আরোগ্য বাংলা
ভেষজ ২৫ মে, ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ 13 মিনিট পড়ুন

গিলয় বা গুলঞ্চের উপকারিতা, খাওয়ার নিয়ম আর লিভার-ঝুঁকির সৎ কথা

গিলয় বা গুলঞ্চ (গুডুচি) কেন আয়ুর্বেদে অমৃতা, ইমিউনিটি ও জ্বরে উপকার, খাওয়ার নিয়ম, লিভার-ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা কী বলে আর কাদের এড়ানো উচিত, বাংলা গাইড।

অ
অভিজিৎ সাউ
তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক

AI-সহায়তায় গবেষণা ও খসড়া; সম্পাদনা, যাচাই ও তথ্যের দায়ভার লেখক অভিজিৎ সাউ-এর। সম্পাদকীয় নীতি ও গবেষণা পদ্ধতি।

গাছ বেয়ে ওঠা গিলয় বা গুলঞ্চের লতা ও পান-পাতার মতো হৃদয়াকৃতি পাতা, কাঠের গুঁড়ির উপর ফোঁড়যুক্ত কাণ্ডের টুকরো, কাচের বাটিতে হলদে-সবুজ কাড়া ও পাশে গুডুচি চূর্ণ, উপরে ইমিউনিটির ঢাল-প্রতীক, ডানে মানবদেহে লিভারের অবস্থান আর ক্ষতিগ্রস্ত লিভারের সতর্কতা-চিহ্ন, গিলয়ের উপকারিতা ও লিভার-ঝুঁকি নিয়ে লেখার প্রচ্ছদ

বাংলার অনেক পুরোনো বাড়ির পেছনে আমগাছ বা নিমগাছ বেয়ে যে সরু লতা উঠে যায়, হৃদয়াকৃতির পান-পাতার মতো পাতা, কান্ডে ছোট ছোট ফোঁড়, গ্রামীণ বাংলায় তাকে অনেকে গুলঞ্চ বা গুলঞ্চ লতা বলে চেনেন। আয়ুর্বেদ-শাস্ত্রে এই ভেষজেরই নাম গুডুচি, আর সংস্কৃতে এর সবচেয়ে কাব্যিক ডাক অমৃতা, অর্থাৎ যা অমৃতের মতো জীবনদায়ী। কোভিড-পরবর্তী সময়ে হিন্দি ঘেঁষা নাম গিলয় সবচেয়ে বেশি চালু হয়ে গেছে। নাম যাই বদলাক, গাছ আর তার তিতে স্বাদ সেই একই থেকে গেছে, শুধু আজ তা উঠান থেকে উঠে এসেছে শহরের ফার্মেসির তাকে।

গিলয় বা গুলঞ্চ আসলে কতটা কাজ করে, এর সোজা উত্তর হলো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও জ্বরে ঐতিহ্যবাহী ব্যবহার দীর্ঘকালের, আর আধুনিক গবেষণা এর ইমিউনিটি-সংক্রান্ত সম্ভাবনার প্রাথমিক ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিন্তু একটা কথা এই লেখায় চেপে যাওয়া হবে না। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দীর্ঘ বা বেশি মাত্রায় গিলয় সেবনের সঙ্গে বিরল অথচ গুরুতর লিভার-ক্ষতির যোগ পাওয়া গেছে। তাই গিলয়কে প্রাকৃতিক বলেই নিরাপদ ভাবাটা ভুল, বিশেষত দীর্ঘদিন একটানা খেলে। এই পাতায় উপকার আর ঝুঁকি, দুটো দিকই সৎভাবে, গবেষণা মিলিয়ে সাজানো হয়েছে।

এক নজরে

  • গিলয়, গুলঞ্চ ও গুডুচি একই গাছ, Tinospora cordifolia, সংস্কৃতে অমৃতা
  • শাস্ত্রে এটি রসায়ন ও জ্বরঘ্ন, অর্থাৎ পুনরুজ্জীবনী ও জ্বর-প্রশমক ভেষজ
  • প্রধান আলোচিত ব্যবহার ইমিউনিটি, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, লিভার ও আমবাত
  • উপকারের আধুনিক প্রমাণ মূলত প্রাণী ও গবেষণাগার পর্যায়ে, মানুষে বড় ট্রায়াল কম
  • ঝুঁকির প্রমাণ উল্টো দিকে অনেক শক্ত, NIH-এর LiverTox গিলয়কে লিভার ক্ষতির প্রতিষ্ঠিত কারণ হিসেবে A শ্রেণিতে রেখেছে, ২০১৭ থেকে ৫০টির বেশি ঘটনা
  • ভারতের ১৩টি কেন্দ্রের গবেষণায় ৪৩ জন রোগী, উপসর্গ শুরু গড়ে ৪৬ দিনে
  • মনে রাখা ভালো, প্রাকৃতিক মানেই সবার জন্য নিরাপদ নয়, বিরতি ও পরামর্শ জরুরি

গিলয়, গুলঞ্চ নাকি গুডুচি, নাম আর চেনা নিয়ে কথা

গিলয়, গুলঞ্চ ও গুডুচি আসলে একই গাছের তিন নাম, শুধু ভাষা ও অঞ্চলভেদে আলাদা। বাংলায় এর পুরোনো নাম গুলঞ্চ বা গুলঞ্চ লতা, আয়ুর্বেদ-শাস্ত্রে গুডুচি, আর সংস্কৃতে অমৃতা। ইংরেজি-হিন্দি ঘেঁষা গিলয় নামটা কোভিডের পর সবচেয়ে বেশি চালু হয়েছে। বৈজ্ঞানিক নাম Tinospora cordifolia, Menispermaceae পরিবারের একটি আরোহী লতা।

চেনার সহজ সূত্র আছে। এর পাতা পান পাতার মতো হৃদয়াকৃতি, লতা অন্য গাছ বেয়ে ওঠে, আর কান্ড থেকে সরু সরু বায়বীয় মূল সুতোর মতো ঝুলে মাটির দিকে নামে, যা দেখেই এই লতাকে অন্য অনেক আগাছা থেকে সহজে আলাদা করা যায়। গ্রীষ্মে ছোট হলদে-সবুজ ফুল, শীতে লালচে ফল ধরে। শাস্ত্রে নিমগাছে চড়ানো গিলয়কে নিম-গুডুচি বলা হয় আর তাকেই সবচেয়ে গুণী ধরা হয়, কারণ নিমের তেতো গুণ তাতে যোগ হয় বলে বিশ্বাস।

বাংলায় গুলঞ্চের কয়েকটি ধরনও চেনা যায়। পদ্ম গুলঞ্চের ডাঁটায় পদ্মের মতো খাঁজ থাকে, আর ঘোড়া গুলঞ্চের পাতা মসৃণ ও স্বাদে বেশি তেতো। ওষধি ব্যবহারে মূলত Tinospora cordifolia-কেই ধরা হয়, তাই কেনার সময় বা নিজে তুলতে গেলে সঠিক গাছ চেনা জরুরি।

শাস্ত্রে গিলয় বা গুডুচির পরিচয়

শাস্ত্রে গুডুচিকে রসায়ন অর্থাৎ পুনরুজ্জীবনী ভেষজের সারিতে রাখা হয়েছে, যা দীর্ঘ ব্যবহারে শরীরের ধাতুগুলিকে পুষ্টি দেয় বলে ধরা হয়। চরক সংহিতার সূত্রস্থান ও কল্পস্থানে গুডুচিকে বহুবার এই রসায়ন গুণে আলোচনা করা হয়েছে। শাস্ত্রে এর সম্মান অনেক। শাস্ত্র একে ত্রিদোষ-শামক বলে, অর্থাৎ বাত, পিত্ত ও কফ তিন দোষের ভারসাম্যেই সম্ভাব্য সহায়ক।

সুশ্রুত সংহিতায় গুডুচি বিশেষভাবে জ্বরঘ্ন অর্থাৎ জ্বর-প্রশমক এবং মেধ্য অর্থাৎ মেধা-বর্ধক গণে স্থান পেয়েছে। তিতে স্বাদের এই লতাকে বিশেষত জীর্ণ-জ্বর, অর্থাৎ বারবার ফিরে আসা বা দীর্ঘস্থায়ী জ্বরে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে, যেখানে সাধারণ জ্বর নেমে গেলেও শরীর পুরোপুরি সেরে উঠতে চায় না। এটাই এর সবচেয়ে পুরোনো ও প্রতিষ্ঠিত শাস্ত্রীয় পরিচয়।

অমলকীর লেখায় আমরা দেখেছি, রসায়ন-ভেষজের সাধারণ ধর্মই হলো ধীরে ধীরে শরীরের ভিতরের বল গড়ে তোলা, দ্রুত কোনো জাদু নয়। গিলয়ও সেই ঘরানার, আর সেই কারণেই এটি দীর্ঘকালীন প্রতিরোধ ক্ষমতার আলোচনায় বারবার আসে, চ্যবনপ্রাশের একটি উপাদান হিসেবেও।

আধুনিক গবেষণা গিলয় নিয়ে কী বলে?

আধুনিক গবেষণায় গিলয়ের কিছু সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে, তবে গোড়াতেই বলা দরকার, বেশিরভাগ প্রমাণ এখনো প্রাণী ও গবেষণাগার পর্যায়ে, মানুষে নয়। প্রমাণ এখনো কাঁচা। গিলয়ে থাকা অ্যালকালয়েড (যেমন বার্বেরিন, প্যালমেটিন), ডাইটারপেনয়েড ও পলিস্যাকারাইডের সম্ভাব্য ইমিউনোমডুলেটরি, প্রদাহ-নাশক ও লিভার-সুরক্ষামূলক গুণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ইমিউনিটির প্রসঙ্গে ২০২৪ সালে Heliyon জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, গিলয়ের পাতা রোগ-প্রতিরোধী কোষ সক্রিয় করা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের মতো একাধিক পথে কাজ করতে পারে বলে ইঙ্গিত আছে। তবে ওই পর্যালোচনাই স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই প্রমাণ মূলত কোষ ও প্রাণী-গবেষণার, মানুষের ওপর বড় ও নিয়ন্ত্রিত ট্রায়াল এখনো সীমিত। অর্থাৎ গিলয় সম্ভাবনাময়, কিন্তু নিশ্চিত ওষুধ নয়।

এই বাস্তবতা মাথায় রাখা জরুরি, কারণ কোভিডের সময় গিলয়কে অনেকে নিশ্চিত ইমিউনিটি-রক্ষাকবচ ভেবে যথেচ্ছ খেয়েছিলেন। সম্ভাবনা আর প্রমাণিত কার্যকারিতা এক জিনিস নয়, আর এই ফারাকটুকু না বুঝলে ভেষজের বেশি মাত্রার দিকেই ঝোঁক তৈরি হয়।

গিলয়ের প্রধান উপকারিতা কী কী

গিলয়ের সবচেয়ে আলোচিত ব্যবহার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও জ্বরে, তারপর আসে লিভার, জয়েন্ট ও রক্তে শর্করার প্রসঙ্গ। কোন ব্যবহারের পিছনে কতটা প্রমাণ, তা এক নজরে দেখা দরকার, কারণ সব দাবির ভিত সমান শক্ত নয়।

যেখানে ব্যবহৃত হয় সম্ভাব্য ভূমিকা (হেজ করা) প্রমাণের জোর
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ইমিউন-কোষ সক্রিয় করায় সহায়ক বলে ইঙ্গিত সীমিত প্রমাণ (মূলত প্রাণী ও কোষ)
দীর্ঘস্থায়ী বা জীর্ণ-জ্বর জ্বর-প্রশমনে ঐতিহ্যে ব্যবহৃত ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার
আমবাত ও জয়েন্ট-ব্যথা প্রদাহ কমাতে আলোচিত সীমিত প্রমাণ
রক্তে শর্করা শর্করা কমাতে সম্ভাব্য সহায়ক সীমিত প্রমাণ
লিভার সুরক্ষা প্রাণী-গবেষণায় হেপাটোপ্রোটেকটিভ গুণ আলোচিত, মানুষে দেখানো যায়নি অপর্যাপ্ত প্রমাণ
লিভারের ক্ষতি (উপকার নয়, ঝুঁকি) LiverTox-এ প্রতিষ্ঠিত কারণ, A শ্রেণি, ৫০+ নথিভুক্ত ঘটনা শক্তিশালী প্রমাণ

ছকের শেষ দুটি সারি পাশাপাশি পড়া দরকার, কারণ সেখানেই গিলয়ের আসল ভারসাম্যটা ধরা পড়ে। লিভারের উপকারের দাবিটি প্রাণী-গবেষণার, আর লিভারের ক্ষতির প্রমাণটি মানুষের নথিভুক্ত ঘটনার। একই অঙ্গ, দুই বিপরীত দিক, কিন্তু প্রমাণের ওজন সমান নয়।

জ্বর ও প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রসঙ্গে গিলয়ের ব্যবহার সবচেয়ে পুরোনো, আর ঋতু বদলের সময় সর্দি-কাশির ঘরোয়া যত্নের সঙ্গে এর নাম বিশেষভাবে ঘুরেফিরে আসে, যদিও তা রোগ ঠেকানোর নিশ্চয়তা নয়, বরং একটা সহায়ক অভ্যাস মাত্র। জয়েন্ট-ব্যথায় একে আয়ুর্বেদে আমবাত ব্যবস্থাপনায় ধরা হয়, যা হাঁটু ও বাতের ব্যথার আলোচনার সঙ্গে মেলে। রক্তে শর্করার প্রসঙ্গে এটি সহায়ক হতে পারে বলে আলোচিত, তবে ডায়াবেটিসের খাদ্য ও ওষুধের পরিপূরক নয়, বরং মিথস্ক্রিয়ার ঝুঁকি আছে। লিভারের প্রসঙ্গটা সবচেয়ে জটিল, তাই সেটি আলাদা করে দেখা দরকার। এটাই আসল প্যাঁচ।

গিলয় কি সত্যিই লিভারের ক্ষতি করে?

গিলয় সাধারণ মাত্রায় বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ বলে ধরা হলেও, আমেরিকার জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থার ওষুধ-জনিত লিভার-ক্ষতির ডেটাবেস LiverTox Tinospora cordifolia-কে লিভার ক্ষতির প্রতিষ্ঠিত কারণ হিসেবে সর্বোচ্চ শ্রেণিতে, অর্থাৎ A শ্রেণিতে রেখেছে। এটাই এই লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাক্য, আর বাংলায় এই তথ্যটি কোথাও নেই।

শ্রেণিবিন্যাসটা কী বলছে, একটু ভেঙে বলি। LiverTox-এর ভাষায় A শ্রেণি মানে "well established cause of clinically apparent liver injury", অর্থাৎ যে কারণটি নিয়ে আর সন্দেহ নেই। ২০১৭ সাল থেকে ৫০টিরও বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, ALT ও AST স্বাভাবিকের ১০ থেকে ৫০ গুণ পর্যন্ত উঠেছে (৫০০ থেকে ৩০০০ ইউনিট), জড়িত মাত্রা সাধারণত দিনে ৪০০ থেকে ১০০০ মিলিগ্রাম, আর উপসর্গ দেখা দিতে সময় লেগেছে কয়েক সপ্তাহ থেকে ছয় মাস (NIDDK, Tinospora cordifolia, LiverTox, NCBI Bookshelf NBK608429, সর্বশেষ হালনাগাদ ২৭ জুন ২০২৫)। প্রমাণের স্তরের হিসাবে এই ঝুঁকিটি শক্তিশালী প্রমাণ, অথচ গিলয়ের কোনো উপকারিতার দাবি এখনো সেই স্তরে পৌঁছয়নি। এই অসমতাটুকুই আসল কথা।

তুলনাটা বসালে গিলয়ের অবস্থানটা আরও পরিষ্কার হয়, কারণ বাঙালি ঘরে চেনা আরও তিনটি ভেষজ একই ডেটাবেসে নথিভুক্ত এবং চারটি মিলে একটি পূর্ণ সিঁড়ি তৈরি করে। গিলয় A, অশ্বগন্ধা B (NBK548536, হালনাগাদ ৩ ডিসেম্বর ২০২৪), থানকুনি C (Centella asiatica, NBK603561, হালনাগাদ ২৪ এপ্রিল ২০২৪) এবং সোনা পাতা D (Senna, NBK547922, হালনাগাদ ১ এপ্রিল ২০২০)। চারটির মধ্যে গিলয়ই সবচেয়ে উপরে, অর্থাৎ সবচেয়ে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত কারণ। এই সিঁড়িটা বাংলায় কোথাও একসঙ্গে দেওয়া নেই, অথচ চারটি ভেষজই ইমিউনিটি বা ওজন কমানোর নামে পাশাপাশি বিক্রি হয়।

সংখ্যাগুলো কোথা থেকে এল, সেটাও জেনে রাখা দরকার, কারণ দুটি আলাদা গবেষণা প্রায়ই গুলিয়ে ফেলা হয়। বড়টি ভারতের নয়টি শহরের তেরোটি কেন্দ্র মিলে করা একটি পশ্চাদমুখী গবেষণা, যেখানে ৪৩ জন রোগীর তথ্য একত্র করা হয়েছিল। তাঁদের অর্ধেকেরও বেশি নারী, গিলয় শুরুর পর উপসর্গ দেখা দিতে মধ্যমা সময় ৪৬ দিন, কার্যকারণ বিশ্লেষণে ৬৭.৪ শতাংশ ক্ষেত্রে যোগসূত্র "সম্ভাব্য", আর সবচেয়ে বেশি পাওয়া অটোঅ্যান্টিবডি ছিল ANA (Kulkarni ও সহলেখকরা, Hepatology Communications, 2022;6(6):1289-1300)। LiverTox এই দলটির ক্ষেত্রেই ANA-পজিটিভ প্রায় ৪২ শতাংশ, ৪ জনের মৃত্যু এবং ২ জনের লিভার প্রতিস্থাপনের কথা জানিয়েছে।

ছোট গবেষণাটি আলাদা, আর তার গুরুত্ব সংখ্যায় নয়, পদ্ধতিতে। সেখানে ৬ জন রোগীর তীব্র হেপাটাইটিস হয়েছিল, কারো ALT ৩০০০ ছাড়িয়ে যায় (Nagral ও সহলেখকরা, Journal of Clinical and Experimental Hepatology, 2023;13(2):360-371)।

এখানে একটা প্রচলিত ব্যাখ্যা প্রায়ই শোনা যায়, যে আসল Tinospora cordifolia নয়, বরং চেহারায় প্রায় একই ভেজাল প্রজাতি Tinospora crispa-ই এসব ক্ষতির আসল কারণ। কথাটা আংশিক সত্যি, কিন্তু পুরোটা নয়। ওই ৬ জনের গবেষণায় DNA বারকোডিং করে নিশ্চিত করা হয়েছিল, নমুনাগুলো সত্যিকারের T. cordifolia-ই ছিল, ভেজাল নয়। অর্থাৎ খাঁটি গিলয়ও কারো কারো ক্ষেত্রে ইডিওসিংক্রেটিক বা অটোইমিউন-ধাঁচের লিভার-প্রদাহ ডেকে আনতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন।

তবে ছবিটা এখনো পুরোপুরি একতরফা নয়, আর এই সততাটুকুও জরুরি। একটি পাল্টা সম্পাদকীয়তে (Hepatology Communications, ২০২২, PMID 35852310) যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে যোগসূত্রটি কিছুটা তাড়াহুড়ো করে টানা হয়েছে, কারণ অনেক রোগীর আগে থেকেই সুপ্ত অটোইমিউন প্রবণতা থাকতে পারত। মূল গবেষণাটি নিজেই আসলে এই সম্ভাবনার কথা বলেছে, তার সিদ্ধান্তের ভাষা হলো গিলয় সুপ্ত অটোইমিউন হেপাটাইটিসকে প্রকাশ্যে আনতে পারে। দুটো কথা পরস্পরবিরোধী নয়, একটিই ঘটনার দুই দিক। ঝুঁকি বিরল, কিন্তু বাস্তব, আর তা বাড়ে দীর্ঘ সেবনে, বেশি মাত্রায়, নির্যাস বা ক্যাপসুলে এবং অটোইমিউন প্রবণতায়। তাই বুদ্ধিমানের পথ হলো, গিলয় টানা মাসের পর মাস নিজে থেকে না খাওয়া, আর চোখ-হলুদ, প্রস্রাব গাঢ়, বমি ভাব বা তীব্র ক্লান্তি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে চিকিৎসক দেখানো। গিলয় এ ব্যাপারে একা নয়, আর সেটা জানা থাকলে ভেষজ বাছাই সহজ হয়। একই LiverTox ডেটাবেসে অশ্বগন্ধা B শ্রেণিতে আছে, আর সোনাপাতা বা সেনা নিয়েও লিভার-সতর্কতা নথিভুক্ত। লিভার নিয়ে আগ্রহ থাকলে ভুঁই আমলা বা ফ্যাটি লিভারের খাদ্য নিয়ে আলাদা লেখাও দেখতে পারেন।

গিলয় খাওয়ার নিয়ম ও মাত্রা

গিলয় কয়েকটি রূপে মেলে, আর মাত্রা রূপভেদে আলাদা। মূল কথা, অল্প থেকে শুরু আর বিরতি দিয়ে চলা। প্রচলিত রূপ ও মাত্রা নিচে দেওয়া হলো।

রূপ প্রচলিত মাত্রা কীভাবে
তাজা কাড়া ১৫ থেকে ২০ সেমি ডাল, ১ কাপ জলে অর্ধেক খালি পেটে সকালে
চূর্ণ এক-চতুর্থাংশ থেকে ১ চা-চামচ মধু বা কুসুম গরম জলে
গুডুচি-সত্ত্ব এক-চতুর্থাংশ থেকে আধ চা-চামচ তীব্র, অল্পই যথেষ্ট
জুস ১৫ থেকে ২০ মিলি খালি পেটে

তাজা কাড়া বানাতে ১৫ থেকে ২০ সেমি গিলয়-ডাল ছেঁচে রাতে এক কাপ জলে ভিজিয়ে রাখুন, সকালে আর এক কাপ জল দিয়ে অর্ধেক না হওয়া পর্যন্ত ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল নিলে প্যাকেটের নির্দেশ মানুন, তবে কেনার আগে AYUSH-অনুমোদিত প্রস্তুতকারক যাচাই করুন, কারণ ভেজাল প্রজাতির ঝুঁকি এখানে বাস্তব। সবচেয়ে জরুরি অভ্যাস, ৪ থেকে ৮ সপ্তাহ চালিয়ে ২ সপ্তাহ বিরতি, টানা অনির্দিষ্ট কাল নয়। বিরতিই এখানে চাবি।

গিলয় কি ডেঙ্গু বা প্লেটলেটে কাজ করে

ডেঙ্গু ও ভাইরাল জ্বরে গিলয়ের জুস নিয়ে অনেক দাবি ঘোরে, কিন্তু এখানে খুব সতর্ক থাকা দরকার। লোকপ্রচলনে বলা হয় গিলয় রক্তের প্লেটলেট বাড়ায়, তবে বড় মাপের নির্ভরযোগ্য মানব-গবেষণায় এই দাবি এখনো প্রমাণিত নয়। কোনো ভেষজ জুস যে ডেঙ্গুতে প্লেটলেট নিশ্চিতভাবে বাড়িয়ে দেবে, এমন ভরসা করা বিপজ্জনক। প্রমাণ এখনো নেই।

ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড বা তীব্র জ্বরে আসল কাজ হলো রক্ত পরীক্ষা, তরল ও চিকিৎসকের নজরদারি। গিলয় বড়জোর সুস্থ হওয়ার পর সাধারণ দুর্বলতায় সহায়ক ভাবা যেতে পারে, রোগের সক্রিয় পর্যায়ে চিকিৎসার বিকল্প কখনোই নয়, আর এই ভুলটাই ডেঙ্গুতে দেরি করিয়ে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। এই জায়গায় ভুল সিদ্ধান্ত জীবন-মরণের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

গিলয়ের অপকারিতা ও কে সতর্ক থাকবেন

গিলয় প্রাকৃতিক বলেই সবার জন্য নিরাপদ, এই ধারণাটাই সবচেয়ে বড় ভুল, আর তাই এই অংশটা মন দিয়ে পড়া দরকার। নিচের অবস্থাগুলোয় বাড়তি সতর্কতা বা সম্পূর্ণ বিরতি জরুরি।

  • পরিচিত লিভারের রোগ বা অটোইমিউন হেপাটাইটিসের প্রবণতা থাকলে। এটিই তালিকার সবচেয়ে ভিত্তিশীল সতর্কতা। ৪৩ জনের ওই গবেষণায় সবচেয়ে সাধারণ উপস্থাপনাই ছিল আগে থেকে থাকা দীর্ঘস্থায়ী লিভার-রোগের হঠাৎ অবনতি, আর গবেষকদের সিদ্ধান্ত ছিল গিলয় সুপ্ত অটোইমিউন হেপাটাইটিসকে প্রকাশ্যে আনতে পারে (Hepatology Communications, 2022;6(6):1289-1300)।
  • অটোইমিউন রোগ, যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লুপাস বা সোরিয়াসিস। যুক্তিটি দুই স্তরের, ইমিউন-উদ্দীপনা তত্ত্বগতভাবে অবস্থা খারাপ করতে পারে, আর উপরের গবেষণায় সবচেয়ে বেশি পাওয়া অটোঅ্যান্টিবডি ছিল ANA। তবে সরাসরি অটোইমিউন রোগীদের ওপর গিলয়ের ট্রায়াল নেই, তাই এটি সতর্কতা, প্রমাণিত ক্ষতি নয়।
  • ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট ওষুধ চললে, যেমন অঙ্গ-প্রতিস্থাপনের পরে। LiverTox গিলয়ের ইমিউন-সক্রিয়কারী ধর্মের কথা বলেছে, আর সেই ধর্মই ইমিউন দমনের উদ্দেশ্যের বিপরীতে যায় (NIDDK, LiverTox, NBK608429)। মিথস্ক্রিয়ার সরাসরি গবেষণা নেই, যুক্তিটি ক্রিয়াপদ্ধতি-ভিত্তিক।
  • ডায়াবেটিসের ওষুধ চললে, হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি। গিলয় রক্তে শর্করা কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে যে সীমিত প্রমাণের কথা উপরের ছকে আছে, সেটিই এখানে উল্টো দিক থেকে ঝুঁকি তৈরি করে। মানুষে মিথস্ক্রিয়ার গবেষণা নেই, তাই সতর্কতাটি সাবধানতার, নথিভুক্ত ঘটনার নয়।
  • গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েরা। এখানে সৎ কথাটা হলো, নিষেধটি ক্ষতির প্রমাণের ওপর নয়, প্রমাণের অনুপস্থিতির ওপর দাঁড়িয়ে। গর্ভাবস্থায় গিলয়ের নিরাপত্তা নিয়ে নির্ভরযোগ্য মানব-গবেষণা নেই, আর LiverTox-এর A শ্রেণিভুক্তির পর ঝুঁকি না নেওয়াই যুক্তিসঙ্গত।
  • শিশুরা। একই কারণ, মাত্রা ও সময়সীমা নিয়ে শিশুদের জন্য আলাদা নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। শিশুদের আয়ুর্বেদিক যত্নে সাধারণ নীতিটি এখানেও খাটে, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া নয়।
  • পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের অন্তত ২ সপ্তাহ আগে বন্ধ করে দিন। এটি রক্তে শর্করা ও ইমিউন-ক্রিয়ার সম্ভাব্য প্রভাব ঘিরে ভেষজের ক্ষেত্রে প্রচলিত সাবধানতা, গিলয় নিয়ে আলাদা অস্ত্রোপচার-গবেষণার ভিত্তিতে নয়।
  • ভেজাল-ঝুঁকি, T. crispa ভুল করে বিক্রি হতে পারে। তবে ভেজালই একমাত্র ব্যাখ্যা নয়, উপরে DNA বারকোডিংয়ের প্রসঙ্গে সেটি দেখা গেছে। অনুমোদিত প্রস্তুতকারকের পণ্য বেছে নিন, কিন্তু খাঁটি গিলয়েও বিরতির নিয়ম মানুন।

সবচেয়ে বড় কথা, দীর্ঘদিন একটানা যথেচ্ছ গিলয় না খাওয়া। বিরতি দিন, মাত্রা কম রাখুন, আর কোনো ওষুধ চললে বা দীর্ঘ রোগ থাকলে শুরুর আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন, কারণ এখানে ভুল সিদ্ধান্তের দাম শেষমেশ শরীরকেই চোকাতে হয়। থামতে জানাটাই বুদ্ধি।

একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ

গিলয় নিয়ে ভাবতে গিয়ে আমার ঠাকুরমার কথা মনে পড়ে। তাঁর বাড়ির আমগাছ বেয়ে একটা গিলয়-লতা উঠেছিল, কেউ লাগায়নি, নিজেই এসেছিল। বর্ষায় তিনি কয়েকটা ডাল কেটে রান্নাঘরের কুলুঙ্গিতে রাখতেন, মরসুমে কাজে লাগবে বলে। কারও জ্বর-জ্বর ভাব এলে এক কাপ তিতে কাড়া বানিয়ে দিতেন, কেউ পছন্দ করত না, তবু খেতে হত। আজ যখন দেখি সেই একই গিলয় চকচকে বোতলে শহরের ফার্মেসিতে বিক্রি হচ্ছে, দাম শতগুণ, মনে হয় উঠানের ভেষজকেই আমরা ওয়েলনেস ব্র্যান্ড বানিয়ে চড়া দামে কিনছি, অথচ যত্ন আর সংযমটুকু পথেই হারিয়ে ফেলছি। তবে একটা জিনিস ঠাকুরমা ঠিকই করতেন, মরসুম শেষে থামতেন, সারা বছর টানতেন না। সেটাই ছিল বুদ্ধি। আজকের গবেষণা যেন সেই সহজ বিরতির যুক্তিটাই নতুন করে বলছে।

সংক্ষেপে ও উপসংহার

গিলয় বা গুলঞ্চ শাস্ত্রের অমৃতা, আয়ুর্বেদের অন্যতম সম্মানিত রসায়ন-ভেষজ, কিন্তু তার গল্প নিঃশর্ত প্রশংসার নয়। ইমিউনিটি, জ্বর, আমবাত ও দুর্বলতায় ঐতিহ্যবাহী ব্যবহার পুরোনো, আধুনিক গবেষণা প্রাথমিক ইঙ্গিত দেয়, তবে মানুষে বড় প্রমাণ কম, আর দীর্ঘ সেবনে বিরল অথচ গুরুতর লিভার-ঝুঁকির কথা এখন আর উপেক্ষা করা যায় না। ভারসাম্যই মূল কথা।

আজ থেকে যদি একটা নিয়ম মানেন, তবে সেটা হোক এই, গিলয় খেলে ৪ থেকে ৮ সপ্তাহের বেশি টানা না খেয়ে বিরতি দিন, অনুমোদিত উৎস থেকে কিনুন, আর অটোইমিউন রোগ, গর্ভাবস্থা বা কোনো ওষুধ চললে শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আয়ুর্বেদকে শাস্ত্রের নিয়মে, মাত্রা ও বিরতি মেনে ব্যবহার করুন, ভাইরাল-ট্রেন্ড হিসেবে নয়। তবেই এই অমৃতা-ভেষজের প্রকৃত সম্ভাবনা কাজে লাগে, ঝুঁকি ছাড়াই। ডেঙ্গুর মরশুমে গিলয় নিয়ে যে দাবিগুলো ঘোরে, সেগুলোর প্রমাণ আলাদা করে যাচাই করেছি ডেঙ্গু জ্বরে পেঁপে পাতার রস লেখায়।

সূত্র / Sources

  • National Institute of Diabetes and Digestive and Kidney Diseases. Tinospora cordifolia. In: LiverTox, Clinical and Research Information on Drug-Induced Liver Injury. সর্বশেষ হালনাগাদ ২৭ জুন ২০২৫: ncbi.nlm.nih.gov/books/NBK608429
  • Kulkarni AV, Hanchanale P, Prakash V, ও সহলেখকরা. Tinospora Cordifolia (Giloy)-Induced Liver Injury During the COVID-19 Pandemic, Multicenter Nationwide Study From India. Hepatology Communications, 2022;6(6):1289-1300: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/35037744
  • Nagral A, Rudra OS, Menezes S, ও সহলেখকরা. Herb-induced Liver Injury, A Guide to Approach. Lessons from the Tinospora cordifolia (Giloy) Case Series Story. Journal of Clinical and Experimental Hepatology, 2023;13(2):360-371: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/36950495
  • Tinospora cordifolia-associated hepatotoxicity has been scientifically misconstrued, in haste. Hepatology Communications, ২০২২: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/35852310
  • Immunomodulatory properties of Giloy (Tinospora cordifolia) leaves. Heliyon, ২০২৪: pmc.ncbi.nlm.nih.gov/PMC11699423
  • Tinospora cordifolia (Guduchi/Giloy)-Induced Liver Injury, A Case Review. Cureus, ২০২৩: pmc.ncbi.nlm.nih.gov/PMC10238282
  • ধ্রুপদী রেফারেন্স: চরক সংহিতা ও সুশ্রুত সংহিতা (গুডুচি, রসায়ন ও জ্বরঘ্ন প্রসঙ্গ)
  • National Institute of Diabetes and Digestive and Kidney Diseases. Withania somnifera. In: LiverTox. সম্ভাব্যতা-স্কোর B, সর্বশেষ হালনাগাদ ৩ ডিসেম্বর ২০২৪. NCBI Bookshelf NBK548536
  • National Institute of Diabetes and Digestive and Kidney Diseases. Centella asiatica. In: LiverTox. সম্ভাব্যতা-স্কোর C, সর্বশেষ হালনাগাদ ২৪ এপ্রিল ২০২৪. NCBI Bookshelf NBK603561
  • National Institute of Diabetes and Digestive and Kidney Diseases. Senna. In: LiverTox. সম্ভাব্যতা-স্কোর D, সর্বশেষ হালনাগাদ ১ এপ্রিল ২০২০. NCBI Bookshelf NBK547922

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। এটি চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হলো তাজা গিলয়-ডাল ১৫ থেকে ২০ সেমি টুকরো করে এক কাপ জলে ফুটিয়ে অর্ধেক করে কাড়া বানানো। চূর্ণ হলে এক-চতুর্থাংশ থেকে আধ চা-চামচ মধু বা কুসুম গরম জলে। জুস বাজারে মিললেও তাজা কাড়া সাধারণত ভালো বলে ধরা হয়। দিনের দুই বেলায় ভাগ করে খাওয়া যায়, তবে খালি পেটে সকালে সবচেয়ে প্রচলিত।
গিলয়গুলঞ্চগুডুচিঅমৃতাইমিউনিটি
অভিজিৎ সাউ

লেখক সম্পর্কে

অভিজিৎ সাউ

তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক

তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত একজন প্রকৌশলী। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলা ভাষায় আয়ুর্বেদ, ভেষজ ও প্রাকৃতিক জীবনযাত্রার বিশ্বস্ত তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিটি নিবন্ধের পেছনে শাস্ত্রীয় গ্রন্থ, AYUSH মন্ত্রকের নির্দেশিকা ও প্রকাশিত গবেষণাপত্র যাচাই করি।

এই নিবন্ধটি প্রকাশের আগে প্রাথমিক উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই ও সম্পাদনা করা হয়েছে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি।

আরও পড়ুন
বেল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা বোঝাতে কাঠের টেবিলে আস্ত সবুজ বেল ফল, মাঝখান থেকে কাটা পাকা বেলের কমলা-হলুদ শাঁস ও বীজ, এক গ্লাস বেলের শরবত, বাটিতে শুকনো বেল শুঁঠ আর বেল পাতা, পেছনে গাছে ঝুলন্ত বেল
ভেষজ22 মিনিট

বেল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা, কাঁচা আর পাকা বেলের আসল ফারাক

বেল খাওয়ার উপকারিতা কতটা প্রমাণিত, কাঁচা ও পাকা বেলের ফারাক, পাকা বেল খাওয়ার অপকারিতা, ডায়াবেটিসে বেল, বেল পাতার রস খেলে কী হয় আর খাওয়ার সঠিক সময়।

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ
পান পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা বোঝাতে কাঠের টেবিলে জলের ফোঁটা লাগা সবুজ পান পাতার স্তূপ, মাটির বাটিতে কাটা সুপারি, চুন ও খয়ের, মৌরি ছড়ানো একটি খোলা খিলি পান, আর কোণে লতায় ঝোলা হৃদয়াকৃতি পাতার ছোট গোল ছবি
ভেষজ19 মিনিট

খালি পান খেলে কি হয়? পান পাতার উপকারিতা ও অপকারিতার প্রমাণ

পান পাতার উপকারিতা কতটা প্রমাণিত, খালি পান খেলে কি হয়, পান খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতায় সুপারি-জর্দার দায়, মিষ্টি পান, পান খাওয়ার নিয়ম ও সতর্কতা।

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ
পেয়ারা পাতার উপকারিতা বোঝাতে সবুজ পেয়ারা পাতা, কাটা সাদা ও গোলাপি শাঁসের পেয়ারা, কাচের কাপে পেয়ারা পাতার চা, কাঠের বাটিতে শুকনো পাতা, আর পেটব্যথা, সুগার মাপা ও সুরক্ষার তিনটি ছোট গোল ছবি
ভেষজ20 মিনিট

পেয়ারা পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা, ১৪টি পাতার ট্রায়াল যা বলছে

পেয়ারা পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা কোন ট্রায়ালে প্রমাণিত, পেয়ারা পাতা খাওয়ার নিয়ম ও মাত্রা, খালি পেটে পাতা খাওয়া আর পাতার চা ও রস নিয়ে যা জানা আছে।

১২ অক্টোবর, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ