আরোগ্য বাংলা
জীবনযাত্রা ২৭ মে, ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ২৮ জুলাই, ২০২৬ 15 মিনিট পড়ুন

কোমর ব্যথার কারণ ও প্রতিকার, আয়ুর্বেদ ও কখন ডাক্তার দেখাবেন

কোমর ব্যথার কারণ ও ঘরোয়া প্রতিকার, শাস্ত্রে কটি-বাত ও গৃধ্রসী, তেল-মালিশ ও কটি-বস্তির প্রমাণ কতটা, উপকারী ব্যায়াম, বেল্ট পরা নিয়ে WHO-র পরামর্শ ও বিপদচিহ্ন।

অভিজিৎ সাউ
তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক

AI-সহায়তায় গবেষণা ও খসড়া; সম্পাদনা, যাচাই ও তথ্যের দায়ভার লেখক অভিজিৎ সাউ-এর। সম্পাদকীয় নীতি গবেষণা পদ্ধতি

কোমর ব্যথায় আয়ুর্বেদিক যত্ন, কটি-বস্তি তেল-চিকিৎসা ও কোমল যোগব্যায়াম
সূচিপত্র15টি বিভাগ

ভোরবেলা বিছানা থেকে ওঠার সময় কোমরে হাত চেপে ধীরে ধীরে সোজা হওয়া, তিরিশ পেরোনো বহু অফিসগামী মানুষের কাছে এটা এখন রোজকার একটা ছোট অনুষ্ঠান। কেউ ভাবেন বয়স হচ্ছে, কেউ ভাবেন গদিটা বদলাতে হবে, কেউ আবার পাড়ার দোকান থেকে একটা কোমর-বেল্ট কিনে এনে পরতে শুরু করেন। বেশিরভাগই ভাবেন, সেরে যাবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সত্যিই সেরেও যায়, তবে কোন ক্ষেত্রে যায় না সেটা চেনা দরকার।

কোমর ব্যথা হলো কোমরের নিচের অংশে পেশি, লিগামেন্ট, ডিস্ক বা স্নায়ু থেকে উৎপন্ন ব্যথা, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট কোনো কাঠামোগত রোগ ছাড়াই হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৩ সালের তথ্যপত্র অনুযায়ী ২০২০ সালে পৃথিবীজুড়ে ৬১৯ মিলিয়ন মানুষ এতে ভুগেছেন এবং এটিই বিশ্বে অক্ষমতার একক বৃহত্তম কারণ। আয়ুর্বেদ একে দেখে কটি অঞ্চলে বাত-প্রকোপ হিসেবে।

এই লেখায় থাকবে কোমর ব্যথার কারণ, শাস্ত্রের কটি-বাত ও গৃধ্রসী ধারণা, মহিলাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা কেন আলাদা, ঘরোয়া তেল-মালিশ, কটি-বস্তির প্রমাণ আসলে কতটা, কোন ব্যায়াম আর কোন ভঙ্গি, বেল্ট পরা নিয়ে আধুনিক নির্দেশিকা কী বলে, এবং সবচেয়ে জরুরি, কোন উপসর্গে এক মুহূর্ত দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

এক নজরে

  • কোমর ব্যথার প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কাঠামোগত কারণ পাওয়া যায় না (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ২০২৩)।
  • শাস্ত্রে কটি অঞ্চল বাত-প্রধান, ব্যথার শাস্ত্রীয় নাম কটি-শূল ও পায়ে ছড়ালে গৃধ্রসী।
  • দু'দিনের বেশি বিছানা-বিশ্রাম উপকারের বদলে ক্ষতি করতে পারে।
  • গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথার হার ৪০.৫ শতাংশ, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ৪৭.৮ শতাংশ (মেটা-বিশ্লেষণ, ২০২৩)।
  • কটি-বস্তির প্রমাণ দুর্বল, একমাত্র ট্রায়ালে যোগব্যায়ামের চেয়ে বাড়তি সুবিধা মেলেনি।
  • কোমরের বেল্ট নিয়মিত পরার বিরুদ্ধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ।
  • ভেষজের মধ্যে সবচেয়ে ভালো প্রমাণ ডেভিলস ক্ল ও উইলো ছালের, শল্লকীর নয়।
  • বিপদচিহ্ন থাকলে ঘরোয়া উপায়ে অপেক্ষা করার সময় নেই।

কোমর ব্যথা কেন হয়?

কোমর ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ কারণ পেশি বা লিগামেন্টে টান, আর সেটির পেছনে থাকে ভুল ভঙ্গি, দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসা, হঠাৎ মোচড় বা ভারী জিনিস ভুলভাবে তোলা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই স্ক্যান করে নির্দিষ্ট কোনো কারণ দেখানো যায় না, একে বলে নন-স্পেসিফিক কোমর ব্যথা। খবরটা আসলে ভালো।

তবু বাকি ক্ষেত্রগুলোতে নির্দিষ্ট কারণ থাকে, আর সেগুলো আলাদা করে চেনা দরকার, কারণ চিকিৎসার পথ বদলে যায়।

ধরন কী ঘটে চেনার সূত্র
পেশি ও লিগামেন্টে টান অতিরিক্ত চাপে তন্তু ছিঁড়ে যাওয়া নড়াচড়ায় বাড়ে, বিশ্রামে কমে
ডিস্ক প্রল্যাপস বা পিএলআইডি ডিস্ক সরে স্নায়ুতে চাপ ব্যথা পায়ের দিকে নামে, ঝিনঝিন
স্পন্ডিলোসিস বয়সজনিত ক্ষয়ে কশেরুকার সন্ধি শক্ত হওয়া সকালে জড়তা, ধীরে বাড়ে
অস্টিওপোরোসিস হাড় ফাঁপা, চাপে ভেঙে যাওয়া বয়স্কদের হঠাৎ তীব্র ব্যথা
কিডনি বা মূত্রনালির পাথর ভেতরের অঙ্গ থেকে ছড়ানো ব্যথা পাশ ও তলপেটে টান, প্রস্রাবে সমস্যা
প্রদাহজনিত বাত মেরুদণ্ডের সন্ধিতে প্রদাহ রাতে বাড়ে, নড়াচড়ায় কমে

ব্যথাটা ঠিক কোথায়, সেটিও একটা কাজের সূত্র। কোমরের ঠিক মাঝখানে ব্যথা সাধারণত পেশি বা মেরুদণ্ডের নিজের, এক পাশে অর্থাৎ ডান বা বাঁ দিকে চেপে বসা ব্যথা হতে পারে সেই পাশের পেশিতে টান, আবার কিডনির সমস্যাও হতে পারে, আর কোমরের সঙ্গে তলপেটেও টান ধরলে মহিলাদের ক্ষেত্রে স্ত্রীরোগ-সংক্রান্ত কারণ বা মূত্রনালির সংক্রমণ বিবেচনায় আসে। এক পাশের ব্যথার সঙ্গে যদি জ্বর, প্রস্রাবে জ্বালা বা প্রস্রাবে রক্ত থাকে, তবে সেটি কিডনির দিকে ইঙ্গিত করতে পারে এবং তখন পরীক্ষা করানো জরুরি।

লক্ষ্য করার মতো একটা উল্টো নিয়ম আছে এখানে। সাধারণ পেশির ব্যথা নড়াচড়ায় বাড়ে আর বিশ্রামে কমে, কিন্তু প্রদাহজনিত মেরুদণ্ডের বাতে ঠিক উল্টোটা হয়, বিশ্রামে জড়তা বাড়ে আর নড়াচড়ায় আরাম লাগে। এই একটি পার্থক্য অনেক সময় চিকিৎসককে সঠিক দিকে ভাবতে সাহায্য করে।

কটি-বাত ও গৃধ্রসী, শাস্ত্র কী বলে

আয়ুর্বেদ কোমরের ব্যথাকে দেখে কটি অঞ্চলে প্রকোপিত বাত দোষের কাজ হিসেবে, যেখানে শুষ্কতা, ঠান্ডা ও গতির বিশৃঙ্খলা মিলে ব্যথা ও জড়তা তৈরি করে। বাত বাড়ে স্থিরতায়, ঠান্ডায়, রুক্ষ খাবারে, রাত জাগায় আর দুশ্চিন্তায়। তালিকাটা চেনা লাগছে?

ব্যথা যখন কোমর ছাড়িয়ে পায়ের দিকে নামে, শাস্ত্র তার আলাদা নাম দিয়েছে। চরক সংহিতার চিকিৎসাস্থান ২৮ অধ্যায়ের ৫৬ ও ৫৭ সংখ্যক শ্লোকে গৃধ্রসীর বর্ণনায় ব্যথার পথটি ধাপে ধাপে বলা আছে, নিতম্ব থেকে শুরু করে কটি, পিঠ, ঊরু, হাঁটু, পায়ের ডিম হয়ে পায়ের পাতা পর্যন্ত, সঙ্গে জড়তা, খোঁচা-ধরা ব্যথা আর মাঝেমধ্যে পেশির লাফানো। আধুনিক চিকিৎসায় যাকে সায়াটিকা বলা হয়, বর্ণনাটি তার সঙ্গে প্রায় হুবহু মিলে যায়।

দুই হাজার বছরের পুরনো একটি পাঠ্যে স্নায়ুর পথ ধরে ব্যথার এই ক্রম এত নিখুঁতভাবে লেখা থাকতে দেখলে সত্যিই থমকে যেতে হয়। পর্যবেক্ষণটা চমৎকার। তবে পর্যবেক্ষণ নিখুঁত হলেই চিকিৎসাও প্রমাণিত হয়ে যায় না, আর আয়ুর্বেদিক কোমর-চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই ফারাকটাই সবচেয়ে বড়।

শাস্ত্রে গৃধ্রসীর চিকিৎসা হিসেবে ওই একই অধ্যায়ের ১০১ সংখ্যক শ্লোকে শিরাবেধ, নিরূহ বস্তি ও অগ্নিকর্মের কথা বলা হয়েছে। এগুলো ঘরোয়া প্রয়োগের বিষয় নয়, প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের হাতে হওয়ার কথা। প্রমাণের মাত্রার দিক থেকে এই পুরো কাঠামোটিকে বলা উচিত ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার।

মহিলাদের কোমর ব্যথা কেন বেশি হয়?

মহিলাদের মধ্যে কোমর ব্যথা পুরুষদের তুলনায় বেশি দেখা যায়, আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৩ সালের তথ্যপত্রেও এই লিঙ্গ-পার্থক্যের কথা আলাদা করে বলা আছে। কারণ একটিমাত্র নয়। গর্ভাবস্থা, মাসিকচক্র, মেনোপজের পরে হাড়ের ক্ষয় আর ঘরের কাজের কিছু নির্দিষ্ট ভঙ্গি, সব মিলিয়ে ঝুঁকির চেহারাটাই আলাদা হয়ে যায়।

গর্ভাবস্থার ব্যথাটা সবচেয়ে চেনা। BMC Pregnancy and Childbirth জার্নালে ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনা ও মেটা-বিশ্লেষণে (Salari ও সহকর্মীরা, ২৮টি গবেষণা, ১২,৯০৮ জন) দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথার সামগ্রিক হার ৪০.৫ শতাংশ, আর তৃতীয় ত্রৈমাসিকে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭.৮ শতাংশে। ওজন বাড়া, শরীরের ভারসাম্যের কেন্দ্র সামনে সরে যাওয়া আর হরমোনের প্রভাবে লিগামেন্ট নরম হয়ে আসা, এই তিনটিই এর পেছনে কাজ করে বলে মনে করা হয়। গর্ভাবস্থার সামগ্রিক পরিচর্যা নিয়ে আলাদা লেখা আছে।

মেনোপজের পরে ছবিটা বদলে যায়। ইস্ট্রোজেন কমতে থাকলে হাড়ের ঘনত্বও দ্রুত কমে, আর তখন কোমর ব্যথার আড়ালে মেরুদণ্ডের কশেরুকায় চাপা ভাঙন বা ভার্টিব্রাল ফ্র্যাকচার লুকিয়ে থাকতে পারে। Annals of the Rheumatic Diseases জার্নালে ২০০৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় (Roux ও সহকর্মীরা, ৪১০ জন) দেখা গিয়েছিল, অস্টিওপোরোসিস-সহ মেনোপজ-পরবর্তী যেসব নারী কোমর ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে এসেছিলেন, তাঁদের ৫২.৪ শতাংশের অন্তত একটি ভার্টিব্রাল ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে। সংখ্যাটা কম নয়। তাই মেনোপজের পরে নতুন করে শুরু হওয়া বা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া কোমর ব্যথাকে স্রেফ বয়সের ধাক্কা ধরে নিয়ে ফেলে রাখা ঠিক নয়, চিকিৎসকের পরামর্শে হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা করানোর কথা ভাবা যেতে পারে।

মাসিকের সময়ে অনেক মেয়ের কোমরে টান ধরা ব্যথা হয়, যা জরায়ুর সংকোচনের সঙ্গে যুক্ত এবং সাধারণত কয়েক দিনেই কমে আসে। কিন্তু ব্যথা যদি প্রতি মাসেই তীব্র হয়, বা মাসিকের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছাড়াই থেকে যায়, তবে সেটি আলাদা করে দেখা দরকার। মাসিকের অনিয়ম নিয়ে বিস্তারিত অন্য লেখায় আছে।

কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন

কিছু উপসর্গ আছে যেগুলোর সামনে ঘরোয়া বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা নিয়ে অপেক্ষা করা বিপজ্জনক, কারণ সেগুলো গুরুতর অসুখের ইঙ্গিত দিতে পারে। চিকিৎসাশাস্ত্রে এদের বলা হয় বিপদচিহ্ন বা রেড ফ্ল্যাগ।

বিপদচিহ্ন কেন জরুরি
দু'পায়ে অসাড়তা বা দুর্বলতা স্নায়ুতে চাপের ইঙ্গিত
প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণ হারানো কডা ইকুইনা সিনড্রোম, অস্ত্রোপচার-জরুরি
দুর্ঘটনা বা পড়ে যাওয়ার পরে ব্যথা হাড় ভাঙার আশঙ্কা
জ্বরের সঙ্গে কোমর ব্যথা সংক্রমণের আশঙ্কা
রাতে বাড়ে, বিশ্রামে কমে না টিউমার বা প্রদাহের ইঙ্গিত
কারণ ছাড়া ওজন কমা গুরুতর অসুখের সাধারণ সংকেত
ক্যান্সার বা যক্ষ্মার পূর্ব-ইতিহাস পুরনো রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা
৫০ বছরের পরে নতুন ব্যথা কারণ খোঁজা জরুরি

তালিকাটা ভয় দেখানোর জন্য নয়। বেশিরভাগ কোমর ব্যথাই সাধারণ এবং কয়েক সপ্তাহে নিজে থেকেই কমে আসে, কিন্তু উপরের যেকোনো একটি উপসর্গ থাকলে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই একমাত্র সঠিক কাজ, কারণ এই পরিস্থিতিগুলোতে দেরি হলে ক্ষতি স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।

ঘরোয়া যত্ন, তেল-মালিশ ও সেঁক

হালকা থেকে মাঝারি কোমর ব্যথায় ঘরোয়া যত্নের মূল কথা তিনটি, উষ্ণতা, কোমল নড়াচড়া আর ধৈর্য। শেষেরটাই সবচেয়ে কঠিন। বাঙালি ঘরে সন্ধেবেলা কুসুম-গরম তেলে কোমর মালিশের অভ্যাসটা বহু পুরনো, আর আরামের দিক থেকে অনেকেই এতে উপকার পান বলে জানান, যদিও সেই উপকারের বেশিরভাগটাই সম্ভবত উষ্ণতা আর স্পর্শের, তেলের নিজস্ব কোনো জাদুর নয়।

  • কুসুম-গরম তিল তেল বা সর্ষের তেল হাতের তালুতে নিয়ে কোমরে ১৫ থেকে ২০ মিনিট কোমল গতিতে মালিশ করুন, চাপ দিয়ে নয়।
  • মালিশের পরে গরম জলে গামছা ভিজিয়ে নিংড়ে সেঁক দিন, বা হিট-ব্যাগ ১০ থেকে ১৫ মিনিট।
  • দিনে এক থেকে দুই বার, টানা সাত থেকে চোদ্দ দিন।
  • প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় যদি জায়গাটা লাল, গরম ও ফোলা থাকে, তখন গরম সেঁক নয়, বরফ-সেঁক।
  • মালিশের সময় তেলের উষ্ণতা কব্জিতে ছুঁইয়ে দেখে নিন, ধোঁয়া-গরম তেল ত্বক পুড়িয়ে দিতে পারে।

তিল তেলের গাঢ় বাদামি রং আর হালকা পোড়া-বাদামের গন্ধ শীতের সন্ধেয় ঘরে ছড়িয়ে পড়লে মালিশের আগেই একটা আরামের বোধ তৈরি হয়। প্রমাণের মাত্রার দিক থেকে তেল-মালিশ ও সেঁককে বলা যায় সীমিত প্রমাণ, তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৩ সালের নির্দেশিকা দীর্ঘস্থায়ী কোমর ব্যথায় ম্যাসাজকে বিবেচনাযোগ্য পদ্ধতির তালিকায় রেখেছে, যা এই পুরনো অভ্যাসের পক্ষে কিছুটা সমর্থন।

কটি-বস্তি কি সত্যিই কাজ করে?

কটি-বস্তি হলো একটি বহিঃস্থ আয়ুর্বেদিক পদ্ধতি, যেখানে কোমরের ব্যথার জায়গায় ময়দার বাঁধ দিয়ে ঘিরে ভেতরে কুসুম-গরম ঔষধি তেল ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ধরে রাখা হয়। শুনতে আরামদায়ক, দেখতেও নাটকীয়, আর আয়ুর্বেদিক কেন্দ্রগুলোতে কোমর ব্যথার জন্য এটি বহুল প্রচলিত একটি পদ্ধতি।

প্রমাণ কী বলে, সেটাই আসল প্রশ্ন। ২০২৪ সালে Journal of Ayurveda and Integrative Medicine জার্নালে প্রকাশিত একটি এলোমেলো নিয়ন্ত্রিত ট্রায়ালে (Bhatta ও সহকর্মীরা, ৪০ জন দীর্ঘস্থায়ী কোমর ব্যথার রোগী) এক সপ্তাহের আবাসিক যোগ-চিকিৎসার সঙ্গে ক্ষীরবলা তেলে কটি-বস্তি যোগ করে দেখা হয়েছিল। তিন মাস পরে দুই দলেই ব্যথা কমেছে, কিন্তু দুই দলের মধ্যে পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে অর্থবহ ছিল না।

আরও অস্বস্তিকর বিষয় হলো, ওই একই ট্রায়ালে সংখ্যার হিসেবে শুধু যোগব্যায়াম করা দলে ব্যথা কমেছিল ২৯.২১ শতাংশ, আর কটি-বস্তি যোগ করা দলে কমেছিল তার চেয়েও কম, ১৯.৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ বাড়তি চিকিৎসাটি বাড়তি উপকার এনে দেয়নি। একটি ছোট ট্রায়াল দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না, ৪০ জন খুব কম, তবু এটিই এখন পর্যন্ত এই প্রশ্নে সবচেয়ে ভালো মানের গবেষণা।

আমার নিজের পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে বলি, এই ফলাফলটা প্রথমে হতাশ করেছিল। পরে মনে হলো, এটি আসলে একটি কাজের তথ্য, কারণ এটি বলে দিচ্ছে খরচসাপেক্ষ প্যাকেজের চেয়ে নিয়মিত যোগব্যায়ামেই বেশি ভরসা রাখা যায়। প্রমাণের মাত্রা অনুযায়ী কটি-বস্তিকে ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার বলাই সৎ, প্রমাণিত চিকিৎসা নয়।

ব্যায়াম ও বসার ভঙ্গি

কোমর ব্যথায় সবচেয়ে ভালো প্রমাণ যেটির পক্ষে, সেটি হলো ব্যায়াম, আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৩ সালের নির্দেশিকাতেও ব্যায়াম ও স্ব-যত্নের শিক্ষা প্রথম সারির পরামর্শ হিসেবে রাখা হয়েছে। তীব্র ব্যথার প্রথম দু'দিন বিশ্রাম চলতে পারে, তার বেশি নয়।

দুই থেকে তিন দিন পরে কোমল গতিতে শুরু করা যায় পেলভিক টিল্ট, হাঁটু বুকে টেনে আনা, মার্জারি আসন অর্থাৎ বিড়াল-গরুর ভঙ্গি আর হালকা সেতুবন্ধাসন দিয়ে। ব্যথা যদি বাড়ে, থামুন। ব্যথা কমে এলে কোর-পেশি শক্ত করার কাজ শুরু হয়, প্ল্যাঙ্ক দশ থেকে কুড়ি সেকেন্ড দিয়ে শুরু করে ধীরে বাড়ানো, ব্রিজ দশবারের তিন সেট, আর বার্ড-ডগ, যেখানে চারে ভর দিয়ে এক হাত ও বিপরীত পা সোজা করে ধরে রাখতে হয়।

এড়িয়ে চলুন ভারী ওজন তোলা, লম্বা সময় সামনে ঝুঁকে বসা, তীব্র পর্বে পশ্চিমোত্তানাসনের মতো অতি-সামনে-ঝোঁকা আসন, আর হঠাৎ মোচড়। ভঙ্গির দিক থেকে সবচেয়ে কাজের অভ্যাসটি সহজ, প্রতি ৪৫ মিনিট অন্তর উঠে দুই থেকে তিন মিনিট হাঁটা, কারণ বাত যেমন স্থিরতায় বাড়ে বলে শাস্ত্র বলে, আধুনিক গবেষণাও দীর্ঘক্ষণ এক ভঙ্গিতে বসাকেই কোমর ব্যথার বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করে।

আরও কয়েকটি ছোট কাজ কাজে দেয়, বসার সময় কোমরের পেছনে ছোট কুশন, ভারী জিনিস তোলার সময় কোমর নয় হাঁটু ভেঙে বসা, খুব নরম গদি এড়ানো, আর পাশ ফিরে শুলে দুই হাঁটুর মাঝে একটি বালিশ। ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে ব্যক্তিগত পরিকল্পনা করাতে পারলে সেটিই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

ভেষজে প্রমাণ কতটা

কোমর ব্যথায় ভেষজের প্রমাণ সামগ্রিকভাবে দুর্বল থেকে মাঝারি, আর মজার ব্যাপার হলো যেগুলোর পক্ষে সবচেয়ে ভালো প্রমাণ, সেগুলো ঠিক সেই ভেষজ নয় যেগুলোর নাম আয়ুর্বেদিক তালিকায় সবচেয়ে বেশি ঘোরে। কোক্রেন পর্যালোচনা সংস্থার কোমর ব্যথা ও ভেষজ নিয়ে পর্যালোচনায় ১৪টি নিয়ন্ত্রিত ট্রায়াল ও ২,০৫০ জন অংশগ্রহণকারীর তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। ফলাফলটা চোখ খুলে দেয়।

ভেষজ প্রমাণের মাত্রা যা জানা আছে
ডেভিলস ক্ল (হারপাগোফাইটাম) মাঝারি প্রমাণ দৈনিক ৫০ বা ১০০ মিগ্রা হারপাগোসাইডে স্বল্পমেয়াদে ব্যথা কমার ইঙ্গিত
উইলো ছাল (স্যালিক্স আলবা) মাঝারি প্রমাণ দৈনিক ১২০ বা ২৪০ মিগ্রা স্যালিসিনে স্বল্পমেয়াদি উপশম
ক্যাপসিকাম মলম বা প্লাস্টার মাঝারি প্রমাণ তিনটি ট্রায়াল, ৭৫৫ জন, প্লাসিবোর চেয়ে ভালো ফল
শল্লকী (বোসওয়েলিয়া) অপর্যাপ্ত প্রমাণ কোক্রেন পর্যালোচনায় কোমর ব্যথার জন্য উঠে আসেনি
অশ্বগন্ধা সীমিত প্রমাণ চাপ ও ঘুমে গবেষণা আছে, কোমর ব্যথায় সরাসরি নেই
কাঁচা হলুদ ও কারকুমিন সীমিত প্রমাণ প্রদাহে গবেষণা আছে, কোমর ব্যথায় প্রমাণ পাতলা

উপরের ছকে দেওয়া ডোজ ও প্রমাণের মাত্রা কোক্রেন পর্যালোচনার (Oltean ও সহকর্মীরা, CD004504) তথ্য অনুযায়ী, এবং এগুলো নিজে থেকে খাওয়ার নির্দেশ নয়।

গুগ্গুল ও নির্গুণ্ডীর মতো ভেষজ শাস্ত্রে বাত-শামক হিসেবে বহুল ব্যবহৃত, কিন্তু কোমর ব্যথায় এদের পক্ষে ভালো মানের মানব-ট্রায়াল কার্যত নেই, তাই এদের ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার হিসেবেই দেখা উচিত। কোনো ভেষজ চূর্ণ বা ফর্মুলেশন নিজে থেকে শুরু করবেন না, বিশেষত অন্য ওষুধ চললে, কারণ ভেষজ ও ওষুধের মিথস্ক্রিয়া বাস্তব সমস্যা।

কোমরে বেল্ট পরা কি ঠিক?

কোমরের বেল্ট বা লাম্বার ব্রেস দীর্ঘস্থায়ী কোমর ব্যথায় নিয়মিত পরার পক্ষে প্রমাণ নেই, বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত সংস্থার নির্দেশিকায় দীর্ঘস্থায়ী প্রাথমিক কোমর ব্যথার জন্য ১৪টি পদ্ধতির বিরুদ্ধে সুপারিশ করা হয়েছে, যার মধ্যে আছে কোমরের বেল্ট ও সাপোর্ট, ট্র্যাকশন এবং ওপিওয়েড শ্রেণির ব্যথানাশক।

একই নির্দেশিকা অবশ্য কয়েকটি পদ্ধতির পক্ষেও সুপারিশ করেছে, যেমন স্ব-যত্নের শিক্ষা, ব্যায়াম, ম্যাসাজ ও স্পাইনাল ম্যানিপুলেশনের মতো কিছু শারীরিক পদ্ধতি, মানসিক হস্তক্ষেপ এবং প্রয়োজনে নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহনাশক শ্রেণির ওষুধ, যাকে সংক্ষেপে NSAID বলা হয়। কোন ওষুধ কার জন্য উপযুক্ত, সেটি চিকিৎসকেরই ঠিক করার কথা, আর সেই কারণেই এই লেখায় কোনো ওষুধের নাম দেওয়া হয়নি।

ফারাকটা এখানে বড়। এই জায়গাটায় বাংলা ইন্টারনেটের পরামর্শ আর আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা সরাসরি বিপরীত দিকে হাঁটছে। বহু বাংলা স্বাস্থ্য-পাতা ও ক্লিনিকের লেখায় কোমর ব্যথার সমাধান হিসেবে বেল্ট পরার পরামর্শ দেওয়া হয়, অথচ সংস্থার মূল্যায়ন বলছে এসব ক্ষেত্রে উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি বলে প্রমাণ ইঙ্গিত করে। যুক্তিটা বোঝা কঠিন নয়, বেল্ট বাইরে থেকে ধরে রাখলে ভেতরের কোর-পেশি কাজ করা কমিয়ে দেয়, আর দুর্বল কোর-পেশিই দীর্ঘমেয়াদে ব্যথা ফিরিয়ে আনে।

এর মানে এই নয় যে বেল্ট কখনোই ব্যবহার হবে না। অস্ত্রোপচারের পরে, নির্দিষ্ট আঘাতে বা স্বল্প সময়ের জন্য চিকিৎসক যদি আলাদা করে পরতে বলেন, সেটি ভিন্ন প্রসঙ্গ এবং সেই পরামর্শই মানবেন। আপত্তিটা রুটিন ব্যবহারে, রোজ সকালে অভ্যাসবশত বেল্ট বেঁধে বেরোনোতে।

খাদ্য ও জীবনযাত্রা

বাত-শমনের খাদ্য মানে উষ্ণ, স্নিগ্ধ ও সদ্য রান্না করা খাবার, আর শুষ্ক-ঠান্ডা-বাসি খাবার এড়িয়ে চলা। ওষুধ ভাববেন না। শাস্ত্রীয় কাঠামো অনুযায়ী এটি বাত না বাড়ানোর একটি সহায়ক অভ্যাস মাত্র, অর্থাৎ খাদ্য এখানে ব্যথা সারানোর হাতিয়ার নয়, বরং ব্যথা যাতে আরও না বাড়ে তার একটা পটভূমি তৈরি করে।

  • কুসুম-গরম, ঘি বা তিল তেল-যুক্ত সদ্য রান্না খাবার, যেমন খিচুড়ি
  • রাতে এক কাপ হলুদ-দুধ, শীতে বিশেষভাবে আরামদায়ক।
  • ক্যালসিয়ামের উৎস, দুধ, দই, ছানা, তিল আর কাঁটাসুদ্ধ ছোট মাছ।
  • সকালের রোদে ১৫ থেকে ২০ মিনিট, ভিটামিন ডি-র জন্য।
  • দিনে আড়াই থেকে তিন লিটার জল।
  • সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম, কারণ ঘুমের ঘাটতিতে ব্যথার অনুভূতি বাড়ে।

এড়িয়ে চলার তালিকাটাও ছোট, বরফ-ঠান্ডা পানীয়, অতিরিক্ত শুকনো ও বাসি খাবার, দীর্ঘ উপবাস, রাত জাগা, অতিরিক্ত ক্যাফিন আর ধূমপান। ধূমপানের কথাটা আলাদা করে বলা দরকার, কারণ এটি মেরুদণ্ডের ডিস্কে রক্ত সরবরাহ কমায় বলে মনে করা হয়। আর মানসিক চাপ কমানোর দিকটি বাদ দেবেন না, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা দীর্ঘস্থায়ী কোমর ব্যথায় কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপির মতো মানসিক হস্তক্ষেপকেও বিবেচনাযোগ্য বলেছে।

কে সতর্ক থাকবেন

কিছু অবস্থায় কোমর ব্যথার প্রচলিত ঘরোয়া পদ্ধতি উপকারের বদলে ক্ষতি করতে পারে, তাই এই পরিস্থিতিগুলোতে নিজে থেকে কিছু শুরু করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া দরকার। তালিকাটা ছোট রাখলাম।

  • তীব্র প্রদাহে, অর্থাৎ জায়গাটা লাল, গরম ও ফোলা থাকলে প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় গরম সেঁক বা গরম তেল-মালিশ অবস্থা খারাপ করতে পারে।
  • স্নায়ু-চাপজনিত তীব্র সায়াটিকায় জোরে মালিশ ক্ষতিকর হতে পারে, কোমল স্পর্শ ছাড়া চাপ দেবেন না।
  • ডায়াবেটিস বা স্নায়ুরোগে ত্বকের অনুভূতি কমে থাকলে গরম সেঁকে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি, তাপমাত্রা আগে হাতে যাচাই করুন।
  • গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা সাধারণ, তবে ভেষজ চূর্ণ, পঞ্চকর্ম বা কটি-বস্তি প্রসূতি-চিকিৎসকের অনুমোদন ছাড়া নয়।
  • রক্ত পাতলা করার ওষুধ চললে উইলো ছাল বা স্যালিসিন-জাতীয় ভেষজ এড়িয়ে চলুন, রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
  • অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয় ধরা পড়ে থাকলে জোরালো মালিশ, হঠাৎ মোচড় ও ভারী ব্যায়াম বিপজ্জনক।
  • শিশু ও কিশোরদের দীর্ঘস্থায়ী কোমর ব্যথা স্বাভাবিক নয়, এটি সবসময় চিকিৎসকের দেখা দরকার।

একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ

আমার এক সহকর্মী, আইটি পেশায় বারো বছর কাটানো, দীর্ঘ বসে কাজের পরে কোমরের ব্যথায় ভুগছিলেন এমনভাবে যে ব্যথার ওষুধ ছাড়া দিন কাটত না। শেষে এক ফিজিওথেরাপিস্ট তাঁকে খুব সাধারণ দুটো কথা বললেন, প্রতি ৪৫ মিনিটে উঠে দাঁড়াতে আর দিনে দশ মিনিট কোর-ব্যায়াম করতে। সঙ্গে সন্ধেবেলা কুসুম-গরম তিল তেলে মালিশ। তিন মাস পরে ব্যথা প্রায় ছিল না।

এটা একজনের অভিজ্ঞতা, সবার ক্ষেত্রে একইরকম হবে না, আর তিনি একইসঙ্গে কয়েকটি জিনিস করেছিলেন বলে কোনটা কতটা কাজ করেছে তা আলাদা করে বলা অসম্ভব, বিশেষত যখন বেশিরভাগ কোমর ব্যথা কয়েক সপ্তাহে এমনিতেই কমে আসে। (আমি নিজেও প্রতি ৪৫ মিনিটের নিয়মটা মানতে পারি না, স্বীকার করছি।) তবু ব্যাপারটা আমার মনে থেকে গেছে এই কারণে যে, যে দুটো জিনিস সবচেয়ে কাজে দিয়েছিল বলে মনে হয়, সে দুটোর দামই শূন্য।

সংক্ষেপে

কোমর ব্যথা বহু কারণের একটি সাধারণ উপসর্গ, যার প্রায় ৯০ শতাংশেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে নির্দিষ্ট কাঠামোগত কারণ মেলে না। শাস্ত্র একে কটি অঞ্চলে বাত-প্রকোপ হিসেবে দেখে এবং পায়ে ছড়ানো ব্যথাকে গৃধ্রসী নাম দিয়ে যে পথ বর্ণনা করেছে, তা আধুনিক সায়াটিকার সঙ্গে মিলে যায়। কিন্তু বর্ণনার নিখুঁততা আর চিকিৎসার প্রমাণ এক জিনিস নয়। ফারাকটা মনে রাখবেন।

আগামী সপ্তাহে দুটো কাজ করে দেখতে পারেন। এক, কাজের টেবিলে ফোনে ৪৫ মিনিটের একটা অ্যালার্ম দিন আর প্রতিবার বেজে উঠলে দুই মিনিট হেঁটে আসুন, দীর্ঘক্ষণ এক ভঙ্গিতে বসে থাকার ঝুঁকিটা ভাঙার এটাই সবচেয়ে সহজ উপায়। দুই, যদি রোজ অভ্যাসবশত কোমরে বেল্ট বাঁধেন, পরের বার চিকিৎসকের কাছে গেলে সেটি সত্যিই দরকার কি না জিজ্ঞেস করে নিন। আর উপরের বিপদচিহ্নগুলোর একটিও যদি মেলে, ঘরোয়া যত্নে সময় নষ্ট না করে আজই চিকিৎসকের কাছে যান। কোমর ব্যথার পেছনে থাকা চাপ ও ঘুমের দিকটি এবং হাঁটুর ব্যথা ও বাতের আলোচনা আলাদা লেখায় বিস্তারিত আছে, আর জীবনযাত্রার সব লেখা একসঙ্গে পাবেন জীবনযাত্রা বিভাগে

সূত্র / Sources

  • World Health Organization. Low back pain fact sheet, 19 June 2023, who.int
  • World Health Organization. WHO releases guidelines on chronic low back pain, 7 December 2023, who.int
  • Bhatta M, Patil SS, Yadav SS, Somanadhapai S, Thapa R. Effects of yoga and add on Ayurvedic Kati Basti therapy for patients with chronic low back pain, a randomized controlled trial. Journal of Ayurveda and Integrative Medicine, 2024, PMID 39182253
  • Oltean H, Robbins C, van Tulder MW, Berman BM, Bombardier C, Gagnier JJ. Herbal medicine for low-back pain. Cochrane Database of Systematic Reviews, CD004504
  • Salari N, Mohammadi A, Hemmati M, Hasheminezhad R, Kani S, Shohaimi S, Mohammadi M. The global prevalence of low back pain in pregnancy, a comprehensive systematic review and meta-analysis. BMC Pregnancy and Childbirth, 2023, PMC10693090
  • Roux C, Fechtenbaum J, Priol G, Cortet B, Liu-Leage S, Audran M. A clinical tool to determine the necessity of spine radiography in postmenopausal women with osteoporosis presenting with back pain. Annals of the Rheumatic Diseases, 2006, PMID 16793842
  • চরক সংহিতা, চিকিৎসাস্থান অধ্যায় ২৮ (বাতব্যাধি চিকিৎসা), শ্লোক ৫৬-৫৭ ও ১০১, গৃধ্রসীর লক্ষণ ও চিকিৎসা, Charaka Samhita Online

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। এটি চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

কোমর ব্যথা এত সাধারণ কারণ এটি একটিমাত্র রোগ নয়, বহু কারণের সাধারণ উপসর্গ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৩ সালের তথ্যপত্র অনুযায়ী ২০২০ সালে পৃথিবীজুড়ে ৬১৯ মিলিয়ন মানুষ কোমর ব্যথায় ভুগেছেন, আর এটিই বিশ্বে অক্ষমতার একক বৃহত্তম কারণ। প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট কোনো কাঠামোগত কারণ পাওয়া যায় না।
অভিজিৎ সাউ

লেখক সম্পর্কে

অভিজিৎ সাউ

তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক

তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত একজন প্রকৌশলী। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলা ভাষায় আয়ুর্বেদ, ভেষজ ও প্রাকৃতিক জীবনযাত্রার বিশ্বস্ত তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিটি নিবন্ধের পেছনে শাস্ত্রীয় গ্রন্থ, AYUSH মন্ত্রকের নির্দেশিকা ও প্রকাশিত গবেষণাপত্র যাচাই করি।

এই নিবন্ধটি প্রকাশের আগে প্রাথমিক উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই ও সম্পাদনা করা হয়েছে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

আরও পড়ুন
নারীস্বাস্থ্যের আয়ুর্বেদিক গাইড, বয়স অনুযায়ী মেয়েদের স্বাস্থ্যের যত্ন

নারীস্বাস্থ্য, বয়স অনুযায়ী কী দেখবেন ও আয়ুর্বেদ কী বলে

নারীস্বাস্থ্যের সম্পূর্ণ গাইড, বয়সের চার ধাপে কী দেখা দরকার, ঋতুচক্র, রক্তাল্পতা ও মেনোপজে প্রমাণ কী বলে, আর কোন লক্ষণে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাবেন।

৫ আগস্ট, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ
ডেঙ্গু জ্বরে আয়ুর্বেদিক পরিচর্যা, পেঁপে পাতা, ডাবের জল ও ডালিমের পথ্য

ডেঙ্গু জ্বরে আয়ুর্বেদিক পরিচর্যা, পেঁপে পাতা ও পথ্য

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ, কখন হাসপাতাল জরুরি, পেঁপে পাতা ও প্লেটলেট নিয়ে গবেষণা, গিলয়-তুলসীর সহায়ক ভূমিকা এবং সুস্থ হওয়ার পথ্য, আধুনিক ও আয়ুর্বেদিক বাংলা গাইড।

২৪ জুন, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ
উদ্বেগ ও আয়ুর্বেদ — বাত-শামক ভেষজ, অভ্যঙ্গ ও প্রাণায়ামে মানসিক শান্তি

উদ্বেগ ও আয়ুর্বেদ — অ্যাংজাইটি ব্যবস্থাপনার শাস্ত্রীয় ভেষজ পদ্ধতি

উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটির আয়ুর্বেদিক বিশ্লেষণ, বাত-প্রকোপের কারণ, অশ্বগন্ধা, ব্রাহ্মী, অভ্যঙ্গ ও প্রাণায়ামের মাধ্যমে স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনার সম্পূর্ণ বাংলা গাইড।

১৫ জুন, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ