আরোগ্য বাংলা
জীবনযাত্রা ২৫ মে, ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১৭ জুলাই, ২০২৬ 15 মিনিট পড়ুন

মাসিকের অনিয়ম বা অনিয়মিত পিরিয়ড, কোনটা আসলে স্বাভাবিক

মাসিকের অনিয়ম বা অনিয়মিত পিরিয়ড কোনটা, FIGO-র হিসেবে স্বাভাবিক চক্র ২৪ থেকে ৩৮ দিন, কারণ, ঘরোয়া উপায়ের প্রমাণ, আর কখন দেরি না করে ডাক্তার দেখাবেন।

অভিজিৎ সাউ
তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক

AI-সহায়তায় গবেষণা ও খসড়া; সম্পাদনা, যাচাই ও তথ্যের দায়ভার লেখক অভিজিৎ সাউ-এর। সম্পাদকীয় নীতি গবেষণা পদ্ধতি

মাসিকের অনিয়ম বা অনিয়মিত পিরিয়ড, আয়ুর্বেদিক দৃষ্টিতে আর্তব-দুষ্টি, স্বাভাবিক মাসিক-চক্রের হিসেব ও ঘরোয়া যত্নের পথ
সূচিপত্র13টি বিভাগ

আপনি যদি জেনে থাকেন মাসিকের স্বাভাবিক ব্যবধান ২১ থেকে ৩৫ দিন, তাহলে হিসেবটা পুরনো। আন্তর্জাতিক স্ত্রী-রোগ ও ধাত্রীবিদ্যা সংস্থা FIGO এখন স্বাভাবিক ধরে ২৪ থেকে ৩৮ দিন। পার্থক্যটা নিছক পরিসংখ্যান নয়। পুরনো হিসেবে ২২ দিনের চক্রকে স্বাভাবিক বলে ছেড়ে দেওয়া হতো, আর ৩৬ দিনের চক্রকে অনিয়ম বলে ভয় দেখানো হতো। দুটোই উল্টো।

মাসিকের অনিয়ম, যাকে চলতি কথায় অনিয়মিত পিরিয়ড বলা হয়, বলতে বোঝায় চক্রের দৈর্ঘ্য, নিয়মিততা, রক্তপাতের সময়কাল বা পরিমাণের মধ্যে অন্তত একটি স্বাভাবিক সীমার বাইরে চলে যাওয়া। কারণ এক নয়, বহু, আর তার মধ্যে PCOS, থাইরয়েড, প্রোল্যাকটিন-আধিক্য থেকে শুরু করে নিছক ঘুমের গোলমাল পর্যন্ত সবই আছে। আয়ুর্বেদ একে দেখে আর্তব-দুষ্টি হিসেবে, আর সেই দেখাটা ঐতিহ্যগত, প্রমাণিত কার্যকারিতা নয়।

এই লেখায় থাকছে স্বাভাবিকের নতুন হিসেব, কেন আধুনিক চিকিৎসা মাসিককে শরীরের পঞ্চম ভাইটাল সাইন বলছে, আর শাস্ত্রে আর্তবের পরিচয় কী। সঙ্গে পিরিয়ড অনিয়মিত বা বন্ধ হওয়ার কারণ, খাদ্য ও জীবনযাত্রায় কী সত্যিই সহায়ক, ঘরোয়া উপায় ও ভেষজের প্রমাণ ঠিক কতটুকু, আর কোন লক্ষণে দেরি না করে ডাক্তার দেখানো দরকার।

এক নজরে

  • স্বাভাবিক চক্র ২৪ থেকে ৩৮ দিন (FIGO), কৈশোরে ২১ থেকে ৪৫ দিন (ACOG)
  • রক্তপাত টানা আট দিন পর্যন্ত স্বাভাবিক, তার বেশি হলে দীর্ঘায়িত
  • রক্তের পরিমাণে মিলিলিটারের হিসেব আর ধরা হয় না, রোগীর নিজের মূল্যায়নই ভিত্তি
  • চক্রের হেরফের ২৬ থেকে ৪১ বছরে ৭ দিন, ১৮ থেকে ২৫ ও ৪২ থেকে ৪৫ বছরে ৯ দিন পর্যন্ত স্বাভাবিক
  • মাসিককে ২০১৫ সাল থেকে শরীরের পঞ্চম ভাইটাল সাইন হিসেবে দেখার সুপারিশ
  • স্তন্যদানের সময় পিরিয়ড বন্ধ থাকা স্বাভাবিক, তবে প্রথম মাসিকের আগেই ডিম্বস্ফোটন হতে পারে
  • এক ঘণ্টায় পিরিয়ড আনার কোনো ঘরোয়া উপায় নেই, দারুচিনিতে সীমিত প্রমাণ, কাঁচা পেঁপেতে ঝুঁকি
  • অনিয়মিত মাসিক হলেও বাচ্চা হয়, একটি বড় কোহর্টে গর্ভধারণের হার প্রায় সমান, আসল প্রশ্ন ডিম্বস্ফোটন
  • আয়ুর্বেদীয় দৃষ্টি আর্তব-দুষ্টি, প্রমাণের মাত্রা ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার
  • ভেষজে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষিত রজঃপ্রবর্তিনী বটী, প্রমাণ সীমিত, গর্ভাবস্থায় নিষিদ্ধ
  • তিন মাসের বেশি বন্ধ, দুই ঘণ্টায় প্যাড ভেজা, বা মেনোপজের পরে রক্তপাত মানেই ডাক্তার

স্বাভাবিক মাসিক আসলে কোনটা, সংখ্যাগুলো বদলে গেছে

স্বাভাবিক মাসিকের আধুনিক সংজ্ঞা দেয় FIGO-র System 1, আর সেখানে চারটি আলাদা মাপকাঠি আছে, কম্পাঙ্ক, নিয়মিততা, সময়কাল আর পরিমাণ। ২০২৩ সালে International Journal of Gynecology and Obstetrics-এ প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় (Jain, Munro ও Critchley, DOI 10.1002/ijgo.14946) এই মাপকাঠিগুলো একজায়গায় দেওয়া আছে।

মাপকাঠি স্বাভাবিক অস্বাভাবিক ধরা হয়
চক্রের ব্যবধান ২৪ থেকে ৩৮ দিন ২৪-এর কম (ঘন ঘন), ৩৮-এর বেশি (বিরল)
রক্তপাতের সময়কাল টানা আট দিন পর্যন্ত আট দিনের বেশি (দীর্ঘায়িত)
নিয়মিততা (১৮ থেকে ২৫ ও ৪২ থেকে ৪৫ বছর) হেরফের ৯ দিন পর্যন্ত তার বেশি
নিয়মিততা (২৬ থেকে ৪১ বছর) হেরফের ৭ দিন পর্যন্ত তার বেশি
রক্তের পরিমাণ রোগী নিজে যা স্বাভাবিক মনে করেন রোগী নিজে যা বেশি মনে করেন

এই টেবিলটা একটা খুব চেনা প্রশ্নেরও উত্তর দেয়। মাসে দুইবার বা এক মাসে তিনবার মাসিক হওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে অনেকে ভাবেন এটা বুঝি বিরল কিছু, অথচ FIGO-র হিসেবে চক্র ২৪ দিনের কম হয়ে গেলে সেটাই ঘন ঘন মাসিক, আর সেটা একটা নির্দিষ্ট শ্রেণি। তবে সাবধান, দুই মাসিকের মাঝখানে রক্তপাত আর ঘন ঘন মাসিক এক জিনিস নয়, প্রথমটা আলাদা করে দেখা দরকার, আর সেটা নিচের লাল-পতাকার তালিকায় আছে।

তিনটে জিনিস এখানে খেয়াল করার মতো। এক, ২১ থেকে ৩৫ দিনের পুরনো হিসেবটা বিদায় নিয়েছে। দুই, সাত দিনের বেশি রক্তপাত মানেই গোলমাল নয়, আট দিন পর্যন্ত স্বাভাবিক। তিন, রক্তের পরিমাণ মাপার সেই ৮০ মিলিলিটারের হিসেবটা ক্লিনিকে আর ব্যবহার হয় না, কারণ কেউ প্যাড নিংড়ে মাপে না, তাই FIGO এখন রোগীর নিজের মূল্যায়নকেই মান্যতা দেয়।

কৈশোরের নিয়ম আবার আলাদা, আর এটা না জানলে অকারণে ভয় পাওয়া হয়। আমেরিকান কলেজ অফ অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস-এর ৬৫১ নম্বর কমিটি ওপিনিয়ন অনুযায়ী কৈশোরে ৯০ শতাংশ চক্রই পড়ে ২১ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে, আর সেটাই ওই বয়সের স্বাভাবিক পরিসর। মাসিক শুরুর প্রথম কয়েক বছরে চক্র এলোমেলো থাকা তাই স্বাভাবিক, রোগ নয়।

মাসিক কেন শরীরের পঞ্চম ভাইটাল সাইন

মাসিককে আধুনিক চিকিৎসা এখন শরীরের একটি ভাইটাল সাইন হিসেবে দেখার সুপারিশ করে, অর্থাৎ নাড়ি, রক্তচাপ, শ্বাস ও তাপমাত্রার পাশে পঞ্চম মাপকাঠি। ২০১৫ সালে ACOG ও আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স যৌথভাবে প্রকাশিত ৬৫১ নম্বর কমিটি ওপিনিয়নে (Obstetrics and Gynecology, ১২৬ খণ্ড) এই সুপারিশটি আনুষ্ঠানিক রূপ পায়।

যুক্তিটা সরল। রক্তচাপ বা নাড়ির গোলমাল যেমন গভীর কোনো রোগের প্রথম সংকেত হতে পারে, মাসিকের অস্বাভাবিক ছন্দও তেমনই। ওই নথি অনুযায়ী মাসিকের অনিয়ম থেকে PCOS, থাইরয়েডের রোগ, খাদ্যাভ্যাসজনিত ব্যাধি, রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা, এমনকি বিরল ক্ষেত্রে লিভারের ব্যর্থতা বা ক্যানসারের আগাম আভাস মিলতে পারে।

মজার ব্যাপার হলো, শাস্ত্রও ঠিক এই জায়গাতেই পৌঁছেছিল। চরক ও সুশ্রুত আর্তবকে নারীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সূচক ধরেছিলেন, আর মাসিকের রঙ, গন্ধ, জমাট বাঁধা, কাপড়ে দাগ থাকা না-থাকা, সব নিয়েই লিখেছিলেন। শশ-রক্তের মতো রঙ, অর্থাৎ খরগোশের রক্তের মতো গাঢ় লাল কিন্তু জমাট নয়, এই বর্ণনাটা দু-হাজার বছর পরেও আধুনিক স্বাভাবিকের সঙ্গে অদ্ভুত রকম মেলে। মিলে যাওয়া অবশ্য প্রমাণ নয়, কাকতালও হতে পারে।

আয়ুর্বেদে আর্তব ও আর্তব-দুষ্টি

আয়ুর্বেদে মাসিকের রক্তকে বলা হয় আর্তব, যার শাব্দিক অর্থ যা ঋতু অনুসরণ করে, আর তার অস্বাভাবিকতাকে বলা হয় আর্তব-দুষ্টি বা যোনি-ব্যাপদ। চরক ও সুশ্রুত সংহিতার শারীর-স্থানে ২৮ দিনের চক্র আর তিন থেকে পাঁচ দিনের রক্তপাতকে স্বাভাবিক ধরা হয়েছে।

ত্রিদোষের হিসেবে শাস্ত্র মনে করে চক্রের তিন পর্বে তিন দোষের প্রাধান্য বদলায়, রক্তপাতের সময় বাত, তার পরের গড়ে-ওঠার পর্বে কফ, আর ডিম্বস্ফোটনের সময় পিত্ত। দোষ-ভেদে আর্তব-দুষ্টির চেহারাও আলাদা।

দোষ মাসিকের চেহারা
বাত-প্রকোপ রক্ত কম, ব্যথা বেশি, অনিয়মিত, শুষ্কতা
পিত্ত-প্রকোপ রক্ত বেশি, উজ্জ্বল লাল, জ্বালা ও প্রদাহ
কফ-প্রকোপ ভারী, শ্লেষ্মা-যুক্ত, বিলম্বিত, ফোলাভাব

কাঠামোটা সুন্দর। দোষ-ভেদের এই বিভাজন শাস্ত্রে বিস্তারিতভাবে নথিভুক্ত, আর রোগীর নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে অনেক সময় মিলেও যায়, কিন্তু আধুনিক অর্থে একে যাচাই করা হয়নি, তাই প্রমাণের মাত্রা এখানে ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার, প্রমাণিত কার্যকারিতা নয়। উপ-প্রকৃতি নির্ণয় নিজে করতে যাওয়ার জিনিস নয়।

মাসিকের অনিয়মের প্রধান কারণগুলি

মাসিকের অনিয়ম নিজে কোনো রোগ নয়, এটি একটি উপসর্গ, আর তার পিছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে থাকতে পারে। হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কারণ খুঁজতে গেলেও তালিকাটা প্রায় একই, তাই দুটোকে আলাদা করে দেখার দরকার নেই। সবচেয়ে সাধারণ কারণ হরমোনের ভারসাম্যের গোলমাল, বিশেষত PCOS, যার আন্তর্জাতিক নাম ২০২৬ সালের মে মাসে বদলে PMOS হয়েছে।

একটা কারণ আলাদা করে বলা দরকার, কারণ এটা রোগ নয়। সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মাসিক বন্ধ থাকা স্বাভাবিক, একে বলে স্তন্যদানজনিত অ্যামেনোরিয়া। স্তন্যদানের সময় প্রোল্যাকটিন হরমোন চড়া থাকে, সেটি ডিম্বস্ফোটনকে চাপা দিয়ে রাখে, আর পুরোপুরি বুকের দুধ খাওয়ালে তিন থেকে ছয় মাস বা তার বেশি সময় মাসিক না হওয়াটাই দস্তুর। এখানে একটা ফাঁদ আছে যেটা অনেকেই জানেন না। প্রথম মাসিক ফেরার আগেই কিছু মায়ের ডিম্বস্ফোটন শুরু হয়ে যায়, তাই মাসিক হয়নি মানেই গর্ভধারণ হবে না, এই ধারণাটা ভুল।

বাকি কারণগুলোও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। থাইরয়েডের সমস্যা, তা হাইপো হোক বা হাইপার, চক্রকে সরাসরি টানে। পিটুইটারি গ্রন্থির গোলমালে প্রোল্যাকটিন বেড়ে গেলে মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে কর্টিসল বাড়ে, আর কর্টিসল হরমোন-চক্রে সরাসরি হাত দেয়। ওজনের হঠাৎ ওঠানামা, অতিরিক্ত ব্যায়াম, আয়রন বা ভিটামিন ডি-র ঘাটতি, এনডোমেট্রিওসিস, ফাইব্রয়েড, পলিপ, জন্ম-নিরোধক বড়ি শুরু বা বন্ধ করা, সবই তালিকায় আছে। চল্লিশের পরে মেনোপজের আগের কয়েক বছরে চক্র এলোমেলো হওয়া স্বাভাবিক।

তালিকাটা লম্বা। আর সেটাই মূল কথা, কারণ একই উপসর্গের পিছনে এত রকম আলাদা কারণ থাকতে পারে যে ঘরোয়া অনুমানে সেটা ধরা কার্যত অসম্ভব, আর রক্ত-পরীক্ষা ও আল্ট্রাসাউন্ড ছাড়া কোন কারণটা আপনার ক্ষেত্রে খাটছে তা জানার কোনো উপায় নেই।

অনিয়মিত মাসিক হলে কি বাচ্চা হয়?

হ্যাঁ, অনিয়মিত মাসিক থাকলেও গর্ভধারণ সম্ভব, আর এই প্রশ্নটার উত্তর যত ভয় দেখিয়ে দেওয়া হয়, বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক শান্ত। ২০১৬ সালে Annals of Epidemiology-তে প্রকাশিত উত্তর আমেরিকার একটি বড় প্রি-কনসেপশন কোহর্ট গবেষণায় (Wesselink ও সহকর্মীরা) দেখা যায়, যাঁদের চক্র অনিয়মিত তাঁদের গর্ভধারণের হার নিয়মিত-চক্রের মহিলাদের প্রায় সমান, সমন্বিত ফিকান্ডেবিলিটি রেশিও ০.৯৬ (৯৫% আস্থা-ব্যবধান ০.৮২ থেকে ১.১২)। একই গবেষণায় রক্তপাতের দৈর্ঘ্য বা পরিমাণের সঙ্গেও গর্ভধারণের হারের উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক মেলেনি।

তাহলে আসল বাধাটা কোথায়? বাধাটা অনিয়ম নয়, বাধাটা ডিম্বস্ফোটন। মাসিক অনিয়মিত হওয়া মানেই ডিম্বস্ফোটন হচ্ছে না, তা নয়, সেটা নির্ভর করে অনিয়মের কারণের ওপর। কিন্তু যদি অনিয়মের পিছনে অ্যানোভুলেশন থাকে, অর্থাৎ ডিম্ব নিঃসৃতই না হয়, তখন নিষেকের সুযোগ থাকে না, আর সেটাই গর্ভধারণ কঠিন করে। তাই প্রশ্নটা "মাসিক নিয়মিত কি না" নয়, প্রশ্নটা "ডিম্বস্ফোটন হচ্ছে কি না"। PCOS এখানে সবচেয়ে সাধারণ কারণ।

ডিম্বস্ফোটন ধরার চেষ্টায় একটা ফাঁদ আছে যেটা জেনে রাখা দরকার। বাজারের ওভুলেশন কিট প্রস্রাবে LH হরমোনের ঢেউ ধরে, যা ডিম্বস্ফোটনের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে ওঠে। কিন্তু কিট পজিটিভ মানে LH বেড়েছে, ডিম্ব বেরিয়েছে তা নয়, আর অ্যানোভুলেটরি চক্রে, যা PCOS বা অনিয়মিত চক্রে বেশি হয়, LH বাড়তে পারে ডিম্ব না বেরিয়েও। ডিম্বস্ফোটন সত্যিই হয়েছে কি না, সেটা নিশ্চিত করে বলে একমাত্র প্রোজেস্টেরনের পরীক্ষা। তাই কিটের ভরসায় মাসের পর মাস না কাটিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

সন্তান হওয়ার পরে মাসিক অনিয়মিত থাকা নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ সাধারণত নেই, ওটা স্তন্যদানের স্বাভাবিক ফল, উপরে যে কথাটা বলেছি। গর্ভধারণের চেষ্টা এক বছর ধরে ব্যর্থ হলে, আর পঁয়ত্রিশের বেশি বয়সে ছয় মাসে, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার সময় হয়েছে ধরে নিন।

জীবনযাত্রা ও খাদ্যে কী সত্যিই সহায়ক

জীবনযাত্রার হস্তক্ষেপ মাসিকের অনিয়মে সহায়ক হতে পারে, বিশেষত যখন কারণটা চাপ, ঘুম বা ওজন-সংক্রান্ত, তবে গঠনগত সমস্যায় এটি যথেষ্ট নয়।

ঘুমের নিয়মটা গোড়ার কথা। শরীরের অভ্যন্তরীণ ছন্দই হরমোনের ভিত্তি, তাই ঘুমের সময় রোজ এদিক-ওদিক হলে গোটা হরমোন-চক্রটাই টাল খায়, আর সেই টাল সরাসরি গিয়ে পড়ে মাসিকের তারিখের ওপর, বিশেষত যাঁরা রাত জেগে কাজ করেন বা শিফটে ডিউটি করেন তাঁদের ক্ষেত্রে। রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা, আর ওঠা-শোয়ার সময় মোটামুটি এক রাখুন। দিনে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম সহায়ক, তবে অতিরিক্ত ব্যায়াম উল্টো ফল দেয়, খেলোয়াড়দের মধ্যে মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া এর পরিচিত উদাহরণ।

খাবারে কয়েকটা সহজ নিয়ম। খাওয়ার সময় নিয়মিত রাখুন, দীর্ঘ উপবাস হরমোনকে অস্থির করে। প্রতি বেলায় কিছুটা প্রোটিন রাখুন, কারণ হরমোন তৈরির কাঁচামাল ওটাই। আয়রন-সমৃদ্ধ খাবার গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত রক্তপাত বেশি হলে, পালং, মুসুর ডাল, খেজুর, কালো তিল। ভাল চর্বি রাখুন, ঘি, বাদাম, ফ্ল্যাক্স-সিড, সর্ষের তেল। মাসিকের প্রথম দিনগুলোয় উষ্ণ ও সদ্য রান্না খাবার, শাস্ত্রে যাকে রজস্বলা-চর্যা বলে। এড়ান পরিশোধিত চিনি, দিনে দুই কাপের বেশি কফি, আর চরম ডায়েট।

আদা-চা বা দারুচিনি-চা নিয়ে অনেক কথা চালু আছে। ব্যথায় আদার কিছু সহায়ক ভূমিকা আলোচিত হয়েছে, তবে চক্র নিয়মিত করার প্রমাণ পাতলা, তাই একে ওষুধ নয়, আরামের পানীয় হিসেবেই দেখুন।

ঘরোয়া উপায়ে কি পিরিয়ড নিয়মিত হয়?

অনিয়মিত পিরিয়ড নিয়মিত করার ঘরোয়া উপায় নিয়ে বাংলা ইন্টারনেট ভর্তি, আর তার বেশিরভাগের পিছনে মানুষের ওপর করা কোনো গবেষণা নেই। কি খেলে মাসিক তাড়াতাড়ি হয়, এই প্রশ্নটাই সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়, আর তার সৎ উত্তরটা অস্বস্তিকর। সবচেয়ে বড় মিথটা আগে সরিয়ে রাখি। এক ঘণ্টায় বা এক দিনে পিরিয়ড আনিয়ে দেওয়ার কোনো ঘরোয়া উপায় নেই, ওই ধরনের দাবি যত জোরালো ভাষায় লেখা থাকুক, তার সমর্থনে প্রমাণ নেই।

ঘরোয়া উপায় প্রমাণ যা বলে প্রমাণের মাত্রা
দারুচিনি PCOS-আক্রান্ত ৪৫ জনের একটি RCT-তে দিনে ১.৫ গ্রাম, ছয় মাসে চক্রের সংখ্যা বেড়েছে সীমিত প্রমাণ
মেথি মাসিকের ব্যথায় একটি RCT-তে সহায়ক, PCOS-এ প্রাথমিক কাজ আছে সীমিত প্রমাণ
আদা ব্যথা উপশমে কিছু কাজ আছে, চক্র নিয়মিত করার প্রমাণ নেই সীমিত প্রমাণ (ব্যথায়)
গুড়, জিরা, ধনে মানুষের ওপর কোনো গবেষণা নেই অপর্যাপ্ত প্রমাণ
কাঁচা পেঁপে মানুষের গবেষণা নেই, তবে ইঁদুরে পেঁপের আঠা জরায়ু সংকুচিত করে অপর্যাপ্ত প্রমাণ, সঙ্গে ঝুঁকি

দারুচিনির কথাটা একটু আলাদা করে বলা দরকার, কারণ এখানে সত্যিই একটা RCT আছে। ২০১৪ সালে American Journal of Obstetrics and Gynecology-তে প্রকাশিত Kort ও Lobo-র গবেষণায় PCOS-আক্রান্ত ৪৫ জন মহিলাকে ছয় মাস ধরে দিনে ১.৫ গ্রাম দারুচিনি বা প্লাসিবো দেওয়া হয়। দারুচিনির দলে মাসে চক্রের সংখ্যার মধ্যমা দাঁড়ায় ০.৭৫, প্লাসিবোর দলে ০.২৫। গবেষকরা নিজেরাই একে প্রাথমিক ফল বলেছেন, আর অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও ছোট।

কাঁচা পেঁপে নিয়ে কথাটা সবচেয়ে জরুরি, আর এখানেই বাংলা লেখাগুলো সবচেয়ে বিপজ্জনক পরামর্শ দেয়। গবেষণাগারে ইঁদুরের জরায়ুর ওপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে, কাঁচা পেঁপের আঠার নির্যাস মাত্রা অনুযায়ী জরায়ুতে সংকোচন ঘটায় (Cherian, Journal of Ethnopharmacology, ২০০০)। পাকা আর কাঁচা পেঁপে আলাদা করে দেখা হয়েছিল ২০০২ সালে British Journal of Nutrition-এ প্রকাশিত একটি ইঁদুর-গবেষণায় (Adebiyi ও সহকর্মীরা)। তার উপসংহার ছিল দুই ভাগে, পাকা পেঁপে স্বাভাবিক পরিমাণে খেলে গর্ভাবস্থায় বিশেষ বিপদের কারণ নয়, কিন্তু কাঁচা বা আধপাকা পেঁপে, যাতে আঠার পরিমাণ বেশি, সেটি নিরাপদ নাও হতে পারে। এখন যুক্তিটা মিলিয়ে দেখুন। পিরিয়ড দেরি হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ গর্ভাবস্থা, আর ঠিক সেই অবস্থাতেই একজনকে জরায়ু-সংকোচক জিনিস খেতে বলা হচ্ছে। তাই পিরিয়ড দেরি হলে কাঁচা পেঁপে খাওয়ার পরামর্শটা নিরীহ টোটকা নয়, ওটা উল্টো দিকের ঝুঁকি। আগে পরীক্ষা, তারপর বাকি কথা।

শাস্ত্রে আলোচিত ভেষজ ও প্রমাণ কতটুকু

মাসিকের অনিয়মে আয়ুর্বেদীয় ভেষজের প্রমাণ এখনো সীমিত, আর সেটা স্পষ্ট করে বলা দরকার, কারণ বাজারে এর উল্টোটা শোনানো হয়।

সবচেয়ে বেশি পরীক্ষিত যোগটির নাম রজঃপ্রবর্তিনী বটী। ২০২৩ সালে Journal of Integrative and Complementary Medicine-এ প্রকাশিত একটি স্কোপিং রিভিউ, যেটি নারীস্বাস্থ্যে আয়ুর্বেদীয় গবেষণা ছেঁকে দেখেছিল, এই যোগটিকে কাঞ্চনার গুগ্গুলের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি অধ্যয়িত যৌগিক যোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভৈষজ্য রত্নাবলী অনুযায়ী এর উপাদানে থাকে কুমারী অর্থাৎ ঘৃতকুমারী, কাসিস অর্থাৎ ফেরাস সালফেট, আর হিঙ্গু।

তবে গবেষণাগুলোর চেহারা দেখা দরকার। অলিগোমেনোরিয়ায় রজঃপ্রবর্তিনী বটীর একটি প্রকাশিত ক্লিনিকাল কাজে মাত্র ৩০ জন রোগীকে দিনে দুইবার ২৫০ মিগ্রা করে তিন মাস দেওয়া হয়েছিল। ফলাফল উৎসাহব্যঞ্জক দেখালেও এগুলো ছোট, খোলা ধরনের গবেষণা, তুলনার জন্য প্লাসিবো-গোষ্ঠী নেই। প্রমাণের মাত্রা তাই সীমিত প্রমাণ।

শাস্ত্রে আরও কয়েকটি নাম ঘোরে। শতাবরী বাত-প্রকোপে স্ত্রী-রসায়ন হিসেবে, অশোক ছাল আর্তব-সংশোধনে, লোধ্র পিত্ত-প্রকোপে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে, কাঞ্চনার গুগ্গুল কফ-জনিত অবস্থায়, দশমূল কাড়া বাত-প্রশমনে। এদের প্রমাণের মাত্রা ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার, প্রমাণিত কার্যকারিতা নয়।

অনেক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক অবশ্য বলবেন, শাস্ত্রীয় চিকিৎসা একক ভেষজে হয় না, হয় প্রকৃতি অনুযায়ী সম্পূর্ণ পথ্য-বিহার-ঔষধের সমন্বয়ে, তাই একক ভেষজের ট্রায়াল দিয়ে একে মাপা অন্যায্য। কথাটা ফেলে দেওয়ার নয়। তবু রোগীর দিক থেকে প্রশ্নটা থেকেই যায়, প্রমাণ না থাকলে ভরসা করব কীসের ওপর।

কে ব্যবহার করবেন না বা সতর্ক থাকবেন

মাসিকের অনিয়মে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কোনো ভেষজের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়, ঝুঁকিটা হলো ঘরোয়া যত্নে ভরসা করে রোগনির্ণয় পিছিয়ে দেওয়া। গুরুতর অনিয়ম কখনো কখনো ফাইব্রয়েড, পলিপ, এনডোমেট্রিওসিস বা গর্ভাশয়ের ক্যানসারের প্রথম সংকেত।

ঋতুস্রাব-প্রবর্তক ভেষজ নিজে থেকে খাবেন না। রজঃপ্রবর্তিনী বটীর মতো যোগ নামেই ঋতুস্রাব-প্রবর্তক, তাই গর্ভাবস্থার সামান্যতম সম্ভাবনা থাকলেও এটি নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না, আর মাসিক দেরি হওয়ার প্রথম কারণ হিসেবে গর্ভাবস্থা বাদ দেওয়াটাই নিয়ম। এই যোগে ফেরাস সালফেট থাকে, তাই আয়রন-সংক্রান্ত ওষুধ চললে চিকিৎসককে জানান। কেশর বা জাফরানকেও শাস্ত্রে মাসিক-প্রবর্তক বলা হয়, একই সতর্কতা সেখানেও।

নিচের যেকোনো একটি দেখলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান।

  • তিন মাসের বেশি মাসিক বন্ধ, গর্ভাবস্থা বাদ দেওয়ার পরেও
  • প্রতি এক থেকে দুই ঘণ্টায় প্যাড সম্পূর্ণ ভিজে যাওয়া, বা বড় জমাট পড়া
  • টানা আট দিনের বেশি রক্তপাত
  • দুই মাসিকের মাঝে বা মিলনের পরে রক্তপাত
  • মেনোপজের পরে আবার রক্তপাত
  • ব্যথানাশকে না কমা প্রচণ্ড পেট-ব্যথা
  • মাথা ঘোরা ও দুর্বলতার মতো রক্তাল্পতার লক্ষণ
  • গর্ভধারণের চেষ্টা এক বছর ধরে ব্যর্থ, আর পঁয়ত্রিশের বেশি বয়সে ছয় মাস

শেষেরটার আগে একটা কথা আলাদা করে বলা দরকার। মেনোপজের পরে রক্তপাত কখনোই স্বাভাবিক নয়, ওটা এই তালিকার সবচেয়ে জরুরি লাল পতাকা, আর সেখানে দুই-এক মাস দেখে নেওয়ার কোনো জায়গা নেই।

একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ

আমাদের সমাজে মাসিক নিয়ে যে নীরবতাটা আছে, সেটা মেয়েদের নিজের শরীরের সঙ্গে পরিচয়টাই পিছিয়ে দেয়। ছোট অনিয়ম চাপা পড়ে যায় এমনই হয় বলে, কিংবা টেনশনের জন্য হচ্ছে বলে সান্ত্বনা মেলে, আর বছর গড়িয়ে গেলে সমস্যা অনেক দূর এগিয়ে যায়। লেখাটা তৈরি করতে গিয়ে আমার কাছে যেটা সবচেয়ে বেশি লেগেছে, তা হলো এই নীরবতা শাস্ত্রের দান নয়। চরক আর সুশ্রুত আর্তব নিয়ে যে এত খুঁটিয়ে লিখেছেন, রঙ কেমন হবে, গন্ধ কেমন, জমাট বাঁধবে কি না, কাপড়ে ধুলে দাগ থাকবে কি না, তার কোথাও লজ্জা বা রাখঢাকের লেশমাত্র নেই। (পড়তে গিয়ে মনে হয়েছিল, এঁরা আজকের অনেকের চেয়ে সহজভাবে কথা বলতেন।) নীরবতাটা তাই পরের যুগের সংযোজন। দায়টা আমাদেরই।

সংক্ষেপে ও উপসংহার

মাসিকের অনিয়ম একটি উপসর্গ, রোগ নয়, আর তার পিছনে কখনো নিছক ঘুম-চাপ-ওজনের গোলমাল, কখনো PCOS বা থাইরয়েডের মতো চিকিৎসাযোগ্য অবস্থা, কখনো গর্ভাশয়ের গঠনগত সমস্যা, আর কোনটা আপনার ক্ষেত্রে সত্যি তা বাইরে থেকে দেখে বলার কোনো উপায় নেই। আয়ুর্বেদ একে আর্তব-দুষ্টি হিসেবে দেখে আর দোষ-ভেদে ভাগ করে, তবে সেই কাঠামোর প্রমাণের মাত্রা ঐতিহ্যগত ব্যবহার, আর ভেষজের প্রমাণ সীমিত।

আজ থেকে একটা কাজ শুরু করতে পারেন, আর সেটা কোনো ভেষজ কেনা নয়। ফোনে বা একটা ছোট খাতায় প্রতি মাসের প্রথম দিনের তারিখটা লিখে রাখুন, সঙ্গে কত দিন চলল আর কেমন গেল। তিন মাস পরে আপনার হাতে যা থাকবে, সেটাই ডাক্তারের কাছে সবচেয়ে কাজের জিনিস, কারণ চেম্বারে বসে স্মৃতি থেকে তারিখ মনে করা প্রায় অসম্ভব। আর হিসেবটা মিলিয়ে নিন নতুন মাপকাঠিতে, ২৪ থেকে ৩৮ দিন, আট দিন পর্যন্ত রক্তপাত। এর বাইরে গেলে অনুমান নয়, পরীক্ষা।

সূত্র / Sources

  • Jain V, Munro MG, Critchley HOD. Contemporary evaluation of women and girls with abnormal uterine bleeding, FIGO Systems 1 and 2 (স্বাভাবিক চক্র ২৪ থেকে ৩৮ দিন, রক্তপাত ৮ দিন পর্যন্ত, নিয়মিততার হেরফের ৭ থেকে ৯ দিন, পরিমাণ রোগীর মূল্যায়নে). International Journal of Gynecology and Obstetrics, ২০২৩. DOI 10.1002/ijgo.14946: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/37538019
  • Menstruation in Girls and Adolescents, Using the Menstrual Cycle as a Vital Sign. ACOG Committee Opinion No. 651, American College of Obstetricians and Gynecologists ও American Academy of Pediatrics. Obstetrics and Gynecology, ২০১৫, ১২৬(৬), e143-e146. DOI 10.1097/AOG.0000000000001215: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/26595586
  • Kort DH, Lobo RA. Preliminary evidence that cinnamon improves menstrual cyclicity in women with polycystic ovary syndrome, a randomized controlled trial (৪৫ জন, দিনে ১.৫ গ্রাম, ৬ মাস). American Journal of Obstetrics and Gynecology, ২০১৪: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/24813595
  • Cherian T. Effect of papaya latex extract on gravid and non-gravid rat uterine preparations in vitro (পেঁপের আঠার নির্যাস ইঁদুরের জরায়ুতে মাত্রা-নির্ভর সংকোচন ঘটায়). Journal of Ethnopharmacology, ২০০০, ৭০(৩), ২০৫-১২. DOI 10.1016/s0378-8741(99)00173-7: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/10837984
  • Adebiyi A, Adaikan PG, Prasad RNV. Papaya (Carica papaya) consumption is unsafe in pregnancy, fact or fable? (পাকা পেঁপে স্বাভাবিক পরিমাণে বিপদের কারণ নয়, কাঁচা বা আধপাকা পেঁপে নিরাপদ নাও হতে পারে). British Journal of Nutrition, ২০০২, ৮৮(২), ১৯৯-২০৩. DOI 10.1079/BJNBJN2002598: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/12144723
  • Wesselink AK ও সহকর্মীরা. Menstrual cycle characteristics and fecundability in a North American preconception cohort (অনিয়মিত চক্রে গর্ভধারণের হার নিয়মিত-চক্রের প্রায় সমান, FR ০.৯৬, ৯৫% CI ০.৮২-১.১২). Annals of Epidemiology, ২০১৬. DOI 10.1016/j.annepidem.2016.05.006: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/27449569
  • A Scoping Review of Ayurveda Studies in Women with Polycystic Ovary Syndrome (রজঃপ্রবর্তিনী বটী ও কাঞ্চনার গুগ্গুল সবচেয়ে বেশি অধ্যয়িত যৌগিক যোগ). Journal of Integrative and Complementary Medicine, ২০২৩. DOI 10.1089/jicm.2022.0754: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/36944117
  • Teede HJ ও সহকর্মীরা. Polyendocrine metabolic ovarian syndrome, the new name for polycystic ovary syndrome. Lancet, ২০২৬, ৪০৭(১০৫৪৫). DOI 10.1016/S0140-6736(26)00717-8: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/42119588

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। এটি চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

ব্যবধান ২৪ থেকে ৩৮ দিন, আর রক্তপাত টানা আট দিন পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক স্ত্রী-রোগ সংস্থা FIGO-র হিসেবে এটাই প্রাপ্তবয়স্কদের স্বাভাবিক পরিসর, ২৪ দিনের কম হলে ঘন ঘন আর ৩৮ দিনের বেশি হলে বিরল মাসিক। বাংলা ইন্টারনেটে চালু ২১ থেকে ৩৫ দিনের হিসেবটা পুরনো। কৈশোরে নিয়ম আলাদা, সেখানে ২১ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত স্বাভাবিক।
অভিজিৎ সাউ

লেখক সম্পর্কে

অভিজিৎ সাউ

তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক

তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত একজন প্রকৌশলী। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলা ভাষায় আয়ুর্বেদ, ভেষজ ও প্রাকৃতিক জীবনযাত্রার বিশ্বস্ত তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিটি নিবন্ধের পেছনে শাস্ত্রীয় গ্রন্থ, AYUSH মন্ত্রকের নির্দেশিকা ও প্রকাশিত গবেষণাপত্র যাচাই করি।

এই নিবন্ধটি প্রকাশের আগে প্রাথমিক উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই ও সম্পাদনা করা হয়েছে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

আরও পড়ুন
ডেঙ্গু জ্বরে আয়ুর্বেদিক পরিচর্যা, পেঁপে পাতা, ডাবের জল ও ডালিমের পথ্য

ডেঙ্গু জ্বরে আয়ুর্বেদিক পরিচর্যা, পেঁপে পাতা ও পথ্য

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ, কখন হাসপাতাল জরুরি, পেঁপে পাতা ও প্লেটলেট নিয়ে গবেষণা, গিলয়-তুলসীর সহায়ক ভূমিকা এবং সুস্থ হওয়ার পথ্য, আধুনিক ও আয়ুর্বেদিক বাংলা গাইড।

২৪ জুন, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ
উদ্বেগ ও আয়ুর্বেদ — বাত-শামক ভেষজ, অভ্যঙ্গ ও প্রাণায়ামে মানসিক শান্তি

উদ্বেগ ও আয়ুর্বেদ — অ্যাংজাইটি ব্যবস্থাপনার শাস্ত্রীয় ভেষজ পদ্ধতি

উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটির আয়ুর্বেদিক বিশ্লেষণ, বাত-প্রকোপের কারণ, অশ্বগন্ধা, ব্রাহ্মী, অভ্যঙ্গ ও প্রাণায়ামের মাধ্যমে স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনার সম্পূর্ণ বাংলা গাইড।

১৫ জুন, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ
সকালের আয়ুর্বেদিক ব্রেকফাস্ট — খালি পেটে ও দোষ-অনুযায়ী খাদ্য পরিকল্পনা

সকালে কী খাবেন — আয়ুর্বেদিক ব্রেকফাস্ট গাইড

আয়ুর্বেদ মতে সকালের আদর্শ আহার, খালি পেটে কী খাবেন, দোষ অনুযায়ী ব্রেকফাস্ট পরিকল্পনা এবং বাঙালি ব্রেকফাস্টের আয়ুর্বেদিক বিশ্লেষণ নিয়ে বাংলায় গাইড।

১৫ জুন, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ