বাসক পাতার উপকারিতা কি সত্যিই কাশির সিরাপের চেয়ে নিরাপদ?
বাসক পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে প্রমাণ আসলে কতদূর যায়, রস খাওয়ার নিয়ম ও মাত্রা কেন গোলমেলে, কাশির সিরাপের সঙ্গে যোগটা কোথায়, আর কারা এড়াবেন।
অAI-সহায়তায় গবেষণা ও খসড়া; সম্পাদনা, যাচাই ও তথ্যের দায়ভার লেখক অভিজিৎ সাউ-এর। সম্পাদকীয় নীতি ও গবেষণা পদ্ধতি।

সূচিপত্র
- এক নজরে
- বাসক আসলে কোন গাছ, আর নামের হিসাবটা কী
- বাসক পাতার বৈশিষ্ট্য ও গাছ চেনার উপায়
- লাল বাসক বা রাম বাসক কি একই গাছ?
- কাশির সিরাপের যে অণুটা এই পাতা থেকেই এসেছে
- বাসক পাতার উপকারিতা নিয়ে প্রমাণ আসলে কতদূর যায়?
- শাস্ত্র আর ফার্মাকোপিয়া বাসক নিয়ে ঠিক কী বলেছে
- বাসক পাতার রস খাওয়ার নিয়ম ও মাত্রার আসল গোলমাল
- ইউরোপ কেন বাসকের মনোগ্রাফ দিতে পারেনি
- বাসক সিরাপ কি ঘরে বানানো রসের চেয়ে ভালো?
- কে ব্যবহার করবেন না বা সতর্ক থাকবেন
- একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ
- সংক্ষেপে ও উপসংহার
- সূত্র / Sources
সূচিপত্র14টি বিভাগ
- এক নজরে
- বাসক আসলে কোন গাছ, আর নামের হিসাবটা কী
- বাসক পাতার বৈশিষ্ট্য ও গাছ চেনার উপায়
- লাল বাসক বা রাম বাসক কি একই গাছ?
- কাশির সিরাপের যে অণুটা এই পাতা থেকেই এসেছে
- বাসক পাতার উপকারিতা নিয়ে প্রমাণ আসলে কতদূর যায়?
- শাস্ত্র আর ফার্মাকোপিয়া বাসক নিয়ে ঠিক কী বলেছে
- বাসক পাতার রস খাওয়ার নিয়ম ও মাত্রার আসল গোলমাল
- ইউরোপ কেন বাসকের মনোগ্রাফ দিতে পারেনি
- বাসক সিরাপ কি ঘরে বানানো রসের চেয়ে ভালো?
- কে ব্যবহার করবেন না বা সতর্ক থাকবেন
- একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ
- সংক্ষেপে ও উপসংহার
- সূত্র / Sources
ওষুধের দোকানের কাউন্টারে দাঁড়িয়ে একটা জিনিস খেয়াল করলে অদ্ভুত লাগে। কাশির জন্য যে সিরাপটা ডাক্তার লিখে দিয়েছেন, তার গায়ে ব্রোমহেক্সিন বা অ্যামব্রোক্সল লেখা, আর প্রতি ৫ মিলিলিটারে কত মিলিগ্রাম তাও ছাপা। আর বাড়ি ফিরে ঠাকুমা বলবেন, ওসব না খেয়ে বেড়ার ধারের বাসক পাতাটা বেটে খেয়ে নে। দুটোকে সাধারণত আলাদা দুটো জগৎ ধরা হয়, একটা আধুনিক আর একটা ঘরোয়া। আসলে ওই দুটো বোতল আর বাটির ভিতরে মূল অণুটা একই জায়গা থেকে এসেছে।
বাসক পাতার উপকারিতা নিয়ে সৎ উত্তরটা এইখান থেকেই শুরু হয়। বাসক হলো Justicia adhatoda, একটি চিরসবুজ গুল্ম, আর তার পাতার প্রধান ক্ষারীয় যৌগ ভাসিসিন থেকেই ব্রোমহেক্সিন ও অ্যামব্রোক্সল নামের দুটি আধুনিক কফ-পাতলা করার ওষুধ তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ প্রাকৃতিক বনাম কৃত্রিম, এই লড়াইটাই ভুল করে সাজানো। পার্থক্যটা উৎসে নয়, মাত্রার হিসাবে। এই লেখায় থাকবে ফার্মাকোপিয়া ঠিক কী মাত্রা লিখেছে, ঘরে বাটা রসে সেই হিসাব কেন ভেঙে যায়, ইউরোপ কেন বাসকের মনোগ্রাফ দিতে পারেনি, আর কাদের এটি ছোঁয়া উচিত নয়।
এক নজরে
- বাসক হলো Justicia adhatoda (পুরোনো নাম Adhatoda vasica), Acanthaceae গোত্রের গুল্ম, ভারত সরকারের ফার্মাকোপিয়ায় বাংলা নাম লেখা আছে বাকস ও বাসক
- পাতার প্রধান ক্ষারীয় যৌগ ভাসিসিন, আর তা থেকেই ব্রোমহেক্সিন ও অ্যামব্রোক্সল নামের দুটি প্রচলিত মিউকোলাইটিক ওষুধ এসেছে
- সরকারি মাত্রা তাজা পাতার রসে ১০ থেকে ২০ মিলিলিটার, ক্বাথের জন্য ১০ থেকে ২০ গ্রাম শুকনো পাতা
- একই পাতা ছয় রকমভাবে বাটলে রসে ভাসিসিনের পরিমাণ ২৮ গুণ পর্যন্ত বদলায়, ফলে চামচের হিসাব প্রায় অর্থহীন
- ইউরোপীয় ওষুধ সংস্থা ২০১৩ সালে জানিয়ে দিয়েছে বাসক পাতার মনোগ্রাফ তৈরি করা যাচ্ছে না, কারণের তালিকায় প্রজনন-নিরাপত্তা আছে
- কাশি ও কফে প্রমাণের স্তর ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার, যক্ষ্মা, জন্ডিস বা মৃগীর দাবিতে অপর্যাপ্ত প্রমাণ
- লাল বাসক ও রাম বাসক আলাদা গণের গাছ, Phlogacanthus, বাসকের কোনো জাত নয়
- গর্ভাবস্থায়, স্তন্যদানে ও এক বছরের কম বয়সী শিশুতে এড়ানোই নিরাপদ পথ
বাসক আসলে কোন গাছ, আর নামের হিসাবটা কী
বাসক পাতার বিজ্ঞানসম্মত নাম Justicia adhatoda L., আর ভেষজ-সাহিত্যে বহুল প্রচলিত পুরোনো নামটি Adhatoda vasica Nees। ভারত সরকারের আয়ুর্বেদিক ফার্মাকোপিয়ার শিকড়ের মনোগ্রাফে আবার তৃতীয় একটি নাম ব্যবহার করা হয়েছে, Adhatoda zeylanica Medic। তিনটিই একই গাছ। গোত্র Acanthaceae।
সংস্কৃতে গাছটির নাম বৃষ, আটরূষ ও বাসক। ইংরেজিতে Malabar nut বা Vasaka। হিন্দিতে আডুসা বা অরুসা, মারাঠিতে আডুলসা, তামিলে আডাথোডাই। ইংরেজি অক্ষরে অনেকে basok pata বা basak pata benefits লিখেও এই একই গাছ খোঁজেন, বানান যাই হোক প্রশ্নগুলো এক থাকে।
একটা ছোট খুঁটিনাটি এখানে বলে রাখি, কারণ সেটা আমার নিজের চোখে পড়েছে দুটো সরকারি নথি পাশাপাশি খুলে। আয়ুর্বেদিক ফার্মাকোপিয়া অফ ইন্ডিয়ার প্রথম খণ্ডে পাতার মনোগ্রাফে বাংলা নাম ছাপা আছে Baksa ও Vasaka, আর চতুর্থ খণ্ডে শিকড়ের মনোগ্রাফে সেটাই ছাপা হয়েছে Bakas ও Basak। একই সরকারি প্রকাশনার দুটি খণ্ডে বাংলা বানানটা দুরকম। জিনিসটা তুচ্ছ, তবু মনে করিয়ে দেয় যে এই গাছটার নথিপত্র কতটা এলোমেলো, আর সেই এলোমেলো ভাবটাই পরে মাত্রার প্রশ্নে গিয়ে ধাক্কা দেবে।
বাসক নিয়ে লেখালেখিতে একটা দাবি বারবার ফিরে আসে, এমনকি পিয়ার-রিভিউ করা একটি পত্রিকার নিবন্ধেও, যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাসককে নিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কথাটা যাচাই করতে গিয়ে দেখলাম, WHO Monographs on Selected Medicinal Plants-এর চারটি খণ্ডে মোট ১১৮টি ভেষজের মনোগ্রাফ আছে, আর তার একটিও বাসকের নয়। তৃতীয় খণ্ডের সংকলিত সূচিতে A অক্ষরের তালিকাটা যায় Allii Cepae থেকে Azadirachti পর্যন্ত, মাঝখানে Adhatoda নেই, আর চতুর্থ খণ্ডের সূচিতেও নেই। অর্থাৎ ওই দাবিটির পিছনে দেখানোর মতো কোনো নথি নেই।
বাসক পাতার বৈশিষ্ট্য ও গাছ চেনার উপায়
বাসক পাতার বৈশিষ্ট্য কয়েকটি মাপা লক্ষণে ধরা যায়, আর সেগুলো জানা থাকলে বাজারে ভুল পাতা কেনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে। বাসক গাছ একটি উপগুল্ম জাতীয় ঝোপ, উচ্চতায় সাধারণত এক থেকে দুই মিটার, আর সারা বছরই সবুজ থাকে। বাংলার গ্রামে একে আলাদা করে চাষ করতে হয় না, বেড়া হিসেবে বা ক্ষেতের আলে লাগিয়ে দিলেই ছড়ায়।
পাতা চেনার হিসাবটা আয়ুর্বেদিক ফার্মাকোপিয়ার বর্ণনা থেকেই নেওয়া যাক, কারণ সেটি মাপজোক করা। পাতা লম্বায় ১০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার আর চওড়ায় ৩ থেকে ১০ সেন্টিমিটার, আকারে বল্লমের ফলার মতো, ডগা ক্রমশ সরু হয়ে আসে, গোড়ার দিকও সরু, আর বোঁটা ২ থেকে ৮ সেন্টিমিটার লম্বা। পার্শ্বশিরার জোড়া থাকে ৮ থেকে ১০টি। শুকিয়ে গেলে পাতার উপরের পিঠ ফ্যাকাসে বাদামি আর নিচের পিঠ হালকা ধূসর-বাদামি হয়ে যায়।
হাতে নিলে দুটো জিনিস টের পাবেন। গন্ধটা নিজস্ব, ঘাসের মতো নয়, একটু ভেজা ও কষা। তেতো স্বাদে এটি নিম পাতার কাছাকাছি গোত্রের, যদিও দুটি গাছের সম্পর্ক নেই। আর একটা পাতা ছিঁড়ে জিভে ঠেকালে স্বাদ স্পষ্ট তেতো, ফার্মাকোপিয়ার ভাষাতেও লেখা আছে taste, bitter। ফুল ফোটে মূলত ফেব্রুয়ারি-মার্চে আর বর্ষার শেষেও, থোকায় থোকায়, ছোট সাদা পাপড়িতে কয়েকটা বেগুনি দাগ থাকে। ওই বেগুনি দাগই বাসক চেনার সবচেয়ে সহজ চিহ্ন।
লাল বাসক বা রাম বাসক কি একই গাছ?
লাল বাসক ও রাম বাসক বাসকের কোনো জাত নয়, ও দুটি নাম আলাদা একটি গণের গাছকে বোঝায়, Phlogacanthus। পরিবার এক, Acanthaceae, কিন্তু গণ আলাদা, আর সেটাই আসল কথা।
বাংলা ইন্টারনেটের একাংশে বাক্যটা প্রায় একইভাবে ফিরে আসে, বাসকের একটি জাত তাম্রপুষ্পী বাসক, যার আরেক নাম রামবাসক বা সিংহাস্য। সব বাংলা লেখা অবশ্য এই ভুলটা করে না, প্রথম আলোর একটি পরিবেশ-প্রতিবেদনে রামবাসককে সোজাসুজি আলাদা প্রজাতি হিসেবেই ধরা হয়েছে, বৈজ্ঞানিক নাম Phlogacanthus thyrsiformis, আর বাসকের সঙ্গে সম্পর্কটা পরিবারের, গণের নয়। তবু যেখানে ভুলটা হয় সেখানে দুটো জিনিস সত্যিই গুলিয়ে যায়, আর তৃতীয় একটা নাম দুই গাছের মধ্যে ভাগ হয়ে আছে।
প্রথমত, রাম বাসক আর তাম্রপুষ্পী বাসক একই গাছ নয়, ওরা Phlogacanthus গণের দুটি আলাদা প্রজাতি। ২০১৪ সালে African Journal of Agricultural Research পত্রিকায় Phurailatpam ও সহলেখকদের পর্যালোচনায় গণটির প্রজাতিগুলির স্থানীয় নামের তালিকা দেওয়া আছে, আর সেখানে বাংলা নাম Tamropuspi Basok বসানো হয়েছে Phlogacanthus pubinervius-এর ঘরে, আর রাম বাসক বা তিতাফুল যে গাছ সেটি Phlogacanthus thyrsiformis (DOI 10.5897/AJAR2013.8134)।
দ্বিতীয়ত, এদের কোনোটিই Justicia adhatoda নয়। তাই এই লেখার গোটা যুক্তিটা, ভাসিসিন থেকে ব্রোমহেক্সিন ও অ্যামব্রোক্সল, মাত্রার ২৮ গুণ হেরফের, ইউরোপের মনোগ্রাফ আটকে যাওয়া, এর একটিও রাম বাসকের ক্ষেত্রে খাটে না। ওই পর্যালোচনা অনুযায়ী Phlogacanthus-এর নিজস্ব প্রধান যৌগগুলি ডাইটারপিন ল্যাকটোন গোত্রের, যেমন ফ্লোগ্যান্থোলাইড-এ ও ফ্লোগ্যান্থোসাইড। ভাসিসিন নয়।
তৃতীয়ত, সিংহাস্য নামটা কোনো এক গাছের একার নয়, ওটা দুই গাছেই চলে, আর সেটাই বিভ্রান্তির আসল কারণ। ভারত সরকারের আয়ুর্বেদিক ফার্মাকোপিয়ার চতুর্থ খণ্ডে বাসক শিকড়ের মনোগ্রাফে সংস্কৃত প্রতিশব্দের তালিকাটি ছাপা আছে এইভাবে, বৃষ, আটরূষ, বাসক, সিংহাস্য, বাজিদন্ত। আবার রামবাসকের ক্ষেত্রেও নামটির নিজস্ব ব্যাখ্যা আছে, ফুলটা দেখতে হাঁ-করা সিংহমুখের মতো বলে সিংহাস্য, আর থোকা ফুলের শিষটা সিংহের লেজের মতো বলে সিংহপুচ্ছ। দুটো ব্যাখ্যাই নিজের জায়গায় সঙ্গত। সমস্যা তখনই, যখন নাম মিলে যাওয়া থেকে ধরে নেওয়া হয় গাছটাও এক।
নাম ভাগ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা এখানেই শেষ নয়, আর দ্বিতীয় উদাহরণটা আরও পরিষ্কার। আয়ুর্বেদিক ফার্মাকোপিয়া বাসকের অসমিয়া নাম লিখেছে Titabahak, Bahak ও Vachaka, আর Phurailatpam ও সহলেখকদের তালিকায় Phlogacanthus thyrsiformis-এর অসমিয়া নাম লেখা Banheka, Titabahak ও titaphul। একই অসমিয়া শব্দ, দুটি আলাদা গণের গাছ, আর দুটিই সরকারি বা পিয়ার-রিভিউ করা নথিতে। নাম এক হলে গাছ এক, এই অনুমানটাই ভুলটার গোড়া।
আরও একটা স্তর আছে, যেটা দক্ষিণ ভারতের। Justicia beddomei নামের আরেকটি প্রজাতিকে সেখানে বাসক হিসেবে ব্যবহার করা হয়, আর ২০১৮ সালে Phytotaxa পত্রিকায় Prabhukumar ও সহলেখকদের একটি গবেষণাপত্র সরাসরি এই প্রশ্নটাই তোলে, আয়ুর্বেদের কাঁচামাল হিসেবে "বাসা" বলতে ঠিক কোন গাছ বোঝায় (DOI 10.11646/phytotaxa.350.1.8)।
এতে কি রাম বাসক খারাপ গাছ প্রমাণ হয়? একেবারেই না। উত্তর-পূর্ব ভারতে এর ফুল রীতিমতো খাওয়া হয়, আর Phurailatpam ও সহলেখকরা লিখেছেন মণিপুরে স্থানীয় মানুষ নানা কাজে বাসকের চেয়ে এটিকেই বেশি পছন্দ করেন। কথাটা শুধু এটুকু, ও আলাদা গাছ, আলাদা রসায়ন, আর তার প্রমাণের হিসাব আলাদা করেই কষতে হবে। ওই গাছটির নিজস্ব প্রমাণ ইঁদুর পর্যন্ত পৌঁছেছে, মানুষ পর্যন্ত নয়, তাই সেখানে প্রমাণের স্তর সীমিত প্রমাণ, আর এই লেখার সংখ্যাগুলো ওখানে বসানো চলবে না। রাম বাসক গাছের উপকারিতা নিয়ে আলাদা লেখাটিতে ওই গাছটির পরিচয়, রসায়ন, প্রমাণ ও সতর্কতা বিস্তারিত ধরা আছে।
আপনি যদি বাসকের খোঁজে বেরিয়ে থাকেন, চেনার সহজ সূত্রটা ফুলের রঙে। বাসকের ফুল সাদা, তাতে কয়েকটা বেগুনি দাগ। রাম বাসকের ফুল তামাটে বা কমলা-লাল, থোকায় খাড়া হয়ে ওঠে। রঙটা মিলিয়ে নিলেই ভুল হওয়ার কথা নয়।
কাশির সিরাপের যে অণুটা এই পাতা থেকেই এসেছে
ব্রোমহেক্সিন ও অ্যামব্রোক্সল, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় প্রতিটি ওষুধের দোকানে পাওয়া এই দুটি কফ-পাতলা করার ওষুধ, বাসক পাতার ক্ষারীয় যৌগ ভাসিসিন থেকে তৈরি অর্ধ-কৃত্রিম উপজাত। কথাটা লোককথা নয়, Journal of Ethnopharmacology পত্রিকায় ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত Grange ও Snell-এর গবেষণাপত্রটির শিরোনামেই দুটি ওষুধকে "semi-synthetic derivatives of vasicine from the Indian shrub Adhatoda vasica" বলে বর্ণনা করা হয়েছে (DOI 10.1016/0378-8741(95)01331-8)।
এই একটি তথ্য বাংলা ইন্টারনেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় যুক্তিটাকে উল্টে দেয়। বেশ কয়েকটি বাংলা লেখায় সোজাসুজি বলা আছে, প্রাকৃতিক বাসক সিরাপ কৃত্রিম সিরাপের চেয়ে বেশি নিরাপদ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন। কিন্তু ওই কৃত্রিম সিরাপের ভিতরের অণুটাই তো এই গাছের। পার্থক্য উৎসে নয়।
পার্থক্যটা কোথায় তাহলে? একটাই জায়গায়, আর সেটা মাত্রা। বোতলের গায়ে লেখা থাকে প্রতি ৫ মিলিলিটারে কত মিলিগ্রাম, ব্যাচে ব্যাচে সেই সংখ্যাটা এক রাখতে প্রস্তুতকারককে বাধ্য করা হয়, আর বাটিতে বাটা রসের গায়ে কিছুই লেখা থাকে না। পরের অংশে দেখা যাবে এই ফারাকটা ঠিক কত বড়, আর সংখ্যাটা ভাবার চেয়ে অনেক বেশি।
আরেকটা কথা এখানে যোগ করা দরকার, কারণ Grange ও Snell-এর গবেষণাটি আসলে যক্ষ্মা নিয়ে। তাঁরা দেখিয়েছিলেন ওই দুটি ওষুধ টেস্ট টিউবে Mycobacterium tuberculosis-এর বৃদ্ধি আটকায়, আর যক্ষ্মার সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে সেগুলি বিবেচনার যোগ্য কি না তা খতিয়ে দেখা উচিত। এটি ল্যাবরেটরির ফল, মানুষের উপর প্রমাণ নয়, আর বাসক পাতা চিবিয়ে যক্ষ্মা সারার সমর্থন এখানে নেই। বাংলা লেখাগুলিতে যক্ষ্মা রোধের যে দাবিটা তালিকার দুই নম্বরে বসানো থাকে, তার প্রমাণের স্তর অপর্যাপ্ত প্রমাণ।
বাসক পাতার উপকারিতা নিয়ে প্রমাণ আসলে কতদূর যায়?
বাসক পাতার ঔষধি গুণাগুণ নিয়ে বাংলা ইন্টারনেটে যে তালিকাগুলি ঘোরে সেগুলি গড়ে ১০ থেকে ১৭টি দাবি লম্বা, আর তার প্রায় কোনোটির পাশেই কোনো গবেষণার নাম থাকে না। দাবিগুলো ধরে ধরে প্রমাণের ওজনটা বসিয়ে দেখা যাক।
| দাবি | প্রমাণ আসলে কী বলে | প্রমাণের স্তর |
|---|---|---|
| কফ পাতলা করা ও কাশিতে আরাম | ভাসিসিন থেকে তৈরি ওষুধ এই কাজেই বাজারে আছে, তবে পাতার রস নিয়ে মানব-ট্রায়াল কার্যত নেই | ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার |
| শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানিতে উপশম | ফার্মাকোপিয়ায় শ্বাস রোগে ব্যবহার লেখা আছে, নিয়ন্ত্রিত মানব-গবেষণা মেলেনি | ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার |
| যক্ষ্মা প্রতিরোধ | কেবল টেস্ট টিউবের ফল, তাও পাতার নয়, উপজাত ওষুধের | অপর্যাপ্ত প্রমাণ |
| জন্ডিস সারানো | শাস্ত্রে কামলা রোগে উল্লেখ আছে, আধুনিক ট্রায়াল নেই | ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার |
| মৃগী বা খিঁচুনি আটকানো | কোনো স্তরেই সমর্থনযোগ্য নথি পাওয়া যায়নি | অপর্যাপ্ত প্রমাণ |
| গায়ের রং উজ্জ্বল করা | মানুষের উপর কোনো গবেষণা নেই | অপর্যাপ্ত প্রমাণ |
| উকুন মারা ও ত্বকের প্রলেপ | দীর্ঘদিনের লোকজ ব্যবহার, নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা নেই | ঐতিহ্যগত আয়ুর্বেদিক ব্যবহার |
বাসককে ঘিরে সবচেয়ে ভালো মানের মানব-গবেষণাটি কোনটা, সেই প্রশ্নের উত্তরও ঝাপসা নয়। ২০২৩ সালে European Journal of Medical Research পত্রিকায় Verma ও সহলেখকদের একটি র্যান্ডমাইজড তিন-বাহু গবেষণা প্রকাশিত হয়, যেখানে মৃদু কোভিড রোগীদের ১৪ দিন ধরে দিনে দুবার ৫০০ মিগ্রা বাসক নির্যাস, অথবা গুড়ূচী নির্যাস, অথবা দুটির মিশ্রণ দেওয়া হয়েছিল (DOI 10.1186/s40001-023-01507-7)। মোট ১৫০ জন ভর্তি হন, শেষ করেন ১৩৬ জন।
ফলটা যেভাবে প্রচার হয় আর গবেষণাপত্রে যা লেখা আছে, দুটোয় ফারাক আছে। ভাইরাস মুছে যেতে গড়ে লেগেছে বাসকের দলে ১৩.৯২ দিন, গুড়ূচীর দলে ১৩.৪৪ দিন আর মিশ্রণের দলে ১১.৮৬ দিন। অর্থাৎ তিনটি দলের মধ্যে বাসক একা সবচেয়ে ধীর ছিল। আর গবেষকরা নিজেরাই দুটি সীমাবদ্ধতা লিখে গেছেন, গবেষণাটি ওপেন-লেবেল ছিল অর্থাৎ কে কী পাচ্ছেন সবাই জানতেন, এবং এতে কোনো প্লাসিবো দল ছিল না। প্লাসিবো ছাড়া কোনো ভেষজের সময়সীমা মাপা কতটা অর্থবহ, সেটা নিয়ে সংশয় রাখাই স্বাভাবিক।
আমার নিজের পড়ার অভিজ্ঞতায় বাসকের প্রমাণের ছবিটা এইরকম দাঁড়ায়। কফ পাতলা করার যুক্তিটা শক্ত, কারণ ওই কাজের জন্যই এর অণু থেকে ওষুধ বানানো হয়েছে। কিন্তু ওই যুক্তি থেকে "বাসক পাতা রোজ খেলে হাঁপানি সারে" পর্যন্ত পৌঁছতে যে ধাপগুলো লাগে, সেগুলো কেউ পার করেনি।
শাস্ত্র আর ফার্মাকোপিয়া বাসক নিয়ে ঠিক কী বলেছে
আয়ুর্বেদিক ফার্মাকোপিয়া অফ ইন্ডিয়ার প্রথম খণ্ডে বাসক পাতার মনোগ্রাফটি ৭৬ নম্বরে, আর সেখানে গুণের হিসাব নির্দিষ্ট করে লেখা আছে। রস তিক্ত ও কষায়, গুণ লঘু, বীর্য শীত, বিপাক কটু। কর্ম হিসেবে লেখা হৃদ্য, কফপিত্তহর, রক্তসংগ্রাহিক ও কাসঘ্ন। থেরাপিউটিক ব্যবহারের তালিকায় আছে শ্বাস, কামলা, কাস, ক্ষয়, কুষ্ঠ, প্রমেহ ও রক্তপিত্ত। উল্লেখযোগ্য প্রস্তুতি দুটি, বাসকাসব ও বাসাবলেহ।
শিকড়ের মনোগ্রাফে, অর্থাৎ চতুর্থ খণ্ডের ৬৫ নম্বরে, একটি শব্দ আছে যেটি বাংলা লেখাগুলিতে কখনোই আসে না। কর্মের তালিকায় শেষ শব্দটি বাতকৃৎ, অর্থাৎ বাত বাড়ায়। বাংলা ইন্টারনেট দাবি করে বাসক "শরীরের নানা দোষ কাটায়", অথচ সরকারি ফার্মাকোপিয়া বলছে এটি কফ ও পিত্ত কমায় ঠিকই, কিন্তু বাত বাড়ায়। ত্রিদোষের হিসাবে এই পার্থক্যটা তুচ্ছ নয়, কারণ শীতে বা বার্ধক্যে বাত এমনিতেই বাড়তির দিকে থাকে, আর হাঁটু ও সন্ধির ব্যথায় সেই হিসাবটাই সবচেয়ে বেশি টের পাওয়া যায়।
জন্ডিসের প্রসঙ্গটাও এখান থেকেই আসে। ফার্মাকোপিয়ায় সত্যিই কামলা লেখা আছে, তাই "শাস্ত্রে জন্ডিসে বাসকের কথা আছে" বাক্যটি ভুল নয়। কিন্তু শাস্ত্রে থাকা আর কার্যকর প্রমাণিত হওয়া এক কথা নয়, আর জন্ডিস এমন একটি উপসর্গ যার পিছনে হেপাটাইটিস থেকে পিত্তনালীর বাধা পর্যন্ত অনেক কিছু থাকতে পারে। এখানে পাতার রসে ভরসা করে দেরি করাটাই আসল ঝুঁকি।
বাসক পাতার রস খাওয়ার নিয়ম ও মাত্রার আসল গোলমাল
বাসক পাতার রসের সরকারি মাত্রা আয়ুর্বেদিক ফার্মাকোপিয়া অফ ইন্ডিয়ায় লেখা আছে তাজা পাতার রস ১০ থেকে ২০ মিলিলিটার, আর ক্বাথের জন্য ১০ থেকে ২০ গ্রাম শুকনো পাতা। বাংলা লেখাগুলিতে যে "এক থেকে দুই চা চামচ রস মধুর সঙ্গে" ঘুরে বেড়ায়, সেটি ৫ থেকে ১০ মিলিলিটার, অর্থাৎ সরকারি মাত্রার প্রায় অর্ধেক।
কিন্তু আসল সমস্যা মিলিলিটারের হিসাবে নয়। ২০০৮ সালে Indian Journal of Pharmaceutical Sciences পত্রিকায় Soni, Anandjiwala, Patel ও Rajani-র একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়, যেখানে একই বাসক পাতা ছয় রকম পদ্ধতিতে বেটে রস বার করে প্রতিটিতে ভাসিসিনের পরিমাণ মেপে দেখা হয় (২০০৮;৭০(১):৩৬-৪২, PMC2852058)। ফলটা এইরকম।
| রস তৈরির পদ্ধতি | মোট ক্ষারীয় যৌগ (মিগ্রা/মিলি) | ভাসিসিন (মিগ্রা/মিলি) |
|---|---|---|
| শাস্ত্রীয় পুটপাক পদ্ধতি, পাতার তাল তাপ দিয়ে নিংড়ানো | ৫.৯৩ | ৫.৬৪ |
| জল ছাড়া ভাপে সেদ্ধ করে নিংড়ানো | ৪.০৫ | ৩.৪৬ |
| শুকনো পাতার গুঁড়ো থেকে | ৩.২১ | ১.৯২ |
| হামানদিস্তায় হাতে বাটা | ১.২৫ | ১.০৩ |
| জল দিয়ে ভাপে সেদ্ধ | ০.৫৮ | ০.৩৩ |
| মিক্সিতে জল দিয়ে বাটা | ০.৩০ | ০.২০ |
সংখ্যাগুলো একবার পড়ে নিন। সবচেয়ে উপরের আর সবচেয়ে নিচের সারির মধ্যে ভাসিসিনের ফারাক প্রায় ২৮ গুণ, অথচ পাতাটা একই গাছের।
এবার দুটো হিসাব মিলিয়ে দেখুন। ফার্মাকোপিয়ার ১০ থেকে ২০ মিলিলিটার মাত্রা মানলেও, মিক্সিতে জল দিয়ে বাটা রসের ১০ মিলিলিটারে ভাসিসিন পড়ে প্রায় ২ মিলিগ্রাম, আর শাস্ত্রীয় পুটপাক পদ্ধতিতে বানানো রসের ২০ মিলিলিটারে পড়ে প্রায় ১১৩ মিলিগ্রাম। একই নির্দেশ মেনে একজন যা খাচ্ছেন আর আরেকজন যা খাচ্ছেন, তার ফারাক প্রায় ৫৬ গুণ। কোনো ওষুধের ক্ষেত্রে এই ফারাক কেউ মেনে নেবে না।
তাহলে ব্যবহারিক কথাটা কী দাঁড়ায়? মিক্সিতে জল দিয়ে বাটাটা সবচেয়ে দুর্বল পদ্ধতি, এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায়। কিন্তু "তাহলে পুটপাক পদ্ধতিতে বানান" বলাটাও দায়িত্বজ্ঞানহীন হবে, কারণ তাতে মাত্রা এক লাফে অনেকটা বেড়ে যাবে আর অতিরিক্ত ভাসিসিনে বমি ও বমিভাব হওয়ার কথা লোকজ নথিতেও আছে। সৎ উপসংহারটা অস্বস্তিকর, ঘরে বাটা রসের মাত্রা কেউ জানে না, আপনিও না, আমিও না।
ব্যবহারের সময় একটা কথা মনে রাখবেন, বাসকের স্বাদ তীব্র তেতো আর গলায় একটা কষা রেশ রেখে যায়। মধু মেশানোর চলটা মূলত ওই তেতোটা ঢাকার জন্য, যদিও মধুর নিজেরও গলা আরাম দেওয়ার একটা ভূমিকা আছে, NHS-ও কাশিতে সহজ ঘরোয়া উপায় হিসেবে মধু ও লেবুর কথা বলে। তবে মধুর একটা বয়স-শর্ত আছে, আর সেটা পরের সতর্কতা অংশে আলাদা করে ধরা।
ইউরোপ কেন বাসকের মনোগ্রাফ দিতে পারেনি
ইউরোপীয় ওষুধ সংস্থা EMA-র ভেষজ কমিটি HMPC ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয় যে বাসক পাতার জন্য কোনো ইউরোপীয় ভেষজ মনোগ্রাফ তৈরি করা যাচ্ছে না। নথিটির নম্বর EMA/HMPC/681468/2012, গৃহীত হয়েছে ২০১৩ সালের ৯ জুলাই।
নথিটি কেন এতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার কারণ HMPC-র কাজের ধরনে। এই কমিটি সাধারণত দুটি স্তরে ভেষজ অনুমোদন করে, প্রতিষ্ঠিত কার্যকারিতা আর কেবল দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যগত ব্যবহার। বাসকের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্তরটিও দেওয়া যায়নি।
কমিটি চারটি শর্ত ধরে ধরে বলেছে সেগুলি পূরণ হয়নি। তার মধ্যে দুটি এখানে সরাসরি প্রাসঙ্গিক। প্রথমত, নির্দেশিকার যে শর্তে বলা আছে ভেষজ প্রস্তুতিটি "exclusively for administration in accordance with a specified strength and posology" অর্থাৎ নির্দিষ্ট মাত্রা ও শক্তি মেনে ব্যবহারযোগ্য হতে হবে, সেটি পূরণ হয়নি। উপরের ২৮ গুণ ও ৫৬ গুণের হিসাব দুটো এই শর্তটিরই বাস্তব চেহারা। দ্বিতীয়ত, নথিতে সোজাসুজি লেখা আছে, মূল্যায়নের সময় সম্ভাব্য গর্ভপাতকারী, ভ্রূণ-প্রতিস্থাপন বিরোধী ও জরায়ু-সংকোচক প্রভাবের তথ্য পাওয়া গেছে, তাই প্রজনন-বিষক্রিয়া নিয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন।
উপসংহারের বাক্যটি নথিতে যেভাবে আছে, সেভাবেই তুলে দেওয়া ভালো, কারণ ভাষাটা সাবধানী। প্রচলিত ব্যবহারের বর্তমান তথ্য আর প্রজনন-নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের ভিত্তিতে HMPC-র মত হলো, বাড়তি তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত বাসক পাতার মনোগ্রাফ তৈরি করা যাবে না।
দুটো ছোট তথ্য এই ছবিটা সম্পূর্ণ করে। নথিটির পাদটীকায় লেখা আছে, জনমত গ্রহণের সময়সীমায় একটিও মন্তব্য জমা পড়েনি, অর্থাৎ ইউরোপের ভেষজ শিল্প থেকেও কেউ সিদ্ধান্তটিকে চ্যালেঞ্জ করেনি। আর ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল EMA দ্বিতীয়বার বৈজ্ঞানিক তথ্য চেয়ে আহ্বান জানায় (EMA/HMPC/248464/2018)। আজও EMA-র পাতায় বাসক পাতার অবস্থা লেখা আছে মূল্যায়ন সম্পন্ন, মনোগ্রাফ নেই।
এটা কি প্রমাণ যে বাসক কাজ করে না? না, এবং সেটা স্পষ্ট করে বলা দরকার। EMA-র কাজ কার্যকারিতা খারিজ করা নয়, ইউরোপে বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হয়েছে কি না তা দেখা, আর তাদের একটি আপত্তি ছিল ইউরোপে গাছটির প্রচলিত ব্যবহারের ইতিহাস নেই। কিন্তু মাত্রার শর্তটি আর প্রজনন-নিরাপত্তার উদ্বেগটি ভৌগোলিক নয়, সেগুলো কলকাতা বা ঢাকাতেও ঠিক ততটাই খাটে।
বাসক সিরাপ কি ঘরে বানানো রসের চেয়ে ভালো?
বাসক সিরাপের একটিমাত্র নিশ্চিত সুবিধা আছে, আর সেটি কার্যকারিতা নয়, মাত্রার স্থিরতা। বোতলের গায়ে প্রতি ৫ মিলিলিটারে কতটা নির্যাস আছে তা লেখা থাকে, আর সেই সংখ্যাটা ব্যাচে ব্যাচে এক রাখতে প্রস্তুতকারক বাধ্য। বাটিতে বাটা রসে সেই নিশ্চয়তা নেই, উপরের ছকটাই তার প্রমাণ। এটুকুই আসল সুবিধা। মাত্রা জানা থাকলে বেশি খাওয়ার ঝুঁকি কমে, কম খেয়ে কিছুই না হওয়ার আশঙ্কাও কমে, আর কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসককে অন্তত বলা যায় ঠিক কতটা গিয়েছে শরীরে, যেটা ঘরে বাটা রসের ক্ষেত্রে কেউ বলতে পারেন না।
তবে সিরাপের পক্ষে এর বেশি কিছু বলা যায় না, দুটো কারণে। বাজারের বেশিরভাগ ভেষজ কাশির সিরাপ মিশ্র প্রস্তুতি, যেখানে বাসকের সঙ্গে তুলসী, যষ্টিমধু, পিপুল বা মধু মেশানো থাকে। ফলে কেউ উপকার পেলে সেটা বাসকের কৃতিত্ব না অন্য উপাদানের, তা আলাদা করার উপায় থাকে না। EMA-ও ঠিক এই যুক্তিতেই ইউরোপে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিক্রি হওয়া মিশ্র পণ্যগুলিকে একক উপাদান হিসেবে বাসকের মনোগ্রাফের ভিত্তি হিসেবে মানেনি।
দ্বিতীয় কারণটি হলো, ভেষজ সিরাপ কেনার সময় বেশিরভাগ মানুষ এটিকে ওষুধের বিকল্প ভেবে কেনেন, অথচ কাশি নিজে কোনো রোগ নয়। তিন সপ্তাহের বেশি চলা কাশি, রক্তমেশা কফ, ওজন কমা বা রাতের ঘাম, এইগুলোর সঙ্গে সিরাপের কোনো সম্পর্ক নেই, সেখানে পরীক্ষা দরকার। সর্দি-কাশির ঘরোয়া টোটকা নিয়ে আলাদা লেখাটিতে কোন কাশিতে ওষুধ লাগে আর কোনটায় লাগে না, সেই ভাগটা বিস্তারিত ধরা আছে। গলা ব্যথা ও খুসখুসে কাশিতে যষ্টিমধুর প্রমাণের ছবিটাও দেখে নিতে পারেন, সেটিরও আলাদা সীমা আছে।
কে ব্যবহার করবেন না বা সতর্ক থাকবেন
গর্ভবতী মহিলাদের বাসক এড়িয়ে চলার পরামর্শ বাংলা লেখাগুলিতেও থাকে, তবে কারণটা প্রায় কোথাও লেখা থাকে না, আর কারণটাই এখানে সবচেয়ে জরুরি অংশ। ১৯৭৮ সালে Indian Journal of Experimental Biology পত্রিকায় Gupta, Anand, Ghatak ও Atal-এর যে গবেষণাপত্রটি বেরোয়, তার শিরোনামই ছিল "Vasicine, alkaloid of Adhatoda vasica, a promising uterotonic abortifacient" (১৯৭৮;১৬:১০৭৫-১০৭৭, PMID 750386)। ২০০০ সালে Journal of Ethnopharmacology-তে Claeson ও সহলেখকরা ২০ বছরের এই ধরনের রিপোর্টগুলি একত্র করে পর্যালোচনা করেন এবং লেখেন যে এগুলি ভেষজ হিসেবে বাসকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে (DOI 10.1016/s0378-8741(00)00225-7)। ২০২১ সালের একটি পর্যালোচনাতেও গাছটির নথিভুক্ত কাজের তালিকায় গর্ভপাতকারী শব্দটি রয়ে গেছে (Shamsuddin ও সহলেখক, Mini Reviews in Medicinal Chemistry, PMID 33634759)। গর্ভাবস্থায় খাওয়াদাওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই তথ্যটা হাতে থাকা দরকার।
স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার তথ্য নেই, তাই এড়ানোই যুক্তিসঙ্গত।
শিশুদের প্রসঙ্গে দুটো আলাদা সমস্যা একসঙ্গে জড়ো হয়। প্রথমত, বাসকের ক্ষেত্রে শিশুদের জন্য কোনো নির্ধারিত নিরাপদ মাত্রা কোথাও নেই। দ্বিতীয়ত, বাংলা লেখাগুলি প্রায় সবসময় রসের সঙ্গে মধু মেশাতে বলে, আর NHS পরিষ্কার লিখেছে এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু দেওয়া চলবে না, কারণ মধুতে কখনো কখনো এমন জীবাণু থাকে যা শিশুর অন্ত্রে বিষ তৈরি করে ইনফ্যান্ট বোটুলিজম নামের একটি গুরুতর অসুখ ঘটাতে পারে। NHS আরও জানিয়েছে কিছু কাশির ওষুধ ১২ বছরের কম বয়সীদের দেওয়া উচিত নয়। শিশুদের আয়ুর্বেদিক যত্ন নিয়ে লেখাটিতেও এই সীমারেখাগুলো আলাদা করে ধরা আছে।
একটি প্রচলিত পরামর্শ এখানে সরাসরি বাতিল করা দরকার। কয়েকটি বাংলা সংবাদমাধ্যম ও ব্লগে লেখা আছে, হাঁপানির টান থাকলে বাসক পাতা শুকিয়ে বিড়ি বা চুরুটের মতো পাকিয়ে ধূমপান করলে শ্বাসকষ্ট কমে। এই পরামর্শটি অনুসরণ করবেন না। হাঁপানিতে শ্বাসনালী এমনিতেই প্রদাহে সংকুচিত, আর সেখানে যেকোনো জিনিসের ধোঁয়া টানা বিপরীত দিকে কাজ করে। কোনো ফার্মাকোপিয়া বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নথিতে বাসক ধূমপানের সমর্থন নেই।
ডায়াবেটিসের ওষুধ চললে সতর্ক থাকা দরকার, কারণ লোকজ নথিতে বাসকের রক্তে শর্করা কমানোর কথা আছে আর ওষুধের সঙ্গে যোগ হলে শর্করা বেশি নেমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ডায়াবেটিসে খাদ্য নির্বাচনের সঙ্গে এটি মিলিয়ে দেখা ভালো, আর মাত্রা বদলানোর সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের।
মাত্রা বেশি হলে বমি, বমিভাব ও পেটের গোলমালের কথা প্রায় সব লোকজ নথিতেই আছে। ভাসিসিনের দীর্ঘমেয়াদি বিষক্রিয়া নিয়ে ইঁদুর ও বানরের উপর গবেষণা হয়েছে (Pahwa, Zutshi ও Atal, Indian Journal of Experimental Biology, ১৯৮৭, PMID 3436645), তবে মানুষের জন্য দীর্ঘদিন খাওয়ার নিরাপদ সীমা নির্ধারিত নেই। তাই টানা মাসের পর মাস খাওয়ার অভ্যাসটি যুক্তিসঙ্গত নয়।
শেষ সতর্কতাটি সবচেয়ে জরুরি। যক্ষ্মা, জন্ডিস, মৃগী বা দীর্ঘস্থায়ী হাঁপানি, এই চারটিই এমন অসুখ যেখানে দেরি করার দাম চড়া, আর চারটির জন্যই কার্যকর চিকিৎসা আছে। বাসক পাতা এদের কোনোটিরই বিকল্প নয়। অনেক চিকিৎসক ভেষজ ব্যবহারে আপত্তি করেন না, কিন্তু আপত্তি করেন যখন ভেষজের ভরসায় রোগ নির্ণয়টাই পিছিয়ে যায়, আর সেই আপত্তিটা যুক্তিসঙ্গত।
একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ
বাসক নিয়ে পড়তে গিয়ে সবচেয়ে বেশি যেটা আমাকে থামিয়ে দিয়েছে, সেটা কোনো গবেষণার ফল নয়, EMA-র নথির একটা পাদটীকা। ওখানে লেখা আছে, জনমত গ্রহণের নির্ধারিত সময়ে একটিও মন্তব্য জমা পড়েনি। অর্থাৎ একটা গোটা মহাদেশের ভেষজ শিল্প বাসকের মনোগ্রাফ আটকে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা নীরবে মেনে নিয়েছে।
আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এটা ইউরোপের উদাসীনতা, আমাদের গাছ নিয়ে ওদের আগ্রহ নেই বলে। পরে মনে হয়েছে ব্যাপারটা উল্টোও হতে পারে, চ্যালেঞ্জ করার মতো তথ্য কারও হাতে ছিল না বলেই কেউ কিছু বলেনি। কোনটা সত্যি আমি জানি না, নথিটা সেটা বলে না।
তবে একটা জায়গায় আমার মত পরিষ্কার। যে গাছ থেকে একটা গোটা শ্রেণির আধুনিক ওষুধ বেরিয়েছে, বাংলাতেও তার লেখাগুলো উকুন মারা আর গায়ের রং ফরসা করার তালিকায় আটকে থাকবে, এটা গাছটার প্রতি অবিচার।
সংক্ষেপে ও উপসংহার
বাসক পাতার উপকারিতা নিয়ে সবচেয়ে সৎ সারাংশটা দুই লাইনের। কফ পাতলা করার যুক্তিটা ফাঁপা নয়, কারণ এই পাতার ভাসিসিন থেকেই ব্রোমহেক্সিন আর অ্যামব্রোক্সল তৈরি হয়েছে, আর ওই দুটো ওষুধ আজও ওই কাজেই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ঘরে বাটা রসে ওই অণুর পরিমাণ পদ্ধতিভেদে ২৮ গুণ পর্যন্ত বদলায়, আর ফার্মাকোপিয়ার মাত্রা মিলিয়ে ধরলে ফারাকটা দাঁড়ায় প্রায় ৫৬ গুণ। ইউরোপ বাসকের মনোগ্রাফ আটকে দিয়েছিল ঠিক এই মাত্রার অনিশ্চয়তা আর প্রজনন-নিরাপত্তার প্রশ্নে।
যক্ষ্মা, জন্ডিস, মৃগী আর ফরসা হওয়া, এই চারটি দাবির পিছনে দেখানোর মতো মানব-গবেষণা নেই। ঘন ঘন সর্দি-কাশি হলে ভেষজ খোঁজার আগে প্রতিরোধ ক্ষমতার দিকটা দেখা বেশি কাজে দেয়, কারণ সেখানে ঘুম আর খাওয়ার হিসাবটাই আগে আসে। আর গর্ভাবস্থায় বাসক এড়ানোর কারণটা অস্পষ্ট সতর্কতা নয়, ১৯৭৮ সালের গবেষণাপত্রের শিরোনামে লেখা একটা শব্দ।
শেষে একটা কাজ করতে বলি, যেটা বাসকের বাইরেও কাজে লাগবে। বাসক পাতার উপকারিতা নিয়ে পরের যে লেখাটা পড়বেন, সেখানে মাত্রার কথা এলে দেখুন তারা রসটা কীভাবে বানাতে বলছে, মিক্সিতে না বেটে না ভাপে। বেশিরভাগ লেখা পদ্ধতিটাই বলবে না, শুধু চামচের সংখ্যা বলবে। ওই না-বলাটাই আপনাকে জানিয়ে দেবে সংখ্যাটার কোনো ভিত্তি নেই, কারণ পদ্ধতি না জানলে মাত্রা জানা অসম্ভব। আর বেড়ার ধারের গাছটা? ওটা থাক। ফুলে বেগুনি দাগ ধরলে দেখতেও ভালো লাগে, আর কফের সিরাপের ইতিহাসটা ওখান থেকেই শুরু।
বাসক নামে বাজারে যে অন্য দুটি গাছ বিক্রি হয়, রাম বাসক ও লাল বাসক, সেগুলো আলাদা প্রজাতি, আর তার পরিচয় আছে রাম বাসক ও লাল বাসকের উপকারিতা লেখায়।
সূত্র / Sources
- Committee on Herbal Medicinal Products (HMPC). "Public statement on Adhatoda vasica Nees, folium." European Medicines Agency, EMA/HMPC/681468/2012, adopted 9 July 2013. ema.europa.eu
- "Adhatodae vasicae folium." Herbal medicine assessment status page, European Medicines Agency. মূল্যায়ন সম্পন্ন, কোনো ইউরোপীয় মনোগ্রাফ গৃহীত হয়নি, দ্বিতীয় তথ্য-আহ্বান EMA/HMPC/248464/2018, ৩০ এপ্রিল ২০১৮। ema.europa.eu
- The Ayurvedic Pharmacopoeia of India, Part I, Volume I, monograph 76, "Vasa (Lf.)", Adhatoda vasica Nees. Government of India, Ministry of Health and Family Welfare, Department of AYUSH. রস, গুণ, বীর্য, বিপাক, কর্ম ও মাত্রা ১০ থেকে ২০ মিলিলিটার স্বরস। সরকারি ই-বুকের হুবহু প্রতিলিপি, নিচের টীকা দ্রষ্টব্য। API Vol I PDF
- The Ayurvedic Pharmacopoeia of India, Part I, Volume IV, monograph 65, "Vasa (Root)", Adhatoda zeylanica Medic. Government of India, Department of AYUSH. কর্মের তালিকায় বাতকৃৎ, মাত্রা ৩ থেকে ৬ গ্রাম। সরকারি ই-বুকের হুবহু প্রতিলিপি, নিচের টীকা দ্রষ্টব্য। API Vol IV PDF
- Soni S, Anandjiwala S, Patel G, Rajani M. "Validation of Different Methods of Preparation of Adhatoda vasica Leaf Juice by Quantification of Total Alkaloids and Vasicine." Indian Journal of Pharmaceutical Sciences, 2008;70(1):36-42. PMC2852058
- Grange JM, Snell NJ. "Activity of bromhexine and ambroxol, semi-synthetic derivatives of vasicine from the Indian shrub Adhatoda vasica, against Mycobacterium tuberculosis in vitro." Journal of Ethnopharmacology, 1996;50:49-53. DOI 10.1016/0378-8741(95)01331-8. PubMed 8778507
- Gupta OP, Anand KK, Ghatak BJ, Atal CK. "Vasicine, alkaloid of Adhatoda vasica, a promising uterotonic abortifacient." Indian Journal of Experimental Biology, 1978;16:1075-1077. PubMed 750386
- Claeson UP, Malmfors T, Wikman G, Bruhn JG. "Adhatoda vasica. A critical review of ethnopharmacological and toxicological data." Journal of Ethnopharmacology, 2000;72:1-20. DOI 10.1016/s0378-8741(00)00225-7. PubMed 10967448
- Shamsuddin T ও সহলেখক। "Adhatoda vasica (Nees.). A Review on its Botany, Traditional uses, Phytochemistry, Pharmacological Activities and Toxicity." Mini Reviews in Medicinal Chemistry, 2021. DOI 10.2174/1389557521666210226152238. PubMed 33634759
- Pahwa GS, Zutshi U, Atal CK. "Chronic toxicity studies with vasicine from Adhatoda vasica Nees. in rats and monkeys." Indian Journal of Experimental Biology, 1987. PubMed 3436645
- Verma S ও সহলেখক। "Adhatoda vasica and Tinospora cordifolia extracts ameliorate clinical and molecular markers in mild COVID-19 patients. A randomized open-label three-armed study." European Journal of Medical Research, 2023. DOI 10.1186/s40001-023-01507-7. PMC10696694
- Phurailatpam AK, Singh SR, Chanu TM, Ngangbam P. "Phlogacanthus. An important medicinal plant of North East India. A review." African Journal of Agricultural Research, 2014;9(26):2068-2072. DOI 10.5897/AJAR2013.8134. প্রজাতিভিত্তিক স্থানীয় নামের তালিকা, অসমিয়া Titabahak-এর দ্বৈত ব্যবহার, বাংলা Tamropuspi Basok বনাম P. pubinervius, ও ডাইটারপিন ল্যাকটোন যৌগের বিবরণ। academicjournals.org
- Prabhukumar KM, Beegam F, George S, Balachandran I. "Revisiting the taxonomy of Justicia beddomei (Acanthaceae)." Phytotaxa, 2018;350(1). DOI 10.11646/phytotaxa.350.1.8. আয়ুর্বেদের কাঁচামাল "বাসা"-র পরিচয় প্রসঙ্গে। biotaxa.org
- "Foods to avoid giving babies and young children." National Health Service, United Kingdom. মধু এক বছরের কম বয়সী শিশুকে না দেওয়ার নির্দেশ ও ইনফ্যান্ট বোটুলিজমের কারণ। nhs.uk
- "Cough." National Health Service, United Kingdom. কিছু কাশির ওষুধ ১২ বছরের কম বয়সীদের না দেওয়ার নির্দেশ, ও এক বছরের কম বয়সীদের জন্য মধু-লেবুর অনুপযুক্ততা। nhs.uk
- WHO Monographs on Selected Medicinal Plants, Volumes 1 to 4, World Health Organization, 1999 to 2009. তৃতীয় খণ্ডের সংকলিত সূচি (যা প্রথম তিন খণ্ড ঢাকে) ও চতুর্থ খণ্ডের সূচি, দুটিই মিলিয়ে দেখা হয়েছে, কোথাও Adhatoda-র মনোগ্রাফ নেই। লিঙ্কটি সিরিজের প্রথম খণ্ডের WHO পাতা। who.int
নিচের সূত্রটি চিকিৎসা-প্রমাণের নয়, বাংলা নাম ও উদ্ভিদ-পরিচয়ের নথি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। কোনো স্বাস্থ্য-দাবির ভিত্তি হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয়নি।
- "লাউয়াছড়ার রামবাসক।" প্রথম আলো, পরিবেশ বিভাগ। রামবাসককে আলাদা প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা, বৈজ্ঞানিক নাম Phlogacanthus thyrsiformis, এবং লাল বাসক ও তিতাফুল নাম দুটির সমার্থকতা ও সিংহাস্য নামের ব্যুৎপত্তির জন্য। prothomalo.com
আয়ুর্বেদিক ফার্মাকোপিয়া অফ ইন্ডিয়ার দুটি খণ্ডই ভারত সরকারের ভেষজ-মানক নথি, তবে লেখাটি তৈরির সময় (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) PCIM&H-এর সরকারি পাতাটি খোলা যায়নি, তাই উপরে সরকারি ই-বুকের একটি প্রতিলিপি-লিঙ্ক দেওয়া হয়েছে। মনোগ্রাফের সংখ্যা, মাত্রা ও গুণের বিবরণ ওই প্রতিলিপি থেকেই হুবহু মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে, আর নথি দুটির শিরোনামে প্রকাশক হিসেবে Government of India, Ministry of Health and Family Welfare, Department of AYUSH লেখা আছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। এটি চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর

লেখক সম্পর্কে
অভিজিৎ সাউ
তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক লেখক
তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত একজন প্রকৌশলী। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলা ভাষায় আয়ুর্বেদ, ভেষজ ও প্রাকৃতিক জীবনযাত্রার বিশ্বস্ত তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিটি নিবন্ধের পেছনে শাস্ত্রীয় গ্রন্থ, AYUSH মন্ত্রকের নির্দেশিকা ও প্রকাশিত গবেষণাপত্র যাচাই করি।
এই নিবন্ধটি প্রকাশের আগে প্রাথমিক উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই ও সম্পাদনা করা হয়েছে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি।

লাল শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা, যে সংখ্যাগুলো কেউ বলে না
লাল শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা, লাল শাকে কি রক্ত বাড়ে, পুষ্টিগুণ সংখ্যায়, অক্সালেট ও নাইট্রেটের হিসাব, বাসি শাকের ভয়, শিশু ও গর্ভাবস্থায় খাওয়ার নিয়ম।

কলমি শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা, প্রেসার কিডনি আর রান্নার নিয়ম
কলমি শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা, কলমি শাকের ক্ষতিকর দিক, প্রেসার বাড়ে না কমে, কিডনি ও ইউরিক এসিডের হিসাব, পুষ্টিগুণ সংখ্যায় আর ভাজি না সেদ্ধ, খাওয়ার নিয়ম।

পুঁই শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা, এলার্জি ও কিডনির ভয় কতটা সত্যি
পুঁই শাকের উপকারিতা ও অপকারিতা, পুইশাকের পুষ্টিগুণ সংখ্যায়, এলার্জি ও কিডনির ভয় কতটা সত্যি, পুঁইশাক খেলে গ্যাস হয় কিনা, খাওয়ার নিয়ম আর কাদের সতর্কতা।