আরোগ্য বাংলা
জীবনযাত্রা ২৮ মে, ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ২৯ জুলাই, ২০২৬ 13 মিনিট পড়ুন

হাঁটুর ব্যথা কমানোর উপায়, প্রমাণ কী বলে আর আয়ুর্বেদ কী বলে

হাঁটুর ব্যথা কমানোর উপায় নিয়ে NICE নির্দেশিকা ও গবেষণা কী বলে, ব্যায়াম ও ওজনের ভূমিকা, শল্লকির প্রমাণ, তেল মালিশ কতটা কাজ করে এবং কখন ডাক্তার দেখাবেন।

অভিজিৎ সাউ
তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক

AI-সহায়তায় গবেষণা ও খসড়া; সম্পাদনা, যাচাই ও তথ্যের দায়ভার লেখক অভিজিৎ সাউ-এর। সম্পাদকীয় নীতি গবেষণা পদ্ধতি

হাঁটুর ব্যথায় আয়ুর্বেদিক তেল মালিশ ও সন্ধিশূলের ভেষজ যত্ন
সূচিপত্র11টি বিভাগ

সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে হাঁটুতে হঠাৎ টান, চেয়ার থেকে উঠতে গিয়ে ঠেলা লাগা, সকালে প্রথম কয়েক পা ফেলতে গিয়ে জড়তা। এটা এখন আর কেবল বয়স্কদের অভিযোগ নয়। ভারতের পাঁচটি অঞ্চলে ৫০০০ জনের ওপর করা একটি সমীক্ষায় (Pal ও সহকর্মীরা, Indian Journal of Orthopaedics, ২০১৬) হাঁটুর সন্ধিক্ষয়ের প্রাদুর্ভাব পাওয়া গিয়েছিল ২৮.৭ শতাংশ, আর নারীদের ক্ষেত্রে তা ৩১.৬ শতাংশ। প্রায় প্রতি তিনজনে একজন।

হাঁটুর ব্যথায় সবচেয়ে শক্ত প্রমাণ যে জিনিসটির পক্ষে, সেটি কোনো তেল বা ভেষজ নয়, সেটি ব্যায়াম। ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য-নির্দেশিকা সংস্থা NICE তাদের ২০২২ সালের সন্ধিক্ষয় নির্দেশিকায় সবার আগে যেটির কথা বলেছে তা হলো পেশি শক্ত করার ও অ্যারোবিক ব্যায়াম, এবং ব্যথানাশক ওষুধকে রেখেছে তার সহায়ক হিসেবে, বিকল্প হিসেবে নয়। আয়ুর্বেদের স্নেহন ও স্বেদন এর পাশে থাকতে পারে, তার জায়গা আছে, কিন্তু জায়গাটা কোথায় সেটা গুলিয়ে ফেললেই সমস্যা।

এই লেখায় দেখব হাঁটুর ব্যথা কেন হয়, সন্ধিগত বাত আর আমবাতের তফাত কেন ব্যবহারিক দিক থেকে জরুরি, প্রমাণের নিরিখে কোনটা আগে আর কোনটা পরে, শল্লকির মতো ভেষজে সত্যিই কতটা আছে, তেল মালিশ কী দেয় আর কী দেয় না, আর কোন লক্ষণ দেখলে ঘরোয়া যত্ন থামিয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

এক নজরে

  • ভারতে হাঁটুর সন্ধিক্ষয়ের প্রাদুর্ভাব প্রায় ২৮.৭ শতাংশ, নারীদের ৩১.৬ শতাংশ (Pal ২০১৬)।
  • সবচেয়ে শক্ত প্রমাণ ব্যায়ামের পক্ষে। NICE সবাইকে ব্যায়াম দেওয়ার কথা বলে, ওষুধকে সহায়ক রাখে।
  • ওজন কমানো দ্বিতীয় স্তম্ভ। NICE বলছে ৫ শতাংশের চেয়ে ১০ শতাংশ কমানো বেশি কার্যকর।
  • সিঁড়ি ওঠার সময় হাঁটুতে চাপ পড়ে শরীরের ওজনের প্রায় ৩.২ গুণ, নামার সময় ৩.৫ গুণ পর্যন্ত।
  • শল্লকিতে সীমিত প্রমাণ, একটি ২০২৪ সালের ট্রায়াল, ৯৮ জন, বাণিজ্যিক নির্যাস।
  • তেল মালিশ ও সেঁক আরামদায়ক, তবে সন্ধিক্ষয় থামানোর প্রমাণ নেই।
  • সন্ধিগত বাত ও আমবাত আলাদা। লাল, গরম ও ফোলা সন্ধিতে গরম সেঁক নয়।
  • দ্রুত ফোলা, জ্বর, রাতের ব্যথা বা পায়ে অবশভাব হলে সরাসরি চিকিৎসকের কাছে।

হাঁটুর ব্যথা কেন হয়

হাঁটু শরীরের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে বেশি ভার বহনকারী সন্ধি, আর সেই ভারের অঙ্কটাই ব্যথার বড় অংশের ব্যাখ্যা দেয়। হাঁটার সময় হাঁটুতে যে চাপ পড়ে তা শরীরের ওজনের কয়েক গুণ, আর সিঁড়িতে সেটা আরও বাড়ে।

এই চাপ অনুমান নয়, সরাসরি মাপা। Journal of Biomechanics-এ ২০১০ সালে প্রকাশিত Kutzner ও সহকর্মীদের গবেষণায় পাঁচজন মানুষের হাঁটুতে সেন্সর বসানো কৃত্রিম সন্ধি প্রতিস্থাপন করে দৈনন্দিন কাজের সময় চাপ মাপা হয়েছিল। সিঁড়ি নামার সময় সর্বোচ্চ চাপ ছিল শরীরের ওজনের ৩৪৬ শতাংশ, সিঁড়ি ওঠায় ৩১৬ শতাংশ এবং সমতলে হাঁটায় ২৬১ শতাংশ। অর্থাৎ ৭০ কেজি ওজনের একজন মানুষ সিঁড়ি নামার সময় প্রতিটি ধাপে হাঁটুর ওপর প্রায় ২৪০ কেজির সমান চাপ ফেলছেন।

সংখ্যাটা ভাবার মতো। কারণ এর উল্টো দিকটাও সত্যি, ওজন কমলে ওই চাপও একই অনুপাতে কমে, আর সেটাই ওজন নিয়ন্ত্রণকে নিছক উপদেশ থেকে সরিয়ে চিকিৎসার অংশ করে তোলে।

বাকি কারণগুলোও চেনা। পায়ের কোয়াড্রিসেপস ও হ্যামস্ট্রিং পেশি দুর্বল হলে হাঁটু অস্থির হয়ে পড়ে এবং সন্ধির ওপর চাপ বাড়ে। দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে থাকলে কার্টিলেজে পুষ্টি পৌঁছায় কম, কারণ কার্টিলেজে সরাসরি রক্তনালী নেই, নড়াচড়ার পাম্পিংয়েই তার পুষ্টি আসে। Pal-দের ওই সমীক্ষায় ঝুঁকির কারণ হিসেবে যে চারটি বিষয় পরিসংখ্যানগতভাবে অর্থবহ এসেছিল, সেগুলো হলো নারী হওয়া, স্থূলতা, বয়স এবং বসে-থাকা কাজ।

সন্ধিগত বাত না আমবাত, তফাত কেন জরুরি

আয়ুর্বেদে হাঁটুর ব্যথাকে বলা হয় সন্ধিশূল, আর হাঁটুকে জানু সন্ধি, তবে চিকিৎসার দিক থেকে আসল প্রশ্নটা হলো সমস্যাটি সন্ধিগত বাত না আমবাত। এই দুটোকে এক ধরে নিলে ঘরোয়া যত্নই উল্টো ফল দিতে পারে।

চরক সংহিতা অনুযায়ী বায়ু দোষের বিকৃতি সন্ধিতে ঢুকলে সেখানে শূল, শোথ ও স্তব্ধতা দেখা দেয়। সন্ধিতে স্বাভাবিকভাবে থাকা শ্লেষক কফ শুকিয়ে গেলে হাড়ে হাড়ে ঘর্ষণ শুরু হয়, আর সেই ঘর্ষণ থেকেই ব্যথা, ফোলা ও নড়াচড়ায় কটকট শব্দের মতো উপসর্গগুলো একে একে দেখা দিতে থাকে। আধুনিক ভাষায় এটি অনেকটা কার্টিলেজ ক্ষয়ের বর্ণনা, যদিও দুটি কাঠামো এক নয় এবং এক করে দেখানোও উচিত নয়।

বিষয় সন্ধিগত বাত আমবাত
মূল দোষ বাত-প্রধান বাত ও আম একসঙ্গে
আধুনিক তুলনা অস্টিওআর্থ্রাইটিস রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস
কোথায় সাধারণত এক বা দুই সন্ধিতে সারা শরীরে, দুই দিকে সমান
ব্যথার ধরন নড়াচড়ায় বাড়ে, বিশ্রামে কমে বিশ্রামেও থাকে, সকালে জড়তা বেশি
সন্ধির চেহারা ফোলা কম, গরম নয় লাল, গরম, ফোলা থাকতে পারে
সেঁক উষ্ণ সেঁক সাধারণত আরামদায়ক তীব্র পর্যায়ে ঠান্ডা সেঁক, গরম নয়

শেষ সারিটাই আসল কথা। সন্ধি যখন লাল, গরম ও ফোলা, তখন গরম সেঁক দিলে প্রদাহ বাড়তে পারে, অথচ বাংলা ইন্টারনেটে গরম সেঁকের পরামর্শ প্রায় নির্বিচারে দেওয়া হয়। কোন ধরনের সমস্যায় ভুগছেন সেটি নিশ্চিত হওয়া চিকিৎসকের কাজ, নিজে অনুমান করার নয়।

সবচেয়ে শক্ত প্রমাণ যেখানে, ব্যায়াম ও ওজন

হাঁটুর সন্ধিক্ষয়ে যে দুটি হস্তক্ষেপের পক্ষে প্রমাণ সবচেয়ে শক্ত, সেগুলো হলো ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ। বাংলায় লেখা কিছু হাসপাতাল-পাতায় এই দুটি ঠিক জায়গাতেই আছে, আবার ঘরোয়া-টোটকার তালিকাগুলোয় এগুলো প্রায়ই শেষে যোগ হওয়া উপদেশ হয়ে যায়, আর সেখানেই ক্রমটা উল্টে যায়।

ব্রিটেনের NICE-এর সন্ধিক্ষয় নির্দেশিকা NG226 (অক্টোবর ২০২২) বলছে, সন্ধিক্ষয়ে ভোগা প্রত্যেককেই তাঁর প্রয়োজন অনুযায়ী সাজানো ব্যায়াম দেওয়া উচিত, যার মধ্যে থাকবে স্থানীয় পেশি শক্তিশালীকরণ ও সাধারণ অ্যারোবিক ফিটনেস। ওষুধ প্রসঙ্গে তাদের অবস্থান আরও স্পষ্ট, ব্যথানাশক দিতে হবে অ-ওষুধীয় চিকিৎসার পাশাপাশি এবং ব্যায়ামকে সমর্থন করার জন্য, সবচেয়ে কম কার্যকর মাত্রায় ও সবচেয়ে কম সময়ের জন্য। নির্দেশিকা প্রণয়নকারী কমিটি আরও উল্লেখ করেছে, ব্যায়ামের উপকার চিকিৎসাগতভাবে অর্থবহ এবং নিরাপত্তার দিক থেকে এটি ওপিওয়েড বা প্যারাসিটামলের চেয়ে ভালো।

ওজনের প্রসঙ্গে NICE একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়েছে, যেটি এই বিষয়ে দেখা বাংলা লেখাগুলোয় চোখে পড়েনি। যাঁদের ওজন বেশি, তাঁদের জানানো উচিত যে যেকোনো পরিমাণ ওজন কমানোই উপকারী, তবে শরীরের ওজনের ১০ শতাংশ কমানো ৫ শতাংশ কমানোর চেয়ে ভালো ফল দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ওজন কমানোর আয়ুর্বেদিক অভ্যাসের দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতিগুলো এখানে সরাসরি কাজে লাগে।

ব্যায়ামের ধরনটা কেমন হবে, সেটাও নির্দিষ্ট করে বলা দরকার, কারণ "হালকা ব্যায়াম করুন" পরামর্শটা কার্যত অর্থহীন।

  • কোয়াড্রিসেপস শক্তিশালীকরণ, যেমন স্ট্রেইট লেগ রেইজ, শুয়ে পা সোজা রেখে তুলে ৫ সেকেন্ড ধরে রাখা, ১০ বার করে ২ থেকে ৩ সেট।
  • হাফ স্কোয়াট, দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে অর্ধেক বসা, ১০ বার করে ২ থেকে ৩ সেট।
  • হ্যামস্ট্রিং ও কাফ স্ট্রেচ, প্রতিটি ৩০ সেকেন্ড ধরে, পায়ে ২ বার করে।
  • অ্যারোবিক অংশের জন্য সমতলে হাঁটা, সাইকেল বা জলের মধ্যে হাঁটা, কারণ জলে ভরের চাপ কমে যায়।
  • যোগাসনও এই কাঠামোর মধ্যেই পড়ে। সেতুবন্ধ আসন কোমর ও ঊরুর পেছনের পেশি শক্ত করে, তবে হাঁটু মুড়ে বসার আসনগুলো সন্ধিক্ষয়ে অস্বস্তি বাড়াতে পারে, তাই শিক্ষকের নির্দেশনায় বেছে নেওয়া দরকার।

শুরু করার আগে একটা শর্ত আছে। এই ব্যায়ামগুলো সাধারণ সন্ধিক্ষয়ের জন্য, চোট বা তীব্র প্রদাহের পর্যায়ে নয়, তাই প্রথমবার শুরু করার আগে ফিজিওথেরাপিস্ট বা চিকিৎসককে দেখিয়ে নেওয়াই নিরাপদ। ব্যথা বাড়লে থামুন।

শল্লকি ও অন্য ভেষজ, প্রমাণ কতটা

হাঁটুর ব্যথায় ব্যবহৃত আয়ুর্বেদিক ভেষজগুলোর মধ্যে শল্লকি নিয়ে গবেষণা সবচেয়ে বেশি, তবে সেই গবেষণার পরিমাণ ও মান দুটোই এখনো সীমিত। ভেষজ মানেই নিরীহ নয়, আবার ভেষজ মানেই অকেজোও নয়, তাই প্রতিটির প্রমাণ আলাদা করে দেখা দরকার।

শল্লকি বা Boswellia serrata একটি গাছের আঠা। Frontiers in Pharmacology জার্নালে ২০২৪ সালে প্রকাশিত Majeed ও সহকর্মীদের একটি দ্বৈত-অন্ধ প্লাসিবো-নিয়ন্ত্রিত ট্রায়ালে ১০৫ জনকে এলোমেলোভাবে তিন দলে ভাগ করা হয়, যাঁদের ৯৮ জন ৯০ দিনের পর্ব শেষ করেন। দিনে ৩০০ বা ৬০০ মিলিগ্রাম প্রমিত নির্যাস নেওয়ার পর ৯০ দিনে ব্যথার VAS স্কোর কমেছিল যথাক্রমে ৪৫.৩ ও ৬১.৯ শতাংশ, আর WOMAC সূচকে উন্নতি ৬৮.৫ ও ৭৩.৬ শতাংশ।

সংখ্যাগুলো বড়, তাই সীমাবদ্ধতাগুলোও পাশে রাখা জরুরি। লেখকরা নিজেরাই জানিয়েছেন, দলগুলো ছোট, অংশগ্রহণকারী সবাই দক্ষিণ ভারতের একটি জায়গার, রোগীরা ছিলেন সদ্য শনাক্ত মৃদু থেকে মাঝারি পর্যায়ের, এবং প্রদাহ-সূচকের ফলাফলে ভিন্নতা এত বেশি ছিল যে দলে দলে তুলনায় তা অর্থবহ হয়নি। এর সঙ্গে যোগ করা দরকার আরেকটি কথা, পরীক্ষা করা নির্যাসটি একটি নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক পণ্য এবং গবেষণাটি সেই পণ্যের সঙ্গে যুক্ত। এতে ফল মিথ্যা হয়ে যায় না, কিন্তু একে একাধিক স্বাধীন গবেষণার সমান ধরা যায় না।

ভেষজ প্রমাণের মাত্রা যা জানা আছে
আদা মাঝারি প্রমাণ ২০১৫ সালের মেটা-বিশ্লেষণ, ৫ ট্রায়াল, ৫৯৩ জন, ব্যথায় SMD ০.৩০ হ্রাস (Bartels)
হলুদ ও কারকিউমিন সীমিত প্রমাণ ২০২৫ সালের নেটওয়ার্ক মেটা-বিশ্লেষণ, ১৭ ট্রায়াল, ৯১৩ জন, তবে নিশ্চয়তা নিম্ন (Wai)
শল্লকি (Boswellia serrata) সীমিত প্রমাণ ২০২৪ সালের একটি ট্রায়ালে ব্যথা ও WOMAC-এ উন্নতি, ৯৮ জন (Majeed)
অশ্বগন্ধা সীমিত প্রমাণ ২০১৬ সালের একটি ট্রায়াল, ৬০ জন, ১২ সপ্তাহে mWOMAC ও VAS-এ উন্নতি (Ramakanth)
গুগ্গুল অপর্যাপ্ত প্রমাণ ছোট কয়েকটি গবেষণা আছে, মেটা-বিশ্লেষণ নেই

টেবিলের ক্রমটা লক্ষ করার মতো, কারণ এটি জনপ্রিয়তার ক্রম নয়। সবচেয়ে ওপরে আদা, কারণ Osteoarthritis and Cartilage জার্নালে ২০১৫ সালে প্রকাশিত Bartels ও সহকর্মীদের মেটা-বিশ্লেষণে ৫টি ট্রায়ালের ৫৯৩ জনের তথ্য মিলিয়ে ব্যথায় SMD ০.৩০ ও অক্ষমতায় ০.২২ হ্রাস পাওয়া গিয়েছিল এবং লেখকরা প্রমাণের মানকে মাঝারি বলেছেন। তবে ওই একই বিশ্লেষণে একটি অস্বস্তিকর তথ্যও আছে, আদা নেওয়া রোগীরা প্লাসিবোর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হারে চিকিৎসা মাঝপথে ছেড়ে দিয়েছিলেন, সম্ভবত পেটের অস্বস্তির কারণে।

হলুদের ক্ষেত্রে সংখ্যা বেশি কিন্তু নিশ্চয়তা কম। BMC Complementary Medicine and Therapies জার্নালে ২০২৫ সালে প্রকাশিত Wai ও সহকর্মীদের নেটওয়ার্ক মেটা-বিশ্লেষণে ১৭টি ট্রায়ালের ৯১৩ জনকে ধরা হয়েছিল এবং সব ধরনের হলুদ-প্রস্তুতিই প্লাসিবোর তুলনায় ব্যথা ও কার্যক্ষমতায় উন্নতি দেখিয়েছে, কিন্তু লেখকরা নিজেরাই নেটওয়ার্ক অনুমানের নিশ্চয়তাকে নিম্ন থেকে অতি-নিম্ন বলে চিহ্নিত করেছেন।

অশ্বগন্ধার ক্ষেত্রে Journal of Ayurveda and Integrative Medicine-এ ২০১৬ সালে প্রকাশিত Ramakanth ও সহকর্মীদের একটি ছোট ট্রায়ালে ৬০ জনকে ১২ সপ্তাহ দিনে দুবার ১২৫ বা ২৫০ মিলিগ্রাম নির্যাস দেওয়ার পর mWOMAC ও VAS স্কোরে উন্নতি পাওয়া যায়, সহনীয়তাও ভালো ছিল। গুগ্গুলের ক্ষেত্রে হাঁটুর সন্ধিক্ষয় নিয়ে কয়েকটি ছোট গবেষণা আছে, কিন্তু মেটা-বিশ্লেষণ নেই, তাই এর তকমা অপর্যাপ্ত প্রমাণ। কাঁচা হলুদআদার সাধারণ পরিচিতি আলাদা নিবন্ধে আছে।

একটা কথা এই গোটা অংশের ওপরে বসে। এই তালিকার কোনোটিই ব্যায়ামের বিকল্প নয়, এবং কোনোটিই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধের মাত্রায় নেওয়ার জিনিস নয়।

তেল মালিশ ও সেঁক, কী কাজ করে আর কী নয়

আয়ুর্বেদের স্নেহন ও স্বেদন, অর্থাৎ উষ্ণ তেল মালিশ ও সেঁক, হাঁটুর ব্যথায় আরাম ও পেশি শিথিলতার অনুভূতি দেয়, কিন্তু এতে সন্ধির ক্ষয় থেমে যায় বা কার্টিলেজ ফিরে আসে এমন প্রমাণ নেই। প্রমাণের মাত্রার দিক থেকে এটি ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার, রোগ-পরিবর্তনকারী চিকিৎসা নয়। এই দুটোকে আলাদা রাখাই এই অংশের মূল কথা।

মালিশের ব্যবহারিক দিকটা সহজ। মহানারায়ণ তেল ও মহামাষ তেল সন্ধি-মালিশের চেনা শাস্ত্রীয় যোগ, আর হাতের কাছে কিছু না থাকলে সাধারণ তিল তেলও চলে। তেল হালকা গরম করুন, হাতের তালুতে নিয়ে আঙুল দিয়ে হাঁটুর চারপাশে বৃত্তাকারে মৃদু চাপে ১৫ থেকে ২০ মিনিট মালিশ করুন। গরম তেল ত্বকে লাগার সঙ্গে সঙ্গে যে সিরসিরে উষ্ণতা ছড়ায়, সেটাই পেশি শিথিল হওয়ার শুরু।

সেঁকের ক্ষেত্রে একটাই শর্ত, আর সেটি না মানলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে। সন্ধি যদি লাল, গরম ও দ্রুত ফুলে ওঠা অবস্থায় থাকে, তখন গরম সেঁক নয়। সাধারণ সন্ধিগত বাতে অবশ্য মালিশের পরে কাপড়ের পোটলায় মোটা লবণ গরম করে সেঁক দেওয়ার চল বহু বাঙালি বাড়িতে আজও আছে, আর সেটি আরামদায়ক।

আমার নিজের অবস্থানটা এখানে খানিকটা মাঝামাঝি। মালিশকে অকেজো বলে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়, কারণ ব্যথার সঙ্গে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে আরামের মূল্য আছে এবং রাতে ঘুম ভালো হওয়াও একটা ফল। কিন্তু কেউ যদি মালিশ করে ব্যায়াম বাদ দেন, তাহলে যেটা প্রমাণিত সেটা ছেড়ে যেটা প্রমাণিত নয় সেটা বেছে নেওয়া হয়, আর হাঁটুর ক্ষয় অপেক্ষা করে না।

হাঁটু ব্যথায় কী খাবেন, কী এড়াবেন

হাঁটুর ব্যথায় কোনো একক খাবার সন্ধি সারায় না, তবে খাদ্যাভ্যাসের দুটি দিক পরোক্ষে কাজ করে, এক হলো ওজন নিয়ন্ত্রণ আর অন্যটি হাড় ও পেশির পুষ্টি, আর এই দুটোর কোনোটিই এক সপ্তাহে বদলায় না। আয়ুর্বেদের বাত-শমন খাদ্যতালিকাও মূলত একই দিকে ইঙ্গিত করে, উষ্ণ, স্নিগ্ধ ও সহজপাচ্য।

  • রান্নায় পরিমিত ঘি বা তেল রাখুন। আয়ুর্বেদে স্নিগ্ধ আহার বাত কমায় বলে ধরা হয়, তবে ওজন বাড়লে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি, তাই পরিমাণটাই আসল।
  • প্রোটিন কম পড়তে দেবেন না। পেশি শক্ত করার ব্যায়াম কাজ করে তখনই যখন প্রোটিন যথেষ্ট থাকে, আর ডাল, ডিম, মাছ বা দুধ সেই জায়গাটা ভরে।
  • ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম নিয়ে সচেতন থাকুন, বিশেষত যাঁরা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরে থাকেন।
  • হলুদ ও আদা রোজকার রান্নায় রাখতে অসুবিধা নেই, তবে এগুলো মশলা হিসেবে, ওষুধ হিসেবে নয়।
  • অতিরিক্ত ভাজাভুজি ও মিষ্টি কমানোর যুক্তি প্রদাহ নয়, ওজন। হজমের অগ্নি ঠিক রাখলে ও আম জমা কমালে আয়ুর্বেদের দৃষ্টিতে আমবাতের প্রবণতাও কমে।

কোনো খাবারই সন্ধিক্ষয় ফিরিয়ে দেয় না। যে লেখা তা দাবি করে, সেটিকে সন্দেহ করাই ভালো।

কখন ডাক্তার দেখাবেন, কে সতর্ক থাকবেন

কিছু লক্ষণ ঘরোয়া যত্নের সীমার বাইরে, এবং সেগুলো দেখা দিলে অপেক্ষা করা মানে ঝুঁকি নেওয়া। নিচের যেকোনো একটি মিলে গেলে তেল, সেঁক বা ভেষজ নয়, সরাসরি চিকিৎসক।

  • সন্ধি দ্রুত ফুলে উঠছে, লাল ও গরম হয়ে আছে, বিশেষত সঙ্গে জ্বর থাকলে। এটি সংক্রমণ হতে পারে, যা জরুরি অবস্থা।
  • ব্যথা রাতে বাড়ছে বা বিশ্রামেও কমছে না।
  • সকালের জড়তা এক ঘণ্টার বেশি থাকছে এবং দুই দিকের সন্ধিতেই সমস্যা, যা প্রদাহজনিত বাতের ইঙ্গিত দিতে পারে।
  • পায়ে অবশভাব, ঝিনঝিন বা দুর্বলতা আসছে।
  • চোট পাওয়ার পর হাঁটুতে ভর দিতে পারছেন না, বা হাঁটু আটকে যাচ্ছে বা ছেড়ে যাচ্ছে।
  • ব্যথা ছয় সপ্তাহের বেশি চলছে এবং ঘরোয়া যত্নে বদলাচ্ছে না।

এর বাইরেও কয়েকটি ক্ষেত্রে আলাদা করে সতর্ক থাকবেন। সাম্প্রতিক চোট বা অস্ত্রোপচারের পর মালিশ শুরু করার আগে চিকিৎসকের অনুমতি নিন, কারণ ওই সময়ে সন্ধির ভেতরের অবস্থা বাইরে থেকে বোঝা যায় না এবং ভুল সময়ে চাপ দিলে সারতে থাকা কলা আবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রক্ত পাতলা করার ওষুধ, যেমন ওয়ারফারিন বা অ্যাসপিরিন চললে শল্লকি ও উচ্চমাত্রার আদা-হলুদ নেওয়ার আগে চিকিৎসককে জানান। গর্ভাবস্থায় ভেষজ ওষুধের মাত্রা এড়িয়ে চলুন। আর কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করে ভেষজে যাবেন না। কোমরে ব্যথার আয়ুর্বেদিক প্রতিকার পড়লে বুঝবেন, মেরুদণ্ড ও সন্ধির সমস্যা একসঙ্গে চলতে পারে, তাই সামগ্রিকভাবে দেখা দরকার। দোষ-প্রকৃতির কাঠামোটা বুঝতে চাইলে ত্রিদোষের পরিচয় কাজে লাগবে।

একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ

আমার পরিচিত এক দাদু, বয়স বাষট্টি, বলেছিলেন ডাক্তারের ওষুধের পাশাপাশি রোজ রাতে তিল তেলে হাঁটু মালিশ শুরু করার পর তিন মাসে সকালের জড়তা অনেকটা কমেছে। কথাটা আমি অবিশ্বাস করি না।

তবে এই ধরনের গল্প নিয়ে কাজ করতে গিয়ে একটা জিনিস বারবার চোখে পড়ে। মানুষ যখন ব্যথা নিয়ে কিছু একটা শুরু করেন, তখন সাধারণত একসঙ্গে অনেক কিছুই বদলায়, হাঁটাচলা, খাওয়া, ঘুম, এমনকি মনোভাবও, অথচ কৃতিত্বটা পায় যেটা হাতে ধরা যায় সেটাই। তেলের শিশিটা চোখে পড়ে, রোজকার হাঁটাটা পড়ে না। আমি নিজেও এই ভুলটা করেছি, তাই কারও গল্প শুনে আর ধরে নিই না কোন জিনিসটা কাজ করেছে।

উপসংহার

হাঁটুর ব্যথায় আয়ুর্বেদের দৃষ্টিভঙ্গি সামগ্রিক এবং সেই সামগ্রিকতার মূল্য আছে, দোষের ভারসাম্য, অগ্নি, আহার ও বিহার সব একসঙ্গে দেখা, আর আধুনিক নির্দেশিকাও শেষ পর্যন্ত একই কথা বলে, চিকিৎসা কেবল ব্যথা কমানো নয়, গোটা মানুষটার চলাফেরা ফিরিয়ে আনা। কিন্তু প্রমাণের নিরিখে ক্রমটা উল্টে ফেলা চলে না। ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ ভিত্তি, ভেষজ ও মালিশ তার ওপরে বসে, এবং কোনো সাজানো ক্রমই লাল-গরম-ফোলা সন্ধি বা জ্বরের বিকল্প নয়।

তাই একটি নির্দিষ্ট কাজ দিয়ে শেষ করি। আজ থেকে শুরু করতে চাইলে তেলের শিশি নয়, প্রথমে একটা চেয়ার নিন। চেয়ারে বসে এক পা সোজা করে তুলে পাঁচ সেকেন্ড ধরে রাখুন, নামান, এইভাবে দশ বার, দুই পায়ে। এটাই স্ট্রেইট লেগ রেইজ, প্রমাণের দিক থেকে সবচেয়ে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়ানো সবচেয়ে সহজ ব্যায়ামগুলোর একটি। তারপর ইচ্ছে হলে রাতে মালিশও করুন, দুটোয় বিরোধ নেই। শুধু ক্রমটা মনে রাখবেন। আর সন্ধি লাল-গরম-ফোলা হলে, জ্বর থাকলে বা পায়ে অবশভাব এলে আগে চিকিৎসক, তারপর বাকি সব।

সূত্র / Sources

  • National Institute for Health and Care Excellence. Osteoarthritis in over 16s, diagnosis and management. NICE guideline NG226, অক্টোবর ২০২২, NCBI Bookshelf NBK588843
  • Pal CP, Singh P, Chaturvedi S, Pruthi KK, Vij A. Epidemiology of knee osteoarthritis in India and related factors. Indian Journal of Orthopaedics, 2016, 50(5):518-522, PMID 27746495
  • Majeed M ও সহকর্মীরা. A standardized Boswellia serrata extract shows improvements in knee osteoarthritis within five days, a double-blind, randomized, three-arm, parallel-group, multi-center, placebo-controlled trial. Frontiers in Pharmacology, 2024, PMC11291344
  • Kutzner I, Heinlein B, Graichen F, Bender A, Rohlmann A, Halder A, Beier A, Bergmann G. Loading of the knee joint during activities of daily living measured in vivo in five subjects. Journal of Biomechanics, 2010, 43(11):2164-2173, ScienceDirect
  • Bartels EM ও সহকর্মীরা. Efficacy and safety of ginger in osteoarthritis patients, a meta-analysis of randomized placebo-controlled trials. Osteoarthritis and Cartilage, 2015, PMID 25300574
  • Wai HS, Pathomwichaiwat T, Suansanae T, Nathisuwan S, Rattanavipanon W. Effect of turmeric products on knee osteoarthritis, a systematic review and network meta-analysis. BMC Complementary Medicine and Therapies, 2025, PMC12309109
  • Ramakanth GSH, Uday Kumar C, Kishan PV, Usharani P. A randomized, double blind placebo controlled study of efficacy and tolerability of Withania somnifera extracts in knee joint pain. Journal of Ayurveda and Integrative Medicine, 2016, PMID 27647541

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। এটি চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

পায়ের পেশি শক্ত করার ব্যায়াম আর সাধারণ অ্যারোবিক ব্যায়াম, দুটোই। ব্রিটেনের NICE নির্দেশিকা (NG226, ২০২২) হাঁটুর সন্ধিক্ষয়ে সবাইকে ব্যায়াম দেওয়ার কথা বলে এবং একে ব্যথানাশক ওষুধের আগে রাখে। স্ট্রেইট লেগ রেইজ, হাফ স্কোয়াট ও কোয়াড্রিসেপস শক্তিশালী করার ব্যায়াম সাধারণত ১০ বার করে ২ থেকে ৩ সেট, তবে শুরুর আগে ফিজিওথেরাপিস্টকে দেখিয়ে নেওয়া ভালো।
অভিজিৎ সাউ

লেখক সম্পর্কে

অভিজিৎ সাউ

তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক

তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত একজন প্রকৌশলী। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলা ভাষায় আয়ুর্বেদ, ভেষজ ও প্রাকৃতিক জীবনযাত্রার বিশ্বস্ত তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিটি নিবন্ধের পেছনে শাস্ত্রীয় গ্রন্থ, AYUSH মন্ত্রকের নির্দেশিকা ও প্রকাশিত গবেষণাপত্র যাচাই করি।

এই নিবন্ধটি প্রকাশের আগে প্রাথমিক উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই ও সম্পাদনা করা হয়েছে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

আরও পড়ুন
নারীস্বাস্থ্যের আয়ুর্বেদিক গাইড, বয়স অনুযায়ী মেয়েদের স্বাস্থ্যের যত্ন

নারীস্বাস্থ্য, বয়স অনুযায়ী কী দেখবেন ও আয়ুর্বেদ কী বলে

নারীস্বাস্থ্যের সম্পূর্ণ গাইড, বয়সের চার ধাপে কী দেখা দরকার, ঋতুচক্র, রক্তাল্পতা ও মেনোপজে প্রমাণ কী বলে, আর কোন লক্ষণে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাবেন।

৫ আগস্ট, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ
ডেঙ্গু জ্বরে আয়ুর্বেদিক পরিচর্যা, পেঁপে পাতা, ডাবের জল ও ডালিমের পথ্য

ডেঙ্গু জ্বরে আয়ুর্বেদিক পরিচর্যা, পেঁপে পাতা ও পথ্য

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ, কখন হাসপাতাল জরুরি, পেঁপে পাতা ও প্লেটলেট নিয়ে গবেষণা, গিলয়-তুলসীর সহায়ক ভূমিকা এবং সুস্থ হওয়ার পথ্য, আধুনিক ও আয়ুর্বেদিক বাংলা গাইড।

২৪ জুন, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ
উদ্বেগ ও আয়ুর্বেদ — বাত-শামক ভেষজ, অভ্যঙ্গ ও প্রাণায়ামে মানসিক শান্তি

উদ্বেগ ও আয়ুর্বেদ — অ্যাংজাইটি ব্যবস্থাপনার শাস্ত্রীয় ভেষজ পদ্ধতি

উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটির আয়ুর্বেদিক বিশ্লেষণ, বাত-প্রকোপের কারণ, অশ্বগন্ধা, ব্রাহ্মী, অভ্যঙ্গ ও প্রাণায়ামের মাধ্যমে স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনার সম্পূর্ণ বাংলা গাইড।

১৫ জুন, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ