আরোগ্য বাংলা
খাদ্য ও পুষ্টি ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ 31 মিনিট পড়ুন

খেজুর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা, দিনে কয়টা খাবেন আর কারা নয়

খেজুর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা কতটা প্রমাণিত, দিনে কয়টা খাবেন, সকালে খালি পেটে আর রাতে খেজুর, পুরুষদের জন্য খেজুরের উপকারিতা, খুরমা ও ডায়াবেটিসে খেজুর।

অ
অভিজিৎ সাউ
তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক

AI-সহায়তায় গবেষণা ও খসড়া; সম্পাদনা, যাচাই ও তথ্যের দায়ভার লেখক অভিজিৎ সাউ-এর। সম্পাদকীয় নীতি ও গবেষণা পদ্ধতি।

খেজুর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা বোঝাতে কাঠের বাটিতে মেডজুল খেজুর আর সামনে কয়েকটা শুকনো খেজুর, পাশে এক গ্লাস দুধ, পেছনে রসের মাটির হাঁড়ি বাঁধা খেজুর গাছ আর ধানখেত, গোল ছবিতে গাছে ঝোলা খেজুরের কাঁদি, আর ডান দিকে হজম ও শক্তির প্রতীক, এক অন্তঃসত্ত্বা নারী, আয়রনের প্রতীক, রক্তে শর্করা মাপার যন্ত্র, ডায়াবেটিস ও কিডনির নিষেধচিহ্ন এবং বাটিতে খেজুরের রসের পাশে ভাইরাস ও সতর্কচিহ্ন

শীত পড়তে শুরু করলেই গ্রামের দিকে খেজুর গাছের মাথা চেঁছে নলি বসানো হয়, তার নিচে মাটির হাঁড়ি ঝোলে। মজার কথা, যে খেজুর আমরা দোকান থেকে কিনে ইফতারে বা সকালের নাশতায় খাই, সেটা প্রায় কখনোই এই গাছের ফল নয়। বাংলার রসের গাছ আর মরুভূমির ফলের গাছ দুটো আলাদা প্রজাতি।

খেজুর খাওয়ার উপকারিতা মূলত এর শক্তি, আঁশ আর পটাশিয়ামে। দোকানের খেজুর হলো Phoenix dactylifera গাছের শুকনো ফল, যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই চিনি (USDA FoodData Central)। কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়াবেটিসে নিরাপত্তা আর প্রসবের সময় কমা নিয়ে কিছু মানব-গবেষণা আছে, তবে প্রমাণ সীমিত। খেজুরের অপকারিতা আসে চিনি, ক্যালরি আর পটাশিয়াম থেকে, বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও কিডনির রোগে।

বাংলায় খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে যত লেখা পড়েছি, তার প্রায় সবকটায় দুটো দাবি ঘুরেফিরে আসে, খেজুর আয়রনের ভাণ্ডার আর চোখের ভিটামিন এ-তে ভরা। সংখ্যা মিলিয়ে দেখলে দুটোই টেকে না। এই অক্টোবরে লেখাটার জন্য USDA-র খেজুরের তালিকা খুলে আয়রনের ঘরে ০.৯ মিলিগ্রাম দেখে আমি আবার মিলিয়ে নিয়েছিলাম, ভুল সারিতে চোখ পড়েছে কি না। এই লেখায় ১০০ গ্রাম খেজুরে আসলে কী থাকে, দিনে কয়টা খাওয়া যুক্তিসঙ্গত, সকালে খালি পেটে আর রাতে খেজুর খেলে কী হয়, পুরুষদের জন্য খেজুরের যে গবেষণার কথা বলা হয় সেটা আসলে কীসের, খুরমা খেজুর কী, ডায়াবেটিস আর গর্ভাবস্থার গবেষণা কী বলছে, চরক সংহিতা খর্জুরকে কেমন দেখেছে আর কাদের সাবধান থাকা দরকার, সব আলাদা করে সূত্রসহ রাখা হলো।

এক নজরে

খেজুর নিয়ে যাচাই করা তথ্যের সংক্ষিপ্ত রূপ নিচের আটটি লাইন, প্রতিটির পুরো সূত্র লেখার ভেতরের নির্দিষ্ট অংশে আছে।

  • একটা বড় মেডজুল খেজুরের ওজন প্রায় ২৪ গ্রাম, তাতে ৬৬ কিলোক্যালরি আর প্রায় ১৬ গ্রাম চিনি; একটা ছোট ডেগলেট নূর মাত্র ৭.১ গ্রাম (USDA)। ওজনটাই আসল।
  • ১০০ গ্রাম খেজুরে আয়রন ০.৯ থেকে ১.০২ মিলিগ্রাম, তাই তিনটে মেডজুলে মেয়েদের দৈনিক চাহিদার মাত্র ৪ শতাংশের মতো পূরণ হয়।
  • মেডজুলে ভিটামিন এ প্রায় শূন্য (৭ মাইক্রোগ্রাম RAE), ভিটামিন সি শূন্য।
  • পাঁচ জাতের খেজুরের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৪৩ থেকে ৫৫, অর্থাৎ কম থেকে মাঝারি (Nutrition Journal, ২০১১)।
  • দুটি ট্রায়ালে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে দিনে ৩টি খেজুর বা ৬০ গ্রাম খেজুরে HbA1c বদলায়নি, ক্ষতিও হয়নি, উপকারও না।
  • প্রসবের ওপর খেজুরের প্রভাব নিয়ে ৪৮টি গবেষণা আছে, কিন্তু প্রমাণের মান দুর্বল (BMC Pregnancy and Childbirth, ২০২৪)।
  • পুরুষের যৌনক্ষমতা ও শুক্রাণু নিয়ে মানুষের যে ট্রায়ালগুলো আছে, সেগুলোতে খাওয়ানো হয়েছে খেজুর ফুলের রেণু (Hooshang, ২০২২; Falahati, ২০২৩); খেজুর ফল নিয়ে এমন ট্রায়াল পাইনি।
  • কাঁচা খেজুরের রসে নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি আছে, মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ (WHO, ২০২৬), তাই সংগ্রহ করা রস ফুটিয়ে খাওয়াই WHO-র পরামর্শ।

খেজুর কী, বাংলার খেজুর গাছ আর দোকানের খেজুর কি একই?

খেজুর হলো পাম গোত্রের (Arecaceae) গাছের মিষ্টি ফল, আর বাংলায় দুটো আলাদা প্রজাতিকেই খেজুর বলা হয়। দোকানে বিক্রি হওয়া আজওয়া, মেডজুল বা মরিয়ম আসে Phoenix dactylifera থেকে, যা শুষ্ক অঞ্চলের একটি প্রধান ফসল (Al-Karmadi ও Okoh, Foods, ২০২৪)। আমাদের গ্রামের যে গাছ থেকে শীতে রস আর গুড় হয়, সেটি Phoenix sylvestris, বুনো খেজুর বা সুগার ডেট পাম। এর ফলও খাওয়া যায়, তবে তা প্রায় ৩ সেন্টিমিটার লম্বা আর শাঁস পাতলা, পাকলে গাঢ় বেগুনি (Flora of Bangladesh)।

এই তফাতটা আয়ুর্বেদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। চরক সংহিতার একটি প্রচলিত ইংরেজি অনুবাদ (carakasamhitaonline) সূত্রস্থান ২৭-এর খর্জুরকে Phoenix sylvestris বলে চিহ্নিত করেছে, অথচ আধুনিক বইপত্রে আয়ুর্বেদের খর্জুর বলতে প্রায়ই দোকানের P. dactylifera বোঝানো হয়। পরের যুগের নিঘণ্টুতে "পিণ্ড খর্জুর" নামে আরেকটি নাম পাওয়া যায়। কোন সংস্কৃত নাম ঠিক কোন প্রজাতি, পণ্ডিতদের মধ্যে তা নিয়ে মতভেদ আছে, আর আমি এখানে কোনো একটা দিক বেছে নিচ্ছি না।

দিক দোকানের খেজুর বাংলার খেজুর গাছ
বৈজ্ঞানিক নাম Phoenix dactylifera Phoenix sylvestris
মূল ব্যবহার শুকনো ফল রস, গুড়, পাটালি
চেনা জাত আজওয়া, মেডজুল, মরিয়ম, সুক্কারি, ডেগলেট নূর স্থানীয় বুনো গাছ
ফলের আকার ডেগলেট নূর ৭.১ গ্রাম, মেডজুল ২৪ গ্রাম (USDA) প্রায় ৩ সেমি লম্বা, শাঁস পাতলা

এই লেখার পুষ্টি আর গবেষণার সব সংখ্যা দোকানের খেজুরের। গুড় আর রসের প্রশ্ন আলাদা, ওই দুটো নিয়ে একটু পরে একটা সতর্কতা আছে।

১০০ গ্রাম খেজুরে কী আছে, আর কোন দাবি সংখ্যায় টেকে না?

১০০ গ্রাম মেডজুল খেজুরে ২৭৭ কিলোক্যালরি, ৬৬.৪৭ গ্রাম চিনি, ৬.৭ গ্রাম আঁশ আর ৬৯৬ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে, মার্কিন কৃষি বিভাগের খাদ্য-তথ্যভান্ডার USDA FoodData Central-এর SR Legacy তালিকা অনুযায়ী। নিচের টেবিলে দুটো জনপ্রিয় জাত পাশাপাশি রাখলাম।

পুষ্টি উপাদান (প্রতি ১০০ গ্রাম) মেডজুল (FDC 168191) ডেগলেট নূর (FDC 171726)
শক্তি ২৭৭ কিলোক্যালরি ২৮২ কিলোক্যালরি
মোট চিনি ৬৬.৪৭ গ্রাম ৬৩.৩৫ গ্রাম
গ্লুকোজ / ফ্রুক্টোজ / সুক্রোজ ৩৩.৬৮ / ৩১.৯৫ / ০.৫৩ গ্রাম ১৯.৮৭ / ১৯.৫৬ / ২৩.৮৪ গ্রাম
আঁশ ৬.৭ গ্রাম ৮.০ গ্রাম
পটাশিয়াম ৬৯৬ মিলিগ্রাম ৬৫৬ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেসিয়াম ৫৪ মিলিগ্রাম ৪৩ মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম ৬৪ মিলিগ্রাম ৩৯ মিলিগ্রাম
আয়রন ০.৯ মিলিগ্রাম ১.০২ মিলিগ্রাম
ভিটামিন এ (RAE) ৭ মাইক্রোগ্রাম ০
ভিটামিন সি ০ ০.৪ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম ১ মিলিগ্রাম ২ মিলিগ্রাম

আয়রনের হিসাবটা সবচেয়ে বেশি গোলমেলে। ইউকে-র জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা (NHS) বলছে ১৯ থেকে ৪৯ বছরের মেয়েদের দিনে ১৪.৮ মিলিগ্রাম আর পুরুষদের ৮.৭ মিলিগ্রাম আয়রন দরকার। তিনটে বড় মেডজুলে (৭২ গ্রাম) আয়রন মোটে ০.৬৫ মিলিগ্রাম, মেয়েদের চাহিদার ৪ শতাংশের কাছাকাছি। দ্য ডেইলি স্টার বাংলার একটি লেখায় আছে, খেজুর আয়রনের চাহিদার প্রায় ১১ শতাংশ পূরণ করে; সেটা পেতে হলে প্রায় ১৮০ গ্রাম, মানে সাত-আটটা বড় মেডজুল খেতে হবে, সঙ্গে আসবে ১২০ গ্রামের বেশি চিনি। সরকারি শিক্ষক বাতায়নের একটি লেখা, যা খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতার সার্চে একেবারে ওপরে আসে, ১০০ গ্রামে ৭.৩ মিলিগ্রাম আয়রন লিখেছে, যা USDA-র মানের প্রায় আট গুণ।

চোখ আর ত্বকের দাবিও একই ফাঁদে পড়ে। মেডজুলে ভিটামিন এ মাত্র ৭ মাইক্রোগ্রাম, ডেগলেট নূরে শূন্য, আর ভিটামিন সি কার্যত নেই (USDA)। ভারতের একটি বড় হাসপাতালের বাংলা পাতায় খেজুরের ভিটামিন সি আর ডি ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায় বলে লেখা আছে, অথচ USDA-র কোনো খেজুর-তালিকায় ভিটামিন ডি-র উল্লেখই নেই। সত্যিকারের জোরের জায়গা পটাশিয়াম আর আঁশ। রক্তস্বল্পতায় কোন খাবার সত্যি কাজে দেয়, তার আলাদা হিসাব আছে রক্তস্বল্পতা দূর করার খাবারের লেখায়।

একটি খেজুরে কত ক্যালরি, প্রোটিন আর কি কি ভিটামিন আছে?

একটি বড় মেডজুল খেজুরে (২৪ গ্রাম) প্রায় ৬৬ কিলোক্যালরি, ০.৪৩ গ্রাম প্রোটিন আর ১.৬ গ্রাম আঁশ থাকে, আর একটি ছোট ডেগলেট নূরে (৭.১ গ্রাম) প্রায় ২০ কিলোক্যালরি আর ০.১৭ গ্রাম প্রোটিন, USDA-র প্রতি ১০০ গ্রামের মান থেকে হিসাব করলে। প্রোটিন খুবই কম। ভিটামিনের মধ্যে উল্লেখ করার মতো কেবল ভিটামিন বি৬, মেডজুলে ১০০ গ্রামে ০.২৪৯ মিলিগ্রাম, সঙ্গে সামান্য ফোলেট (১৫ মাইক্রোগ্রাম) আর ভিটামিন কে (২.৭ মাইক্রোগ্রাম)। খনিজের দিকটা বরং জোরালো, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, তামা (০.৩৬২ মিলিগ্রাম) আর ম্যাঙ্গানিজ (০.২৯৬ মিলিগ্রাম)।

দিনে কয়টা খেজুর খাওয়া উচিত?

দিনে কয়টা খেজুর খাবেন, তার উত্তর গ্রামে দেওয়াই নিরাপদ, কারণ একটা বড় মেডজুলের ওজন প্রায় ২৪ গ্রাম আর একটা ছোট ডেগলেট নূরের ৭.১ গ্রাম (USDA)। মানে তিনটে মেডজুলে যতটা চিনি, প্রায় দশটা ডেগলেট নূরেও ততটাই। দ্য ডেইলি স্টার বাংলায় একজন পুষ্টিবিদ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে ২ থেকে ৩টির কথা বলেছেন, একটি ভারতীয় হাসপাতালের বাংলা পাতাও একই সংখ্যা দিয়েছে, কিন্তু দুটোর কোনোটিতেই খেজুরের জাত বা ওজনের উল্লেখ পাইনি।

পরিমাণ মোটামুটি ওজন শক্তি চিনি পটাশিয়াম
১টি বড় মেডজুল ২৪ গ্রাম ৬৬ কিলোক্যালরি ১৬ গ্রাম ১৬৭ মিলিগ্রাম
৩টি বড় মেডজুল ৭২ গ্রাম ২০০ কিলোক্যালরি ৪৮ গ্রাম ৫০১ মিলিগ্রাম
১টি ছোট ডেগলেট নূর ৭.১ গ্রাম ২০ কিলোক্যালরি ৪.৫ গ্রাম ৪৭ মিলিগ্রাম
৪টি ছোট ডেগলেট নূর ২৮ গ্রাম ৮০ কিলোক্যালরি ১৮ গ্রাম ১৮৬ মিলিগ্রাম

হিসাবগুলো USDA-র প্রতি ১০০ গ্রামের মান থেকে করা। NHS শুকনো ফলের এক পরিবেশন ধরে প্রায় ৩০ গ্রাম, যা ওপরের টেবিলের চারটে ছোট খেজুর বা একটা বড় খেজুরের একটু বেশি। আমার মনে হয় সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে ৩০ থেকে ৬০ গ্রাম, অর্থাৎ এক থেকে দুই পরিবেশন, একটা বাস্তবসম্মত মাপ: বড় মেডজুল হলে ১ থেকে ২টি, ছোট ডেগলেট নূর হলে ৪ থেকে ৬টি। এর বেশি খেলে খেজুর আর ফলের জায়গায় থাকে না, মিষ্টির জায়গা নিয়ে নেয়।

আপনি যে খেজুর কেনেন, তার একটা ওজন করে দেখেছেন কখনো? রান্নাঘরের ছোট ডিজিটাল দাঁড়িপাল্লায় (যেটা অনেক বাড়িতে একবার কেক বানানোর জন্য কেনা হয়ে তাকে পড়ে থাকে) একবার মেপে নিলেই পরের হিসাবগুলো সহজ হয়ে যায়।

খেজুর খাওয়ার উপকারিতা কতটা প্রমাণিত?

খেজুর খাওয়ার উপকারিতার পক্ষে মানুষের ওপর করা নিয়ন্ত্রিত গবেষণা কম, আর যা আছে তার বেশিরভাগই ছোট ও স্বল্পমেয়াদি। নিচের টেবিলে প্রতিটি প্রচলিত দাবির পাশে প্রমাণের মাত্রা দিলাম, যে ভাষায় এই সাইটের সব লেখায় প্রমাণ মাপা হয়।

দাবি কী পাওয়া গেছে প্রমাণের মাত্রা
দ্রুত শক্তি জোগায় চিনির অর্ধেকের বেশি গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ (USDA) পুষ্টিগত তথ্য
কোষ্ঠকাঠিন্যে সাহায্য ২২ জন সুস্থ মানুষের ক্রসওভার ট্রায়ালে দিনে ৭টি খেজুরে (প্রায় ৫০ গ্রাম) মলত্যাগের সংখ্যা বেড়েছে (Eid ও সহকর্মীরা, ২০১৫) সীমিত প্রমাণ
কোলেস্টেরল কমায় টাইপ ২ ডায়াবেটিসে ৪টি গবেষণা, ২৯৮ জন, মোট কোলেস্টেরল কমেছে কিন্তু LDL-এ তাৎপর্যপূর্ণ বদল নেই, I² ৯০ শতাংশ (Mirghani ও Alhowiti, ২০২৫) সীমিত প্রমাণ
ডায়াবেটিসে নিরাপদ দুটি RCT-তে HbA1c বদলায়নি (২০২০, ২০২২) সীমিত প্রমাণ
প্রসব সহজ করে ৪৮টি গবেষণা, প্রমাণের মান দুর্বল (২০২৪) সীমিত প্রমাণ
রক্তস্বল্পতা দূর করে আয়রন ১০০ গ্রামে ১ মিলিগ্রামের কম (USDA) অপর্যাপ্ত প্রমাণ
চোখ ও ত্বক ভালো রাখে ভিটামিন এ ও সি কার্যত শূন্য (USDA) অপর্যাপ্ত প্রমাণ
যৌনশক্তি বা শুক্রাণু বাড়ায় মানুষের ট্রায়ালগুলো হয়েছে খেজুর ফুলের রেণু দিয়ে (২০২২, ২০২৩), ফলের কোনো ট্রায়াল পাইনি; চরক খর্জুরকে বৃষ্য বলেছেন অপর্যাপ্ত প্রমাণ
ক্যান্সার প্রতিরোধ মলের জলে জিনোটক্সিসিটি কমেছে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় (Eid, ২০১৫), রোগ কমার কোনো মানব-তথ্য নেই অপর্যাপ্ত প্রমাণ

কোষ্ঠকাঠিন্যের ট্রায়ালটা খুঁটিয়ে দেখার মতো। British Journal of Nutrition-এ ২০১৫ সালে প্রকাশিত এই গবেষণায় ২২ জনকে ২১ দিন খেজুর আর ২১ দিন একটি নিয়ন্ত্রণ পানীয় দেওয়া হয়, মাঝে ১৪ দিনের বিরতি (Eid ও সহকর্মীরা)। মলত্যাগ বেড়েছিল শুরুর তুলনায়, কিন্তু অন্ত্রের নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে কোনো তাৎপর্যপূর্ণ বদল হয়নি। অর্থাৎ খেজুর "ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়", এই চেনা দাবিটা অন্তত এই ট্রায়াল সমর্থন করে না। কোষ্ঠকাঠিন্যের অন্য উপায়গুলো আলাদা করে আছে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার আয়ুর্বেদিক লেখায়।

কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে আমি একটু সংশয়ী। পাকিস্তান জার্নাল অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের ২০২৫ সালের মেটা-বিশ্লেষণটি মাত্র চারটি গবেষণার ওপর দাঁড়িয়ে, আর ফলাফলের মধ্যে অমিল (I² ৯০ শতাংশ) এত বেশি যে একটা গড় সংখ্যায় ভরসা রাখা কঠিন। খাবার দিয়ে কোলেস্টেরল সামলানোর বড় ছবিটা আছে কোলেস্টেরল কমানোর খাবারের লেখায়।

ডায়াবেটিস রোগী কি খেজুর খেতে পারবেন?

ডায়াবেটিস থাকলেও খেজুর পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়, তবে এটি একটি উচ্চ-চিনির খাবার যাকে দিনের মোট শর্করার হিসাবে ধরতে হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গবেষণায় পাঁচ জাতের খেজুরের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সুস্থ মানুষে ৪৬ থেকে ৫৫ আর টাইপ ২ ডায়াবেটিসে ৪৪ থেকে ৫৩ মাপা হয়েছে, দুই দলে তাৎপর্যপূর্ণ ফারাক ছাড়াই (Alkaabi ও সহকর্মীরা, Nutrition Journal, ২০১১)। সংখ্যাটা কম থেকে মাঝারি। তবে ওই গবেষণার ডায়াবেটিস দলে ছিলেন মাত্র ১০ জন, যাঁদের গড় HbA1c ছিল ৬.৬ শতাংশ, অর্থাৎ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রিত।

দীর্ঘমেয়াদি দুটি ট্রায়াল আছে। বাহরাইনে ১০০ জন টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীকে ১৬ সপ্তাহ দিনে ৩টি খেজুর দেওয়া হয়, HbA1c ভেতরে বা দুই দলের মধ্যে বদলায়নি (Alalwan ও সহকর্মীরা, Nutrients, ২০২০)। আরেকটি ১২ সপ্তাহের ট্রায়ালে দিনে ৬০ গ্রাম খেজুর আর ৬০ গ্রাম কিশমিশ তুলনা করা হয়, ৭৯ জনের মধ্যে ৬১ জন শেষ করেন, আর কোনো দলেই HbA1c, উপোস শর্করা বা কোলেস্টেরলে ফারাক দেখা যায়নি (Butler ও সহকর্মীরা, Nutrients, ২০২২)। লেখকরা একে নিরাপত্তার ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন; উপকারের কোনো ইঙ্গিত মেলেনি।

গবেষণা কারা কতটা খেজুর ফল
Alkaabi, ২০১১ ১৩ সুস্থ, ১০ ডায়াবেটিস ৫০ গ্রাম শর্করার সমান, একবার GI ৪৩ থেকে ৫৫
Alalwan, ২০২০ ১০০ জন, টাইপ ২ দিনে ৩টি, ১৬ সপ্তাহ HbA1c অপরিবর্তিত
Butler, ২০২২ ৬১ জন শেষ করেছেন দিনে ৬০ গ্রাম, ১২ সপ্তাহ কোনো সূচকে বদল নেই

রমজানে খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা বাংলাদেশে খুব চেনা রীতি। যুক্তরাজ্যের Diabetes & Primary Care জার্নালে ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি রমজান-নির্দেশিকায় (Gilani) ডায়াবেটিস রোগীদের অতিরিক্ত খেজুর না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া আছে, যদিও আন্তর্জাতিক IDF-DAR নির্দেশিকায় নির্দিষ্ট কয়টা খেজুরের সংখ্যা আমি খুঁজে পাইনি। ওই নির্দেশিকা রোজার মাসে ডায়াবেটিসের ওষুধের মাত্রা ও সময় চিকিৎসকের সঙ্গে নতুন করে ঠিক করার কথাও বলে, তাই ইফতারের খেজুরটাও সেই পরিকল্পনার ভেতরে রাখাই যুক্তিসঙ্গত। ডায়াবেটিসে কী খাবেন আর কী নয়, তার পুরো তালিকা আছে ডায়াবেটিসে কী খাবেন কী এড়াবেন লেখায়।

গর্ভাবস্থায় খেজুর খেলে কি প্রসব সহজ হয়?

গর্ভাবস্থার শেষ কয়েক সপ্তাহে খেজুর খাওয়া প্রসবের সময় কমাতে পারে, এমন ইঙ্গিত কয়েকটি গবেষণায় আছে, কিন্তু সেসব গবেষণার মান দুর্বল। ২০২৪ সালে BMC Pregnancy and Childbirth-এ প্রকাশিত একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনা ও মেটা-বিশ্লেষণ ৪৮টি গবেষণা একসঙ্গে দেখেছে (Salajegheh ও সহকর্মীরা)। খেজুর খাওয়া দলে প্রসবের সময় কম, ইনডাকশনের দরকার কম আর স্বাভাবিক প্রসব বেশি দেখা গেছে। তৃতীয় ত্রৈমাসিকে হিমোগ্লোবিন বাড়ার কথাও আছে।

কিন্তু একই লেখকরা স্পষ্ট লিখেছেন প্রমাণের সামগ্রিক মান "গ্রহণযোগ্য নয়", বেশিরভাগ গবেষণায় পক্ষপাতের ঝুঁকি বেশি, আর নিরাপত্তা মাপা হয়েছে মাত্র ৪টি ট্রায়ালে। এর আগে ২০২১ সালে Explore জার্নালে প্রকাশিত চারটি গবেষণার মেটা-বিশ্লেষণেও জরায়ুমুখের প্রসারণ গড়ে ১.১ সেন্টিমিটার বেশি আর ইনডাকশনের ঝুঁকি ০.৬ গুণ পাওয়া গিয়েছিল, সেখানেও লেখকরা গবেষণার মানকে দুর্বল বলেছিলেন (Sagi-Dain ও Sagi)। আমার পড়া বাংলা লেখাগুলোর একটিও এই সতর্কতার কথা বলে না।

পরিমাণটাও মনে রাখার মতো। ২০২৪ সালের একটি পর্যালোচনা (Rahnemaei ও সহকর্মীরা, Sultan Qaboos University Medical Journal) বলছে গবেষণাগুলোতে সাধারণত প্রসবের সম্ভাব্য তারিখের ২ থেকে ৪ সপ্তাহ আগে থেকে দিনে প্রায় ৭টি খেজুর, মোটামুটি ৮০ গ্রাম, দেওয়া হয়েছিল। ৮০ গ্রাম খেজুরে চিনি প্রায় ৫০ গ্রাম। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে এটা ছোট ব্যাপার নয়। গর্ভাবস্থার সামগ্রিক খাদ্যতালিকা আলাদা করে আছে গর্ভাবস্থায় কী খাবেন লেখায়।

সকালে খালি পেটে খেজুর খেলে কি হয়?

সকালে খালি পেটে খেজুর খেলে শরীর খুব তাড়াতাড়ি চিনি পায়, কারণ মেডজুলের চিনির প্রায় পুরোটাই গ্লুকোজ আর ফ্রুক্টোজ (USDA), তবে খালি পেটে খাওয়ার জন্য আলাদা কোনো উপকার কোনো মানব-গবেষণায় মাপা হয়নি। একই খেজুর বিকেলে খেলেও শরীর একই চিনি, আঁশ আর পটাশিয়াম পায়। সময়ের চেয়ে পরিমাণটাই আসল।

সকালে খেজুর খাওয়ার উপকারিতা কতটা সত্যি?

সকালে খেজুর খাওয়ার উপকারিতা হিসেবে শক্তি, মনোযোগ বা রোগ প্রতিরোধের যে দাবিগুলো শোনা যায়, তার কোনোটার জন্যই সকালবেলাকে আলাদা করে পরীক্ষা করা হয়নি। যেটুকু মাপা গেছে তা সময়-নিরপেক্ষ। দিনে প্রায় ৫০ গ্রাম খেজুরে মলত্যাগ বেড়েছিল (Eid ও সহকর্মীরা, ২০১৫), আর দিনে ৩টি খেজুরে ডায়াবেটিস রোগীদের HbA1c বদলায়নি (Alalwan ও সহকর্মীরা, ২০২০)। কোষ্ঠকাঠিন্যের ধাত থাকলে সকালের খেজুর অনেকের কাছে অভ্যাস হিসেবে সুবিধার, সেটুকু মানা যায়। প্রমাণের মাত্রা: সীমিত প্রমাণ।

খালি পেটে খেজুর খাওয়ার অপকারিতা আছে কি?

সুস্থ মানুষের জন্য খালি পেটে দু-একটা খেজুরে ক্ষতির কোনো তথ্য আমি পাইনি, কিন্তু তিনটে ক্ষেত্রে সাবধান হওয়া দরকার। ডায়াবেটিস থাকলে খালি পেটে শুধু খেজুর মানে আর কোনো খাবার ছাড়া সরাসরি চিনি, একটা মেডজুলেই প্রায় ১৬ গ্রাম (USDA)। দিনে প্রায় ৫০ গ্রাম খেজুরেই মলত্যাগ বেড়েছিল (Eid ও সহকর্মীরা, ২০১৫), তাই যাঁদের পেট সহজে নরম হয়, তাঁদের খালি পেটে বেশি খেজুরে অস্বস্তি হতে পারে। আর রোজার পরে ইফতারে একসঙ্গে অনেক খেজুর খেলে চিনির ধাক্কা বড় হতে পারে; যুক্তরাজ্যের Diabetes & Primary Care জার্নালের রমজান-নির্দেশিকা ডায়াবেটিস রোগীদের অতিরিক্ত খেজুর না খেতে বলে (Gilani, ২০২৩)।

সকালে খালি পেটে খেজুর খাওয়ার নিয়ম

সকালে খেজুর খেতে চাইলে বড় মেডজুল হলে ১ থেকে ২টি, ছোট খেজুর হলে ৩ থেকে ৪টি, এক গ্লাস জল সঙ্গে নিয়ে, আর ডায়াবেটিস থাকলে আলাদা স্ন্যাক হিসেবে না খেয়ে নাশতার অংশ হিসেবে খান। NHS বলছে শুকনো ফল আঠালো বলে দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই খাবারের অংশ হিসেবে খাওয়াই ভালো; খেজুরটা তাই রুটি, ওটস বা দইয়ের পাশে রাখুন। খেজুরের সঙ্গে মধু বা কালোজিরা মিশিয়ে খাওয়ার রেওয়াজও আছে। এই জুটিগুলোর আলাদা কোনো মানব-ট্রায়াল পাইনি; দুটোর নিজস্ব প্রমাণ আছে মধুর লেখায় আর কালোজিরার উপকারিতার লেখায়। সকালের নাশতা নিয়ে আয়ুর্বেদিক ভাবনা আছে সকালে কী খাবেন লেখায়।

খেজুর ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম

রাতে জলে ভিজিয়ে রাখা খেজুরে পুষ্টি বাড়ে, এমন কোনো গবেষণা পাইনি। পুষ্টি একই থাকে। ভেজালে খেজুর নরম হয় আর চিবোতে সহজ হয়, দাঁতের সমস্যা থাকলে বা শক্ত শুকনো খেজুরের ক্ষেত্রে এটুকুই আসল সুবিধা। নিয়ম সোজা, ২ থেকে ৩টি খেজুর আধ কাপ জলে রাতভর রেখে সকালে খাওয়া; জলটা হালকা মিষ্টি হয়ে আসে, তাই ওটা খেলে খেজুরের কিছু চিনিও খাচ্ছেন বলে ধরে নিন। প্রমাণের মাত্রা: ভেজানোর বাড়তি উপকারের জন্য অপর্যাপ্ত প্রমাণ।

রাতে ঘুমানোর আগে খেজুর খেলে কি হয়?

রাতে ঘুমানোর আগে খেজুর খেলে ভালো ঘুম হয়, এমন দাবির পক্ষে কোনো মানব-ট্রায়াল আমি পাইনি, আর রাতের খেজুরের মূল প্রভাব হলো দিনের শেষে বাড়তি ক্যালরি আর চিনি। গরম দুধে দুটো খেজুর ফুটিয়ে খাওয়া বাঙালি ঘরে পুরোনো অভ্যাস। স্বাদের জন্য খাওয়াই যায়। শুধু দুটো বড় মেডজুলেই ১৩০ কিলোক্যালরির বেশি (USDA), তার ওপর দুধের ক্যালরি। ওজন বাড়াতে চাইলে এটা কাজের, কমাতে চাইলে উল্টো ফল দেবে।

দুধে খেজুর দিলে দুধটা হালকা বাদামি হয়ে আসে, ক্যারামেলের মতো একটা গন্ধ ছাড়ে। চরক খর্জুরকে গুরু বলেছেন, তাই দুর্বল হজমে রাতে দুধ-খেজুর ভারী লাগতে পারে। NHS শুকনো ফলকে আঠালো বলে দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করে আর খাবারের অংশ হিসেবে খেতে বলে, তাই রাতের খেজুরও রাতের খাবারের সঙ্গে খাওয়াই সেই পরামর্শের কাছাকাছি। ঘুম নিয়ে সমস্যা থাকলে খেজুরের চেয়ে ঘুমের অভ্যাসটাই আগে দেখার মতো, তা নিয়ে আছে ঘুম না আসার সমাধানের লেখায়। প্রমাণের মাত্রা: ঘুমের দাবিতে অপর্যাপ্ত প্রমাণ।

পুরুষদের জন্য খেজুরের উপকারিতা কতটা প্রমাণিত?

পুরুষদের জন্য খেজুরের আলাদা কোনো উপকারিতা, যেমন টেস্টোস্টেরন বা শুক্রাণু বাড়া, খেজুর ফল খাওয়ানো কোনো মানব-ট্রায়ালে আমি খুঁজে পাইনি। এই প্রশ্নের বাংলা সার্চ ফলাফলের ওপরের দিকে ব্লগ আর যৌন-পণ্য বিক্রির দোকানের পাতা, আর তালিকার প্রথম পাতাটি, একটি ডায়াগনস্টিক ল্যাবের ব্লগ, খুলে পড়ে কোনো গবেষণার উল্লেখ পাইনি। অথচ গবেষণা আছে। সমস্যা হলো, সেগুলো অন্য জিনিস নিয়ে।

মানুষের ওপর যে কয়েকটি ট্রায়াল হয়েছে, সেগুলো খেজুর ফুলের রেণু (date palm pollen) নিয়ে, অর্থাৎ পুরুষ খেজুর গাছের ফুল থেকে সংগ্রহ করা গুঁড়ো (Salhi ও সহকর্মীরা, Metabolites, ২০২৪), যা আমরা যে ফল খাই তার থেকে একেবারে আলাদা একটি জিনিস। ইরানে বাইপাস অস্ত্রোপচারের পরে ৬০ জন পুরুষকে নিয়ে একটি ডাবল-ব্লাইন্ড ট্রায়ালে দিনে ৬ গ্রাম রেণু দুই মাস দেওয়া হয়, আর রেণু-দলে ইরেক্টাইল ফাংশনের স্কোর ২৩.২১ থেকে ৪৬.৫৭-এ ওঠে, প্লাসিবো দলে উল্লেখযোগ্য বদল হয়নি (Hooshang ও সহকর্মীরা, Evidence-Based Complementary and Alternative Medicine, ২০২২)। আরেকটি গবেষণায় ৪০ জন সন্তানহীন পুরুষকে ৭৪ দিন রেণুর ক্যাপসুল দেওয়ার পরে শুক্রাণুর সংখ্যা, পরিমাণ ও গঠন ভালো হয়েছে, তবে তুলনার দলটি ছিল ১০ জন সুস্থ পুরুষ, কোনো প্লাসিবো দল ছিল না (Falahati ও সহকর্মীরা, International Journal of Fertility and Sterility, ২০২৩)।

প্রশ্ন যা পাওয়া গেছে প্রমাণের মাত্রা
খেজুর ফল খেলে কি টেস্টোস্টেরন বাড়ে? ফল নিয়ে কোনো মানব-ট্রায়াল পাইনি অপর্যাপ্ত প্রমাণ
খেজুর খেলে কি বীর্য ঘন হয়? ফল নিয়ে কোনো মানব-গবেষণা পাইনি অপর্যাপ্ত প্রমাণ
খেজুর ফুলের রেণুতে কি যৌনক্ষমতা বাড়ে? ৬০ জনের একটি ছোট RCT, হৃদরোগীদের ওপর (২০২২) সীমিত প্রমাণ
রেণুতে কি শুক্রাণুর মান বাড়ে? ৪০ জন, প্লাসিবো ছাড়া (২০২৩) সীমিত প্রমাণ
চরকের বৃষ্য শ্রেণিবিভাগ সূত্রস্থান ২৭/১২৭ ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার

তাহলে দোকানে বা অনলাইনে "পুরুষের শক্তির খেজুর" দেখে কী ভাববেন? আমার পড়ায় যা দাঁড়াল, রেণুর গবেষণার ফল খেজুর ফলের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। রেণুর ট্রায়ালগুলোও এত ছোট আর অল্প সময়ের যে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা মাপা হয়নি, তাই রেণুকেও আমি কোনো সুপারিশ হিসেবে দেখছি না। পুরুষদের জন্য খেজুরের যে উপকারটুকু সত্যি, তা সবার জন্যই সত্যি, ব্যায়াম বা ভারী পরিশ্রমের পরে দ্রুত শক্তি আর আঁশ।

মেয়েদের জন্য খেজুরের উপকারিতা

মেয়েদের জন্য খেজুর নিয়ে ২০২৫ সালের একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনা ২১টি গবেষণা দেখেছে, কিশোরীদের হিমোগ্লোবিন, প্রজননক্ষম বয়সে প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্য আর মেনোপজে কিছু উপসর্গে ইতিবাচক ফলের কথা বলেছে (Shirdel ও সহকর্মীরা, Sultan Qaboos University Medical Journal, ২০২৫)। আমি পর্যালোচনাটির শুধু সারাংশ পড়েছি। গবেষণাগুলোর আকার ও মান নিয়ে নিশ্চিত না হয়ে এর বেশি বলা ঠিক হবে না। প্রমাণের মাত্রা: সীমিত প্রমাণ। মেয়েদের স্বাস্থ্যে আয়ুর্বেদের সামগ্রিক দৃষ্টি আছে নারীস্বাস্থ্য ও আয়ুর্বেদের লেখায়।

খেজুর খেলে কি ওজন বাড়ে, নাকি কমে?

খেজুর খেলে ওজন বাড়বে কি না, তা নির্ভর করে সারাদিনের মোট ক্যালরির ওপর, কারণ ১০০ গ্রাম মেডজুলে ২৭৭ কিলোক্যালরি (USDA), আর খেজুর খেয়ে ওজন কমেছে এমন কোনো মানব-ট্রায়াল এই লেখার জন্য খুঁজে পাইনি। একটা বাটিতে রাখা খেজুর থেকে হাত চালাতে থাকলে দশটা হয়ে যেতে সময় লাগে না, তখন ক্যালরি ছয়শো পেরোয়। মোটা হওয়ার ভয়টা তখনই সত্যি।

উল্টো দিকও আছে। বাহরাইনের ১০০ জনের ট্রায়ালে ১৬ সপ্তাহ দিনে ৩টি খেজুর খাওয়ার পরে বিএমআই-তে তাৎপর্যপূর্ণ বদল হয়নি (Alalwan ও সহকর্মীরা, ২০২০)। অন্য মিষ্টির বদলে দুটো খেজুর খেলে আঁশটুকু বাড়তি পাওয়া যায়, মিষ্টির তৃষ্ণাও মেটে। ব্যায়াম বা ভারী শারীরিক পরিশ্রমের পরে খেজুর ভালো জ্বালানি, অফিসের চেয়ারে বসে কাটানো দিনে সেই জ্বালানির দরকার কম। ওজন কমানোর বড় ছবিটা আছে ওজন কমানোর আয়ুর্বেদিক লেখায়।

আয়ুর্বেদে খর্জুর কেমন, কোন দোষে হিতকর?

আয়ুর্বেদে খর্জুর একটি মধুর রসের, শীতবীর্য ও গুরু ফল, যাকে চরক সংহিতা পুষ্টিকর (বৃংহণ) আর বৃষ্য বলেছে। সূত্রস্থান ২৭-এর ১২৭ নম্বর শ্লোকে আছে, "মধুরং বৃংহণং বৃষ্যং খর্জূরং গুরু শীতলম্। ক্ষয়েঽভিঘাতে দাহে চ বাতপিত্তে চ তদ্ধিতম্॥" অর্থাৎ ক্ষয়রোগে, আঘাতে, জ্বালাপোড়ায় আর বাত-পিত্তের সমস্যায় খেজুর হিতকর। প্রমাণের মাত্রা: ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার, আধুনিক ট্রায়ালে এই গুণগুলো যাচাই হয়নি।

গুণ চরকের বিবরণ ব্যবহারিক অর্থ
রস মধুর মিষ্টি, পুষ্টিকর
বীর্য শীত গরম ধাতের মানুষ বা জ্বালায় মানানসই
গুণ গুরু হজমে ভারী, অল্প পরিমাণে
দোষ বাত ও পিত্তে হিতকর কফ নিয়ে চরক সরাসরি কিছু বলেননি
কর্ম বৃংহণ, বৃষ্য ক্ষয় বা দুর্বলতায় পুষ্টি

এখানে একটা ব্যাপার চোখে পড়ে। আমার পড়া বাংলা লেখাগুলোর বেশিরভাগ, যেমন প্রথম আলো আর দ্য ডেইলি স্টার বাংলার লেখা, খেজুরকে হজমে সহায়ক বলে, অথচ চরক খর্জুরকে গুরু বলেছেন, যার মানে হজমে ভারী। একই অধ্যায়ের ২৭৯ নম্বর শ্লোকে আঙুর, খেজুর আর কুলের পানীয়কে "গুরু বিষ্টম্ভি", অর্থাৎ ভারী আর পেটে আটকে থাকার মতো বলা হয়েছে। চরক কফ বাড়ার কথা সরাসরি লেখেননি; পরের নিঘণ্টুগুলো পিণ্ড খর্জুরকে কফবর্ধক বলেছে বলে একটি আয়ুর্বেদ কলেজের পাঠ্য উল্লেখ করে, তবে সেই মূল শ্লোক আমি নিজে মিলিয়ে দেখতে পারিনি। তিন দোষের বিস্তারিত পরিচয় আছে ত্রিদোষ নিয়ে লেখায়।

খুরমা খেজুর বা শুকনো খেজুর কী, উপকারিতা আর খাওয়ার নিয়ম

খুরমা (বা খোরমা) খেজুর বাংলায় চেনা নাম, কিন্তু নামটা ঠিক কোন খেজুরকে বোঝায়, তার কোনো নির্ভরযোগ্য সংজ্ঞা আমি পাইনি। রূপালী বাংলাদেশের একটি লেখা খুরমাকে বড়, রসালো, অতিমিষ্ট একটি জাত বলেছে, আর শিক্ষক বাতায়নের খোরমা-বিষয়ক একটি লেখা নামটার কোনো সংজ্ঞাই দেয়নি। তাই কেনার সময় নামের চেয়ে খেজুরটা নরম না শক্ত, সেটা দেখুন, আর শুকনো শক্ত খেজুর হলে নিচের হিসাবটা কাজে লাগবে।

শুকনো খেজুরের পুষ্টি তাজা নরম খেজুরের কাছাকাছিই, জল কম বলে প্রতি গ্রামে চিনি আর ক্যালরি একটু ঘন। ওমানের তিন জাতের রোদে শুকানো খেজুরে ১০০ গ্রামে ২৭৮ থেকে ৩০১ কিলোক্যালরি, ৫৬.১ থেকে ৬২.২ গ্রাম চিনি আর ৬.২৬ থেকে ৮.৪৪ গ্রাম আঁশ পাওয়া গেছে, যার ৮৪ থেকে ৯৪ শতাংশ অদ্রবণীয় (Al-Farsi ও সহকর্মীরা, Journal of Agricultural and Food Chemistry, ২০০৫)। খুরমা নামে আলাদা কোনো এন্ট্রি USDA-র তালিকায় নেই, তাই খুরমার জন্য আলাদা কোনো উপকারিতার দাবি সংখ্যা দিয়ে যাচাই করা যায় না।

খেজুর কোন পর্যায়ে পাকা, তাতে রক্তে শর্করার প্রভাব বদলায় কি না, সেটাও মাপা হয়েছে। সৌদি আরবের ১৩ জন সুস্থ মানুষের একটি গবেষণায় আধা-পাকা খালাল পর্যায়ের খেজুরের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৬৯.১৪ আর পুরো পাকা শুকনো তামার পর্যায়ের ৫৩.০৯ মাপা হয়েছে, তবে এই পার্থক্য পরিসংখ্যানে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল না; গ্লাইসেমিক লোড অবশ্য পর্যায়ভেদে তাৎপর্যপূর্ণভাবে আলাদা ছিল, ৭.৮১ থেকে ১৮.৮১ (Alzahrani ও সহকর্মীরা, Cureus, ২০২৩)। ছোট গবেষণা। ডায়াবেটিস থাকলে শুকনো আর নরম, দুই রকম খেজুরকেই একই সাবধানতায় দেখুন।

খুরমা খেজুর খাওয়ার নিয়ম সাধারণ খেজুরের মতোই, ওজন দেখে দিনে ৩০ থেকে ৬০ গ্রাম। খুরমা নামে কেনা খেজুর শক্ত হলে আর চিবোতে কষ্ট হলে রাতে জলে বা দুধে ভিজিয়ে রাখলে নরম হয়ে আসে। শুকনা খেজুর খেলে কি হয়, এই প্রশ্নের উত্তর তাই নরম খেজুরের মতোই: দ্রুত শক্তি, অদ্রবণীয় আঁশ আর পটাশিয়াম, সঙ্গে প্রতি গ্রামে একটু বেশি চিনি। প্রমাণের মাত্রা: খুরমার আলাদা উপকারিতার জন্য অপর্যাপ্ত প্রমাণ।

আজওয়া খেজুর আর ভালো খেজুর চেনার উপায়

আজওয়া খেজুরের একটি জাত, বাংলাদেশের বিক্রেতাদের জাত-তালিকায় (যেমন খাস ফুড) যাকে সৌদি আরবের খেজুর হিসেবে দেখানো হয়। আজওয়ার প্রতি মুসলিম পরিবারগুলোর বিশেষ শ্রদ্ধা হাদিসের বর্ণনা থেকে আসে। সেটা বিশ্বাসের বিষয়, আর এই লেখা সে বিষয়ে কোনো রায় দিচ্ছে না। শুধু এটুকু বলার, আজওয়ার পুষ্টি অন্য খেজুরের চেয়ে আলাদা করে বেশি, এমন কোনো তুলনামূলক পুষ্টি-তথ্য USDA বা অন্য সরকারি তথ্যভান্ডারে আমি পাইনি।

রমজানের আগে বাজারে খেজুরের জাতের ভিড় বাড়ে, তখন বাছাইটা জরুরি হয়ে ওঠে। কয়েকটা জিনিস দেখলেই চলে। প্রথম আলোর ২০২৫ সালের একটি কেনাকাটা-নির্দেশিকা অনুযায়ী ভালো খেজুরের খোসা সামান্য কোঁচকানো, অতিরিক্ত চকচকে নয়, কারণ বাড়তি চকচকে ভাব তেল, গুড় বা রাসায়নিক থেকে আসতে পারে। একই লেখা বলছে, গায়ে চিনির দানা বা অস্বাভাবিক আঠালো ভাব, এক পাশে বেশি মিষ্টি আর অন্য পাশে কম, কিংবা খেজুরের চারপাশে পিঁপড়া-মাছির ভিড় থাকলে বাড়তি চিনি মেশানোর সন্দেহ করা যায়, আর টক বা গাঁজানো গন্ধ মানে খেজুর নষ্ট। খেজুরে চিনির সিরা মেশানো নিয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কোনো পরীক্ষা বা বিজ্ঞপ্তি এই লেখার জন্য খুঁজে পাইনি, তাই এই লক্ষণগুলো সন্দেহের সূত্র মাত্র, প্রমাণ হিসেবে ধরবেন না।

খেজুর খাওয়ার অপকারিতা কী কী?

খেজুর খাওয়ার অপকারিতা, বা খেজুরের অপকারিতা বলতে যা বোঝায়, তা মূলত এর ঘন চিনি, বেশি ক্যালরি আর উচ্চ পটাশিয়াম থেকে আসে, আর পরিমাণ বাড়লেই এগুলো সামনে আসে। দিনে প্রায় ৫০ গ্রাম খেজুরেই মলত্যাগ বেড়েছিল (Eid ও সহকর্মীরা, ২০১৫), তাই একসঙ্গে তার কয়েকগুণ খেলে পেট নরম হয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়, যদিও এত বেশি পরিমাণ কোনো ট্রায়ালে মাপা হয়নি। পেটের গ্যাস আর অস্বস্তি নিয়ে আলাদা লেখা আছে পেটের গ্যাস দূর করার উপায় নিয়ে।

অপকারিতা কেন কাদের বেশি
রক্তে শর্করা বাড়া ১টি মেডজুলে প্রায় ১৬ গ্রাম চিনি (USDA) ডায়াবেটিস, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস
ওজন বাড়া ১০০ গ্রামে ২৭৭ কিলোক্যালরি যাঁরা ওজন কমাচ্ছেন
পটাশিয়াম জমা ১০০ গ্রামে ৬৯৬ মিলিগ্রাম কিডনির দীর্ঘস্থায়ী রোগ, ডায়ালাইসিস
দাঁতের ক্ষয় শুকনো ফল আঠালো, দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে (NHS) শিশু, বারবার স্ন্যাক খাওয়া মানুষ
পেট নরম হওয়া দিনে প্রায় ৫০ গ্রামেই মলত্যাগ বেড়েছিল (Eid, ২০১৫) যাঁদের পেট সহজে খারাপ হয়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৫ সালের চিনি-নির্দেশিকা "ফ্রি সুগার" বলতে যোগ করা চিনি, মধু, সিরাপ আর ফলের রসকে ধরে, আর স্পষ্ট বলে যে তাজা ফলের চিনিতে এই সীমা প্রযোজ্য নয়। শুকনো আস্ত খেজুরের নাম নির্দেশিকায় আলাদা করে নেই, কিন্তু খেজুরের সিরাপ বা খেজুরের জুস নিশ্চিতভাবেই ফ্রি সুগারের দলে পড়ে। মধুর সঙ্গে খেজুরের চিনির তুলনা আছে মধু খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতার লেখায়।

অতিরিক্ত খেজুর খেলে কি হয়?

অতিরিক্ত খেজুর খেলে একসঙ্গে অনেক চিনি, ক্যালরি আর পটাশিয়াম শরীরে ঢোকে, আর রমজানের সন্ধ্যায় বা অতিথি আপ্যায়নে দশটা বড় খেজুর খাওয়া মোটেই অস্বাভাবিক নয়। দশটা মেডজুলের হিসাব (প্রায় ২৪০ গ্রাম, USDA-র মান থেকে) দেখলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়।

দশটা বড় মেডজুলে পরিমাণ তুলনা
শক্তি প্রায় ৬৬৫ কিলোক্যালরি তিনটে মেডজুলের তিনগুণের বেশি
চিনি প্রায় ১৬০ গ্রাম রক্তে শর্করার জন্য বড় বোঝা
পটাশিয়াম প্রায় ১,৬৭০ মিলিগ্রাম কিডনির রোগে ঝুঁকি
আঁশ প্রায় ১৬ গ্রাম Eid ট্রায়ালের দৈনিক ৫০ গ্রাম খেজুরের প্রায় পাঁচ গুণ

রোজ এভাবে খেলে বাড়তি ক্যালরির জন্য ওজন বাড়ার ঝুঁকি থাকে। ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগ থাকলে এক দিনের বাড়াবাড়িও রক্তে শর্করা বা পটাশিয়ামের জন্য ঝুঁকির হতে পারে, তাই উৎসবের দিনেও পরিমাণটা মাথায় রাখা দরকার।

খেজুরের রস নিয়ে একটি জরুরি সতর্কতা

খেজুরের রস আর খেজুর ফল আলাদা জিনিস, আর কাঁচা রসের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো নিপাহ ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিপাহ ফ্যাক্ট শিট (২৯ জানুয়ারি ২০২৬ হালনাগাদ) বলছে, বাদুড়ের লালা বা প্রস্রাবে দূষিত কাঁচা খেজুরের রস খেয়ে মানুষ সংক্রমিত হতে পারে, মৃত্যুহার আনুমানিক ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ, আর বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে প্রায় প্রতি বছর প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। WHO-র পরামর্শ সোজা, সংগ্রহ করা রস ফুটিয়ে খাওয়া আর বাদুড় আটকাতে হাঁড়ি ঢেকে রাখা।

শীত এলে "গাছ থেকে নামানো টাটকা রস" খাওয়ার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ায়, আর আমি স্বীকার করি সেই ছবি দেখে লোভ সামলানো কঠিন। ঝুঁকিটা বাস্তব। কাঁচা রস খাওয়ার ঝুঁকি নেওয়ার মতো নয়। ফলের ক্ষেত্রেও WHO বাদুড়ে কামড়ানো ফল ফেলে দিতে আর ফল ভালো করে ধুয়ে খেতে বলে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

খেজুর খাওয়ার নিয়ম সাধারণ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য নিচের মতো সাজালাম, এগুলো খাদ্য-তথ্য হিসেবে পড়বেন। ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ বা গর্ভাবস্থায় পরিমাণ নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে ঠিক করবেন।

  1. আগে ওজন দেখুন। যে খেজুর কেনেন তার একটা দানা দাঁড়িপাল্লায় তুলুন। ২০ থেকে ২৫ গ্রামের বড় খেজুর হলে দিনে ১ থেকে ২টি (২৪ থেকে ৪৮ গ্রাম), ৭ থেকে ১০ গ্রামের ছোট খেজুর হলে ৪ থেকে ৬টি (২৮ থেকে ৬০ গ্রাম) মোটামুটি ৩০ থেকে ৬০ গ্রামের মাপে পড়বে।
  2. খেজুরকে অন্য মিষ্টির বদলি হিসেবে বসান। চায়ের চিনি বা বিকেলের বিস্কুটের জায়গায় একটা খেজুর হিসাবটা সহজ রাখে।
  3. দাঁতের জন্য খেজুর আলাদা স্ন্যাক হিসেবে না খেয়ে খাবারের অংশ হিসেবে খান; NHS শুকনো ফলকে আঠালো বলে দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করে।
  4. ইফতারে ১ থেকে ২টি খেজুর আর জল দিয়ে শুরু করে তারপর মূল খাবারে যান। ডায়াবেটিস থাকলে এটুকুও খাবারের শর্করার হিসাবে ধরুন।
  5. রাতে দুধ-খেজুর খেলে ১ কাপ দুধে ২টির বেশি নয়, আর চরক খর্জুরকে গুরু বলেছেন বলে হজম দুর্বল হলে পরিমাণটা আরও কম রাখুন।
  6. শিশুদের দেওয়ার আগে বিচি ফেলে টুকরো করে দিন। NHS-এর শিশুখাদ্য নির্দেশিকা ফলের শক্ত বিচি সবসময় সরিয়ে ফেলতে আর খাওয়ার সময় ছোট শিশুর পাশে থাকতে বলে।

ভালো মেডজুল খেজুর হাতে নিলে আঙুলে হালকা আঠা লাগে, ভাঙলে ভেতরে মধুর মতো বাদামি শাঁস আর গাঢ় ক্যারামেলের গন্ধ পাওয়া যায়, অথচ ছোট ডেগলেট নূর বা শক্ত শুকনো খেজুরের শাঁস তুলনায় শুকনো, শক্ত আর একটু আঁশালো লাগে, চিবোতে সময়ও বেশি লাগে। শাঁস টক বা গাঁজানো গন্ধ ছাড়লে খেজুরটা নষ্ট হয়ে গেছে (প্রথম আলো, ২০২৫), ফেলে দেওয়াই ভালো।

কতদিন খাওয়া যায়, সে প্রশ্নে ডায়াবেটিসের দুটি ট্রায়ালে ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহ টানা খেজুর খাওয়ানো হয়েছিল, আর রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ খারাপ হয়নি (Butler, ২০২২; Alalwan, ২০২০)। খেজুর রোজকার খাবার, আর পরিমাণ ঠিক থাকলে আলাদা কোনো সময়সীমার উল্লেখ আমার পড়া সূত্রগুলোতে পাইনি।

কে ব্যবহার করবেন না বা সতর্ক থাকবেন

খেজুর সাধারণ খাবার, বেশিরভাগ মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে নিরাপদ, তবে নিচের ক্ষেত্রগুলোতে আলাদা সাবধানতা দরকার।

  • কিডনির দীর্ঘস্থায়ী রোগ বা ডায়ালাইসিস চললে খেজুর চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের অনুমতি ছাড়া নয়। খেজুরে ১০০ গ্রামে ৬৯৬ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম (USDA), আর যুক্তরাজ্যের Royal Berkshire NHS Foundation Trust-এর রেনাল ডায়েটেটিক্স লিফলেট (এপ্রিল ২০২৬) খেজুরসহ শুকনো ফলকে পটাশিয়াম কমানোর তালিকায় রেখেছে।
  • চিকিৎসক যদি আপনাকে রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে যাওয়া নিয়ে সতর্ক করে থাকেন, ওষুধের কারণে হোক বা অন্য কারণে, তাহলে খেজুরের পরিমাণ তাঁর সঙ্গে ঠিক করুন। এটা ওপরের পটাশিয়ামের মাত্রা থেকে টানা একটা যুক্তিসঙ্গত সাবধানতা। উচ্চ রক্তচাপের খাদ্য নিয়ে আছে উচ্চ রক্তচাপে কী খাবেন লেখায়।
  • ডায়াবেটিস বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে খেজুরের শর্করা দিনের হিসাবে ধরতে হবে। দুটি ট্রায়ালে ৩টি খেজুর বা ৬০ গ্রামে HbA1c বদলায়নি (Alalwan, ২০২০; Butler, ২০২২), কিন্তু গবেষণাগুলো ছোট, আর গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের গবেষণায় ডায়াবেটিস দলের গড় HbA1c ছিল ৬.৬ শতাংশ, অর্থাৎ ভালো নিয়ন্ত্রণে (Alkaabi, ২০১১)। ইনসুলিন নিলে খেজুরের শর্করা ডোজের হিসাবে ধরুন।
  • গর্ভাবস্থায় সাধারণ খাবারের পরিমাণে খেজুরে ক্ষতির কোনো তথ্য আমার পড়া গবেষণাগুলোতে আসেনি, তবে প্রসব সহজ করার জন্য বাড়তি পরিমাণে খাওয়ার নিরাপত্তা মাত্র ৪টি ট্রায়ালে মাপা হয়েছে (Salajegheh, ২০২৪)। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
  • স্তন্যদানের সময় প্রসবের পরে খেজুরে দুধের পরিমাণ বাড়ার কথা একটি মেটা-বিশ্লেষণে আছে, কিন্তু সেই গবেষণার সামগ্রিক মান দুর্বল (Salajegheh, ২০২৪)। খাবার হিসেবে খেজুরে স্তন্যদানে আলাদা ক্ষতির তথ্য পাইনি, তাই এখানে সাবধানতার ভিত্তি হলো প্রমাণের অভাব।
  • লিভারের ওপর খেজুরের ক্ষতি বা উপকারের কোনো মানব-তথ্য এই লেখার জন্য খুঁজে পাইনি। ফ্যাটি লিভারে মূল সমস্যা বাড়তি চিনি ও ক্যালরি, তাই পরিমাণটাই বিবেচ্য।
  • আইবিএস থাকলে অল্প দিয়ে শুরু করুন। NHS-এর আইবিএস পাতা খেজুরের কথা আলাদা করে বলে না, তবে তাজা ফল দিনে ৩ পরিবেশনের (প্রতিটি ৮০ গ্রাম) বেশি না খেতে বলে; আর মেডজুলে ১০০ গ্রামে ফ্রুক্টোজ প্রায় ৩২ গ্রাম (USDA)।
  • ছোট শিশুকে গোটা খেজুর নয়। NHS-এর শিশুখাদ্য নির্দেশিকা ফলের শক্ত বিচি সবসময় সরিয়ে ফেলতে আর খাওয়ার সময় শিশুর পাশে থাকতে বলে।
  • দাঁতের জন্য NHS শুকনো ফল বারবার স্ন্যাক হিসেবে না খেয়ে খাবারের সঙ্গে খাওয়ার কথা বলে, কারণ শুকনো ফল আঠালো আর দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
  • কাঁচা খেজুরের রস একেবারেই নয়। নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ (WHO, ২০২৬), রস ফুটিয়ে খান।

অনেক পুষ্টিবিদ অবশ্য বলবেন, এক-দুটো খেজুর নিয়ে এত হিসাব বাড়াবাড়ি। কথাটা সুস্থ মানুষের জন্য ঠিক। হিসাবটা দরকার তাঁদের, যাঁদের ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগ আছে, আর যাঁরা রমজানে প্রতি সন্ধ্যায় পাঁচ-সাতটা খেজুর খান।

উপসংহার

খেজুর খাওয়ার উপকারিতা আসলে সাধারণ, কিন্তু সত্যি, শক্তি, আঁশ আর পটাশিয়াম। আয়রন বা ভিটামিন এ-র ভাণ্ডার হিসেবে এর যে খ্যাতি, USDA-র সংখ্যা সেটা সমর্থন করে না। ডায়াবেটিসে অল্প খেজুর নিরাপদ হতে পারে বলে দুটি ছোট ট্রায়াল ইঙ্গিত দেয়, প্রসবে উপকারের প্রমাণ এখনো দুর্বল, পুরুষের শক্তির দাবির পেছনের গবেষণা আসলে খেজুর ফুলের রেণুর, আর চরক যাকে গুরু বলেছেন তাকে হজমের দাওয়াই বলা কঠিন। খেজুরের অপকারিতা বলতে চিনি, ক্যালরি আর কিডনির রোগে পটাশিয়াম।

হিসাবটা তাই সহজ। কাল বাজার থেকে খেজুর আনলে একটা দানা রান্নাঘরের দাঁড়িপাল্লায় তুলে ওজনটা দেখে নিন। ২০ গ্রামের বেশি হলে আপনার দিনের মাপ ১ থেকে ২টি, ১০ গ্রামের কম হলে ৪ থেকে ৬টি। একবার মেপে নিলে "দিনে কয়টা" প্রশ্নটার উত্তর আর কারো লেখা থেকে খুঁজতে হবে না।

সূত্র / Sources

  • U.S. Department of Agriculture. "Dates, medjool", FoodData Central, SR Legacy, FDC ID 168191 (প্রতি ১০০ গ্রাম পুষ্টিমান ও ১টি খেজুর = ২৪ গ্রাম). fdc.nal.usda.gov/food-search?query=168191
  • U.S. Department of Agriculture. "Dates, deglet noor", FoodData Central, SR Legacy, FDC ID 171726 (প্রতি ১০০ গ্রাম পুষ্টিমান ও ১টি খেজুর = ৭.১ গ্রাম). fdc.nal.usda.gov/food-search?query=171726
  • World Health Organization. "Nipah virus", Fact sheet, হালনাগাদ ২৯ জানুয়ারি ২০২৬. who.int/news-room/fact-sheets/detail/nipah-virus
  • World Health Organization. "WHO calls on countries to reduce sugars intake among adults and children", Guideline: Sugars intake for adults and children, ৪ মার্চ ২০১৫. who.int/news/item/04-03-2015-who-calls-on-countries-to-reduce-sugars-intake-among-adults-and-children
  • NHS. "Iron", Vitamins and minerals, পর্যালোচনা ৩ আগস্ট ২০২০ (দৈনিক চাহিদা পুরুষ ৮.৭ মিগ্রা, ১৯ থেকে ৪৯ বছরের নারী ১৪.৮ মিগ্রা). nhs.uk/conditions/vitamins-and-minerals/iron
  • NHS. "5 A Day portion sizes", পর্যালোচনা ১৯ জুলাই ২০২২ (শুকনো ফলের পরিবেশন প্রায় ৩০ গ্রাম, খাবারের সঙ্গে খাওয়ার পরামর্শ). nhs.uk/live-well/eat-well/5-a-day/portion-sizes
  • NHS. "How to get more fibre into your diet", পর্যালোচনা ২ মার্চ ২০২৬ (শুকনো ফল আঠালো, দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি, খাবারের অংশ হিসেবে খাওয়ার পরামর্শ). nhs.uk/live-well/eat-well/digestive-health/how-to-get-more-fibre-into-your-diet
  • NHS. "Irritable bowel syndrome (IBS), diet, lifestyle and medicines", পর্যালোচনা ১৭ মার্চ ২০২৫ (তাজা ফল দিনে ৩ পরিবেশনের বেশি নয়). nhs.uk/conditions/irritable-bowel-syndrome-ibs/diet-lifestyle-and-medicines
  • NHS Best Start in Life. "Preparing food safely for babies" (ফলের শক্ত বিচি সরানো ও খাওয়ার সময় তত্ত্বাবধান). nhs.uk/best-start-in-life/baby/weaning/safe-weaning/preparing-food-safely
  • Royal Berkshire NHS Foundation Trust, Renal Medicine and Dietetics. "Lowering your potassium intake", পর্যালোচনা এপ্রিল ২০২৬. royalberkshire.nhs.uk/media/5dapgs5k/lowering-your-potassium-intake_a4_apr26.pdf
  • Al-Karmadi A, Okoh AI. "An Overview of Date (Phoenix dactylifera) Fruits as an Important Global Food Resource." Foods, ১৩(৭), ১০২৪, ২০২৪. doi.org/10.3390/foods13071024
  • Flora of Bangladesh. "Khejur or Indian date, Phoenix sylvestris", ২০২১ (ফলের আকার ও শাঁস). floraofbangladesh.com
  • Alkaabi JM, Al-Dabbagh B, Ahmad S, Saadi HF, Gariballa S, Ghazali MA. "Glycemic indices of five varieties of dates in healthy and diabetic subjects." Nutrition Journal, ১০, ৫৯, ২০১১. doi.org/10.1186/1475-2891-10-59
  • Alalwan TA, Perna S, Mandeel QA, et al., Rondanelli M. "Effects of Daily Low-Dose Date Consumption on Glycemic Control, Lipid Profile, and Quality of Life in Adults with Pre- and Type 2 Diabetes: A Randomized Controlled Trial." Nutrients, ১২(১), ২১৭, ২০২০. pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/31952131
  • Butler AE, Obaid J, Wasif P, et al., Alamuddin N. "Effect of Date Fruit Consumption on the Glycemic Control of Patients with Type 2 Diabetes: A Randomized Clinical Trial." Nutrients, ১৪(১৭), ৩৪৯১, ২০২২. pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/36079749
  • Mirghani HO, Alhowiti A. "Dates fruit effects on dyslipidemia among patients with Type-2 diabetes mellitus: A systematic review and meta-analysis of randomized trials." Pakistan Journal of Medical Sciences, ৪১(১), ৩৩১ থেকে ৩৩৭, ২০২৫. doi.org/10.12669/pjms.41.1.9928
  • Eid N, Osmanova H, Natchez C, et al., Spencer JP. "Impact of palm date consumption on microbiota growth and large intestinal health: a randomised, controlled, cross-over, human intervention study." British Journal of Nutrition, ১১৪(৮), ১২২৬ থেকে ১২৩৬, ২০১৫. pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/26428278
  • Hooshang H, Farahani AV, Rezaeizadeh H, et al., Karimi M. "Efficacy of Date Palm Pollen in the Male Sexual Dysfunction after Coronary Artery Bypass Graft: A Randomized, Double-Blind, Clinical Trial." Evidence-Based Complementary and Alternative Medicine, ২০২২, ৫০৩২৬৮১. doi.org/10.1155/2022/5032681
  • Falahati AM, Fallahi S, Allamehzadeh Z, Izadi Raieni M, Malekzadeh K. "Effects of Date Palm Pollen Supplementations on The Expression of PRDX1 and PRDX6 Genes in Infertile Men: A Controlled Clinical Trial." International Journal of Fertility and Sterility, ২০২৩. pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/37183847
  • Salhi S, Rahim A, Chentouf M, et al., El Amiri B. "Reproductive Enhancement through Phytochemical Characteristics and Biological Activities of Date Palm Pollen: A Comprehensive Review on Potential Mechanism Pathways." Metabolites, ১৪(৩), ১৬৬, ২০২৪. doi.org/10.3390/metabo14030166
  • Shirdel E, Rahimi F, Jafarzadeh M, Abdi F, Rahnemaei FA. "Improving Female Health at Various Life Stages: A systematic review of the impact of date fruit products." Sultan Qaboos University Medical Journal, ২০২৫. doi.org/10.18295/squmj.10.2024.064
  • Al-Farsi M, Alasalvar C, Morris A, Baron M, Shahidi F. "Compositional and sensory characteristics of three native sun-dried date (Phoenix dactylifera L.) varieties grown in Oman." Journal of Agricultural and Food Chemistry, ৫৩, ৭৫৮৬ থেকে ৭৫৯১, ২০০৫. pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/16159190
  • Alzahrani AM, Alghamdi K, Bagasi A, et al., Algeffari M. "Influence of Date Ripeness on Glycemic Index, Glycemic Load, and Glycemic Response in Various Saudi Arabian Date Varieties." Cureus, ১৫, e48433, ২০২৩. doi.org/10.7759/cureus.48433
  • Salajegheh Z, Nasiri M, Imanipour M, et al., Asadi M. "Is oral consumption of dates (Phoenix dactylifera L. fruit) in the peripartum period effective and safe integrative care to facilitate childbirth and improve perinatal outcomes: a comprehensive revised systematic review and dose-response meta-analysis." BMC Pregnancy and Childbirth, ২৪, ১২, ২০২৪. pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/38166785
  • Sagi-Dain L, Sagi S. "The effect of late pregnancy date fruit consumption on delivery progress, A meta-analysis." Explore, ১৭(৬), ৫৬৯ থেকে ৫৭৩, ২০২১. pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/32563673
  • Rahnemaei FA, Kashani ZA, Jandaghian-Bidgoli M, et al., Abdi F. "The Impact of the Fruit and Seed of Date on Childbirth Stages and Pregnancy Complications." Sultan Qaboos University Medical Journal, ২৪(৪), ৪৮৩ থেকে ৪৯০, ২০২৪. doi.org/10.18295/squmj.12.2023.094
  • Gilani A. "How to manage diabetes during Ramadan (updated March 2023)." Diabetes & Primary Care, ২৫(১), ২৭ থেকে ২৯, ২০২৩. diabetesonthenet.com
  • চরক সংহিতা, সূত্রস্থান অধ্যায় ২৭ (অন্নপানবিধি), শ্লোক ১১৬, ১২৭ ও ২৭৯. carakasamhitaonline.com, Annapanavidhi Adhyaya

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। এটি চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে মোটামুটি ৩০ থেকে ৬০ গ্রাম, অর্থাৎ বড় মেডজুল হলে ১ থেকে ২টি আর ছোট ডেগলেট নূর হলে ৪ থেকে ৬টি। হিসাবটা আমার, ইউকে-র জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার (NHS) শুকনো ফলের এক পরিবেশন, প্রায় ৩০ গ্রাম, থেকে করা, কারণ খেজুরের আকার জাতভেদে তিনগুণের বেশি ছোট-বড় হয় (USDA)। ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগ থাকলে পরিমাণ চিকিৎসকের সঙ্গে ঠিক করে নেবেন।
খেজুরখাদ্য ও পুষ্টিডায়াবেটিসগর্ভাবস্থাপুরুষের স্বাস্থ্যখেজুর খাওয়ার নিয়ম
অভিজিৎ সাউ

লেখক সম্পর্কে

অভিজিৎ সাউ

তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক

তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত একজন প্রকৌশলী। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলা ভাষায় আয়ুর্বেদ, ভেষজ ও প্রাকৃতিক জীবনযাত্রার বিশ্বস্ত তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিটি নিবন্ধের পেছনে শাস্ত্রীয় গ্রন্থ, AYUSH মন্ত্রকের নির্দেশিকা ও প্রকাশিত গবেষণাপত্র যাচাই করি।

এই নিবন্ধটি প্রকাশের আগে প্রাথমিক উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই ও সম্পাদনা করা হয়েছে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি।

আরও পড়ুন
মধু খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা বোঝাতে কাঠের তক্তায় কাচের বয়ামে সোনালি মধু আর কাঠের ডিপার থেকে ঝরে পড়া মধুর ধারা, পাশে বাটিতে জমে যাওয়া মধু, মৌচাকের টুকরো ও হলুদ সরষে ফুল, আর পাশের গোল ছবিগুলোতে চামচে মধু খাওয়া এক নারী, রক্তে শর্করা মাপার যন্ত্র, কাশিতে কষ্ট পাওয়া একটি শিশু, মৌচাকে মৌমাছি এবং শিশুকে মধু না দেওয়ার নিষেধচিহ্ন

মধু খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা, খালি পেটে না রাতে, দিনে কত চামচ

মধু খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা কতটা প্রমাণিত, খালি পেটে না রাতে খাবেন, দিনে কত চামচ, ছেলেদের ও ডায়াবেটিসে মধু, আর খাঁটি মধু চেনার পরীক্ষা কেন ভুল করে।

২৬ অক্টোবর, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ
কাঁসার থালায় মুগ-চালের সাত্ত্বিক খিচুড়ি, ঘি, লেবু ও আদা, খিচুড়ির উপকারিতা

খিচুড়ির উপকারিতা, আয়ুর্বেদে কেন একে সম্পূর্ণ আহার বলা হয়

খিচুড়ির উপকারিতা কী, কেন আয়ুর্বেদে একে ত্রিদোষ-শামক সম্পূর্ণ আহার বলা হয়, মুগ ডাল-চালের পুষ্টি, কোন খিচুড়ি কখন খাবেন ও কারা সতর্ক থাকবেন, বাংলায় গাইড।

আপডেট: ২৭ জুলাই, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ
ক্লান্ত এক নারীর সামনে টেবিলে সাজানো কালো তিল, খেজুর, কিশমিশ, পালং শাক, ছোলা-মুসুর, কাঁটাসহ ছোট মাছ, ডালিম ও লেবু, হিমোগ্লোবিন বাড়ে কোন খাবারে তা নিয়ে লেখার প্রচ্ছদ

হিমোগ্লোবিন কম হলে কি খাওয়া উচিত, কোন খাবারে বাড়ে না

হিমোগ্লোবিন বাড়ে কোন খাবারে আর কম হলে কি খাওয়া উচিত, হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিক কত, কম হওয়ার কারণ ও লক্ষণ, কোন ফলে রক্ত বাড়ে না, আর কখন রক্ত-পরীক্ষা জরুরি।

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ