আরোগ্য বাংলা
ভেষজ ৩১ আগস্ট, ২০২৬ 20 মিনিট পড়ুন

অপরাজিতা ফুলের উপকারিতা, আর ইউরোপে নীল চা কেন অনুমোদন পেল না

অপরাজিতা ফুলের উপকারিতা নিয়ে প্রমাণ ঠিক কতদূর যায়, নীল চা বানানোর নিয়ম ও মাত্রা, ইউরোপে কেন অনুমোদন মেলেনি, শঙ্খপুষ্পী বিভ্রান্তি আর কাদের এড়ানো দরকার।

অভিজিৎ সাউ
তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক

AI-সহায়তায় গবেষণা ও খসড়া; সম্পাদনা, যাচাই ও তথ্যের দায়ভার লেখক অভিজিৎ সাউ-এর। সম্পাদকীয় নীতি গবেষণা পদ্ধতি

গাঢ় নীল অপরাজিতা ফুল ও কাচের কাপে নীল চা, পাশে শুকনো ফুল, অপরাজিতা ফুলের উপকারিতা নিয়ে লেখার প্রচ্ছদ
সূচিপত্র14টি বিভাগ

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ইউরোপীয় কমিশন একটি সিদ্ধান্তে সই করে, নথিতে যার নম্বর C(2026) 776। বিষয় ছিল শুকনো অপরাজিতা ফুল, আর আবেদনটি ছিল ইউরোপে ওই ফুল খাদ্য হিসেবে বিক্রির অনুমতি চেয়ে। সিদ্ধান্তটি অনুমোদনের নয়। প্রক্রিয়াটি বন্ধ করে দেওয়ার।

অপরাজিতা ফুলের উপকারিতা বলতে মানুষের ওপর এখন পর্যন্ত যা যাচাই হয়েছে, তার পরিধি ছোট। ফুলটি হলো Clitoria ternatea, Fabaceae গোত্রের লতানে গাছ, আর নীল রংটা আসে টার্নাটিন নামের একদল অ্যান্থোসায়ানিন থেকে। ১৫ জন সুস্থ তরুণের ওপর করা একটি ক্রসওভার ট্রায়ালে চিনির সঙ্গে এই ফুলের নির্যাস খাওয়ালে খাবার-পরবর্তী রক্তে শর্করার ওঠাটা কমেছিল (Chusak ও সহলেখক, BMC Complementary and Alternative Medicine, ২০১৮)। খুশকির ওপর একটি ট্রায়াল আছে। নীল অপরাজিতা ফুলের উপকারিতা নিয়ে যাচাই করা প্রমাণ বলতে কার্যত ওই দুটিই। বাকি যত দাবি বাংলা ইন্টারনেটে ঘোরে, স্মৃতি বাড়ানো, রক্তচাপ কমানো, নতুন চুল গজানো, তার প্রমাণ ইঁদুর আর ল্যাবরেটরির কোষে আটকে।

মজার ব্যাপার হলো, ঠিক যে বছরগুলোয় ইউরোপ আপত্তি তুলছে, সেই একই সময়ে আমেরিকার খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এই ফুলের নির্যাসকে খাবারের রং হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে এবং ২০২৫ সালে তার ব্যবহারের তালিকা আরও বাড়িয়েছে। দুই নিয়ন্ত্রক, একই ফুল, উল্টো উত্তর। পার্থক্যটা কোথায়, সেটাই এই লেখার আসল প্রশ্ন।

এক নজরে

গোটা লেখাটির সারাংশ এখানে। অপরাজিতার পরিচয়, নীল রঙের উৎস, কোন দাবির পিছনে কতটা প্রমাণ আছে, দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা কী সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে আর কাদের এই ফুলের চা এড়ানো দরকার, নিচের কয়েকটি বিন্দুতে সেই সবটুকুই এক জায়গায় ধরা আছে।

  • অপরাজিতা হলো Clitoria ternatea, Fabaceae গোত্র। সংস্কৃতে বিষ্ণুক্রান্তা ও গিরিকর্ণিকা। নীল ও সাদা, দুই রকম ফুল হয়।
  • নীল রং আসে টার্নাটিন থেকে, যা প্রায় ১৫ রকম পলিঅ্যাসাইলেটেড অ্যান্থোসায়ানিনের একটি দল (Maia ও সহলেখক, Plants, ২০২৫)।
  • বাংলায় নীলকণ্ঠ ফুল নামেও ডাকা হয়, তবে নামটি নীল জ্যাকারান্ডা গাছের সঙ্গেও ভাগ করা।
  • অপরাজিতা ফুলের চা এর উপকারিতা বলতে মানুষের ওপর প্রমাণ মাত্র দুটি জায়গায়, বাকিটা প্রাণী-গবেষণা।
  • খাবারের পরে রক্তে শর্করার তাৎক্ষণিক ওঠা কমা, প্রমাণের স্তর সীমিত প্রমাণ, ১৫ জনের একটি ট্রায়াল, সবাই সুস্থ তরুণ পুরুষ।
  • খুশকিতে মাথার তালুর তেলভাব কমা, প্রমাণের স্তর সীমিত প্রমাণ, ৭০ জনের একটি ট্রায়াল।
  • স্মৃতি, রক্তচাপ, চুল গজানো ও ওজন কমা, প্রমাণের স্তর অপর্যাপ্ত প্রমাণ, মানুষের ওপর কোনো ট্রায়াল নেই।
  • আয়ুর্বেদে শিরোবিরেচন ও বিষহর প্রসঙ্গে ব্যবহার, প্রমাণের স্তর ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার
  • আমেরিকায় খাবারের রং হিসেবে অনুমোদিত (21 CFR 73.69)। ইউরোপে খাদ্য হিসেবে অনুমোদন পায়নি।
  • এড়ানো দরকার গর্ভাবস্থায়, স্তন্যদানে, রক্ত পাতলা করার ওষুধ চললে ও অস্ত্রোপচারের আগে।

অপরাজিতা ফুল আসলে কোন গাছ, আর নীল রংটা কীসের

অপরাজিতা হলো Clitoria ternatea, শিম-মটরের পরিবার Fabaceae-র একটি লতানে বহুবর্ষজীবী গাছ, বাংলায় যাকে প্রায় প্রতিটি পুরনো বাড়ির পাঁচিলে বা পুজোর বাগানে দেখা যায়। ফুলটি প্রজাপতির ডানার মতো, তাই ইংরেজিতে butterfly pea। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে নীল জাতটিই বেশি চোখে পড়ে, তবে সাদা ফুলও হয়, আর দুটোই একই প্রজাতি।

রংটা কোনো সাধারণ রঞ্জক নয়। অপরাজিতার নীল আসে টার্নাটিন নামের একদল অ্যান্থোসায়ানিন থেকে, প্রায় ১৫ রকম পলিঅ্যাসাইলেটেড রূপে, আর এই অ্যাসাইলেশনই রংটিকে অস্বাভাবিক রকম স্থিতিশীল রাখে (Maia ও সহলেখক, Plants, ২০২৫;১৪(২১):৩৩২২)। সাধারণ অ্যান্থোসায়ানিন গরমে ও অম্লে দ্রুত ভেঙে যায়। টার্নাটিন যায় না, আর সেই কারণেই খাদ্যশিল্প এই ফুলটির দিকে ঝুঁকেছে।

লেবু চিপলে নীল চা যে বেগুনি হয়ে যায়, ওটা জাদু নয়, pH-এর হিসাব। অ্যান্থোসায়ানিনের অণু অম্লে গঠন বদলায়, তাই আলোর যে তরঙ্গদৈর্ঘ্য সে শুষে নেয় সেটিও বদলায়, আর আমরা রং বদলাতে দেখি। ব্যাপারটা রসায়নের, স্বাস্থ্যের নয়। বেগুনি রং দেখে চায়ের গুণ বেড়ে গেছে ভাবার কারণ নেই।

নামের একটা গোলমাল এখানেই সেরে নেওয়া ভালো। গাঢ় নীল অপরাজিতাকে বাংলায় অনেকে নীলকণ্ঠ ফুল বলেন, আর নীলকণ্ঠ ফুলের উপকারিতা খুঁজলে যে লেখাগুলি আসে তার প্রায় সবই আসলে অপরাজিতা নিয়ে লেখা। কিন্তু নীলকণ্ঠ নামটি একার নয়। নীল জ্যাকারান্ডা গাছকেও (Jacaranda mimosifolia) বাংলায় নীলকণ্ঠ, নীলচূড়া বা নীল পারদ নামে ডাকা হয়, আর সেটি সম্পূর্ণ আলাদা পরিবারের বড় গাছ, যার ফুল নিয়ে কোনো চা হয় না। কাজেই কেউ নীলকণ্ঠ ফুলের চা বলতে কী বোঝাচ্ছেন, সেটা গাছ দেখে মিলিয়ে নেওয়া দরকার। লতা হলে অপরাজিতা, বড় গাছ হলে নয়।

আরও একটা তফাত মাথায় রাখা দরকার, কারণ বাংলা লেখাগুলিতে গাছটাকে একটা একক জিনিস ধরে নেওয়া হয়। ফুল, পাতা, মূল আর বীজ, এই চারটি অংশের ব্যবহার ও ঝুঁকি এক নয়। চায়ের প্রসঙ্গে যা বলা হচ্ছে তা কেবল ফুলের কথা, আর নিচের নিরাপত্তার অংশে দেখবেন মূল ও বীজ আলাদা করে সরিয়ে রাখার কারণ আছে।

অপরাজিতা ফুলের উপকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর করা গবেষণা ঠিক কয়টা?

মানুষের ওপর করা প্রকাশিত ট্রায়ালের সংখ্যা হাতে গোনা, আর তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত হয় ২০১৮ সালের থাইল্যান্ডের একটি গবেষণা। ১৫ জন সুস্থ তরুণ পুরুষ, গড় বয়স ২২.৫, ক্রসওভার নকশা, প্রতিটি পর্বের মাঝে এক সপ্তাহের বিরতি। তাঁদের ৪০০ মিলি জলে ৫০ গ্রাম চিনি খাওয়ানো হয়, কখনো একা, কখনো ১ বা ২ গ্রাম অপরাজিতার নির্যাসের সঙ্গে (Chusak ও সহলেখক, BMC Complementary and Alternative Medicine, ২০১৮;১৮:৬)।

ফলাফলটা বাস্তবিকই ইতিবাচক ছিল। ওই একই গবেষণায় (Chusak ও সহলেখক, ২০১৮) দেখা যায়, চিনির সঙ্গে ফুলের নির্যাস খেলে ৩০ ও ৬০ মিনিটে রক্তে শর্করার বৃদ্ধি কম হয়, মোট হিসাবে চিনি একা খাওয়ার তুলনায় ০.৬৭ ও ০.৬০ গুণ। ২ গ্রামের ক্ষেত্রে ইনসুলিনের ওঠাও কমে, ০.৬৭ গুণ। রক্তের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতার মাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

কিন্তু গবেষকরা নিজেরাই সীমাটা লিখে দিয়েছেন, আর সেই বাক্যটাই বাংলা পাতাগুলিতে কোথাও নেই। তাঁদের কথায়, ফলাফলটি সুস্থ পুরুষদের ওপর পাওয়া গেছে এবং গ্লুকোজ অসহিষ্ণুতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, অন্য লিঙ্গ বা অন্য বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে একে সাধারণীকরণ করা যায় না। অর্থাৎ যে দলটিকে লক্ষ্য করে বাংলায় "ডায়াবেটিসে অপরাজিতা" লেখা হচ্ছে, ঠিক সেই দলটিকেই গবেষণাটি বাদ রেখেছে। প্রমাণের স্তর তাই সীমিত প্রমাণ, তার বেশি নয়। খাদ্যতালিকার দিকটি নিয়ে আলাদা লেখা আছে ডায়াবেটিসে কী খাবেন কী এড়াবেন শিরোনামে, আর সেখানেও একই কথা, ভেষজ ওষুধের বিকল্প নয়।

আরও একটি মানুষের গবেষণার উল্লেখ পাওয়া যায়, টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের ওপর কয়েক সপ্তাহ ধরে চালানো, যেখানে অক্সিডেটিভ চাপের কিছু সূচক কমেছিল বলে জানানো হয়েছে (Maia ও সহলেখক, Plants, ২০২৫-এর পর্যালোচনায় উদ্ধৃত)। মূল গবেষণাপত্রটি আমি খুলে দেখতে পারিনি, পেয়েছি কেবল ওই পর্যালোচনার বিবরণ। তাই মাত্রা ও ফলাফলের সংখ্যা এখানে দিচ্ছি না, আর এই গবেষণাটিকে উপরের ট্রায়ালটির সমান ওজন দেওয়াও ঠিক হবে না। যা নিজে যাচাই করতে পারিনি, সেটাকে প্রমাণ হিসেবে সাজানো অসৎ হবে।

আমেরিকা যাকে রং হিসেবে অনুমোদন দিল, ইউরোপ কেন পানীয় হিসেবে দিল না

দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা অপরাজিতাকে দুটি আলাদা প্রশ্নে বিচার করেছে, আর সেখান থেকেই দুই রকম উত্তর। আমেরিকার FDA বিচার করেছে ফুলের নির্যাসকে খাবারের রং হিসেবে, আর ইউরোপ বিচার করেছে গোটা শুকনো ফুলকে পানীয় হিসেবে। প্রশ্ন আলাদা, তাই উত্তরও আলাদা।

আমেরিকার দিকটা পরিষ্কার। ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর আবেদন জমা পড়ে, ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর স্থায়ী তালিকাভুক্তি হয়, আর ২০২৫ সালের ১২ মে ব্যবহারের তালিকা বাড়িয়ে সেখানে রেডি-টু-ইট সিরিয়াল, ক্র্যাকার, প্রেৎজেল ও চিপস যোগ করা হয়। নিয়মটি 21 CFR 73.69, যেখানে নির্যাসের pH ৩.০ থেকে ৪.৫ বেঁধে দেওয়া আছে এবং সিসা, আর্সেনিক, পারদ ও ক্যাডমিয়াম প্রতিটির সর্বোচ্চ সীমা কেজিপ্রতি ১ মিলিগ্রাম। লক্ষ্য করার মতো কথাটা হলো, এটি রঙের অনুমোদন। স্বাস্থ্যগুণের কোনো স্বীকৃতি এখানে নেই।

ইউরোপের দিকটা অন্যরকম। Sensient Technologies Europe ও Tsujiko Co. শুকনো অপরাজিতা ফুলকে তৃতীয় দেশের প্রথাগত খাদ্য হিসেবে বিক্রির জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়, আর ইউরোপীয় খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বা EFSA সেটি মূল্যায়ন করে ২০২২ সালে আপত্তি তোলে। তাদের ভাষায়, ফুলের সাইক্লোটাইডগুলির বিষতাত্ত্বিক চরিত্র অজানা এবং হার্বাল ইনফিউশন হিসেবে ব্যবহারে যে পরিমাণ শরীরে যেতে পারে তা বিবেচনা করে খাদ্যটি মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে (EFSA Supporting Publications, ২০২২;১৯(২):EN-7084)। তারপর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কমিশন NF/2023/20953 প্রক্রিয়াটি অনুমোদন ছাড়াই বন্ধ করে দেয়।

প্রশ্ন আমেরিকা, FDA ইউরোপ, EFSA ও কমিশন
কী বিচার করা হয়েছে ফুলের নির্যাস, খাবারের রং হিসেবে গোটা শুকনো ফুল, প্রথাগত খাদ্য হিসেবে
সিদ্ধান্ত অনুমোদিত, নিয়ম 21 CFR 73.69 অনুমোদন হয়নি, প্রক্রিয়া বন্ধ
তারিখ স্থায়ী তালিকাভুক্তি ২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ব্যবহার বাড়ানো ১২ মে ২০২৫ EFSA আপত্তি ২০২২, কমিশনের সিদ্ধান্ত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মূল বিবেচনা ভারী ধাতুর সীমা ও নির্যাসের pH সাইক্লোটাইডের অজানা বিষতাত্ত্বিক চরিত্র
স্বাস্থ্যগুণের স্বীকৃতি নেই নেই

এখান থেকে দুটো ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সহজ, আর দুটোই এড়ানো দরকার। প্রথম ভুল, ইউরোপ আটকেছে মানে ফুলটি বিষ। EFSA বলেনি যে বিষক্রিয়া প্রমাণিত, বলেছে যে তথ্য নেই, আর তথ্য না থাকলে ইউরোপের নিয়মে অনুমোদন আটকে যায়। দ্বিতীয় ভুল, আমেরিকা অনুমোদন দিয়েছে মানে পানীয় হিসেবে নিরাপদ প্রমাণিত। রঙের অনুমোদন খাবারে যে সামান্য পরিমাণ যায় তার হিসাব ধরে হয়, রোজ এক কাপ ফুল ভেজানো জলের হিসাবে নয়।

সাইক্লোটাইড, নামটা বাংলা ইন্টারনেটে নেই কেন

সাইক্লোটাইড হলো গাছের তৈরি ছোট গোলাকার প্রোটিন, যার গঠন এমন গিঁট-বাঁধা যে তাপ, অম্ল ও হজমের উৎসেচক সহজে ভাঙতে পারে না। অপরাজিতা এই যৌগে অস্বাভাবিক রকম সমৃদ্ধ, একটি পর্যালোচনায় গাছটি থেকে অন্তত ৭৪টি সাইক্লোটাইড অনুক্রম নথিভুক্ত হয়েছে, যাদের ক্লায়োটাইড নামে ডাকা হয় (Oguis ও সহলেখক, Frontiers in Plant Science, ২০১৯;১০:৬৪৫)।

কৃষিতে এই যৌগগুলিকে প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে দেখা হয়, আর সেটাই এদের নিয়ে গবেষণার মূল কারণ। খাদ্য হিসেবে এদের চরিত্র কী, ফুটন্ত জলে কতটা বেরিয়ে আসে, পাকস্থলীতে কতটা টেকে, এসব প্রশ্নের উত্তর নেই। EFSA-র আপত্তির কেন্দ্রে ঠিক এই শূন্যতাটাই। বাংলা ইন্টারনেটে শব্দটি নেই, কারণ যে পাতাগুলি অপরাজিতা নিয়ে লেখা হয় তার প্রায় সবই একে অপরের অনুবাদ, আর মূল উৎসে কেউ ফিরে যাননি।

খুশকিতে অপরাজিতার শ্যাম্পু কি কেটোকোনাজলের সমান?

খুশকিতে অপরাজিতার একটি বাস্তব মানব-ট্রায়াল আছে, আর তার ফলাফল মিশ্র, সমান নয়। ইন্দোনেশিয়ার পেকানবারুতে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৮ থেকে ২৫ বছরের ৭০ জন নারীকে দুই দলে ভাগ করা হয়, ৩৫ জন ২০ শতাংশ অপরাজিতার শ্যাম্পু ব্যবহার করেন আর ৩৫ জন ২ শতাংশ কেটোকোনাজলের শ্যাম্পু (Assegaf ও সহলেখক, Narra J, ২০২৪;৪(২):e876)।

ছত্রাক দমনে কেটোকোনাজল স্পষ্টভাবে এগিয়ে ছিল। ওই গবেষণায় (Assegaf ও সহলেখক, ২০২৪) Malassezia ছত্রাকের ডিএনএ প্রকাশ কমানোয় কেটোকোনাজলের মাপ ৩.৭৭, অপরাজিতার ১.৭৬, আর পার্থক্যটি পরিসংখ্যানগতভাবে অর্থপূর্ণ। উল্টোদিকে মাথার তালুর তেল বা সিবাম কমানোয় অপরাজিতা এগিয়ে, ১.১৬ শতাংশ বনাম ০.২২ শতাংশ। খুশকির তীব্রতার স্কোর আর ব্যবহারকারীর সন্তুষ্টি, দুটোতেই দুই দলের মধ্যে অর্থপূর্ণ ফারাক পাওয়া যায়নি। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কেটোকোনাজলের দলে বেশি ছিল, ২১.২ শতাংশ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে।

মাপকাঠি ২০% অপরাজিতা শ্যাম্পু ২% কেটোকোনাজল শ্যাম্পু
Malassezia ছত্রাকের ডিএনএ প্রকাশ কমা ১.৭৬ ৩.৭৭, এগিয়ে
মাথার তালুর তেল বা সিবাম কমা ১.১৬ শতাংশ, এগিয়ে ০.২২ শতাংশ
খুশকির তীব্রতার স্কোর দুই দলে অর্থপূর্ণ ফারাক নেই দুই দলে অর্থপূর্ণ ফারাক নেই
ব্যবহারকারীর সন্তুষ্টি দুই দলে অর্থপূর্ণ ফারাক নেই দুই দলে অর্থপূর্ণ ফারাক নেই
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনায় কম ২১.২ শতাংশ ব্যবহারকারীর

সৎ পাঠটা তাহলে এই। তেল নিয়ন্ত্রণে অপরাজিতা কাজে দিতে পারে এবং সহনীয়তায় ভালো, কিন্তু ছত্রাক দমনে ওষুধের সমতুল্য নয়। প্রমাণের স্তর সীমিত প্রমাণ, কারণ ট্রায়ালটি একটিই, অন্ধ পদ্ধতিতে করা নয়, আর অংশগ্রহণকারীরা সবাই তরুণী। খুশকির চিকিৎসা প্রসঙ্গে বিস্তারিত আছে খুশকি দূর করার ঘরোয়া উপায় লেখাটিতে, আর সামগ্রিক রুটিনের জন্য আয়ুর্বেদিক চুলের যত্ন

অনেক চর্মরোগ চিকিৎসক অবশ্য এখানে সতর্ক করবেন, আর যুক্তিটা ফেলে দেওয়ার নয়। খুশকির পিছনে যদি সেবোরিক ডার্মাটাইটিস বা সোরিয়াসিস থাকে, তেল কমানো দিয়ে সমস্যাটার সুরাহা হয় না, আর ভেষজ শ্যাম্পুতে মাসের পর মাস কাটালে রোগ নির্ণয় পিছিয়ে যায়।

চুল গজানো আর রক্তচাপ কমানোর দাবি দুটো কোথা থেকে এসেছে

চুল গজানো ও রক্তচাপ কমানোর দাবিদুটোর পিছনে মানুষের ওপর করা কোনো গবেষণা নেই, দুটোই প্রাণী-গবেষণা থেকে এসেছে। বাংলা একটি বহুল-পঠিত লেখায় সরাসরি বলা আছে যে অপরাজিতা চুল গজানোয় মিনোক্সিডিলের চেয়ে বেশি কার্যকর। উৎসটা খুঁজলে পাওয়া যায় C57BL/6Mlac জাতের ইঁদুরের ওপর করা একটি পরীক্ষা, যেখানে ফুলের অ্যালকোহলিক নির্যাস প্রাথমিক চুলগজানো উদ্দীপিত করেছিল ঠিকই, কিন্তু ফলিকলের সংখ্যা বাড়াতে পারেনি এবং অ্যানাজেন পর্যায়কে দীর্ঘায়িত করতেও পারেনি (Chaksupa ও সহলেখক, Pharmaceutical Sciences Asia, ২০২২;৪৯(৫):৪৭১-৪৭৭)। যে দুটি জিনিস দীর্ঘমেয়াদি চুলগজানোর আসল মাপকাঠি, ঠিক সেই দুটিতেই ফল আসেনি।

রক্তচাপের গল্পটাও একইরকম। "অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালি শিথিল করে চাপ কমায়" বাক্যটি প্রায় প্রতিটি বাংলা পাতায় আছে, আর তার ভিত্তি নাইট্রিক অক্সাইড-ঘাটতিতে উচ্চ রক্তচাপ তৈরি করা ইঁদুরের ওপর করা গবেষণা। ইঁদুরের রক্তনালির আচরণ থেকে মানুষের রক্তচাপে পৌঁছনোর দূরত্বটা বিরাট, আর সেই দূরত্ব পেরোনোর কোনো ট্রায়াল হয়নি। প্রমাণের স্তর অপর্যাপ্ত প্রমাণ। রক্তচাপে খাদ্যের ভূমিকা নিয়ে আলাদা লেখা আছে উচ্চ রক্তচাপে কী খাবেন শিরোনামে।

স্মৃতি ও মেধার দাবিটি নিয়ে একটু বেশি সময় দেওয়া দরকার, কারণ এটিই সবচেয়ে জোরালোভাবে প্রচারিত। বিদেশি কিছু বাণিজ্যিক পাতায় একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা ঘোরে, ২০১৯ সালের একটি ট্রায়াল, ৬০ জন অংশগ্রহণকারী, দিনে ৭৫০ মিলিগ্রাম, আট সপ্তাহে কর্মস্মৃতিতে ২৩ শতাংশ উন্নতি। আমি এই ট্রায়ালটি খুঁজে পাইনি, কোনো সূচিতেই নয়। যা খুঁজে পাওয়া যায় না, সেটি উদ্ধৃত করা যায় না। মানুষের ওপর অপরাজিতার স্মৃতি নিয়ে নিয়ন্ত্রিত গবেষণা আছে বলে আমি নিশ্চিত হতে পারিনি, আর সেটাই এখানে সৎ উত্তর।

অপরাজিতা কি শঙ্খপুষ্পী? নামের গোলমালটা কোথায়

শাস্ত্রীয় হিসাবে অপরাজিতা ও শঙ্খপুষ্পী দুটি আলাদা দ্রব্য, যদিও ভারতের নানা অঞ্চলে অপরাজিতাকেই শঙ্খপুষ্পী নামে ডাকা হয়। আয়ুর্বেদীয় ফার্মাকোপিয়া অফ ইন্ডিয়া শঙ্খপুষ্পী বলতে ধরে Convolvulus pluricaulis গাছটিকে, যার চলতি বৈজ্ঞানিক নাম Convolvulus prostratus, আর Clitoria ternatea সেখানে অপরাজিতা নামে নিজের আলাদা পরিচয়েই আছে। গোলমালটা তাই ফার্মাকোপিয়ার নয়, প্রয়োগের। নানা অঞ্চলের চিকিৎসকেরা শঙ্খপুষ্পীর বিকল্প উৎস হিসেবে Clitoria ternatea, Evolvulus alsinoidesTephrosia purpurea ব্যবহার করে এসেছেন, আর দক্ষিণ ভারতে অপরাজিতাকে শঙ্খপুষ্পীর অন্যতম উৎস ধরার রেওয়াজ পুরনো (Mukherjee ও সহলেখক, Journal of Ethnopharmacology, ২০০৮;১২০(৩):২৯১-৩০১)।

কেন এই গোলমাল টিকে আছে, তার কারণটা বাজারি। শঙ্খপুষ্পীর চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি, আর কাঁচা ভেষজ সংগ্রহ করেন যাঁরা তাঁরা প্রায়ই সংস্কৃত বা স্থানীয় নাম ধরে গাছ চেনেন, বৈজ্ঞানিক নাম ধরে নয়। ফুলের চেহারায় মিল থাকলে বদলে যেতে সময় লাগে না। ছয়টি ভারতীয় বাজার থেকে কেনা শঙ্খপুষ্পীর নমুনা যাচাই করে দেখা গেছে, দিল্লি, জয়পুর ও হিসারের নমুনায় ছিল কেবল Convolvulus pluricaulis, লখনউ ও বারাণসীর নমুনায় তার সঙ্গে মেশানো ছিল Evolvulus alsinoides, আর জলন্ধরের নমুনায় Tephrosia purpurea (Irshad ও সহলেখক, Indian Journal of Traditional Knowledge, ২০১৬;১৫(৪):৬৪৬-৬৫৩)।

একটা জিনিস এখানে আলাদা করে বলা দরকার, কারণ সহজেই উল্টো বোঝা যায়। ওই ছয়টি বাজার-নমুনার কোনোটিতেই অপরাজিতা মেশানো পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ অপরাজিতা শঙ্খপুষ্পীর জায়গায় আসে প্রথা ও আঞ্চলিক রীতির পথ ধরে, বাজারের ভেজাল হিসেবে নয়, আর এই দুটোকে গুলিয়ে ফেললে একটি প্রাচীন প্রয়োগ-পরম্পরাকে অন্যায়ভাবে জালিয়াতি বলে দেগে দেওয়া হয়।

আপনার জন্য এর ব্যবহারিক অর্থ সহজ। মেধ্য ভেষজ হিসেবে শঙ্খপুষ্পী কিনতে গিয়ে যদি নীল অপরাজিতার প্যাকেট হাতে আসে, আপনি অন্য গাছ পাচ্ছেন, আর সেটা ভালো না খারাপ সেই তর্কের আগে জানা দরকার যে জিনিসটাই আলাদা। মেধ্য রসায়নের শাস্ত্রীয় তালিকা নিয়ে আলাদা লেখা আছে ব্রাহ্মীর গুণ ও ব্যবহার প্রসঙ্গে, আর মানসিক চাপে কোন ভেষজের প্রমাণ কতটা তা দেখা যায় মানসিক চাপ কমানোর আয়ুর্বেদিক উপায় লেখাটিতে।

আয়ুর্বেদ অপরাজিতাকে কোথায় বসিয়েছে

চরক সংহিতার ষড়বিরেচনশতাশ্রিতীয় অধ্যায়ে শিরোবিরেচনোপগ নামে যে দশটি ভেষজের দল আছে, সেখানে অপরাজিতা নামটি সরাসরি নেই, আছে শ্বেতা ও মহাশ্বেতা। টীকাকার চক্রপাণি শ্বেতা বলতে শ্বেত অপরাজিতাকেই বুঝিয়েছেন, আর ধন্বন্তরি নিঘণ্টুতে অপরাজিতার দুটি ভেদ, শ্বেতা ও নীলা, দুটিই Clitoria ternatea। অর্থাৎ শাস্ত্রে গাছটি আছে, কিন্তু যে নামে বাঙালি তাকে চেনে সেই নামে নয়।

দ্রব্যগুণের ছকে অপরাজিতার জায়গাটাও দেখে নেওয়া যায়, কারণ আয়ুর্বেদ ভেষজকে স্বাদ ও বীর্য ধরে শ্রেণিবদ্ধ করে। নিঘণ্টু ও দ্রব্যগুণ সাহিত্যে অপরাজিতার রস কটু, তিক্ত ও কষায়, গুণ লঘু ও রুক্ষ, বীর্য শীত এবং বিপাক কটু, আর দোষকর্মে একে ত্রিদোষশামক বলা হয়েছে, অর্থাৎ বাত, পিত্ত ও কফ তিনটিকেই প্রশমিত করে বলে ধরা হয়। কথাটা যেন ভুল না বোঝা যায়। এগুলি শাস্ত্রীয় শ্রেণিবিভাগ, পরিমাপ করা ফলাফল নয়, আর তাই এই পুরো ছকটির প্রমাণ-স্তর ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার। দোষ ও ত্রিদোষের ধারণাটি নিয়ে বিস্তারিত আছে ত্রিদোষ, বাত পিত্ত কফ লেখাটিতে।

শিরোবিরেচন মানে নস্য জাতীয় প্রয়োগ, মাথা ও নাসিকাপথ পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া। পাশাপাশি অপরাজিতা শাস্ত্রে বিষহর প্রসঙ্গে ব্যবহৃত, বিষক্রিয়ার চিকিৎসায় অপরাজিতা অগদ নামে একটি আলাদা যোগের কথা নথিভুক্ত আছে, আর তার বাইরে মেধ্য অর্থাৎ বুদ্ধিবর্ধক এবং চক্ষুষ্য অর্থাৎ চোখের পক্ষে হিতকর, এই দুটি গুণের উল্লেখও নিঘণ্টু সাহিত্যে পাওয়া যায়। সংস্কৃত নামগুলি বিষ্ণুক্রান্তা, গিরিকর্ণিকা ও শ্বেতা। এই সবটুকুর প্রমাণ-স্তর একটাই, ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার, অর্থাৎ শাস্ত্রে নথিভুক্ত প্রয়োগ, কার্যকারিতার প্রমাণ নয়।

সাদা অপরাজিতা ফুলের উপকারিতা নিয়ে বাংলা ইন্টারনেটে একটা নির্দিষ্ট দাবি ঘোরে, সাদাটা নাকি নীলটার চেয়ে বেশি উপকারী। দাবিটার একটা শাস্ত্রীয় ভিত্তি আছে, কারণ চক্রপাণি শিরোবিরেচনোপগ গণের শ্বেতা বলতে সাদা অপরাজিতাকেই বুঝিয়েছেন, নীলটিকে নয়। কিন্তু শাস্ত্রে কোনটি নির্দেশিত আর কোনটি বেশি কার্যকর, এই দুটি আলাদা প্রশ্ন, আর দ্বিতীয়টির উত্তর দেওয়ার মতো কোনো তুলনামূলক গবেষণা নেই। মানুষের ওপর যে দুটি ট্রায়াল হয়েছে, দুটিতেই নীল ফুল ব্যবহৃত হয়েছে, সাদা নয়।

একটি দাবি এখানে আলাদা করে সরিয়ে রাখা দরকার। কিছু বাংলা পাতায় লেখা আছে যে সাদা অপরাজিতার মূল লাগালে শ্বেতী বা লিউকোডার্মার সাদা দাগ ১৫ থেকে ৩০ দিনে উঠে যায়। এমন কোনো প্রমাণ নেই, আর নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া দাবিটিকে আরও দুর্বল করে। শ্বেতী একটি অটোইমিউন চর্মরোগ, যার চিকিৎসা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের এলাকা, আর ঘরোয়া প্রলেপে সময় নষ্ট করলে প্রকৃত চিকিৎসা পিছিয়ে যায়।

একটা জিনিস এখানে চোখে পড়ার মতো। শাস্ত্রীয় ব্যবহারগুলির প্রায় কোনোটিই আজকের নীল চা নয়। শিরোবিরেচন নাক দিয়ে, অগদ বিষের প্রতিষেধক হিসেবে, আর মেধ্য প্রয়োগ সাধারণত মূল ও কল্ক ধরে। রোজ সকালে ফুল ভিজিয়ে চা করে খাওয়া, যা আজ অপরাজিতার প্রধান ব্যবহার, তার শাস্ত্রীয় ভিত্তি খুঁজতে গেলে বিশেষ কিছু পাওয়া যায় না। জিনিসটা আধুনিক, আর সেটা দোষের কিছু নয়, শুধু একে হাজার বছরের প্রথা বলে চালানো ঠিক নয়।

অপরাজিতা ফুলের চা কিভাবে বানায়, আর কীভাবে ব্যবহার করবেন

অপরাজিতার কোনো সরকারি বা নিয়ন্ত্রক-নির্ধারিত মাত্রা নেই, তাই নিচের সংখ্যাগুলি প্রথা ও একটিমাত্র ট্রায়ালের হিসাব, সুপারিশ নয়। মানুষের ওপর যে একমাত্র পরিমাণ পরীক্ষিত হয়েছে সেটি ৪০০ মিলি জলে ১ থেকে ২ গ্রাম ফুলের নির্যাস, একবারের জন্য, প্রতিদিনের অভ্যাস হিসেবে নয় (Chusak ও সহলেখক, BMC Complementary and Alternative Medicine, ২০১৮)।

চা বানানোর জন্য ২৪০ মিলি বা এক কাপ ফুটন্ত জলে ৮ থেকে ১০টি শুকনো ফুল, অথবা ৩ থেকে ৪টি তাজা ফুল দিন। ফুলের গোড়ার সবুজ বৃতিটা ছিঁড়ে বাদ দিয়ে দেবেন, ওতে কষভাব আসে। ঢাকা দিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট ভিজতে দিন, তার বেশি নয়। গন্ধ প্রায় নেই বললেই চলে, হালকা ঘাস-ঘাস, আর জলটা প্রথমে ফ্যাকাশে নীল হয়ে তারপর গাঢ় হতে হতে কালচে-নীল হয়ে ওঠে, কাচের কাপে ব্যাপারটা দেখতে ভালো লাগে।

স্বাদের জন্য আধ চা চামচ লেবুর রস দিলে রংটা বেগুনি হয়ে যায়, আর ইচ্ছে করলে এক টুকরো আদা বা একটা এলাচ ফুটিয়ে নিতে পারেন। রান্নার রং হিসেবে ব্যবহার করলে ফুল ভেজানো জলটা ছেঁকে ভাত, পায়েস বা শরবতে দিন। বাংলাদেশে ও পশ্চিমবঙ্গে শুকনো ফুল অনলাইনে ও কিছু ভেষজ দোকানে পাওয়া যায়, আর গাছটা নিজের বারান্দাতেই লতিয়ে ওঠে, বীজ থেকে সহজে হয়। বাজারে অপরাজিতা চা বা ব্লু টি নামে যে প্যাকেটগুলি বিক্রি হয় তার বেশিরভাগই নিছক শুকনো ফুল, তাই দাম মেলানোর আগে ভিতরে আর কী মেশানো আছে সেটা উপাদানের তালিকায় দেখে নেওয়া ভালো।

কয়েকটা কাজ এড়িয়ে চলা ভালো। ফুল ছাড়া গাছের মূল বা বীজ ঘরে ব্যবহার করবেন না। খালি পেটে রোজকার অভ্যাস বানানোর সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। আর ভেজানো চা ফ্রিজে দুই থেকে তিন দিনের বেশি রাখবেন না। ভেষজ পানীয় নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা আছে তুলসী পাতার উপকারিতা লেখাটিতে, আর ফুল থেকে ভেষজ তৈরির আরেকটি উদাহরণ জবা ফুলের উপকারিতা চুলে

অপরাজিতা ফুলের অপকারিতা, কে ব্যবহার করবেন না বা সতর্ক থাকবেন

গর্ভবতী মায়েদের অপরাজিতার চা এড়িয়ে চলা দরকার, আর এবার কারণটা অনুমান নয়। EFSA-র ২০২২ সালের মূল্যায়নে ফুলের সাইক্লোটাইড নিয়ে যে আপত্তি তোলা হয়, সেখানে একটি যৌগের জরায়ুর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর প্রভাবের কথা আলাদা করে উল্লেখ আছে, পাশাপাশি ল্যাবরেটরিতে লোহিত রক্তকণিকা ভাঙা ও কোষ-বিষাক্ততার পর্যবেক্ষণ। মানুষের ওপর তথ্য নেই। স্তন্যদানের সময়ও একই কারণে এড়ানো নিরাপদ। গর্ভাবস্থার সামগ্রিক যত্ন নিয়ে আলাদা লেখা আছে গর্ভাবস্থায় আয়ুর্বেদিক যত্ন শিরোনামে, আর নারীস্বাস্থ্যের সব লেখা এক জায়গায় আছে নারীস্বাস্থ্য পাতাটিতে।

রক্ত পাতলা করার ওষুধ চললে সতর্কতা দরকার। অপরাজিতার নির্যাস অণুচক্রিকার জমাট বাঁধা কমায় বলে পরীক্ষাগারে দেখা গেছে, তাই ওয়ারফারিন, ক্লোপিডোগ্রেল বা অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধের সঙ্গে একসঙ্গে চললে রক্তপাতের ঝুঁকি তাত্ত্বিকভাবে বাড়তে পারে। একই কারণে পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে থেকে বন্ধ রাখাই যুক্তিসঙ্গত।

ডায়াবেটিস বা রক্তচাপের ওষুধ চললে চিকিৎসককে জানিয়ে রাখুন। যেহেতু ফুলের নির্যাস খাবার-পরবর্তী শর্করার ওঠা কমাতে পারে, ওষুধের সঙ্গে যোগ হয়ে শর্করা বেশি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা তত্ত্বগতভাবে থেকে যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার কোনো তথ্য নেই, তাই ছোটদের নিয়মিত খাওয়ানো এড়ানো ভালো।

গাছের মূল ও বীজ আলাদা প্রসঙ্গ। ঐতিহ্যগত ব্যবহারে এগুলি রেচক হিসেবে পরিচিত, আর বেশি পরিমাণে বমি ও পেটের গোলমাল হওয়ার কথা লোকজ নথিতে বারবার এসেছে। ঘরে চায়ের জন্য শুধু ফুল, বাকি অংশ নয়।

শেষ সতর্কতাটি সাধারণ। বেশি খেলে কারো কারো বমিভাব, পেটব্যথা বা পাতলা পায়খানা হতে পারে, আর প্রথমবার খাওয়ার পর অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়াও কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা গেছে। ঠোঁট বা চোখের পাতা ফুলে ওঠা, গলা চেপে আসা বা শ্বাসকষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে চিকিৎসকের কাছে যান।

একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ

অপরাজিতা নিয়ে পড়তে বসে আমার সবচেয়ে অস্বস্তিকর মুহূর্তটা এসেছিল ইউরোপীয় কমিশনের তালিকাটা খোলার পর।

তার আগে পর্যন্ত পনেরো-বিশটা বাংলা লেখা পড়ে ফেলেছি। প্রায় প্রতিটিতে একটা বাক্য আছে, অপরাজিতার তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। কারো কারো লেখায় গর্ভবতীদের নিয়ে এক লাইনের সতর্কতা, কিন্তু কারণ কেউ বলেননি। তারপর ইউরোপীয় কমিশনের তালিকায় দেখি, ঠিক ওই কারণটার জন্যই, অর্থাৎ জরায়ু ও রক্তকণিকার ওপর সাইক্লোটাইডের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তথ্য না থাকায়, সংস্থাটি কয়েক বছর ধরে অনুমোদন আটকে রেখে শেষ পর্যন্ত গোটা প্রক্রিয়াটাই বন্ধ করে দিয়েছে।

গাছটার প্রতি আমার কোনো বিরাগ নেই। পুজোর ফুল হিসেবে অপরাজিতা আমাদের ঘরের জিনিস, আর কাচের কাপে ওই নীল রং ফোটার দৃশ্যটা সত্যিই সুন্দর। (নিজে বানিয়ে দেখেছি, রংটা যতটা নাটকীয় স্বাদটা ততটাই পানসে।) খটকা লাগে অন্য জায়গায়। যে জিনিসটা নিয়ে দুটো বড় নিয়ন্ত্রক সংস্থা দুরকম কথা বলছে, বাংলায় সেটা নিয়ে একটাই সুর কেন?

সংক্ষেপে ও উপসংহার

অপরাজিতা ফুলের উপকারিতার সৎ সারাংশ দুই লাইনে বলা যায়। মানুষের ওপর প্রমাণ আছে দুটি জায়গায়, খাবার-পরবর্তী শর্করার তাৎক্ষণিক ওঠা কমা এবং মাথার তালুর তেলভাব কমা, দুটিরই স্তর সীমিত প্রমাণ, একটি করে ছোট ট্রায়াল। স্মৃতি, রক্তচাপ, চুল গজানো ও ওজন কমানোর দাবিগুলির স্তর অপর্যাপ্ত প্রমাণ, কারণ ওগুলি ইঁদুর ও কোষ-গবেষণা থেকে সরাসরি বাংলায় অনুবাদ হয়ে এসেছে।

তার চেয়ে বড় কথাটা নিরাপত্তার দিকে, আর সেখানেই বাংলা লেখাগুলির সবচেয়ে বড় ফাঁক। "পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই" বাক্যটি ভুল নয়, অজানা। ইউরোপ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তার ভিত্তিও প্রমাণিত ক্ষতি নয়, তথ্যের অভাব। পার্থক্যটা ছোট মনে হলেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রথমটি আশ্বাস দেয় আর দ্বিতীয়টি সতর্ক করে।

কাজে লাগানোর মতো একটা নির্দিষ্ট জিনিস যদি বেছে নিতে হয়, তবে সেটা প্যাকেট দেখার অভ্যাস। যেকোনো নীল চায়ের প্যাকেটে Clitoria ternatea নামটা আছে কি না দেখে নিন, আর উপাদানের তালিকায় শঙ্খপুষ্পী লেখা থাকলে বুঝবেন বিক্রেতা নিজেই দুটো গাছ গুলিয়ে ফেলেছেন। ভেষজ নিয়ে আরও লেখা আছে ভেষজ বিভাগে

আর যেটা নজরে রাখবেন, সেটা অভ্যাসের চেহারা। মাঝেমধ্যে এক কাপ নীল চা নিরীহ পানীয়, কিন্তু রোজ সকালে খালি পেটে ওষুধের মতো করে খেতে শুরু করলে হিসাবটা বদলে যায়, আর ঠিক ওই নিয়মিত পরিমাণটাই EFSA-র আপত্তির কেন্দ্রে ছিল। গর্ভবতী হলে, রক্ত পাতলা করার ওষুধ চললে বা অস্ত্রোপচার সামনে থাকলে অভ্যাসটা শুরুই করবেন না।

সূত্র / Sources

  • Chusak C, Thilavech T, Henry CJ, Adisakwattana S. "Acute effect of Clitoria ternatea flower beverage on glycemic response and antioxidant capacity in healthy subjects. A randomized crossover trial." BMC Complementary and Alternative Medicine, 2018;18:6. DOI 10.1186/s12906-017-2075-7. PMC5759795
  • Assegaf TS, Jusuf NK, Pane YS, Rusda M, Darmani EH, Amin MM, Lubis RDS, Bachtiar A. "Anti-dandruff effects of butterfly pea flowers (Clitoria ternatea)-based shampoo. A pretest-posttest control study." Narra J, 2024;4(2):e876. DOI 10.52225/narra.v4i2.876. PubMed 39280272
  • European Food Safety Authority. "Notification of dried flowers of Clitoria ternatea L. as a traditional food from a third country pursuant to Article 14 of Regulation (EU) 2015/2283." EFSA Supporting Publications, 2022;19(2):EN-7084. DOI 10.2903/sp.efsa.2022.EN-7084. efsa.onlinelibrary.wiley.com
  • European Commission. "Commission Implementing Decision C(2026) 776 final of 12 February 2026 terminating the procedure for authorising the placing on the market of dried flowers of Clitoria ternatea L. (NF/2023/20953) as a novel food." Novel Food, decisions terminating the procedure. food.ec.europa.eu
  • US Food and Drug Administration. "Butterfly pea flower extract." Color Additive Status List, 21 CFR 73.69. Permanent listing 2 September 2021, expanded uses 12 May 2025. hfpappexternal.fda.gov
  • Oguis GK, Gilding EK, Jackson MA, Craik DJ. "Butterfly Pea (Clitoria ternatea), a Cyclotide-Bearing Plant With Applications in Agriculture and Medicine." Frontiers in Plant Science, 2019;10:645. DOI 10.3389/fpls.2019.00645. frontiersin.org
  • Maia NMA, Andressa I, Cunha JS, et al. "Clitoria ternatea. Perspectives on Its Application in Foods and Potential Health Benefits." Plants (Basel), 2025;14(21):3322. DOI 10.3390/plants14213322. PMC12609804
  • Chaksupa N, Sookvanichsilp N, Soonthornchareonnon N, Moongkarndi P, Gerdprasert O. "Effects of alcoholic extract from Clitoria ternatea flowers on the proliferation of human dermal papilla cells and hair growth in C57BL/6Mlac mice." Pharmaceutical Sciences Asia, 2022;49(5):471-477. pharmacy.mahidol.ac.th
  • Mukherjee PK, Kumar V, Kumar NS, Heinrich M. "The Ayurvedic medicine Clitoria ternatea. From traditional use to scientific assessment." Journal of Ethnopharmacology, 2008;120(3):291-301. DOI 10.1016/j.jep.2008.09.009. sciencedirect.com
  • Irshad S, Rawat AKS, Misra PK, Khatoon S. "Authentication of commercial samples of Shankhpushpi through physico-phytochemical analysis and TLC fingerprinting." Indian Journal of Traditional Knowledge, 2016;15(4):646-653. nopr.niscpr.res.in
  • Balkrishna A, Thakur P, Varshney A. "Phytochemical Profile, Pharmacological Attributes and Medicinal Properties of Convolvulus prostratus. A Cognitive Enhancer Herb for the Management of Neurodegenerative Etiologies." Frontiers in Pharmacology, 2020;11:171. DOI 10.3389/fphar.2020.00171. PMC7063970
  • চরক সংহিতা, সূত্রস্থান, ষড়বিরেচনশতাশ্রিতীয় অধ্যায়, শিরোবিরেচনোপগ গণ (শ্বেতা ও মহাশ্বেতা); চক্রপাণির টীকা; ধন্বন্তরি নিঘণ্টু, অপরাজিতার শ্বেতা ও নীলা ভেদ (শাস্ত্রীয় সূত্র)

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। এটি চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা অপরাজিতার মাত্রা নির্ধারণ করেনি, তাই নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা যায় না। মানুষের ওপর যে একমাত্র মাত্রা পরীক্ষিত হয়েছে সেটি ৪০০ মিলি জলে ১ থেকে ২ গ্রাম ফুলের নির্যাস, একবারের জন্য (Chusak ও সহলেখক, ২০১৮)। ঘরোয়া হিসাবে তা মোটামুটি ৮ থেকে ১০টি শুকনো ফুলের কাছাকাছি। দিনে এক কাপের বেশি নিয়মিত অভ্যাস করার সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।
অভিজিৎ সাউ

লেখক সম্পর্কে

অভিজিৎ সাউ

তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক

তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত একজন প্রকৌশলী। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলা ভাষায় আয়ুর্বেদ, ভেষজ ও প্রাকৃতিক জীবনযাত্রার বিশ্বস্ত তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিটি নিবন্ধের পেছনে শাস্ত্রীয় গ্রন্থ, AYUSH মন্ত্রকের নির্দেশিকা ও প্রকাশিত গবেষণাপত্র যাচাই করি।

এই নিবন্ধটি প্রকাশের আগে প্রাথমিক উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই ও সম্পাদনা করা হয়েছে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

আরও পড়ুন
শুকনো জামের বিচি ও বিচির গুঁড়ো বাটিতে, পাশে কয়েকটি গোটা কালো জাম, জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে লেখার প্রচ্ছদ
ভেষজ13 মিনিট

জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা, ডায়াবেটিসে মাপের গোলমাল

জামের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে প্রমাণ কতদূর যায়, এক চা চামচ আর দশ গ্রামের ফারাক কোথায়, কোন ট্রায়ালটা পাতার আর কোনটা বিচির, কাদের সতর্ক থাকা দরকার।

২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ
ঝুড়িতে গোটা হলুদ কামরাঙা ও কাটা তারার আকৃতির ফালি, পাশে কিডনির চিত্র, কামরাঙার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে লেখার প্রচ্ছদ
ভেষজ18 মিনিট

কামরাঙার উপকারিতা ও অপকারিতা, কিডনি ভালো থাকলে কতটা নিরাপদ

কামরাঙার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে প্রমাণ কতদূর যায়, কতটা খেলে কিডনির ঝুঁকি শুরু হয়, হেঁচকি কেন বিপদের লক্ষণ, ওষুধের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া আর কাদের এড়ানো দরকার।

১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ
শুকনো তেজপাতার স্তূপ, তিন শিরাযুক্ত লম্বা জলপাই-সবুজ পাতা ও এক কাপ তেজপাতার চা, তেজপাতার উপকারিতা নিয়ে লেখার প্রচ্ছদ
ভেষজ22 মিনিট

তেজপাতার উপকারিতা নিয়ে যে গবেষণাটা সবাই বলে, সেটা তেজপাতার নয়

তেজপাতার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে প্রমাণ কতদূর যায়, বাঙালির তেজপাতা কেন বিদেশি bay leaf নয়, তেজপাতার পানি ও চা খাওয়ার নিয়ম আর কাদের সতর্ক থাকা দরকার।

২৮ আগস্ট, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ