচ্চ রক্তচাপে কী খাবেন, বাঙালি ডায়েটে কম-নুন ও পটাশিয়াম-সমৃদ্ধ খাবারের সংগ্রহ

উচ্চ রক্তচাপে কী খাবেন কী এড়াবেন: বাঙালি DASH ডায়েট গাইড

হাই ব্লাড প্রেসারে নুন কমানো, পটাশিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার, DASH ডায়েট, নমুনা খাদ্য তালিকা ও আয়ুর্বেদিক দৃষ্টি নিয়ে বাঙালির রান্নাঘরের প্রায়োগিক বাংলা গাইড।

আপডেট: ২৩ জুলাই, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ