গুগ্গুল উপকারিতা, প্রমাণ কতটা আর কাদের জন্য ঝুঁকি বেশি
গুগ্গুল রজনের উপকারিতা নিয়ে প্রমাণ আসলে কতটা, কোলেস্টেরলে JAMA-র ট্রায়াল কী বলেছে, শোধিত গুগ্গুল চেনার উপায় আর কাদের এড়িয়ে চলা দরকার, তার বিস্তারিত।
অAI-সহায়তায় গবেষণা ও খসড়া; সম্পাদনা, যাচাই ও তথ্যের দায়ভার লেখক অভিজিৎ সাউ-এর। সম্পাদকীয় নীতি ও গবেষণা পদ্ধতি।

সূচিপত্র
- এক নজরে গুগ্গুল
- গুগ্গুল আসলে কী
- গুগ্গুলস্টেরন ও FXR
- গুগ্গুল কি সত্যিই কোলেস্টেরল কমায়?
- গুগ্গুলের বাকি দাবিগুলোর অবস্থা কী
- যোগরাজ, কাঞ্চনার, ত্রিফলা, কোন গুগ্গুলু কীসের জন্য
- কীভাবে ব্যবহার করবেন
- আসল ও শোধিত গুগ্গুল চিনবেন কীভাবে?
- গুগ্গুল এখন বিপন্ন উদ্ভিদ, কেনার আগে যা জানা দরকার
- কে ব্যবহার করবেন না বা সতর্ক থাকবেন
- একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ
- উপসংহার
- সূত্র / Sources
সূচিপত্র13টি বিভাগ
- এক নজরে গুগ্গুল
- গুগ্গুল আসলে কী
- গুগ্গুলস্টেরন ও FXR
- গুগ্গুল কি সত্যিই কোলেস্টেরল কমায়?
- গুগ্গুলের বাকি দাবিগুলোর অবস্থা কী
- যোগরাজ, কাঞ্চনার, ত্রিফলা, কোন গুগ্গুলু কীসের জন্য
- কীভাবে ব্যবহার করবেন
- আসল ও শোধিত গুগ্গুল চিনবেন কীভাবে?
- গুগ্গুল এখন বিপন্ন উদ্ভিদ, কেনার আগে যা জানা দরকার
- কে ব্যবহার করবেন না বা সতর্ক থাকবেন
- একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ
- উপসংহার
- সূত্র / Sources
২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর উজবেকিস্তানের সমরকন্দে CITES সম্মেলনের শেষ দিনে একটি ভোট হয়। বিষয় ছিল গুগ্গুল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাব ছিল, গাছটি এত দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে যে তার রজনের আন্তর্জাতিক ব্যবসা এবার নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার। ভারত আপত্তি জানিয়েছিল। প্রথম ভোটে প্রস্তাবটি অল্প ব্যবধানে হেরেও যায়, কিন্তু শেষ অধিবেশনে আলোচনা আবার খোলা হয় এবং প্রস্তাবটি পাশ হয়।
গুগ্গুল হল Commiphora wightii নামের এক কাঁটাযুক্ত গুল্মের আঠালো রজন, আয়ুর্বেদে যাকে মেদ ও বাতের ভেষজ হিসেবে অন্তত দুই হাজার বছর ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে। আধুনিক গবেষণায় এর সবচেয়ে বিখ্যাত দাবি, অর্থাৎ কোলেস্টেরল কমানো, টেকেনি। বাত ও ব্রণে ছোট ছোট গবেষণায় কিছু ইঙ্গিত আছে, কিন্তু সেগুলোও দুর্বল।
বাঙালি পাঠকের কাছে নামটা অচেনা নাও হতে পারে। অনেক বাড়িতেই ধুনো বা হোমের ধোঁয়ায় গুগ্গুলের নাম শোনা যায়, ওষুধের কৌটোয় নয়। অথচ আয়ুর্বেদের দোকানে যোগরাজ, কাঞ্চনার বা ত্রিফলা গুগ্গুলুর কৌটো সাজানো থাকে সারি দিয়ে, আর সেগুলোর গায়ে লেখা দাবিগুলোর সাথে গবেষণাপত্রে যা পাওয়া যায়, তার মিল সবসময় থাকে না।
এই লেখায় দুটো জিনিস আলাদা করে দেখা দরকার, ভেষজটির পুরোনো খ্যাতি আর তার বর্তমান প্রমাণ। কোনটা শাস্ত্রে লেখা আছে, কোনটা ট্রায়ালে দাঁড়িয়েছে, আর কোনটা কেবল বিজ্ঞাপনে টিকে আছে, এই তিনটে আলাদা করাই এখানে মূল কাজ।
এক নজরে গুগ্গুল
গুগ্গুলের প্রতিটি প্রচলিত দাবির পিছনে প্রমাণের ওজন সমান নয়, আর সেই পার্থক্যটাই সবচেয়ে জরুরি তথ্য।
| দাবি | প্রমাণের মাত্রা | কী জানা আছে |
|---|---|---|
| কোলেস্টেরল ও LDL কমানো | অপর্যাপ্ত প্রমাণ | ২০০৩ সালের JAMA ট্রায়ালে LDL কমেনি, বরং বেড়েছিল |
| ওজন বা স্থূলতা কমানো | অপর্যাপ্ত প্রমাণ | ওজন কমানোর প্রশ্নে ফল ইতিবাচক আসেনি |
| বাত ও হাঁটুর ব্যথা | সীমিত প্রমাণ | একটি ছোট আউটকাম-স্টাডি, প্লাসিবো-নিয়ন্ত্রণ ছিল না |
| ব্রণ, বিশেষত তেলতেলে ত্বকে | সীমিত প্রমাণ | ২০ জনের একটি তুলনামূলক ট্রায়াল, প্লাসিবো ছিল না |
| থাইরয়েড ক্রিয়া বাড়ানো | অপর্যাপ্ত প্রমাণ | মূলত ইঁদুরের গবেষণা, মানুষে নির্ভরযোগ্য ট্রায়াল নেই |
| মেদ ও আম কমানোর শাস্ত্রীয় ব্যবহার | ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার | চরক ও সুশ্রুতে বিস্তারিত বর্ণনা আছে |
এই টেবিলটা পড়ে হতাশ লাগতে পারে। আমারও লেগেছিল। তবু একটা ভেষজের কোন দাবির পিছনে র্যান্ডমাইজড ট্রায়াল আছে, কোনটার পিছনে শুধু একটা ছোট পর্যবেক্ষণ, আর কোনটার পিছনে কেবল শাস্ত্রীয় বর্ণনা, এই তিনটে আলাদা করে জানা থাকলে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।
গুগ্গুল আসলে কী
গুগ্গুল হল Commiphora wightii (পূর্বনাম Commiphora mukul) গুল্মের ছাল চিরলে যে হালকা সোনালি-বাদামি আঠা বেরোয়, সেই শুকনো রজন। গাছটি বড়জোর ৪ মিটার উঁচু হয়, ছাল পাতলা কাগজের মতো, ডালে কাঁটা থাকে। জন্মায় মূলত পশ্চিম ভারতের গুজরাট ও রাজস্থানের শুষ্ক পাথুরে জমিতে, আর পাকিস্তান ও ওমানের কিছু অঞ্চলে।
সংস্কৃতে এর নাম গুগ্গুলু, ইংরেজিতে Indian bdellium। গন্ধটা প্রায় গন্ধরসের মতো, যাকে ইংরেজিতে বলে myrrh। মিলটা নিছক কাকতালীয় নয়, কারণ গন্ধরস আর গুগ্গুল দুটোই একই Commiphora গণের গাছ থেকে আসে, আর এই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তাই পরে বাজারে ভেজালের সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নামের মিলটাই সমস্যার গোড়া।
আয়ুর্বেদে গুগ্গুলের রস তিক্ত ও কষায়, বীর্য উষ্ণ, বিপাক কটু। এর মূল গুণ ধরা হয় লেখন, অর্থাৎ শরীরে জমে থাকা বাড়তি মেদ ও আম ছেঁচে বের করা। কফ ও বাত, এই দুই দোষে একে বিশেষভাবে কার্যকর বলা হয়েছে। শাস্ত্রীয় ব্যবহারের এই বর্ণনাটুকু নথিভুক্ত ঐতিহ্য, কার্যকারিতার প্রমাণ নয়, দুটো এক জিনিস নয়।
গুগ্গুলস্টেরন ও FXR
গুগ্গুলের প্রধান সক্রিয় যৌগের নাম গুগ্গুলস্টেরন, যার E ও Z দুটি আইসোমার আছে। মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিং ক্যানসার সেন্টারের ভেষজ মনোগ্রাফ অনুযায়ী এই যৌগ লিভারে FXR নামে একটি নিউক্লিয়ার রিসেপ্টরকে বাধা দেয়, যা পিত্তরসের বিপাকে যুক্ত। প্রমিত নির্যাসে গুগ্গুলস্টেরনের পরিমাণ সাধারণত আড়াই থেকে পাঁচ শতাংশ।
তাত্ত্বিকভাবে এই পথ ধরেই কোলেস্টেরল কমার কথা। ল্যাবে যা ঘটে আর মানুষের রক্তে যা ঘটে, দুটোর মধ্যে ফারাক থেকে যায়।
গুগ্গুল কি সত্যিই কোলেস্টেরল কমায়?
বর্তমান প্রমাণ অনুযায়ী গুগ্গুল কোলেস্টেরল কমায় বলে ধরা যায় না, এবং একটি ভাল মানের ট্রায়ালে উল্টো ফলও দেখা গেছে। এই দাবির পিছনের গল্পটা দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
প্রথম ভাগ ১৯৮৯ সালের। Journal of the Association of Physicians of India-তে Nityanand ও সহকর্মীদের বহুকেন্দ্রিক ভারতীয় ট্রায়ালে (PMID 2693440) ২০৫ জন রোগী ১২ সপ্তাহ ধরে দিনে তিনবার ৫০০ মিগ্রা গুগ্গুলিপিড নেন, আর গড়ে কোলেস্টেরল ২৩.৬ শতাংশ ও ট্রাইগ্লিসারাইড ২২.৬ শতাংশ কমার কথা জানানো হয়। সংখ্যাগুলো চোখধাঁধানো। এই কাজটির উপর ভর করেই আশির ও নব্বইয়ের দশকে ভেষজটির খ্যাতি তৈরি হয়েছিল।
তবে একটা কথা এখানে না বললে ছবিটা অসম্পূর্ণ থাকে। ওই পর্বটি ছিল একটি ওপেন ট্রায়াল, অর্থাৎ রোগী বা চিকিৎসক কেউই অন্ধ ছিলেন না এবং প্লাসিবো গ্রুপ ছিল না, ফলে প্রত্যাশা ও জীবনযাত্রার বদলের প্রভাব ফলাফল থেকে আলাদা করা যায়নি। ঠিক এই কারণেই পরের ধাপের অন্ধ ও প্লাসিবো-নিয়ন্ত্রিত ট্রায়ালটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয় ভাগ ২০০৩ সালের, এবং এটাই ছবিটা উল্টে দেয়। JAMA-তে প্রকাশিত Szapary ও সহকর্মীদের র্যান্ডমাইজড নিয়ন্ত্রিত ট্রায়ালে (PMID 12915429) উচ্চ কোলেস্টেরলযুক্ত ১০৩ জন প্রাপ্তবয়স্ককে আট সপ্তাহ ধরে গুগ্গুলিপিড বা প্লাসিবো দেওয়া হয়েছিল।
| গ্রুপ | মাত্রা, দিনে তিনবার | আট সপ্তাহে LDL পরিবর্তন |
|---|---|---|
| প্লাসিবো | কিছু নয় | ৫ শতাংশ কমেছে |
| সাধারণ মাত্রা | ১০০০ মিগ্রা | ৪ শতাংশ বেড়েছে |
| উচ্চ মাত্রা | ২০০০ মিগ্রা | ৫ শতাংশ বেড়েছে |
অর্থাৎ প্লাসিবোর তুলনায় গুগ্গুলিপিড গ্রুপে LDL প্রায় ৯ থেকে ১০ শতাংশ বেশি ছিল। পাশাপাশি ছয় জন অংশগ্রহণকারীর ত্বকে অতিসংবেদনশীলতার র্যাশ দেখা দেয়, উচ্চ মাত্রার গ্রুপে পাঁচ জন ও সাধারণ মাত্রায় এক জন, আর প্রতিটি র্যাশই ওষুধ শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে। গবেষকদের নিজেদের ভাষায়, গুগ্গুলিপিড এই জনগোষ্ঠীতে কোলেস্টেরলের উন্নতি ঘটায়নি এবং LDL বাড়িয়ে দিতে পারে।
NCBI-তে সংরক্ষিত Natural Standard-এর পর্যালোচনাও একই জায়গায় পৌঁছেছে, তাদের সিদ্ধান্ত হল কোনো রোগেই গুগ্গুলের ব্যবহারকে সমর্থন করার মতো যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এই মুহূর্তে নেই।
অনেক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক অবশ্য এখানে একটা পাল্টা যুক্তি দেন। তাঁদের বক্তব্য, আমেরিকায় ব্যবহৃত প্রমিত গুগ্গুলিপিড নির্যাস আর ভারতীয় শোধিত গুগ্গুলু ফর্মুলা এক জিনিস নয়, তাই একটির ফল অন্যটির উপর চাপানো যায় না। যুক্তিটা অযৌক্তিক নয়। কিন্তু এই মুহূর্তে ভারতীয় ফর্মুলার পক্ষেও তেমন মানের কোনো র্যান্ডমাইজড ট্রায়াল নেই, ফলে প্রশ্নটা খোলা থেকে যায়।
কোলেস্টেরল নিয়ে ভাবলে কোলেস্টেরল কমানোর খাবার আর নিয়মিত হাঁটাচলার পরিবর্তনগুলোই বরং প্রমাণিত জায়গা। হৃদযন্ত্রের ভেষজ হিসেবে অর্জুন ছালের প্রমাণ তুলনায় শক্ত, যদিও সেটাও সীমিত।
গুগ্গুলের বাকি দাবিগুলোর অবস্থা কী
কোলেস্টেরলের বাইরে গুগ্গুল নিয়ে আরও চারটি দাবি ঘোরে, এবং প্রতিটির প্রমাণের ওজন আলাদা। ওজন সমান নয়। বাত আর ব্রণের ক্ষেত্রে অন্তত মানুষের উপর করা ছোট গবেষণা আছে যেগুলো একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না, থাইরয়েডের ক্ষেত্রে প্রায় পুরোটাই প্রাণীদেহের কাজ, আর ওজন কমানোর দাবির পিছনে ভাল মানের মানব-প্রমাণ কার্যত নেই।
বাত ও জয়েন্টের ব্যথায় ২০০৩ সালে Alternative Therapies in Health and Medicine-এ প্রকাশিত Singh ও সহকর্মীদের আউটকাম-স্টাডিতে (PMID 12776478) ৩০ জন অংশগ্রহণকারী এক মাস ধরে দিনে তিনবার ৫০০ মিগ্রা ঘনীভূত Commiphora mukul নেন, আর হাঁটুর অস্টিও-আর্থ্রাইটিসের WOMAC স্কোরে পরিসংখ্যানগতভাবে অর্থপূর্ণ উন্নতি দেখা যায়। গবেষকরা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা জানাননি। তবে মাত্র ৩০ জনের এই গবেষণায় প্লাসিবো-নিয়ন্ত্রণ ছিল না, তাই তকমা সীমিত প্রমাণ। হাঁটুর বাত ও ব্যথায় যোগরাজ গুগ্গুল এখনও ক্লাসিকাল পছন্দ।
ব্রণের গবেষণাটি সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক, অথচ বাংলা ইন্টারনেটে প্রায় অনুপস্থিত। ১৯৯৪ সালে The Journal of Dermatology-তে Thappa ও Dogra-র ট্রায়ালে (PMID 7798429) নডিউলোসিস্টিক ব্রণে আক্রান্ত ২০ জনকে তিন মাস ধরে হয় টেট্রাসাইক্লিন ৫০০ মিগ্রা, নয়তো গুগ্গুলিপিড দেওয়া হয়। প্রদাহজনিত ক্ষত কমেছিল গুগ্গুলিপিডে ৬৮ শতাংশ ও টেট্রাসাইক্লিনে ৬৫.২ শতাংশ, পার্থক্যটি পরিসংখ্যানগতভাবে অর্থপূর্ণ নয়। গবেষকরা আলাদা করে লক্ষ করেছিলেন, তেলতেলে ত্বকের রোগীরা গুগ্গুলিপিডে বেশি সাড়া দিয়েছিলেন। তবু ২০ জনের ট্রায়ালে প্লাসিবো গ্রুপ ছিল না, তাই ব্রণের ঘরোয়া যত্নের বিকল্প হিসেবে একে ধরা যায় না।
থাইরয়েডের প্রসঙ্গে বেশিরভাগ কাজ প্রাণীদেহে। ২০০৫ সালের একটি ইঁদুর-গবেষণায় (PMID 15798994) গুগ্গুলু থাইরয়েড-দমনকারী ওষুধের প্রভাব কিছুটা উল্টে দিতে পেরেছিল, প্রস্তাবিত পথ হল T4 থেকে T3-তে রূপান্তর বাড়ানো। মানুষে নির্ভরযোগ্য ট্রায়াল নেই, তাই এটি অপর্যাপ্ত প্রমাণ। আর গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, থাইরয়েড হরমোনে হাত পড়া মানেই এটি একইসঙ্গে একটি ওষুধ-সংঘাতের ঝুঁকি, শুধু উপকার নয়।
ওজন কমানোর প্রশ্নে ছবিটা সবচেয়ে পরিষ্কার। এই দাবির পক্ষে ভাল মানের মানব-প্রমাণ নেই, আর NCBI-তে সংরক্ষিত Natural Standard-এর পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত এখানেও একই, অর্থাৎ কোনো রোগেই গুগ্গুলের ব্যবহারকে সমর্থন করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। ওজন কমানোর আয়ুর্বেদিক অভ্যাস বা ফ্যাটি লিভারের খাদ্যতালিকা নিয়ে যা লিখেছি, সেই খাদ্য ও চলাফেরার বদলগুলোই এখানে আসল কাজটা করে।
যোগরাজ, কাঞ্চনার, ত্রিফলা, কোন গুগ্গুলু কীসের জন্য
আয়ুর্বেদে গুগ্গুল একা খাওয়ার চল বিরল, প্রায় সবসময়ই এটি নির্দিষ্ট রোগের জন্য নির্দিষ্ট ফর্মুলার ভিত্তি হিসেবে থাকে। দোকানে গিয়ে "গুগ্গুল দিন" বললে তাই প্রশ্নটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। নামটাই যথেষ্ট নয়। একই রজন ত্রিফলার সঙ্গে মিশলে যে ফর্মুলা তৈরি হয় আর কাঞ্চনার ছালের সঙ্গে মিশলে যেটা তৈরি হয়, শাস্ত্র অনুযায়ী তাদের ব্যবহারের ক্ষেত্র সম্পূর্ণ আলাদা, তাই কোন গুগ্গুলু সেটা না জানলে আলোচনাটা অর্থহীন।
| ফর্মুলা | প্রধান সঙ্গী উপাদান | শাস্ত্রীয় ব্যবহারের ক্ষেত্র | প্রচলিত শাস্ত্রীয় মাত্রা |
|---|---|---|---|
| যোগরাজ গুগ্গুলু | ত্রিকটু ও অন্যান্য দীপন দ্রব্য | বাত, জয়েন্টের ব্যথা ও শক্ত ভাব | ৫০০ থেকে ১০০০ মিগ্রা, দিনে দুবার |
| কাঞ্চনার গুগ্গুলু | কাঞ্চনার ছাল, বরুণ | গলার গ্রন্থি, গাঁটে পিণ্ড, থাইরয়েড | ১২৫ মিগ্রা থেকে ২ গ্রাম পর্যন্ত |
| ত্রিফলা গুগ্গুলু | ত্রিফলা | মেদ, কোষ্ঠকাঠিন্য, অর্শ | ১ ট্যাবলেট, দিনে দুবার |
| কাইশোর গুগ্গুলু | গুড়ুচি, ত্রিফলা | ত্বকের সমস্যা ও রক্ত পরিশোধন | চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী |
| গোক্ষুরাদি গুগ্গুলু | গোক্ষুর | মূত্রনালী ও প্রজনন-স্বাস্থ্য | চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী |
উপরের মাত্রার ঘরগুলো নিয়ে একটা কথা পরিষ্কার করে বলা দরকার। এগুলো আয়ুর্বেদিক ফর্মুলারি ও প্রচলিত চিকিৎসা-অভ্যাসের মাত্রা, কোনো র্যান্ডমাইজড ট্রায়াল থেকে যাচাই করা সংখ্যা নয়, এবং ফর্মুলাভেদে ও প্রস্তুতকারকভেদে এগুলো বদলায়। তাই এগুলোকে পরিচিতিমূলক তথ্য হিসেবে পড়ুন, নিজে থেকে মাত্রা ঠিক করার ভিত্তি হিসেবে নয়। কোন ফর্মুলা কতটা, সেটা ঠিক করার জায়গা চিকিৎসকের ঘর।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
গুগ্গুল সবসময় শোধিত অবস্থায়, ট্যাবলেট বা নির্দিষ্ট ফর্মুলা হিসেবে, খাবারের পরে কুসুম গরম জল বা দুধের সাথে নেওয়া হয়।
মাত্রার প্রশ্নে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য আসে ট্রায়ালগুলো থেকেই। ২০০৩ সালের JAMA ট্রায়ালে গুগ্গুলিপিড দেওয়া হয়েছিল দিনে তিনবার ১০০০ বা ২০০০ মিগ্রা করে, আট সপ্তাহ ধরে (PMID 12915429)। ১৯৯৪ সালের ব্রণ-ট্রায়ালে মাত্রা ছিল ২৫ মিগ্রা গুগ্গুলস্টেরনের সমতুল্য গুগ্গুলিপিড, দিনে দুবার, তিন মাস ধরে (PMID 7798429)। বাজারের প্রমিত নির্যাসে গুগ্গুলস্টেরনের পরিমাণ সাধারণত আড়াই থেকে পাঁচ শতাংশ, মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিং-এর মনোগ্রাফ অনুযায়ী।
লক্ষ করুন, এর একটিতেও ইতিবাচক ফল আসেনি এমন নয়, কিন্তু কোনোটিই আপনার জন্য মাত্রা নির্ধারণ করে দেয় না। ট্রায়ালের মাত্রা আর ব্যক্তিগত পরামর্শ এক জিনিস নয়।
কৌটো খুললে গন্ধেই অনেকটা বোঝা যায়। আসল গুগ্গুলের গন্ধ কড়া, রজিন-জাতীয়, গন্ধরসের কাছাকাছি। রঙ ফ্যাকাশে সোনালি থেকে গাঢ় বাদামি, আঙুলে নিলে সামান্য আঠালো লাগে। গন্ধ হালকা বা প্রায় নেই মানে সন্দেহ করার কারণ আছে।
বাত বা জয়েন্টের ব্যথায় যোগরাজ গুগ্গুলের সঙ্গে ক্লাসিকাল চিকিৎসায় প্রায়ই আদা ও হলুদ দুধের মতো প্রদাহ-শামক অভ্যাস জুড়ে দেওয়া হয়। এগুলোর প্রমাণও সীমিত, তবে ঝুঁকি কম।
দুটো বাস্তব পরামর্শ। প্রথমত, আট থেকে বারো সপ্তাহের কমে কিছু বিচার করা কঠিন, তাড়াহুড়ো করে লাভ নেই। দ্বিতীয়ত, খাদ্য ও চলাফেরার বদল ছাড়া শুধু ট্যাবলেটে ভরসা করলে হতাশ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, কারণ কোলেস্টেরল বা ওজনের প্রশ্নে খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত হাঁটাচলার পক্ষে যে মানের প্রমাণ আছে, গুগ্গুলের পক্ষে তার ধারেকাছেও কিছু নেই।
আসল ও শোধিত গুগ্গুল চিনবেন কীভাবে?
শোধন হল আয়ুর্বেদের বাধ্যতামূলক পরিশোধন ধাপ, যেখানে কাঁচা রজনকে ত্রিফলা কাড়া, দুধ বা গোমূত্রে প্রক্রিয়াজাত করে অবাঞ্ছিত উপাদান সরানো হয়। এটি ঐচ্ছিক নয়।
প্রচলিত পদ্ধতিতে গুগ্গুল ও উষ্ণ ত্রিফলা কাড়া ১ঃ৮ অনুপাতে মেশানো হয়, ২৪ ঘণ্টা রাখা হয়, তারপর মসলিন কাপড়ে ছেঁকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে জল বাষ্পীভূত করে শোধিত গুগ্গুল পাওয়া যায়। এই কাড়া তৈরি হয় ত্রিফলার তিন ফল দিয়ে, অর্থাৎ আমলকী, হরীতকী ও বহেড়া দিয়ে, যাদের নিজেদের গুণও গুগ্গুলের শোধনে ভূমিকা রাখে বলে শাস্ত্রে ধরা হয়। শোধন ও শমনের পার্থক্য আয়ুর্বেদের একটি মৌলিক ধারণা, আর গুগ্গুল তার সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণগুলোর একটি।
ভেজালের সমস্যাটা এখানে গুরুতর। গুগ্গুলের রজন দেখতে ও গন্ধে Commiphora গণের অন্য প্রজাতির রজনের প্রায় একইরকম, বিশেষত আসল গন্ধরস Commiphora myrrha-র সাথে। বাজারের নমুনায় এক প্রজাতির বদলে আরেকটি মিশে যাওয়া নথিভুক্ত সমস্যা, এতটাই যে ২০১৬ সালে Molecular Biology International-এ Sairkar ও সহকর্মীরা C. wightii আর C. myrrha আলাদা করে চেনার জন্য আলাদা DNA-ভিত্তিক SCAR মার্কার তৈরি করেছিলেন।
ক্রেতা হিসেবে যা যাচাই করা সম্ভব, তা সীমিত কিন্তু শূন্য নয়। প্যাকেটে শোধিত বা Shodhita কথাটি স্পষ্ট লেখা আছে কিনা দেখুন, AYUSH লাইসেন্স নম্বর ও প্রস্তুতকারকের নাম খুঁজুন, প্যাকেজিংয়ের তারিখ দেখুন। দাম অস্বাভাবিক কম হলে সতর্ক হওয়া ভাল, কারণ অশোধিত বা মেশানো রজন সস্তায় মেলে।
গুগ্গুল এখন বিপন্ন উদ্ভিদ, কেনার আগে যা জানা দরকার
Commiphora wightii IUCN রেড লিস্টে Critically Endangered বা মহাবিপন্ন শ্রেণিভুক্ত, অর্থাৎ বিলুপ্তির ঝুঁকির সবচেয়ে উঁচু ধাপে। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির সংরক্ষণ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র UNEP-WCMC-র CoP20 সংক্রান্ত নথিতে এই শ্রেণিভুক্তির কথা স্পষ্ট বলা আছে, আর কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টের জন্য অতিরিক্ত সংগ্রহ। জনসংখ্যা ঠিক কত শতাংশ কমেছে, সেই নির্দিষ্ট সংখ্যাটি নিয়ে CoP20-তেই মতভেদ হয়েছিল, তাই এখানে কোনো একক সংখ্যা বসাচ্ছি না।
কারণগুলো একে অপরের সাথে জড়ানো। গাছটি ধীরে বাড়ে, বীজ থেকে চারা কম হয়, আর রজন তোলার জন্য ছাল চেরার কাজটি বহু জায়গায় এত অবৈজ্ঞানিকভাবে হয় যে গাছ আর সেরে ওঠে না। ওষুধ ও সুগন্ধি শিল্পের চাহিদা বেড়েছে, চারণভূমি ও আবাস কমেছে।
এর পরেই আসে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের সিদ্ধান্তটি। সমরকন্দে অনুষ্ঠিত CITES-এর ২০তম সম্মেলনে Commiphora wightii-কে অ্যাপেন্ডিক্স II-তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যার অর্থ প্রজাতিটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এখন অনুমতিপত্র লাগে। UNEP-WCMC, যারা প্রস্তাবটির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি তৈরিতে যুক্ত ছিল, এবং আমেরিকান হার্বাল প্রোডাক্টস অ্যাসোসিয়েশন, দুই সংস্থার নথিতেই এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়েছে। তালিকাভুক্তি কার্যকর হয় গৃহীত হওয়ার ৯০ দিন পরে, অর্থাৎ ২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ।
নিয়মটি রজন, নির্যাস ও গুঁড়োর উপর প্রযোজ্য। খুচরো বিক্রির জন্য প্যাকেটজাত তৈরি পণ্য, যেমন ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সুগন্ধি, প্রসাধনী এবং ধূপকাঠি, তালিকাভুক্তির শর্ত থেকে বাদ রাখা হয়েছে। ভারত প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছিল, তাদের যুক্তি ছিল জনসংখ্যার তথ্য পুরোনো ও অসম্পূর্ণ, এবং ভারতে বন্য গুগ্গুল রপ্তানিতে ইতিমধ্যেই নিষেধাজ্ঞা আছে ও চাষের কাজ চলছে।
আপনি ভারত বা বাংলাদেশে বসে এক কৌটো ত্রিফলা গুগ্গুলু কিনলে এই নিয়ম সরাসরি আপনার উপর বর্তায় না। কিন্তু তথ্যটা জানা থাকলে একটা প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই আসে, যে ভেষজের সবচেয়ে বিখ্যাত দাবিটাই প্রমাণে টেকেনি, তার জন্য একটি মহাবিপন্ন গাছের উপর চাপ বাড়ানো কতটা যুক্তিসঙ্গত। চাষ করা উৎস থেকে আসা পণ্য বেছে নেওয়া গেলে সেটা অন্তত একটা ভাল দিক।
কে ব্যবহার করবেন না বা সতর্ক থাকবেন
গুগ্গুল বেশ কয়েকটি ওষুধের সাথে সংঘাতে জড়াতে পারে, এবং কিছু অবস্থায় একে এড়িয়ে চলাই নিরাপদ ধরা হয়। তালিকাটা ছোট নয়। নিচের প্রতিটি সতর্কতা আলাদা আলাদা করে পড়ে নেওয়া দরকার, কারণ গুগ্গুলের ঝুঁকির বড় অংশটাই আসে অন্য ওষুধের সাথে মিশে যাওয়া থেকে, ভেষজটি একা খেলে যা হত তার থেকে নয়।
- গর্ভাবস্থায় এটি সম্ভবত অনিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত, কারণ এটি জরায়ু-উদ্দীপক হতে পারে বলে WebMD-র ভেষজ মনোগ্রাফে সতর্ক করা হয়েছে। স্তন্যপানকালেও নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকায় একই সূত্রে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- থাইরয়েড হরমোনের ওষুধ চললে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া নয়। গুগ্গুল হাইপো ও হাইপার, দুই ধরনের থাইরয়েড চিকিৎসাতেই হস্তক্ষেপ করতে পারে, এবং থাইরয়েড হরমোনের সাথে এর সংঘাত WebMD-র তালিকায় মাঝারি মাত্রার হিসেবে নথিভুক্ত।
- লিভারে যে ওষুধগুলি বিপাকিত হয়, বিশেষত CYP3A4 এনজাইমের মাধ্যমে, গুগ্গুল সেগুলির কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিং-এর মনোগ্রাফ অনুযায়ী গবেষণাগারের কাজ ইঙ্গিত দেয় যে গুগ্গুল CYP3A4 সক্রিয় করে তোলে। এটি নিঃশব্দ ঝুঁকি, কারণ ওষুধ খাওয়া সত্ত্বেও তার প্রভাব কমে যেতে পারে।
- রক্তচাপের ওষুধ, বিশেষত ডিলটিয়াজেম ও প্রোপ্রানোলল, রক্ত পাতলা করার ওষুধ, ইস্ট্রোজেনযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, ট্যামক্সিফেন ও রোসুভাস্ট্যাটিনের সাথে মাঝারি মাত্রার সংঘাত WebMD-র মনোগ্রাফে নথিভুক্ত।
- লিভারের ক্ষতির কয়েকটি গুরুতর ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিং-এর মনোগ্রাফে দুটি ঘটনা উল্লেখ আছে, একটিতে লিভার এনজাইম বেড়ে যাওয়া, অন্যটিতে লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়েছিল। দুটি ক্ষেত্রেই গুগ্গুল ছিল একাধিক উপাদানের মিশ্র সাপ্লিমেন্টের অংশ, তাই দায় শুধু গুগ্গুলের কিনা বলা যায় না, কিন্তু সতর্কতাটুকু থেকে যায়।
- সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে পেটে অস্বস্তি, মাথাব্যথা, বমিভাব, পাতলা পায়খানা, ঢেকুর, হেঁচকি, মুখে তেতো স্বাদ এবং ত্বকে র্যাশ বা চুলকানি। বেশি মাত্রায় এগুলো বাড়ে।
- পেটে আলসার বা পুরাতন গ্যাস্ট্রাইটিস থাকলে গুগ্গুলের তীক্ষ্ণতা জ্বালা বাড়াতে পারে, তাই কম মাত্রায় শুরু।
- অস্ত্রোপচারের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে বন্ধ করা নিরাপদ।
- শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া নয়।
- র্যাশ শুরু হলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করুন। JAMA ট্রায়ালে প্রতিটি র্যাশই ওষুধ শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেখা দিয়েছিল, অর্থাৎ প্রথম দুই দিন সবচেয়ে মনোযোগ দেওয়ার সময়।
একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ
গুগ্গুল নিয়ে পড়তে গিয়ে সবচেয়ে অস্বস্তিকর লেগেছে প্রমাণের দিক বদলে যাওয়াটা। আশির দশকের ভারতীয় ট্রায়াল ভেষজটিকে যে জায়গায় বসিয়েছিল, ২০০৩ সালের JAMA-র ট্রায়াল তাকে ঠিক সেখান থেকেই নামিয়ে এনেছে, অথচ বাংলা ইন্টারনেটে আজও কেবল প্রথম অংশটুকুই ঘোরে আর দ্বিতীয় অংশটা প্রায় কোথাও চোখে পড়ে না। ব্যবধানটা বিশ বছরের।
আমার মনে হয়েছে, এই ফাঁকটা আসলে একটা অভ্যাসের ফল। আমরা ভেষজের খ্যাতিকে প্রমাণ ভেবে নিই, আর খ্যাতি একবার তৈরি হয়ে গেলে সেটা প্রমাণের চেয়ে অনেক বেশি দিন বাঁচে। (কথাটা শুধু আয়ুর্বেদের জন্য সত্যি নয়, অ্যালোপ্যাথিক সাপ্লিমেন্টের বাজারেও একই ছবি।) গুগ্গুল এই ব্যবধানের একটা পরিষ্কার উদাহরণ, আর সেই কারণেই ভেষজটি আমার কাছে এখনও আগ্রহের বিষয়, শুধু ভিন্ন কারণে।
উপসংহার
গুগ্গুল একটি প্রকৃত শাস্ত্রীয় ভেষজ, যার ঐতিহ্যগত ব্যবহার দুই হাজার বছরের পুরোনো, কিন্তু যার সবচেয়ে প্রচারিত আধুনিক দাবিটি আধুনিক প্রমাণে টেকেনি। বাত ও ব্রণে সামান্য ইঙ্গিত আছে, কোলেস্টেরল ও ওজনে নেই। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ওষুধ-সংঘাতের একটা লম্বা তালিকা আর ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হওয়া একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-নিয়ন্ত্রণ।
তাই একটাই সুনির্দিষ্ট কাজের কথা বলি। বাড়িতে যদি কোনো গুগ্গুলু ফর্মুলার কৌটো থাকে, আজই সেটা নামিয়ে উপাদানের তালিকাটা পড়ুন, আর আপনি যে অন্য ওষুধগুলো খান তার সাথে মিলিয়ে দেখুন থাইরয়েড, রক্তচাপ বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেখানে আছে কিনা। থাকলে পরের বার চিকিৎসকের কাছে গেলে কৌটোটা সঙ্গে নিয়ে যাবেন। এই একটা প্রশ্ন করে নেওয়া, কোন ভেষজ খাব সেই সিদ্ধান্তের চেয়ে বেশি কাজে লাগে।
সূত্র / Sources
- Szapary PO, Wolfe ML, Bloedon LT, et al. Guggulipid for the treatment of hypercholesterolemia, a randomized controlled trial. JAMA, ২০০৩, 290(6):765-72, PMID 12915429: jamanetwork.com এবং pubmed.ncbi.nlm.nih.gov
- Guggul for hyperlipidemia, a review by the Natural Standard Research Collaboration. Database of Abstracts of Reviews of Effects, NCBI Bookshelf NBK72258: ncbi.nlm.nih.gov
- Guggul, integrative medicine herb monograph. Memorial Sloan Kettering Cancer Center: mskcc.org
- Nityanand S, Srivastava JS, Asthana OP. Clinical trials with gugulipid, a new hypolipidaemic agent. Journal of the Association of Physicians of India, ১৯৮৯, 37(5):323-8, PMID 2693440: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov
- Singh BB, Mishra LC, Vinjamury SP, et al. The effectiveness of Commiphora mukul for osteoarthritis of the knee, an outcomes study. Alternative Therapies in Health and Medicine, ২০০৩, 9(3):74-9, PMID 12776478: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov
- Thappa DM, Dogra J. Nodulocystic acne, oral gugulipid versus tetracycline. The Journal of Dermatology, ১৯৯৪, 21(10):729-31, PMID 7798429: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov
- Panda S, Kar A. Guggulu (Commiphora mukul) potentially ameliorates hypothyroidism in female mice. Phytotherapy Research, ২০০৫, 19(1):78-80, PMID 15798994: pubmed.ncbi.nlm.nih.gov
- Sairkar PK, Sharma A, Shukla NP. SCAR marker for identification and discrimination of Commiphora wightii and C. myrrha. Molecular Biology International, ২০১৬, PMCID PMC4812406: pmc.ncbi.nlm.nih.gov
- A wide range of species benefit from increased protections at CITES CoP20, Samarkand. UN Environment Programme World Conservation Monitoring Centre, ২০২৫: unep-wcmc.org
- New botanical species added to CITES Appendix II during the 20th Conference of the Parties, including the exact listing annotation. American Herbal Products Association, ২০২৫: ahpa.org
- Guggul, overview, uses, side effects, precautions, interactions and dosing. WebMD vitamins and supplements monograph: webmd.com
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। এটি চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর

লেখক সম্পর্কে
অভিজিৎ সাউ
তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক
তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত একজন প্রকৌশলী। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলা ভাষায় আয়ুর্বেদ, ভেষজ ও প্রাকৃতিক জীবনযাত্রার বিশ্বস্ত তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিটি নিবন্ধের পেছনে শাস্ত্রীয় গ্রন্থ, AYUSH মন্ত্রকের নির্দেশিকা ও প্রকাশিত গবেষণাপত্র যাচাই করি।
এই নিবন্ধটি প্রকাশের আগে প্রাথমিক উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই ও সম্পাদনা করা হয়েছে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি।

ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম, উপকারিতা ও অপকারিতা, কত গ্রাম
ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম, দিনে কত গ্রাম, রাতে ঠিক কখন, উপকারিতা ও অপকারিতা কতটা প্রমাণিত, কোন ওষুধের সঙ্গে ব্যবধান দরকার আর কাদের একেবারেই চলবে না।

হিং এর উপকারিতা, এক চিমটির বিজ্ঞান ও ভেজাল চেনার উপায়
হিং এর উপকারিতা হজমে কতটা প্রমাণিত, দুটি প্লাসিবো ট্রায়াল কী পেয়েছে, রান্নায় কতটা দেবেন, খাঁটি হিং চেনার ঘরোয়া পরীক্ষা আর কাদের এড়িয়ে চলা দরকার।

অর্জুন ছাল কি সত্যিই হার্টের বন্ধু, গবেষণা যা বলে ও যা বলে না
অর্জুন ছাল হৃদযন্ত্রে কতটা কাজ করে, ক্লিনিকাল ট্রায়াল কী বলে, খাওয়ার নিয়ম ও মাত্রা কত, কোন ওষুধের সঙ্গে ঝুঁকি আছে, কাদের এড়িয়ে চলা দরকার, প্রমাণসহ আলোচনা।