আরোগ্য বাংলা
ভেষজ ১৬ জুলাই, ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 13 মিনিট পড়ুন

ভুঁই আমলা কি সত্যিই লিভারের জন্য ভালো? উপকার, নিয়ম ও সতর্কতা

ভুঁই আমলা বা Phyllanthus niruri লিভার ও জন্ডিসে কতটা কাজ করে, গবেষণা কী বলে, খাওয়ার নিয়ম, আমলকীর সঙ্গে পার্থক্য আর কাদের এড়ানো উচিত, বাংলায় সৎ গাইড।

অ
অভিজিৎ সাউ
তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক

AI-সহায়তায় গবেষণা ও খসড়া; সম্পাদনা, যাচাই ও তথ্যের দায়ভার লেখক অভিজিৎ সাউ-এর। সম্পাদকীয় নীতি ও গবেষণা পদ্ধতি।

ভুঁই আমলা বা Phyllanthus niruri গাছের পাতার নিচে সারি সারি বীজ, লিভার ও জন্ডিসে ব্যবহৃত আয়ুর্বেদিক ভেষজ ভুঁই আমলার পরিচিতি

বর্ষার পরে বাংলার উঠোনের কোণে বা মাঠের ধারে ছোট্ট যে আগাছাটি মাথা তোলে, পাতার নিচে সারি সারি গোল বীজ ঝুলে থাকে, গ্রামের অনেকে সেটিকেই চেনেন জন্ডিসের গাছ বলে। এর নাম ভুঁই আমলা। নামে 'আমলা' থাকলেও এটি কিন্তু আমরা যে টক আমলকী খাই, সেই গাছ নয়। গায়ে গায়ে লেপ্টে থাকা ছোট সবুজ পাতা আর তার ঠিক তলায় সরু বীজের সারি, এটুকুই তার আসল পরিচয়পত্র।

ভুঁই আমলা কি সত্যিই লিভারের জন্য ভালো, এর সোজা উত্তর হলো, ঐতিহ্যে ও প্রাথমিক গবেষণায় লিভার-সহায়ক ইঙ্গিত আছে, কিন্তু মানুষের ওপর বড় মাপের প্রমাণ এখনো দুর্বল। আয়ুর্বেদে এটি Phyllanthus niruri গাছ, সংস্কৃতে ভূম্যামলকী, যাকে যকৃৎ বা লিভারের রসায়ন ভেষজ বলা হয়। তবে গোড়াতেই একটা কথা পরিষ্কার। ভুঁই আমলা জন্ডিস বা হেপাটাইটিস সারানোর নিশ্চিত ওষুধ নয়, বড়জোর একটি সহায়ক ভেষজ। শুরুতে আমারও মনে হয়েছিল এ যেন এক নিশ্চিত লিভার-দাওয়াই, কিন্তু ঘেঁটে দেখলাম ছবিটা তত সরল নয়। তাই এই পাতায় উপকারের দাবি আর গবেষণার বাস্তব, দুটো দিকই সৎভাবে সাজানো হয়েছে।

এক নজরে

  • ভুঁই আমলা হলো Phyllanthus niruri গাছ, সংস্কৃতে ভূম্যামলকী, ইংরেজিতে যাকে stonebreaker বা gale of the wind বলা হয়
  • এটি আমলকী (Emblica officinalis) নয়, সম্পূর্ণ আলাদা একটি ছোট বর্ষজীবী গাছ
  • আয়ুর্বেদে এটিকে পিত্ত ও কফ-শামক এবং যকৃৎ-সহায়ক ভেষজ বলে ধরা হয়
  • লিভার সুরক্ষার প্রাণী-গবেষণায় ইঙ্গিত আছে, কিন্তু মানুষের ট্রায়ালে ফল মিশ্র
  • জন্ডিস, ফ্যাটি লিভার ও কিডনি পাথরে লোকজ ব্যবহার প্রচলিত, প্রমাণ এখনো সীমিত
  • হেপাটাইটিস বি-তে Cochrane পর্যালোচনার রায়, সমর্থন বা খণ্ডন কোনোটিরই যথেষ্ট প্রমাণ নেই
  • ওষুধের সঙ্গে মূল সতর্কতা শর্করা, রক্তচাপ ও মূত্রবর্ধনে, ভিত্তি ৯ জনের একটি ছোট গবেষণা
  • মনে রাখা ভালো, এটি সহায়ক ভেষজ, লিভার রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়

ভুঁই আমলা আসলে কোন গাছ?

ভুঁই আমলা হলো Phyllanthus niruri (কাছাকাছি প্রজাতি P. amarus) নামের একটি ছোট, প্রায় ৩০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার উঁচু বর্ষজীবী গাছ, যা বর্ষায় নিজে থেকেই জন্মায়। 'ভুঁই' শব্দের অর্থ মাটি, আর মাটি ঘেঁষে জন্মানো এই ছোট আমলা-সদৃশ গাছ থেকেই এর বাংলা নাম। সংস্কৃতে একে বলা হয় ভূম্যামলকী, অর্থাৎ মাটির আমলকী।

নামটা নিয়ে একটা চেনা বিভ্রান্তি গোড়াতেই মিটিয়ে নেওয়া দরকার। আমরা যে বড়, গোল, টক আমলকী খাই, সেটি Emblica officinalis গাছের ফল, একটি বড় গাছ। ভুঁই আমলা তার তুলনায় নেহাতই ছোট আগাছা, আর এর কাজে লাগে গোটা গাছটাই, শিকড় থেকে পাতা পর্যন্ত। দুটির নামে মিল থাকলেও এরা এক নয়। ইংরেজিতে এই গাছকে stonebreaker বা seed-under-leaf বলা হয়, কারণ এর পাতার ঠিক নিচে সারি বেঁধে ছোট ছোট বীজ ঝোলে, যা দেখেই একে সহজে আলাদা করা যায়।

আধুনিক রসায়নে ভুঁই আমলার মধ্যে ফাইলান্থিন, হাইপোফাইলান্থিন, নিরান্থিন ও এলাজিক অ্যাসিডের মতো যৌগ পাওয়া গেছে, যেগুলোকে এর লিভার-সংক্রান্ত সম্ভাব্য কাজের পিছনে ধরা হয়। এই যৌগগুলো নিয়েই গবেষণাগারে বেশিরভাগ পরীক্ষা হয়েছে। মূল কথা, এটি আমলকী নয়।

ভুঁই আমলা, আমলকী আর কালমেঘ, গুলিয়ে ফেলবেন না

ভুঁই আমলা, আমলকী ও কালমেঘ, এই তিনটি ভেষজকে লিভারের প্রসঙ্গে প্রায়ই একসঙ্গে বলা হয়, অথচ এরা তিনটি আলাদা গাছ আলাদা কাজের। বাজারে বা লেখায় নাম গুলিয়ে গেলে ভুল জিনিস কেনা হয়ে যায়, তাই পার্থক্যটা এক নজরে দেখে নেওয়া ভালো।

ভেষজ উদ্ভিদ চেনার সূত্র মূল প্রসঙ্গ
ভুঁই আমলা Phyllanthus niruri ছোট আগাছা, পাতার নিচে বীজ লিভার, জন্ডিস, মূত্র ও পাথর
আমলকী Emblica officinalis বড় গাছ, গোল টক ফল ভিটামিন সি, রসায়ন, চুল ও ত্বক
কালমেঘ Andrographis paniculata তেতো পাতা, ছোট গুল্ম জ্বর, লিভার ও রোগ প্রতিরোধ

তিনটির মধ্যে ভুঁই আমলা আর কালমেঘ দুটিকেই লোকচিকিৎসায় লিভার ও জন্ডিসে ব্যবহার করা হয়, কিন্তু কালমেঘ স্বাদে তীব্র তেতো আর ভুঁই আমলা তুলনায় মৃদু, তাই একই সমস্যায় একটিকে অন্যটির বদলি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অন্যদিকে আমলকী মূলত ভিটামিন সি ও রসায়ন ভেষজ হিসেবে চেনা, লিভারের নির্দিষ্ট প্রসঙ্গে নয়। কেনার সময় তাই ইংরেজি বা বৈজ্ঞানিক নামটা মিলিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। নাম মেলানোই আসল কাজ।

আয়ুর্বেদে ভুঁই আমলার পরিচয়

আয়ুর্বেদের দ্রব্যগুণে ভূম্যামলকী বা ভুঁই আমলার একটি নির্দিষ্ট পরিচয় আছে, যা বুঝলে এর ব্যবহারের যুক্তি স্পষ্ট হয়। চরক ও সুশ্রুত সংহিতার ধারায় একে যকৃৎ বা লিভারের সহায়ক এবং পিত্ত-শামক ভেষজের তালিকায় রাখা হয়। এর গুণ-বৈশিষ্ট্য নিচের ছকে সাজানো।

আয়ুর্বেদিক বৈশিষ্ট্য ভুঁই আমলায়
রস (স্বাদ) তিক্ত ও কষায়, সামান্য মধুর
বীর্য (প্রভাব) শীতল
বিপাক মধুর
দোষ-প্রভাব পিত্ত ও কফ কমায় বলে ধরা হয়
প্রধান অংশ গোটা গাছ, শিকড়সহ

আয়ুর্বেদ মতে ভুঁই আমলার শীতল ও তিক্ত চরিত্রই একে পিত্তপ্রধান সমস্যায়, বিশেষত গরমে বেড়ে যাওয়া যকৃতের উষ্ণতা ও জন্ডিসের প্রসঙ্গে উপযোগী বলে ধরার প্রধান কারণ হিসেবে শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। নিজের দোষ ও প্রকৃতির সাধারণ ধারণা থাকলে বোঝা যায়, কেন একে গরম প্রকৃতির উষ্ণ ভেষজের বদলে শীতল ঘরানায় ফেলা হয়। তবে মনে রাখতে হবে, শাস্ত্রের এই শ্রেণিবিন্যাস ব্যবহারের যুক্তি দেয়, আধুনিক অর্থে কার্যকারিতার প্রমাণ নয়।

ভুঁই আমলা কি সত্যিই লিভারের জন্য ভালো?

ভুঁই আমলার লিভার-উপকারের প্রশ্নে সৎ উত্তর হলো, ছবিটা আশাব্যঞ্জক কিন্তু অসম্পূর্ণ, গবেষণাগারে ভালো ইঙ্গিত থাকলেও মানুষে তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। এই দুই দিক গুলিয়ে ফেললেই ভুল বার্তা তৈরি হয়, তাই একটু গুছিয়ে দেখা যাক।

গবেষণাগার ও প্রাণী-গবেষণার দিকটা তুলনায় জোরালো। কার্বন টেট্রাক্লোরাইড দিয়ে ইঁদুরের লিভারে ক্ষতি করানোর মডেলে ভুঁই আমলার নির্যাস ALT ও AST এনজাইম কমিয়েছে এবং অক্সিডেটিভ চাপ হ্রাস করেছে বলে একাধিক প্রাণী-গবেষণায় জানানো হয়েছে। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের প্রসঙ্গে সবচেয়ে পুরোনো ও আলোচিত কাজটি ১৯৮৭ সালে PNAS জার্নালে প্রকাশিত হয়, যেখানে ভুঁই আমলার নির্যাস গবেষণাগারে ভাইরাসের DNA পলিমারেজকে বাধা দিয়েছিল এবং সংক্রমিত উডচাক প্রাণীর কারো কারো শরীর থেকে ভাইরাস কমিয়ে দিয়েছিল (Venkateswaran ও সহকর্মীরা, PNAS, ১৯৮৭)। এই কাজটিই বহু বছর ধরে ভুঁই আমলাকে লিভার-ভেষজ হিসেবে খ্যাতি দিয়েছে।

কিন্তু মানুষের ওপর করা নিয়ন্ত্রিত ট্রায়ালে এই আশা তেমন ধরা দেয়নি, আর এই দিকটাই বেশিরভাগ ঘরোয়া লেখায় চেপে যাওয়া হয়। দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস বি নিয়ে ২০১৮ সালে Complementary Medicine Research জার্নালে প্রকাশিত একটি র‍্যান্ডমাইজড প্লাসিবো-নিয়ন্ত্রিত ট্রায়ালে ৪৭ জন রোগীর ওপর এক বছর পরীক্ষা করে দেখা যায়, ভুঁই আমলা ও প্লাসিবোর মধ্যে ভাইরাসের মাত্রায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই, কারো ক্ষেত্রেই ভাইরাস পুরো সাফ হয়নি (Baiguera ও সহকর্মীরা, ২০১৮)। গবেষকদের সিদ্ধান্ত ছিল স্পষ্ট, এই তথ্য দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস বি-তে ভুঁই আমলা ব্যবহারের পক্ষে সমর্থন দেয় না।

একটিমাত্র ট্রায়ালে অবশ্য প্রশ্নটা মেটে না, আর এখানে প্রমাণের সর্বোচ্চ স্তরটিও পাওয়া যায়। Cochrane Hepato-Biliary গোষ্ঠীর পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় (Xia, Luo, Liu ও Gluud, Cochrane Database of Systematic Reviews, ২০১৩, CD009004.pub2) ভুঁই আমলা-জাতীয় Phyllanthus প্রজাতিকে সরাসরি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের সঙ্গে তুলনা করা হয়, মোট পাঁচটি র‍্যান্ডমাইজড ট্রায়াল ও ২৯০ জন রোগীর তথ্যে। ফল পরিষ্কার। HBsAg বা HBV DNA পরিষ্কার হওয়ার হারে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের তুলনায় Phyllanthus কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি করেনি, আর HBeAg-এর ক্ষেত্রে সাধারণ মেটা-বিশ্লেষণে যে সুবিধাটুকু দেখা গিয়েছিল, ট্রায়াল সিকোয়েনশিয়াল অ্যানালাইসিস প্রয়োগ করার পর সেটিও টেকেনি। পর্যালোচকদের সিদ্ধান্ত, দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস বি-তে Phyllanthus ব্যবহারের পক্ষে বা বিপক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো যথেষ্ট প্রমাণ এখনো নেই, আর অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি ট্রায়ালকেই তাঁরা উচ্চ পক্ষপাত-ঝুঁকির ধরেছেন। এটিই এই প্রশ্নে পাওয়া সবচেয়ে উঁচু স্তরের প্রমাণ।

অ্যালকোহলজনিত লিভারের সমস্যাতেও একই রকম মিশ্র ছবি। ২০২১ সালে Indian Journal of Pharmacology-তে প্রকাশিত একটি ডাবল-ব্লাইন্ড ট্রায়ালে ৭১ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চার সপ্তাহ ভুঁই আমলা খেয়ে লিভার ফাংশন টেস্টে স্পষ্ট উন্নতি হয়নি, তবে শরীরের মোট অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মাত্রা (P = ০.০৩৪) ও ক্ষুধা কিছুটা বেড়েছিল (Sowjanya ও সহকর্মীরা, ২০২১)। অর্থাৎ কিছু সহায়ক প্রভাব থাকতে পারে, কিন্তু লিভার সারানোর নিশ্চিত প্রমাণ নেই। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই ভুঁই আমলাকে দেখা উচিত, ফ্যাটি লিভারে খাদ্য ও জীবনযাত্রার মূল যত্নের একটা সম্ভাব্য সহায়ক হিসেবে, তার বিকল্প হিসেবে নয়।

নিচের ছকে ভুঁই আমলার প্রচলিত ব্যবহার ও তার পিছনে প্রমাণের জোর আলাদা করে সাজানো, যাতে কোনটা কতটা প্রতিষ্ঠিত তা এক নজরে বোঝা যায়।

যেখানে ব্যবহৃত হয় সম্ভাব্য ভূমিকা (হেজ করা) প্রমাণের জোর
লিভার সুরক্ষা এনজাইম ও অক্সিডেটিভ চাপ কমাতে সহায়ক বলে ইঙ্গিত সীমিত প্রমাণ (মূলত প্রাণী-গবেষণা)
জন্ডিস যকৃতের পিত্ত-উষ্ণতা কমাতে ব্যবহৃত ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার
হেপাটাইটিস বি গবেষণাগারে ভাইরাস-রোধী ইঙ্গিত, মানুষে নয়, Cochrane পর্যালোচনায় ৫ ট্রায়াল ও ২৯০ জনে সিদ্ধান্তহীন অপর্যাপ্ত প্রমাণ
ফ্যাটি লিভার চর্বি ও প্রদাহ কমাতে আলোচিত সীমিত প্রমাণ (প্রাণী-গবেষণা)
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ক্ষুধা কিছুটা বাড়াতে পারে সীমিত প্রমাণ (একটি RCT-তে ইঙ্গিত)
কিডনি ও মূত্রের পাথর পাথর গলা ও মূত্রবর্ধনে লোকজ ব্যবহার সীমিত প্রমাণ, ঐতিহ্যগত ব্যবহার

জন্ডিসে ভুঁই আমলার ঐতিহ্যবাহী ব্যবহার

জন্ডিসে ভুঁই আমলার ব্যবহার বাংলা ও ভারতের গ্রামীণ লোকচিকিৎসায় বহু পুরোনো, যেখানে গোটা গাছের রস একটি সাধারণ ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রচলিত প্রথায় তাজা ভুঁই আমলা গাছ বেটে তার রস, কখনো দুধ বা মিছরির সঙ্গে, সকাল-সন্ধ্যা খাওয়ানোর কথা শোনা যায়। এই ব্যবহার এতটাই চেনা যে অনেক অঞ্চলে গাছটির নামই হয়ে গেছে জন্ডিসের গাছ।

তবে এখানে একটু থামা দরকার। জন্ডিস নিজে কোনো রোগ নয়, এটি একটি উপসর্গ, যা লুকিয়ে থাকা নানা কারণে হতে পারে, তার কিছু হালকা আর কিছু বেশ গুরুতর, যেমন ভাইরাল হেপাটাইটিস, পিত্তনালীর বাধা বা লিভারের বড় সমস্যা। ঘরোয়া রসে ভরসা করে আসল কারণ শনাক্ত করতে দেরি করলে বিপদ বাড়তে পারে। তাই চোখ বা প্রস্রাব হলুদ দেখলে প্রথম কাজ ভুঁই আমলার রস খাওয়া নয়, বরং রক্ত পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। ভুঁই আমলা বড়জোর চিকিৎসার পাশে সহায়ক হতে পারে, নিজে চিকিৎসা নয়।

ভুঁই আমলা খাওয়ার নিয়ম ও মাত্রা

ভুঁই আমলার প্রচলিত মাত্রা নির্ভর করে আপনি কোন রূপে নিচ্ছেন তার ওপর, আর এই মাত্রাগুলো মূলত ঐতিহ্যবাহী পরামর্শ, কোনো ট্রায়াল-নির্ধারিত ডোজ নয়। রূপভেদে প্রচলিত মাত্রা নিচের ছকে দেওয়া হলো।

রূপ প্রচলিত মাত্রা কীভাবে
তাজা রস ১০ থেকে ২০ মিলি দিনে দুইবার, খাবারের আগে
শুকনো গুঁড়ো ৩ থেকে ৬ গ্রাম কুসুম গরম জল বা মধুর সঙ্গে
ক্বাথ (সিদ্ধ জল) ২০ থেকে ৩০ মিলি দিনে এক থেকে দুইবার

সাধারণ ব্যবহারে আধ চা চামচের কাছাকাছি অর্থাৎ প্রায় ৩ গ্রাম শুকনো গুঁড়ো এক কাপ, প্রায় ১৫০ মিলি, কুসুম গরম জলে মিশিয়ে দিনে একবার দিয়ে শুরু করা যায়। অল্প মাত্রায় শুরু করে শরীরের সাড়া দেখে নেওয়া, আর টানা অনেক দিন না খেয়ে মাঝে বিরতি দেওয়া, এই দুটো অভ্যাসই নিরাপদ পথ। বেশি মানেই ভালো নয়। ভুঁই আমলাকে হজম শক্তির সহায়ক অভ্যাসের একটা অংশ ভাবা যায়, তার জায়গা নয়। দীর্ঘ কোনো রোগ থাকলে বা ওষুধ চললে মাত্রা ঠিক করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নিন।

গাছ চেনার উপায় ও কোথায় জন্মে

ভুঁই আমলা চেনার সবচেয়ে সহজ সূত্র হলো এর পাতার নিচে সারি বেঁধে ঝুলে থাকা ছোট ছোট গোল বীজ, যা অন্য অনেক আগাছা থেকে একে আলাদা করে দেয়। গাছটি সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার উঁচু, সরু ডাঁটার দুই পাশে ছোট ছোট ডিম্বাকার পাতা তেঁতুল পাতার মতো সাজানো, আর সেই পাতার তলাতেই বীজের সারি। চিনলে আর ভুল হয় না।

এটি বর্ষার গাছ, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের স্যাঁতসেঁতে মাটিতে, বাগানের কোণে, ধানখেতের আল বা রাস্তার ধারে বর্ষায় নিজে থেকেই জন্মায়, আলাদা করে চাষ করতে হয় না। অনেকে এটিকে নিছক আগাছা ভেবে উপড়ে ফেলেন। ছবি মিলিয়ে বা স্থানীয় কবিরাজের সাহায্যে চিনে নেওয়া ভালো, কারণ Phyllanthus গণের কাছাকাছি চেহারার আরও কিছু গাছ আছে, আর ভুল গাছ তুলে ফেললে উদ্দেশ্যই মাটি হয়। কেনার সময় শুকনো গুঁড়োর ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক নাম Phyllanthus niruri দেখে নেওয়া নিরাপদ।

ভুঁই আমলার অপকারিতা ও কে সতর্ক থাকবেন

ভুঁই আমলার সতর্কতার তালিকাটা যত না পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার, তার চেয়ে বেশি ওষুধের সঙ্গে প্রভাব যোগ হয়ে যাওয়ার, আর এর গোড়ায় আছে মানুষের উপর করা একটিমাত্র ছোট গবেষণা। ১৯৯৫ সালে Indian Journal of Experimental Biology-তে প্রকাশিত Srividya ও Periwal-এর কাজে ৯ জন মৃদু উচ্চ-রক্তচাপের রোগীকে (তাঁদের চারজন ডায়াবেটিসেও আক্রান্ত) ১০ দিন গোটা গাছের প্রস্তুতি খাওয়ানো হয়। ২৪ ঘণ্টার প্রস্রাবের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য বেড়েছিল, ডায়াবেটিস নেই এমন রোগীদের সিস্টোলিক রক্তচাপ উল্লেখযোগ্য কমেছিল, আর রক্তের শর্করাও উল্লেখযোগ্য নেমেছিল। গবেষকরা ক্ষতিকর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পাননি।

সংখ্যাটা মাথায় রাখুন, নয় জন। এটি ভুঁই আমলাকে বিপজ্জনক প্রমাণ করে না, কিন্তু নিচের প্রথম তিনটি সতর্কতার পুরো ভিত্তি ওই একটিমাত্র ছোট গবেষণা, আর সেটা জানা থাকলে সতর্কতাগুলোকে ঠিক ওজনে বসানো যায়।

  • ডায়াবেটিসে যাঁরা শর্করা কমানোর ওষুধ বা ইনসুলিন নেন, কারণ উপরের গবেষণায় রক্তের শর্করা উল্লেখযোগ্য কমেছিল, দুটো প্রভাব যোগ হলে মাত্রা বেশি নেমে যেতে পারে
  • রক্তচাপ কম থাকলে বা রক্তচাপের ওষুধ চললে, একই গবেষণায় সিস্টোলিক রক্তচাপ কমার কারণে
  • মূত্রবর্ধক ওষুধ চললে, কারণ ওই গবেষণায় প্রস্রাবের পরিমাণ ও সোডিয়ামের মাত্রা দুটোই বেড়েছিল
  • গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েরা। এখানে ইঙ্গিতটি প্রাণী-গবেষণার, ২০২০ সালে Journal of Ethnopharmacology-তে প্রকাশিত একটি ইঁদুর-গবেষণায় গর্ভাবস্থায় ভুঁই আমলার নির্যাসে প্রজনন-বিষক্রিয়া বা ত্রুটি-সৃষ্টি দেখা যায়নি, কিন্তু মায়ের কিডনির ওজন ও গঠনে পরিবর্তন এবং ভ্রূণের অস্বাভাবিক ওজনবৃদ্ধি ধরা পড়ে, আর গবেষকদের নিজেদের ভাষায় এটি গর্ভাবস্থায় ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে
  • রক্ত পাতলা করার ওষুধ চললে ও নির্ধারিত অস্ত্রোপচারের এক থেকে দুই সপ্তাহ আগে। এই দুটি ভেষজ ব্যবহারের সাধারণ সাবধানতা, উপরের কোনো গবেষণায় ভুঁই আমলা নিয়ে আলাদা করে রক্তক্ষরণের ঝুঁকির কথা লেখা নেই, তাই এগুলিকে সতর্কতা হিসেবেই দেখুন, প্রমাণ হিসেবে নয়

নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় কথাটা অবশ্য অন্য জায়গায়, আর সেটা একটু অস্বস্তিকর। উপরের Cochrane পর্যালোচনায় অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি ট্রায়ালের একটিতেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কোনো তথ্য নথিভুক্ত হয়নি। অর্থাৎ ভুঁই আমলা নিরাপদ বলে প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়, বরং প্রশ্নটাই ঠিকমতো করা হয়নি। তথ্যের অনুপস্থিতিকে নিরাপত্তার প্রমাণ ধরে নেওয়া যায় না।

জন্ডিস বা লিভারের কোনো সমস্যাকে ভুঁই আমলা দিয়ে ঘরে সামলানোর চেষ্টা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এতে আসল কারণ শনাক্ত হতে দেরি হয়। লিভার সুরক্ষায় আগ্রহ থাকলে কাঁচা হলুদ বা করলার মতো ভেষজও একই যুক্তিতে সহায়ক ভাবা হয়, কিন্তু কোনোটিই ওষুধ বা চিকিৎসকের বিকল্প নয়। সবচেয়ে বড় কথা, কোনো নতুন ভেষজ নিয়মিত শুরু করার আগে, বিশেষত অন্য ওষুধের সঙ্গে, একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এখানে সত্যিই দরকারি।

একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ

ভুঁই আমলা নিয়ে পড়তে গিয়ে আমার কাছে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, একটা ভেষজের খ্যাতি আর তার প্রমাণ সবসময় এক পথে চলে না। ছোটবেলায় দেখেছি, উঠোনের যে গাছটাকে সবাই আগাছা ভেবে উপড়ে ফেলত, বর্ষায় কারো জন্ডিস হলে সেই একই গাছ খুঁজে বেড়ানো হতো। অথচ ভালো করে ঘেঁটে দেখলাম, এর হেপাটাইটিস বি সারানোর যে গল্পটা ঘরে ঘরে চালু, মানুষের ওপর ট্রায়ালে সেটা দাঁড়ায়নি। গল্প আর প্রমাণ আলাদা। আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, কত সহজে একটা প্রাণী-গবেষণার আশা লোকমুখে নিশ্চিত ওষুধ হয়ে ওঠে? এই একটা উদাহরণ আমাকে মনে করিয়ে দেয়, ঐতিহ্যকে সম্মান করা আর তাকে যাচাই না করে বিশ্বাস করা দুটো এক জিনিস নয়, আর এই ফারাকটুকু বুঝে নিলেই ভেষজ নিয়ে অকারণ অতিরিক্ত আশা বা ভয়, দুটোই এড়ানো যায়।

সংক্ষেপে ও উপসংহার

ভুঁই আমলা লিভার ও জন্ডিসের প্রসঙ্গে বাংলার একটি পুরোনো, শ্রদ্ধেয় ভেষজ, কিন্তু তার উপকার নিঃশর্ত নয়। প্রাণী-গবেষণায় লিভার-সুরক্ষার ভালো ইঙ্গিত আছে, ঐতিহ্যে জন্ডিস ও পাথরে ব্যবহার আছে, তবে মানুষের ট্রায়ালে হেপাটাইটিস বি বা লিভার ফাংশনে স্পষ্ট উপকার এখনো প্রমাণিত হয়নি। ছবিটা মিশ্র।

আজ যদি একটাই কথা মনে রাখেন, তবে সেটা হোক এই। চোখ বা প্রস্রাব হলুদ দেখলে ভুঁই আমলার রসে ভরসা না করে আগে রক্ত পরীক্ষা করান, আর তারপর চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিন। ভেষজ হিসেবে ভুঁই আমলা খেতে চাইলে অল্প মাত্রায় শুরু করুন, টানা না খেয়ে বিরতি দিন, আর ডায়াবেটিস বা রক্তচাপের ওষুধ চললে শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ঐতিহ্যকে কাজে লাগান, কিন্তু যাচাইকে হাতছাড়া করবেন না।

লিভার ও রোগ প্রতিরোধের আগ্রহে অন্য ভেষজ দেখতে চাইলে গিলয় বা গুডুচি এবং গলা ও অম্লে ব্যবহৃত যষ্টিমধুর পাতাও পড়ে দেখতে পারেন।

সূত্র / Sources

  • Venkateswaran PS, Millman I, Blumberg BS. Effects of an extract from Phyllanthus niruri on hepatitis B and woodchuck hepatitis viruses. Proc Natl Acad Sci USA, ১৯৮৭: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/3467354
  • Baiguera C ও সহকর্মীরা. Phyllanthus niruri versus Placebo for Chronic Hepatitis B Virus Infection, A Randomized Controlled Trial. Complement Med Res, ২০১৮: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/30372693
  • Sowjanya K ও সহকর্মীরা. Efficacy of Phyllanthus niruri on improving liver functions in alcoholic hepatitis, a double-blind RCT. Indian J Pharmacol, ২০২১: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/34975132
  • Xia Y, Luo H, Liu JP, Gluud C. Phyllanthus species versus antiviral drugs for chronic hepatitis B virus infection. Cochrane Database of Systematic Reviews, ২০১৩;২০১৩(৪):CD009004. DOI 10.1002/14651858.CD009004.pub2. ৫টি ট্রায়াল, ২৯০ জন, সবকটি উচ্চ পক্ষপাত-ঝুঁকির, আর কোনোটিতেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তথ্য নেই: PubMed 23633363
  • Srividya N, Periwal S. Diuretic, hypotensive and hypoglycaemic effect of Phyllanthus amarus. Indian Journal of Experimental Biology, ১৯৯৫;৩৩(১১):৮৬১ থেকে ৮৬৪। ৯ জন মানুষ, ১০ দিন, শর্করা ও রক্তচাপ-সংক্রান্ত সতর্কতার মূল ভিত্তি: PubMed 8786163
  • Paula VG ও সহলেখক. Maternal-fetal repercussions of Phyllanthus niruri L. treatment during rat pregnancy. Journal of Ethnopharmacology, ২০২০;২৫৪:১১২৭২৮. DOI 10.1016/j.jep.2020.112728. গর্ভাবস্থার সতর্কতার প্রাণী-গবেষণা ভিত্তি: PubMed 32145330
  • Pratima H ও সহকর্মীরা. Phytochemical profile and hepatoprotective potentiality of Phyllanthus genus: a review. Journal of Pharmacy and Pharmacology, ২০২৫;৭৭(২):১৮৯ থেকে ২০৫. DOI 10.1093/jpp/rgae040. ফাইলান্থিন, হাইপোফাইলান্থিন ও এলাজিক অ্যাসিডের হেপাটোপ্রোটেকটিভ ভূমিকা, গবেষণাগার ও প্রাণী-গবেষণার সারসংক্ষেপ: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/38642916
  • ধ্রুপদী রেফারেন্স: চরক সংহিতা ও সুশ্রুত সংহিতা (ভূম্যামলকী, যকৃৎ ও পিত্ত প্রসঙ্গ)

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। এটি চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

না, ভুঁই আমলা আর আমলকী এক নয়। ভুঁই আমলা হলো Phyllanthus niruri নামের ছোট একটি আগাছা-জাতীয় গাছ, যার পাতার নিচে সারি সারি ছোট বীজ থাকে, আর আমলকী হলো Emblica officinalis নামের গাছের টক ফল। দুটির নামেই 'আমলা' থাকলেও এরা আলাদা প্রজাতি, ব্যবহারও আলাদা। ভুঁই আমলা মূলত লিভার ও জন্ডিসের প্রসঙ্গে বেশি আলোচিত।
ভুঁই আমলাভূম্যামলকীলিভারজন্ডিসভেষজ
অভিজিৎ সাউ

লেখক সম্পর্কে

অভিজিৎ সাউ

তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক

তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত একজন প্রকৌশলী। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলা ভাষায় আয়ুর্বেদ, ভেষজ ও প্রাকৃতিক জীবনযাত্রার বিশ্বস্ত তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিটি নিবন্ধের পেছনে শাস্ত্রীয় গ্রন্থ, AYUSH মন্ত্রকের নির্দেশিকা ও প্রকাশিত গবেষণাপত্র যাচাই করি।

এই নিবন্ধটি প্রকাশের আগে প্রাথমিক উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই ও সম্পাদনা করা হয়েছে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি।

আরও পড়ুন
বেল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা বোঝাতে কাঠের টেবিলে আস্ত সবুজ বেল ফল, মাঝখান থেকে কাটা পাকা বেলের কমলা-হলুদ শাঁস ও বীজ, এক গ্লাস বেলের শরবত, বাটিতে শুকনো বেল শুঁঠ আর বেল পাতা, পেছনে গাছে ঝুলন্ত বেল
ভেষজ22 মিনিট

বেল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা, কাঁচা আর পাকা বেলের আসল ফারাক

বেল খাওয়ার উপকারিতা কতটা প্রমাণিত, কাঁচা ও পাকা বেলের ফারাক, পাকা বেল খাওয়ার অপকারিতা, ডায়াবেটিসে বেল, বেল পাতার রস খেলে কী হয় আর খাওয়ার সঠিক সময়।

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ
পান পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা বোঝাতে কাঠের টেবিলে জলের ফোঁটা লাগা সবুজ পান পাতার স্তূপ, মাটির বাটিতে কাটা সুপারি, চুন ও খয়ের, মৌরি ছড়ানো একটি খোলা খিলি পান, আর কোণে লতায় ঝোলা হৃদয়াকৃতি পাতার ছোট গোল ছবি
ভেষজ19 মিনিট

খালি পান খেলে কি হয়? পান পাতার উপকারিতা ও অপকারিতার প্রমাণ

পান পাতার উপকারিতা কতটা প্রমাণিত, খালি পান খেলে কি হয়, পান খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতায় সুপারি-জর্দার দায়, মিষ্টি পান, পান খাওয়ার নিয়ম ও সতর্কতা।

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ
পেয়ারা পাতার উপকারিতা বোঝাতে সবুজ পেয়ারা পাতা, কাটা সাদা ও গোলাপি শাঁসের পেয়ারা, কাচের কাপে পেয়ারা পাতার চা, কাঠের বাটিতে শুকনো পাতা, আর পেটব্যথা, সুগার মাপা ও সুরক্ষার তিনটি ছোট গোল ছবি
ভেষজ20 মিনিট

পেয়ারা পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা, ১৪টি পাতার ট্রায়াল যা বলছে

পেয়ারা পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা কোন ট্রায়ালে প্রমাণিত, পেয়ারা পাতা খাওয়ার নিয়ম ও মাত্রা, খালি পেটে পাতা খাওয়া আর পাতার চা ও রস নিয়ে যা জানা আছে।

১২ অক্টোবর, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ