আরোগ্য বাংলা
ভেষজ ৩ জুন, ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ৪ আগস্ট, ২০২৬ 14 মিনিট পড়ুন

ত্রিকটু ও পিপুলের উপকার, প্রমাণ কতটা আর ওষুধে কী ঝুঁকি

ত্রিকটু চূর্ণ ও পিপুল আসলে কী, কোন দাবির পিছনে কতটা প্রমাণ, খাওয়ার নিয়ম ও মাত্রা, আর পিপেরিন কোন ওষুধের সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ায়, সবটা প্রমাণ ধরে এক জায়গায়।

অভিজিৎ সাউ
তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক

AI-সহায়তায় গবেষণা ও খসড়া; সম্পাদনা, যাচাই ও তথ্যের দায়ভার লেখক অভিজিৎ সাউ-এর। সম্পাদকীয় নীতি গবেষণা পদ্ধতি

পিপুল ও ত্রিকটু চূর্ণ, আয়ুর্বেদের দীপন পাচন মিশ্রণের পরিচিতি
সূচিপত্র13টি বিভাগ

বাংলায় "পিপুল" লিখে খুঁজলে প্রথম পাতাতেই যে ছবিগুলো আসে, তার বেশিরভাগই একটা বিশাল গাছের। চওড়া ছায়া, হৃৎপিণ্ডের আকারের পাতা, মন্দিরের পাশে বাঁধানো বেদি। সেটা অশ্বত্থ, উদ্ভিদবিজ্ঞানে Ficus religiosa। আয়ুর্বেদের পিপুল সেটা নয়।

ত্রিকটু হলো তিনটি ঝাঁজালো ভেষজের সমান অনুপাতে তৈরি চূর্ণ মিশ্রণ, শুঁঠ (শুকনো আদা), গোলমরিচ এবং পিপুল। সংস্কৃতে "ত্রি" মানে তিন, "কটু" মানে ঝাঁজালো। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে একে দীপন ও পাচন শ্রেণির যোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, আর আধুনিক গবেষণায় এর সবচেয়ে ভালোভাবে নথিভুক্ত ভূমিকাটি চিকিৎসা নয়, বরং অন্য উপাদানের শোষণ বাড়ানো।

এই নিবন্ধে তিনটি জিনিস আলাদা করে দেখব। পিপুল আসলে কোন গাছ আর ত্রিকটু কী দিয়ে তৈরি হয়। কোন দাবির পিছনে কতটা প্রমাণ আছে, কোনটার পিছনে কিছুই নেই। আর সবচেয়ে জরুরি যে প্রশ্নটা বাংলা ইন্টারনেটে প্রায় কেউ তোলে না, নিয়মিত ওষুধ চললে এই ঝাঁজালো চূর্ণটা কী করতে পারে।

পিপুল আর পিপল গাছ কি একই জিনিস?

পিপুল (Piper longum) এবং পিপল বা অশ্বত্থ (Ficus religiosa) দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্ভিদ, যাদের মধ্যে উদ্ভিদতাত্ত্বিক কোনো সম্পর্কই নেই। নাম দুটির উচ্চারণ কাছাকাছি বলে বাংলা লেখালেখিতে এগুলো নিয়মিত মিলে যায়। এই গুলিয়ে ফেলাটা নিরীহ নয়, কারণ অশ্বত্থের ছাল আর পিপুলের ফল দুটোর ব্যবহার, মাত্রা ও ঝুঁকি আলাদা।

বিষয় পিপুল / পিপ্পলী পিপল / অশ্বত্থ
বৈজ্ঞানিক নাম Piper longum Ficus religiosa
পরিবার Piperaceae (মরিচ গোত্র) Moraceae (ডুমুর গোত্র)
গাছের ধরন লতানো ছোট গুল্ম বিশাল ছায়াদানকারী বৃক্ষ
ব্যবহৃত অংশ শুকনো ফল ও মূল ছাল ও পাতা
চেহারা ২ থেকে ৩ সেমি লম্বা ধূসর-বাদামি শুঁয়ো চওড়া হৃৎপিণ্ড আকৃতির পাতা
ত্রিকটুতে আছে? হ্যাঁ না

পিপুলের সংস্কৃত নাম পিপ্পলী, আর একটি প্রাচীন নাম মাগধী, কারণ প্রাচীন মগধ অঞ্চলকে এর আদি বিস্তারভূমি ধরা হয়। হাতে নিলে জিনিসটা চেনা কঠিন নয়। গোলমরিচের মতো গোল দানা নয়, বরং আঙুলের ডগার মতো সরু, খাঁজকাটা, ধূসর থেকে কালচে বাদামি একটা শুঁয়ো। গন্ধটাও আলাদা, গোলমরিচের শুকনো ঝাঁজের তুলনায় পিপুলে একটা মিষ্টি ধোঁয়াটে ভাব থাকে যেটা নাকে লাগলেই বোঝা যায়।

আয়ুর্বেদীয় দ্রব্যগুণে পিপুলের একটি বৈশিষ্ট্য বাকি ঝাঁজালো মশলা থেকে একে আলাদা করে। এর রস কটু, বীর্য উষ্ণ, কিন্তু বিপাক মধুর। অর্থাৎ শাস্ত্রীয় বর্ণনায় হজমের শেষ ধাপে এটি মিষ্টি রূপ নেয়, যেখানে বেশিরভাগ কটু দ্রব্যের বিপাকও কটু থেকে যায়। দোষের হিসেবে একে বাত ও কফ শমনকারী বলা হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই চরক সংহিতা একে রসায়ন শ্রেণিতে রেখেছে, সাধারণ মশলার তালিকায় নয়।

ত্রিকটু কী দিয়ে তৈরি হয়

ত্রিকটু তৈরি হয় শুঁঠ, গোলমরিচ ও পিপুল, এই তিনটি শুকনো ভেষজের সমান ওজনের চূর্ণ মিশিয়ে। এখানে একটা পরিভাষার ভুল বাংলা লেখায় খুব চলে। তৃতীয় উপাদানটি কাঁচা আদা নয়, শুঁঠ, অর্থাৎ শুকিয়ে নেওয়া আদা, সংস্কৃতে শুণ্ঠী। শুকনো আর কাঁচা আদার আয়ুর্বেদীয় গুণ এক ধরা হয় না, তাই পার্থক্যটা লিখে রাখা দরকার।

উপাদান সংস্কৃত নাম বৈজ্ঞানিক নাম শাস্ত্রীয় ভূমিকা
শুঁঠ (শুকনো আদা) শুণ্ঠী Zingiber officinale দীপন, পাচন, বাত ও কফ শমন
গোলমরিচ মরিচ Piper nigrum কফঘ্ন, ছেদন
পিপুল পিপ্পলী Piper longum দীপন, রসায়ন, শ্বাসনালীর জন্য উল্লিখিত

তিনটিই দীপন ও পাচন শ্রেণির দ্রব্য, তাই মিশ্রণটিকে শাস্ত্রে অগ্নির উপর কাজ করা যোগ হিসেবে ধরা হয়। শাস্ত্রীয় কাঠামোয় এর যুক্তি হলো, দুর্বল পাচন থেকে জন্মায় আম বা অপাচিত অবশেষ, আর কটু ও উষ্ণ দ্রব্য সেই আম শুকিয়ে দেয়। আধুনিক ভাষায় বললে এটি একটি প্রস্তাবিত ব্যাখ্যা, প্রমাণিত ক্রিয়াপদ্ধতি নয়। মনে রাখা দরকার, এই যুক্তি শাস্ত্রের ভিতরে সঙ্গতিপূর্ণ হলেও ক্লিনিকাল ট্রায়ালে যাচাই হয়নি।

এক নজরে

ত্রিকটু একটি তিন-উপাদানের ঝাঁজালো চূর্ণ, যার শাস্ত্রীয় পরিচয় দীপন-পাচন যোগ হিসেবে, আর আধুনিক গবেষণায় সবচেয়ে স্পষ্ট পরিচয় জৈব-প্রাপ্যতা বাড়ানোর উপাদান হিসেবে। গোটা লেখার সারকথাটা নিচে।

  • ত্রিকটু হলো শুঁঠ, গোলমরিচ ও পিপুলের সমান অনুপাতের চূর্ণ।
  • পিপুল (Piper longum) আর অশ্বত্থ (Ficus religiosa) এক গাছ নয়।
  • সবচেয়ে ভালোভাবে নথিভুক্ত ভূমিকা হজম সারানো নয়, অন্য দ্রব্যের শোষণ বাড়ানো।
  • শ্বাসকষ্ট ও কাশিতে ব্যবহারের পিছনে এখনো উচ্চমানের মানব ট্রায়াল নেই।
  • প্রচলিত মাত্রা দিনে ৫০০ মিলিগ্রাম থেকে ১ গ্রাম, খাবারের আগে।
  • নিয়মিত ওষুধ, গর্ভাবস্থা, স্তন্যদান, আলসার বা গ্যাস্ট্রাইটিসে এড়িয়ে চলা বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

কোন দাবির পিছনে কতটা প্রমাণ

ত্রিকটু ও পিপুল নিয়ে প্রচলিত দাবিগুলোর প্রমাণের ওজন এক নয়, তাই প্রতিটিকে আলাদা করে দেখা দরকার। বাংলা ইন্টারনেটে সমস্যা হলো ঐতিহ্যগত ব্যবহার আর প্রমাণিত কার্যকারিতা একই বাক্যে মিশে যায়। নিচের সারণিতে দাবিগুলো আলাদা করে রাখা হলো।

দাবি প্রমাণের মাত্রা কী জানা আছে
অন্য ওষুধ ও পুষ্টির শোষণ বাড়ানো মাঝারি প্রমাণ Journal of Ethnopharmacology-এ Johri ও Zutshi (১৯৯২) বলছেন ভারতীয় চিকিৎসায় ত্রিকটুর ব্যবহারের মূল ভিত্তিই সম্ভবত এই জৈব-প্রাপ্যতা বৃদ্ধি
প্রদাহ কমানো সীমিত প্রমাণ Javed ও Dixit (২০২১), Journal of Complementary and Integrative Medicine, ১৩টি গবেষণা পর্যালোচনা করে TNF-a, IL-1b, IL-6 ও IL-17 দমনের ইঙ্গিত পেয়েছেন, তবে বড় নমুনার দ্বৈত-অন্ধ ট্রায়াল দরকার বলে জানিয়েছেন
কাশি ও শ্বাসনালীর সংক্রমণে উপকার অপর্যাপ্ত প্রমাণ George ও সহকর্মীদের ২০২৫ সালের পদ্ধতিগত পর্যালোচনা (European Journal of Integrative Medicine) বলছে Piper longum নিয়ে কোনো উচ্চমানের র‍্যান্ডমাইজড ট্রায়াল নেই
কোলেস্টেরল ও লিপিড নিয়ন্ত্রণ অপর্যাপ্ত প্রমাণ AIIMS ভুবনেশ্বরের ট্রায়াল এখনো চলছে, ফলাফল প্রকাশিত হয়নি
হজমশক্তি ও খিদে বাড়ানো ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার চরক সংহিতা সহ শাস্ত্রে দীপন-পাচন যোগ হিসেবে বর্ণিত, মানব ট্রায়ালে যাচাই হয়নি
ক্যান্সার প্রতিরোধ অপর্যাপ্ত প্রমাণ কোষ ও প্রাণী স্তরের গবেষণা আছে, মানুষের উপর ট্রায়াল নেই

শেষ সারিটা নিয়ে একটু জোর দিয়ে বলা দরকার। বাংলা ভাষার বেশ কিছু জনপ্রিয় লেখায়, এমনকি সরকারি শিক্ষক পোর্টালের ব্লগেও, পিপুলকে ফুসফুস, স্তন, অন্ত্র, রক্ত ও মস্তিষ্কের ক্যান্সার প্রতিরোধী বলে লেখা হয়েছে। ওই দাবিগুলোর উৎস ল্যাবরেটরির কোষ-সংস্কৃতি ও ইঁদুরের গবেষণা। কোষের ডিশে যা ঘটে, মানুষের শরীরে তা ঘটে বলে ধরে নেওয়া যায় না। এটুকু স্পষ্ট থাকা জরুরি, কারণ ক্যান্সারে প্রমাণিত চিকিৎসা ছেড়ে ভেষজে ভরসা করার ঝুঁকি অনেক বড়।

আর একটা খবর সবচেয়ে টাটকা। ২০২৬ সালের ১১ মে PLOS ONE-এ প্রকাশিত প্রোটোকল অনুযায়ী AIIMS ভুবনেশ্বরে ডিসলিপিডেমিয়ায় ত্রিকটু নিয়ে একটি র‍্যান্ডমাইজড, দ্বৈত-অন্ধ, প্লাসিবো-নিয়ন্ত্রিত ট্রায়াল চলছে (নিবন্ধন নম্বর CTRI/2023/04/051942)। ১৭০ জন অংশগ্রহণকারী, দিনে দুবার ১০০০ মিলিগ্রাম, ১২ সপ্তাহ, প্রধান মাপকাঠি LDL কোলেস্টেরলের পরিবর্তন। ফলাফল এখনো আসেনি। অর্থাৎ ত্রিকটু নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটার উত্তর এই মুহূর্তে কারো কাছেই নেই, আমার কাছেও নেই।

পিপেরিন কেন ত্রিকটুর আসল চাবিকাঠি

পিপেরিন হলো গোলমরিচ ও পিপুলের প্রধান ঝাঁজালো অ্যালকালয়েড, আর ত্রিকটু নিয়ে যে গবেষণাগুলো সবচেয়ে শক্ত, তার প্রায় সবই এই যৌগটিকে ঘিরে। ১৯৯২ সালে Journal of Ethnopharmacology-তে Johri ও Zutshi লিখেছিলেন, ভারতীয় চিকিৎসায় ত্রিকটুর এত বিস্তৃত ব্যবহারের কারণ সম্ভবত এর নিজস্ব রোগ-নিরাময় ক্ষমতা নয়, বরং অন্য ওষুধের জৈব-প্রাপ্যতা বাড়ানোর ক্ষমতা। কথাটা তাৎপর্যপূর্ণ। ত্রিকটু এখানে নায়ক নয়, বাহক।

Yadav ও সহকর্মীদের ২০২৩ সালের স্কোপিং রিভিউ (Critical Reviews in Food Science and Nutrition) পিপেরিনের প্রদাহনাশক, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অনাক্রম্যতা-নিয়ন্ত্রক ক্রিয়ার কথা বলেছে, তবে সেখানেও ক্লিনিকাল ট্রায়ালগুলো নানা পর্যায়ে আটকে আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণেই আয়ুর্বেদিক ফর্মুলায় ত্রিকটু প্রায়ই অন্য দ্রব্যের সঙ্গে জোড়া লাগে। কাঁচা হলুদের কারকিউমিন একা খেলে শরীরে খুব কম ঢোকে, আর সেই কারণেই হলুদের সঙ্গে গোলমরিচ দেওয়ার চল। Yadav ও সহকর্মীরা এই ব্যবস্থাটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে, পিপেরিন অন্ত্রে শোষণ বদলে দেয়, পরিবাহক প্রোটিনের কাজ আটকায় এবং ওষুধের বিপাক ধীর করে। ঠিক এই তিনটি পথই পরের অংশের ঝুঁকির উৎস।

পিপুলের নিজস্ব যৌগ নিয়েও কাজ হয়েছে। ২০২৪ সালে Biological and Pharmaceutical Bulletin-এ প্রকাশিত Noguchi ও সহকর্মীদের গবেষণায় (PMID 37989300) পিপুলের ফল থেকে পাওয়া পিপেরিন ও পাইপারলংগুমিন আলাদা করে পরীক্ষা করা হয়েছিল, এবং দেখা গেছে এদের পেশি-শিথিলকারী প্রভাবের পথ আলাদা। তবে কাজটি হয়েছে শূকরের করোনারি ধমনীর উপর, মানুষের উপর নয়। এই ফাঁকটা মনে রাখা দরকার, কারণ বাংলা লেখালেখিতে প্রাণী গবেষণার ফল প্রায়ই মানুষের উপকার হিসেবে পরিবেশিত হয়।

ওষুধ চললে ত্রিকটু কি নিরাপদ?

পিপেরিন লিভার ও অন্ত্রের CYP3A4 উৎসেচক এবং P-গ্লাইকোপ্রোটিন পরিবাহককে বাধা দেয়, ফলে এটি বহু প্রচলিত ওষুধের রক্তে মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এটি অনুমান নয়। ২০০২ সালে Journal of Pharmacology and Experimental Therapeutics-এ Bhardwaj ও সহকর্মীরা (PMID 12130727) কোষ-স্তরে দেখিয়েছিলেন পিপেরিন এই দুটি ব্যবস্থাকেই দমন করে, আর দুটিই ওষুধের প্রথম-পাস বিপাকের প্রধান পথ।

কতটা বাড়তে পারে, তার হিসেব আছে। ২০২৪ সালে International Journal of Molecular Sciences-এ Lin ও সহকর্মীদের PBPK মডেলিং গবেষণা হিসেব করে দেখিয়েছে, দিনে ২০ মিলিগ্রাম পিপেরিন সাত দিন খেলে কয়েকটি ওষুধের রক্তে মোট মাত্রা (AUC) এতটা বাড়তে পারে।

ওষুধ কী কাজে ব্যবহৃত AUC বৃদ্ধির পূর্বাভাস
সিমভাস্ট্যাটিন কোলেস্টেরল ৫৯ শতাংশ
অ্যালফেন্টানিল ব্যথা ও অ্যানেস্থেশিয়া ৩৯ শতাংশ
ট্রায়াজোলাম ঘুম ও উদ্বেগ ৩৬ শতাংশ
সাইক্লোস্পোরিন অঙ্গ প্রতিস্থাপন ৩৫ শতাংশ
নিফেডিপিন উচ্চ রক্তচাপ ৩৪ শতাংশ
রিটোনাভির ভাইরাসরোধী ৩১ শতাংশ

গবেষকদের সিদ্ধান্তটি সরাসরি। CYP3A4 দিয়ে বিপাক হয় এমন ওষুধ চলাকালীন দিনে ২০ মিলিগ্রাম পিপেরিনের সমতুল্য পরিমাণ গোলমরিচ খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত। খেয়াল করুন, ২০ মিলিগ্রাম পিপেরিন কোনো বিরাট মাত্রা নয়, এটি নিয়মিত ত্রিকটু চূর্ণ খেলে সহজেই ছুঁয়ে ফেলা সম্ভব।

এর মানে এই নয় যে রান্নার গোলমরিচ বিপজ্জনক। রান্নায় ছড়ানো পরিমাণ আর দিনের পর দিন মাপা চূর্ণ খাওয়া এক জিনিস নয়। কিন্তু আপনি যদি স্ট্যাটিন, রক্তচাপের ওষুধ, খিঁচুনির ওষুধ, প্রতিস্থাপনের পরের ওষুধ বা ভাইরাসরোধী কিছু নিয়মিত খান, তাহলে ত্রিকটু শুরু করার আগে চিকিৎসককে জানানোটা ঐচ্ছিক নয়। বাংলা ইন্টারনেটে ত্রিকটু নিয়ে যত লেখা আমি পড়েছি, তার একটিতেও এই তথ্যটা ছিল না। সেটাই এই নিবন্ধ নতুন করে লেখার সবচেয়ে বড় কারণ।

ত্রিকটু বনাম ত্রিফলা

ত্রিকটু ও ত্রিফলা আয়ুর্বেদের দুটি আলাদা ত্রি-উপাদান যোগ, এবং এদের উপাদান, স্বাদ ও প্রয়োগ কোনোটাই এক নয়। নাম দুটি কাছাকাছি বলে অনেকে গুলিয়ে ফেলেন, তারপর একটার জায়গায় আরেকটা কিনে আনেন।

বিষয় ত্রিকটু ত্রিফলা
উপাদান শুঁঠ, গোলমরিচ, পিপুল আমলকী, হরীতকী, বহেড়া
ধরন তিনটি ঝাঁজালো মশলা তিনটি ফল
প্রধান রস কটু (ঝাঁজালো) কষায় ও অম্ল প্রধান
বীর্য উষ্ণ তুলনামূলক শীতল
শাস্ত্রীয় ব্যবহার দীপন, পাচন, কফ ও বাত শমন কোষ্ঠ পরিষ্কার, ত্রিদোষ সমতা
কাদের বেশি সাবধানতা পিত্তপ্রধান, অ্যাসিডিটি দুর্বল পাচন, ডায়রিয়া

সহজ করে বললে, ত্রিফলা কাজ করে নিচের দিক থেকে, মলত্যাগ ও পরিষ্কারের দিক দিয়ে। ত্রিকটু কাজ করে উপরের দিক থেকে, খিদে ও পাচনের দিক দিয়ে। ত্রিদোষের ভাষায় বলতে গেলে ত্রিকটু বাত ও কফের দিকে ঝোঁকা, আর পিত্তপ্রধান শরীরে এটি বাড়তি তাপ যোগ করতে পারে।

বর্ধমান পিপ্পলী, শাস্ত্রের ডোজ বাড়ানোর নিয়ম

বর্ধমান পিপ্পলী হলো চরক সংহিতার একটি রসায়ন প্রয়োগপদ্ধতি, যেখানে পিপুলের মাত্রা দিনে দিনে ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়, তারপর একইভাবে ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হয়। এর বর্ণনা আছে চিকিৎসাস্থানের প্রথম অধ্যায়ের তৃতীয় পাদে, যার নাম করপ্রচিতীয় রসায়ন পাদ। "বর্ধমান" শব্দের অর্থই ক্রমবর্ধমান।

আধুনিক ওষুধবিজ্ঞানের চোখে এটি কৌতূহলোদ্দীপক, কারণ ধাপে ধাপে মাত্রা বাড়ানো ও কমানোর ধারণাটি আজকের ডোজ-এস্কেলেশন পদ্ধতির সঙ্গে মিলে যায়। কিন্তু এখানেই সতর্কতার জায়গা। বিভিন্ন পাঠ ও ভাষ্যে ফলের সংখ্যা ও দিনের হিসেব একরকম নয়, আর অনলাইনে যে সংখ্যাগুলো ঘোরে সেগুলো প্রায়ই উৎস ছাড়া। উঁচু মাত্রায় দীর্ঘদিন পিপুল খাওয়ার নিরাপত্তা নিয়ে নির্ভরযোগ্য মানব গবেষণাও নেই।

তাই এখানে আমি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সংখ্যাভিত্তিক প্রোটোকল লিখছি না। বর্ধমান পিপ্পলী শাস্ত্রে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে করার প্রয়োগ হিসেবেই বর্ণিত, নিজে নিজে বাড়ি বসে চালানোর রুটিন হিসেবে নয়। কেউ এটি করতে চাইলে যোগ্য আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই একমাত্র যুক্তিসঙ্গত পথ।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

ত্রিকটু চূর্ণের প্রচলিত আয়ুর্বেদিক মাত্রা দিনে ৫০০ মিলিগ্রাম থেকে ১ গ্রাম, অর্থাৎ প্রায় এক-চতুর্থাংশ থেকে আধ চা চামচ, সাধারণত খাবারের আগে। শুরু করলে কম মাত্রা দিয়ে শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ। চূর্ণটা হাতের তালুতে নিলে ধূসর-বাদামি, একটু মোটা দানার, আর নাকের কাছে নিলে আদা ও গোলমরিচের ঝাঁজের পিছনে পিপুলের মিষ্টি ধোঁয়াটে গন্ধটা আলাদা করে ধরা পড়ে।

মধুর সঙ্গে খাওয়াটাই সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি। এক-চতুর্থাংশ চা চামচ ত্রিকটু চূর্ণ এক চা চামচ কাঁচা মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খাবারের আগে নেওয়া হয়। শীতে কফ ও সর্দি-কাশির সময় এই সংমিশ্রণটি প্রচলিত। জিভে দিলে প্রথমে মিষ্টি, তারপর গলার কাছে গিয়ে হালকা জ্বালা ধরা ঝাঁজ, এটাই স্বাভাবিক।

উষ্ণ জলে বা কাড়া করেও নেওয়া যায়। ২৫০ মিলিলিটার জলে এক চিমটি ত্রিকটু চূর্ণ দিয়ে ৫ মিনিট ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। চাইলে আধ চা চামচ মধু বা কয়েক ফোঁটা লেবু মেশাতে পারেন। ঘরে যখন ফুটছে, তখন গন্ধটা গোটা রান্নাঘরে ছড়ায়, শুকনো আদার ধোঁয়াটে ঝাঁজ সবচেয়ে আগে নাকে লাগে।

রান্নায় মিশিয়ে দেওয়াটা সবচেয়ে সহজ পথ। ডাল, স্যুপ বা সবজির তরকারিতে এক চিমটি ত্রিকটু চূর্ণ শেষের দিকে মিশিয়ে দিলে স্বাদে ঝাঁজ আসে। দারুচিনি বা এলাচের মতোই এখানে ত্রিকটু মশলার ভূমিকায় থাকে, ওষুধের ভূমিকায় নয়। এটাই সম্ভবত সবচেয়ে নিরাপদ ব্যবহার, কারণ পরিমাণ এখানে ঔষধি মাত্রার চেয়ে অনেক কম থাকে।

ঘিয়ের সঙ্গে শীতকালে খাওয়ার চল বাংলার ঘরে পুরনো। শীতের সকালে এক চা চামচ ঘিয়ে এক চিমটি ত্রিকটু মিশিয়ে গরম ভাত বা রুটির সঙ্গে খাওয়া হয়। ঘি এখানে বাহক হিসেবে কাজ করে বলে শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে।

সময়ের হিসেবে একটানা কয়েক মাস ধরে চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। পাচনশক্তির ভারসাম্য নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের অনেকেই কয়েক সপ্তাহ পর বিরতি দেওয়ার কথা বলেন। আপনার শরীর কেমন সাড়া দিচ্ছে, সেটা নিজে খেয়াল রাখুন। বুক জ্বালা শুরু হলে থামুন।

কে ব্যবহার করবেন না বা সতর্ক থাকবেন

ত্রিকটু একটি উষ্ণ ও তীব্র যোগ, তাই কয়েকটি নির্দিষ্ট অবস্থায় এটি এড়িয়ে চলা বা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা দরকার। নিচের তালিকাটি ঐতিহ্যগত সাবধানতা ও আধুনিক ওষুধ-মিথস্ক্রিয়ার প্রমাণ, দুটোকেই একসঙ্গে ধরে তৈরি।

নিয়মিত ওষুধ চললে সবার আগে সেটাই বিবেচ্য। পিপেরিনের CYP3A4 ও P-গ্লাইকোপ্রোটিন দমনের কারণে স্ট্যাটিন, রক্তচাপের ওষুধ, ঘুম ও উদ্বেগের ওষুধ, খিঁচুনির ওষুধ, প্রতিস্থাপন-পরবর্তী ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট ও ভাইরাসরোধী ওষুধের রক্তে মাত্রা বাড়তে পারে (Lin ও সহকর্মীরা, ২০২৪)। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসককে না জানিয়ে ত্রিকটু শুরু করবেন না।

গর্ভাবস্থায় সাপ্লিমেন্ট বা চূর্ণ হিসেবে ত্রিকটু ও পিপুল এড়িয়ে চলাই নিরাপদ পথ, কারণ ঔষধি মাত্রায় এদের নিরাপত্তা নিয়ে নির্ভরযোগ্য মানব গবেষণা নেই। গর্ভাবস্থার আয়ুর্বেদিক যত্ন নিয়ে যা কিছু করবেন, তা চিকিৎসকের পরামর্শে করুন। স্তন্যদানকালেও একই সাবধানতা প্রযোজ্য।

পিত্তপ্রধান শরীর, অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালা বা শরীরে অতিরিক্ত তাপের প্রবণতা থাকলে ত্রিকটু অস্বস্তি বাড়াতে পারে। উষ্ণ বীর্যের দ্রব্য এই অবস্থাগুলোকে সাধারণত বাড়ায় বলে শাস্ত্রে বর্ণনা আছে, আর ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাতেও উঁচু মাত্রায় বুক জ্বালা ও অম্লের কথা নিয়মিত রিপোর্ট হয়।

আলসার, গ্যাস্ট্রাইটিস বা প্রদাহজনিত অন্ত্রের সমস্যা থাকলে শুরু করার আগে চিকিৎসকের অনুমতি নিন। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ঔষধি মাত্রায় ত্রিকটু দেওয়া উচিত নয়। কোনো অস্ত্রোপচারের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ত্রিকটু বন্ধ রাখা যুক্তিসঙ্গত, কারণ অ্যানেস্থেশিয়ায় ব্যবহৃত ওষুধের একাংশ CYP3A4 দিয়েই বিপাক হয়।

অনেক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক অবশ্য মনে করেন এই সাবধানতাগুলো শুধু বিচ্ছিন্ন পিপেরিন নির্যাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, গোটা ভেষজের ক্ষেত্রে নয়। যুক্তিটা উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়, গোটা মশলায় যৌগগুলো অন্যভাবে আচরণ করতে পারে। তবে এই পার্থক্যটা এখনো মানব গবেষণায় মীমাংসা হয়নি, তাই ওষুধ চললে সতর্ক থাকাই আপাতত যুক্তিসঙ্গত অবস্থান বলে আমার মনে হয়।

একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ

বাংলা ভাষায় ত্রিকটু ও পিপুল নিয়ে প্রকাশিত লেখাগুলোর একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে, ডোজ থাকে কিন্তু উৎস থাকে না। খবরের কাগজের স্বাস্থ্য কলাম থেকে সরকারি শিক্ষক পোর্টালের ব্লগ পর্যন্ত যত পাতা আমি খুলেছি, তার একটাতেও কোনো গবেষণা, নির্দেশিকা বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার উল্লেখ পাইনি। অথচ মিলিগ্রামের হিসেব লেখা আছে, রোগের তালিকা লেখা আছে।

নামের গোলমালটাও একই রকম। "পিপুল" খুঁজলে অশ্বত্থ গাছের নিবন্ধ উপরে উঠে আসে, আর কেউ পার্থক্যটা লিখে দেয় না। (প্রথমে ভেবেছিলাম এটা নেহাত বানানের ব্যাপার, তারপর ছবিগুলো দেখে বুঝলাম লেখাগুলো সত্যিই আলাদা গাছ নিয়ে।)

একটা কথা অবশ্য পড়তে পড়তে বারবার মনে হয়েছে। শীতে কফ আর বাতের কষ্টে বাঙালি ঘরে যে আদা-গোলমরিচের কাড়া বানানো হতো, সেটা আসলে অসম্পূর্ণ ত্রিকটু, তৃতীয় উপাদানটাই শুধু বাদ। আমি চিকিৎসক নই, কৌতূহলী পাঠক মাত্র।

উপসংহার

ত্রিকটু বাংলার রান্নাঘরের খুব কাছাকাছি একটা জিনিস, শুঁঠ, গোলমরিচ আর পিপুল, তিনটেই চেনা। তার মানে এই নয় যে এটি নিরীহ। এর সবচেয়ে ভালো নথিভুক্ত ক্ষমতাটাই আসলে ঝুঁকির উৎস, অন্য জিনিসের শোষণ বাড়িয়ে দেওয়া, আর সেই "অন্য জিনিস" আপনার নিয়মিত ওষুধও হতে পারে।

তাই কাল যদি ত্রিকটু শুরু করার কথা ভাবেন, একটা কাজ আগে করুন। যে ওষুধগুলো আপনি রোজ খান, তার তালিকাটা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন এর কোনোটা CYP3A4 দিয়ে বিপাক হয় কি না। উত্তর "না" হলে রান্নার এক চিমটি দিয়ে শুরু করুন, চূর্ণের চামচ দিয়ে নয়। আর AIIMS ভুবনেশ্বরের ট্রায়ালের ফল যখন বেরোবে, ত্রিকটু নিয়ে আমাদের জানা কথাটা বদলাতে পারে। আমি নিজেও সেটার অপেক্ষায় আছি।

সূত্র / Sources

  • George A, Nagendrappa PB, Payyappallimana U, Hu XY, Zhang X, Wali S, Willcox M (2025). Safety and efficacy of Piper longum L. for acute respiratory infections, a systematic review. European Journal of Integrative Medicine, 79, 102559. DOI 10.1016/j.eujim.2025.102559
  • Javed D, Dixit AK (2021). Is Trikatu an ayurvedic formulation effective for the management of flu-like illness? A narrative review. Journal of Complementary and Integrative Medicine, 19(2), 193-202. PubMed 34081846
  • Johri RK, Zutshi U (1992). An Ayurvedic formulation 'Trikatu' and its constituents. Journal of Ethnopharmacology, 37(2), 85-91. PubMed 1434692
  • Bhardwaj RK, Glaeser H, Becquemont L, Klotz U, Gupta SK, Fromm MF (2002). Piperine, a major constituent of black pepper, inhibits human P-glycoprotein and CYP3A4. Journal of Pharmacology and Experimental Therapeutics, 302(2), 645-650. PubMed 12130727
  • Lin F, Hu Y, Zhang Y, Zhao L, Zhong D, Liu J (2024). Predicting food-drug interactions between piperine and CYP3A4 substrate drugs using PBPK modeling. International Journal of Molecular Sciences, 25(20), 10955. PMC11506926
  • Yadav SS, Singh MK, Hussain S, Dwivedi P, Khattri S, Singh K (2023). Therapeutic spectrum of piperine for clinical practice, a scoping review. Critical Reviews in Food Science and Nutrition. PubMed 34996326
  • Khanduri S, Jameela S, Sahu S, Devi S, Rao BCS, Ratha K, Singhal R, Kaushik L, Srikanth N, Acharya R (2026). Efficacy and safety of the ayurvedic formulation 'Trikatu' as an add-on to standard care in dyslipidemia, study protocol for a randomized, double-blind, placebo-controlled trial. PLOS ONE. DOI 10.1371/journal.pone.0348058
  • Noguchi K, Teramura M, Kitagawa A, Ejima M, Ueda C, Kanae H (2024). Relaxant effects of piperine and piperlongumine from Piper longum fruits on porcine coronary artery. Biological and Pharmaceutical Bulletin, 47(1), 130-137. PubMed 37989300
  • চরক সংহিতা, চিকিৎসাস্থান, অধ্যায় ১, করপ্রচিতীয় রসায়ন পাদ (পিপ্পলী রসায়ন ও বর্ধমান পিপ্পলী রসায়ন). Charak Samhita New Edition, Charak Samhita Research, Training and Skill Development Centre (2020). carakasamhitaonline.com

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। এটি চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

ত্রিকটু হলো তিনটি ঝাঁজালো ভেষজের সমান অনুপাতে তৈরি চূর্ণ মিশ্রণ, শুঁঠ (শুকনো আদা), গোলমরিচ এবং পিপুল। সংস্কৃতে "ত্রি" মানে তিন আর "কটু" মানে ঝাঁজালো স্বাদ। আয়ুর্বেদে একে দীপন ও পাচন শ্রেণির যোগ হিসেবে ধরা হয়, অর্থাৎ যা খিদে ও পাচন প্রক্রিয়ায় সাড়া জাগায় বলে শাস্ত্রে বর্ণনা আছে।
অভিজিৎ সাউ

লেখক সম্পর্কে

অভিজিৎ সাউ

তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক

তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত একজন প্রকৌশলী। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলা ভাষায় আয়ুর্বেদ, ভেষজ ও প্রাকৃতিক জীবনযাত্রার বিশ্বস্ত তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিটি নিবন্ধের পেছনে শাস্ত্রীয় গ্রন্থ, AYUSH মন্ত্রকের নির্দেশিকা ও প্রকাশিত গবেষণাপত্র যাচাই করি।

এই নিবন্ধটি প্রকাশের আগে প্রাথমিক উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই ও সম্পাদনা করা হয়েছে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

আরও পড়ুন
কাঠের বাটিতে ইসবগুলের ভুসি, জলে গোলা ইসবগুলের গ্লাস, কাঠের চামচ ও পাশে পাচনতন্ত্রের আলোকিত চিত্র
ভেষজ16 মিনিট

ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম, উপকারিতা ও অপকারিতা, কত গ্রাম

ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম, দিনে কত গ্রাম, রাতে ঠিক কখন, উপকারিতা ও অপকারিতা কতটা প্রমাণিত, কোন ওষুধের সঙ্গে ব্যবধান দরকার আর কাদের একেবারেই চলবে না।

৩১ জুলাই, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ
কাঠের বাটিতে হিং গুঁড়ো ও শক্ত হিং খাদার টুকরো, পাশে ঘিয়ের কড়াইয়ে জিরের ফোড়ন
ভেষজ13 মিনিট

হিং এর উপকারিতা, এক চিমটির বিজ্ঞান ও ভেজাল চেনার উপায়

হিং এর উপকারিতা হজমে কতটা প্রমাণিত, দুটি প্লাসিবো ট্রায়াল কী পেয়েছে, রান্নায় কতটা দেবেন, খাঁটি হিং চেনার ঘরোয়া পরীক্ষা আর কাদের এড়িয়ে চলা দরকার।

৩০ জুলাই, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ
অর্জুন গাছের ছাল ও অর্জুন ছালের গুঁড়ো, পাশে দুধে ফোটানো ক্ষীরপাকের মাটির পাত্র
ভেষজ16 মিনিট

অর্জুন ছাল কি সত্যিই হার্টের বন্ধু, গবেষণা যা বলে ও যা বলে না

অর্জুন ছাল হৃদযন্ত্রে কতটা কাজ করে, ক্লিনিকাল ট্রায়াল কী বলে, খাওয়ার নিয়ম ও মাত্রা কত, কোন ওষুধের সঙ্গে ঝুঁকি আছে, কাদের এড়িয়ে চলা দরকার, প্রমাণসহ আলোচনা।

২৯ জুলাই, ২০২৬ · অভিজিৎ সাউ